আমি একজন কার্টুন নির্মাতা। শিশু-কিশোরদের জন্য কার্টুন বানানো শুরু করি আজ থেকে প্রায় দু দশক আগে। আমাদের নির্মিত প্রথম কার্টুন ‘রোবটদের গ্রহে একদিন’ প্রদর্শিত হয় ১৯৯৫ সালে বিটিভিতে, প্রচারিত হয় ঈদের দিন। তখন বিটিভি অনুষ্ঠান কিনে নিজেরা স্পন্সর যোগাড় করে প্রচার করত, পরবর্তীতে অনুষ্ঠান নির্মাতাদের ঘাড়ে এ দায়িত্ব বর্তায়, যা সম্ভবত এখনও চলছে। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ অবধি তৈরি হয় আরও দুটি পূর্ণ দৈর্ঘ্য কার্টুন ‘চিংড়ির ইচ্ছে’ ও ‘পিঁপড়ে যখন একলা হয়’।
কিন্তু বিটিভি পরের দুটো কার্টুন প্রদর্শনে অনিহা প্রকাশ করে এবং উপযুক্ত স্পন্সরের অভাবে আমরাও একসময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।
দুঃখের বিষয় আজবধি এই দুটো কার্টুন কোনও টিভি চ্যানেল প্রদর্শনে রাজি হয়নি।
কেন এই অনিহা?
আমাদের দেশে শিশুর অভাব না শিশুতোষ পণ্যর অভাব নাকি নির্মাতার অভাব? বিষয়টি খাতিয়ে দেখা দরকার।
প্রথমত দেশে শিশুর অভাব নেই(হাঃ হাঃ) শিশু কিশোর পণ্যর অভাব থাকা স্বাভাবিক, আমরা গরিব দেশ- শিশু কিশোর পণ্যের ‘কনঞ্জুমার’ বা এই বিশেষ ভোক্তা শ্রেণীর পণ্য ধনী দেশের চাইতে অস্বাভাবিক রকম কম।
কিন্তু পণ্য কি একদম নেই- আছে।
কিন্তু পণ্য উৎপাদনকারিরা তাদের পণ্য বিপননের সময় শিশু কিশোরদের ভোক্তা হিসেবে দেখেন না, দেখেন তাদের বাবা মা অভিবাবকদের, কারন শিশু কিশোরদের ক্রয় ক্ষমতা নেই তাদের অভিবাবকদের আছে।
আর এদেশের অবিভাবকরা তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার মতো ‘পণ্য বাছাই’ স্বাধীনতা নিজেদের দখলে রাখেন, শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেন। এবং হাস্যকর ভাবে আমরা বড়দের নাটকে ‘শিশুপণ্যর’ বিজ্ঞাপন দেখি।
কিন্তু আমরা ভুলে যাই প্রত্যেক মানুষের আলাদা চেতনা আছে স্বাধীনতা আছে, শিশুরাও এর বাতিক্রম নয়, চাহিদা অনুযায়ী অভাবের জন্য তাই ওরা বেছে নিয়েছে হিন্দি ডাবিং ‘ডোরেমন’।
এখন অনুষ্ঠান নির্মাতাদের দিকে তাকানো যাক। বাংলাদেশে এটারও কোন অভাব নেই। হয়তবা মান নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, সেটা অনেক পরের বিষয়।
অনুষ্ঠান নির্মাণ নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা আগে একটু বলেছি বাকিটা বলছি এখন-
১৯৯৯ বা ২০০০ সালে একুশে টিভির জয়যাত্রা শুরু হয়, তখন একুশের সাথে আমরা কার্টুন বানানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ হই (চুক্তি হবার আগে আমাদের রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়েছে, সাইমন ড্রিং প্রত্যেক মিটিংয়ে আমাদের কাছে ক্ষমা চাইতেন), স্পন্সর খোজার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়ে আমরা একদল তরুন তৈরি করি ‘মন্টু মিয়ার অভিযান’ সব মিলেয়ে তৈরি হয় ১৩ টি আলাদা অভিযান।
এখন দেখা যাক মোট কয়টি অভিযান প্রচারিত হয়েছে। মাত্র – দুটো,
একটি ঈদের দিনে অন্যটি পহেলা বৈশাখে, বাকি এগারোটি অনুষ্ঠান গেলো কই?
