Home » সড়ক দুর্ঘটনা কি চলতেই থাকবে? » আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা

613 বার পঠিত

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপনের ১০০ বছর পেরিয়ে গেল। ১৯০৯ থেকে ১৯১১ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে সূচিত এই দিবস পরবর্তীকালে সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীনসহ পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদ্যাপিত হয়। জাতিসংঘ দিবসটি উদ্যাপন শুরু করে ১৯৭৫ সাল থেকে। এখন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপিত হয় বিশ্বের প্রায় সব দেশেই। আমরা দেশের ও বিশ্বের নারীসমাজকে এই দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।
দিবসটি অনেক বছর ধরে বাংলাদেশেও উদ্যাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন চলে, সংবাদমাধ্যমে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়। কিন্তু উন্নত বিশ্বে নারী দিবস উদ্যাপনের সঙ্গে আমাদের দেশে এ দিবস উদ্যাপনের তফাত বিরাট। এখানে নারীসমাজ সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। এই পশ্চাৎপদতা অপসারণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা, দেশি ও আন্তর্জাতিক আইনকানুন, বিধিবিধান ইত্যাদি প্রত্যাশিত মাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারছে না। নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন এ দেশে রয়েছে; কিন্তু নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীর প্রতি সহিংসতার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, যৌতুক, অন্যান্য কারণে হত্যাসহ নানা রকমের সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিশোরী-তরুণীদের উত্ত্যক্ত করা।
আমাদের গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা বেড়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রে নারীর অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং হচ্ছে। ম্যানিলাভিত্তিক সংস্থা সোশ্যাল ওয়াচের ২০১২ সালের লিঙ্গসমতা সূচকে (জেন্ডার ইকুইটি ইনডেক্স) বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান এখন পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নারীদের ওপরে রয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রেও অধিকারের সম্পূর্ণ সমতা আসেনি। চাকরিক্ষেত্রে নারী সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত; নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীদের মধ্যে মজুরির ক্ষেত্রে নারী পুরুষের চেয়ে কম পান। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নের চেষ্টা খুব ফলপ্রসূ হচ্ছে না তাঁদের পুরুষ সহকর্মীদের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। জাতীয় রাজনীতিতেও নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ, নীতিনির্ধারণ-প্রক্রিয়ায় নারীর গুরুত্ব বাড়ছে না। কিন্তু শিক্ষার সব পর্যায়েই দেখা যাচ্ছে, নারীরা পুরুষের সমান মেধার পরিচয় দিচ্ছেন।
জাতিসংঘ এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের স্লোগান নির্ধারণ করেছে: গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অবসান। ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স ডে ডটকম নামের ইন্টারনেট-ভিত্তিক একটি মঞ্চ থেকে এবার বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে: মেয়েদের সংযুক্তি, ভবিষ্যতের প্রেরণা। দুটো বিষয়ই বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির বদৌলতে অর্থনীতিতে গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে বটে, কিন্তু ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অবসান ঘটেনি; ঘটেনি সমাজে ও পরিবারে নারীর ক্ষমতায়ন। সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রামীণ নারীর শিক্ষায় মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে ছেদ পড়ে। শিক্ষার বিস্তার ছাড়া নারীর অগ্রগতি ও ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলে ও মেয়েশিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার প্রায় সমান, কিন্তু ক্রমশ ওপরের দিকে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার বেশি। এটা রোধ করতে হবে; এ জন্য সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যেও অনেক কাজ করার রয়েছে।

মন্তব্য
  • মু.কামরুল হাসান(অ আ ক খ) মার্চ 9, 2012 at 12:15 পূর্বাহ্ন

    আন্তর্জাতিক নারীদিবস সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে জন্ম হলেও এ দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত ও চিহ্নিত হয় নারীর অধিকার অর্জনের একটি বিশেষ দিন হিসেবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত ও অনুন্নত সব দেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দিনটি অর্জন করে নিজস্ব শক্তি। জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর অধিকার এবং অংশগ্রহণ সমুন্নত ও সহযোগিতাপূর্ণ করতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে আসছে। জাতিসংঘ এ বছর নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক করেছে_ ‘গ্রামাঞ্চলের নারীদের ক্ষমতায়ন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অবসান।’ প্রতিপাদ্যটি চমৎকার কিন্তু বাস্তবতার সাথে রয়েছে এর বিরাট তফাৎ।যাদের নিয়ে এবারের প্রতিপাদ্য তারাই রয়েছে অজানার মধ্যে।আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ নারীই জানে না নারী দিবস কী আর ক্ষমতায়নতো অনেক পরের বিষয়।ক্ষুধা ও দারিদ্র্য তাদের নিত্য সঙ্গী।তাই আমি মনে করি নারীদের মর্যাদাকে কোন বিশেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতার ফ্রেমে বন্দী না করে তাদের প্রাপ্য অধিকার দিয়ে সুন্দর পৃথিবী গড়ার দিকে এগিয়ে যাওয়াই মঙ্গল জনক।

© বদলে যাও, বদলে দাও!