একুশে টিভির ভল্টে।
অন্ধকার ভল্টে থেকে পচে যাচ্ছে এই উপমহাদেশের তৈরি তথা বাংলা ভাষায় তৈরি, প্রথম কার্টুন সিরিয়াল।
আমি মেনে নিয়েছি- বঙ্গদেশে এই স্বাভাবিক। প্রচারিত মাত্র ‘দুটো’ অনুষ্ঠান চোরাই সিডি ডিভিডি হিসেবে বছরের পর বছর বাজারে চলবে, আর ভল্টে থাকবে বাকি এগারো ‘মন্টু মিয়ার অভিযান’ এটাই স্বাভাবিক।
নাকি অস্বাভাবিক ! মাত্র দশ থেকে পনেরো লক্ষ টাকা স্পন্সর পেলেই একুশে টিভি আনন্দে প্রচার করবে বাকি এগারো ‘মন্টু মিয়ার অভিযান’।
শুধু মাত্র পনেরো লক্ষ টাকা ‘মন্টু মিয়ার’ মুক্তি আনবে না, সেই সাথে খুলে যাবে একটি দরজা- কারন আমি জানি দরজার ওপারে অপেক্ষায় আছে অনেক কার্টুন নির্মাতা, ওরা বাংলাদেশী, ওদের কার্টুন বাংলায় কথা বলে।
এপারে কেউ আছেন কি? কোন স্পন্সর? টিভি চ্যানেলের হর্তাকর্তা ?
কেউ কি শুনছেন ড্রামের আওয়াজ।
অনর্থক আলাপে সবার আগ্রহ। উঠুন- দাঁড়ান- বদলে দিন।






আমরা গনমাধ্যমে বাংলা এত অনুষ্ঠানের কথা বলছি তার মধ্যে আপনার অনুষ্ঠানটি আটকে আছে এটা খুবই দুঃখজনক । আপনার অনুষ্ঠানটি অবশ্যই প্রচার হওয়া উচিৎ । তবে আপনি চেষ্টা চালিয়ে যান। আমরা মন্টু মিয়ার অভিযান দেখেছি । মান ভালো ছিলো । একটা করে বসে থাকবেনা । নিয়মিত করে যান । স্পন্সরড একসময় পাবেনই । বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যান । সব স্বপ্নই একদিন বাস্তবে রুপ পায় । আরা চাই আপনাদের মত মানুষের এগিয়ে এসে বাংলায় শিশুদের অনুষ্ঠানগুলো সম্মৃদ্ধশালী করুন । ধন্যবাদ …..।
ধন্যবাদ। প্রথমত ‘মন্টু মিয়া’ নিয়ে আমি বসে নেই, আমার তৈরি মিনি কার্টুন সিরিজ Swiss Tv TSR ও RTS -এ গত ৪ বছর যাবত প্রচারিত হয়েছে, হচ্ছে । আমার দুঃখ বাংলাদেশে আমি কিছু দিতে পারলাম না । একুশে টিভিতে চুক্তিমত আমার যা করার আমি করেছি, সাইমন ড্রিং যাবার আগে আমার দেনা পাওনাও মিটিয়ে দিয়েছেন, আর তাই আমার বিরাট প্রশ্ন ‘মন্টু মিয়া’ প্রচারিত হচ্ছে না কেন? বাংলাদেশী স্পন্সর বা চ্যানেলগুলোর হর্তাকর্তাদের প্রতি আমার করুনা হয়, ওদের তেল মারার প্রশ্নই ওঠে না।
আমি একটা জিনিস বোঝাতে অপারগ- মন্টু মিয়া আমার গর্ব না, দেশের গর্ব, আমাকে ঠেলবেন না, আপনার যদি মন্টু মিয়া ভালো লাগে তবে আপনার উচিৎ ETV তে ফোন দেয়া, বা কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া। আমার দায়িত্ব শেষ আপনাদের শুরু, অত্যন্ত এই ফোরামের যারা আয়োজক, পাঠক, এবং যারা বড় বড় বুলি চালাবেন- তাদের।
আমার ভাষা ক্ষমা করবেন, আমি এর চাইতে নরম ভাবে কথা বলতে পারি না।