আমি যেটা বুঝি- নিজে বদলানোর মাধ্যমে সমাজ ও সংস্কৃতির বদল এবং সেই সাথে পুরো দেশের একটা ইতিবাচক পরিবর্তন হলো ‘বদলে যাও বদলে দাও’।
দুর্নীতি আমাদের সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছে। যেমন অনেকে মনে করে সরকারী চাকরী পেতে হলে ঘুষ ছাড়া সম্ভব নয়। এবং সরকারী প্রায় প্রত্যেকটা খাতে ঘুষ ওপেন সিক্রেট।
প্রথম আলোর ‘বদলে যাও বদলে দাও’ শ্লোগান মনে পড়লে একটি গল্প মনে পড়ে যায়, এক রাজা তার রাজ্যের সকল প্রজাদের বলল-”উমুক দিনে সকল প্রজারা এক গ্লাস করে দুধ আমার পুকুরে ঢালবে”। প্রজারা নিজে নিজে ভাবলো সকলে তো দুধ ঢালবে শুধু আমি পানি ঢাললে কেউ বুঝবে না। এবং সকলে এই ভেবে রাজার পুকুরে পানি নিয়ে হাজির, তার মানে কেউ দুধ নিয়ে যায়নি।
ঠিক তেমনি বাস্তবে দেখা যাবে, মানুষ দুর্নীতি একটি খারাপ কাজ হিসেবে চিন্তা করলেও কিছু পাওয়ার আশায় প্রত্যেকে এটা করতে চাইবে। আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক নিম্নআয়ের এবং চায় বেশি টাকা উপার্জন করতে আর পৃথিবীব্যাপি মানুষ এখন টাকার পিছনে ছুটছে। কাজেই দুর্নীতির সুযোগ থাকলে মানুষ এর থেকে দূরে থাকতে পারবে না।
আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কি শিক্ষা রেখে যাচ্ছি? ছোট ছেলে-মেয়েরা স্কুলে ভর্তি হতে দেখছে ডোনেশন পদ্ধতি, রাজনীতিবিদদের মিথ্যা বক্তৃতা ও মিথ্যা আশ্বাস এবং সমাজের ডাক্তারদের গলাকাটা আচারণ।
সমাজে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন হয় কিন্তু সব পুরুষ এই অপরাধ করে না। কাজেই তাদের নিজেদের পরিবর্তনের দরকার নেই। যারা অপরাধ করে তাদের জন্য দরকার কঠোর আইন ও শাস্তি। যাতে করে কেউ একাজ করার সাহস না পায়।
তেমনি ঢাকা শহরে যানজট থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে কতজন প্রাইভেট গাড়ী বাসায় রেখে বাসে, বাইসাইকেলে বা অল্প পথের জন্য পায়ে হেঁটে যাবে? বাইসাইকেলে চড়ার কি কোন পথ আছে?
খান আব্দুল্লা আল মাসুদ
উত্তরা, ঢাকা।






ঘুণেধরা সমাজ এত সহজে কি বদলাবে ?
আল-মাসুদ, পরিবর্তন একদিনে হয় না ।কয়েকদিন আগে প্রাতিষ্টানিকভাবে বদলে যাওয়ার কথা বলার মত কেউ ছিল না….এখন আছে….তাই আস্তে আস্তে বদলেও যাবে । কিছু কিছু কাজ একা করা যায় না …তাই বলে দু:শ্চিন্তা করার দরকার নেই,এখনত কাজ করার সময়, মানুষকে জানানোর সময় । তারপর সবাই মিলে করে দেখাতে হবে ।
nice article
Nice
দুর্নিতি আজ ব্যাধিতে রুপান্তরিত হয়েছে। হাঁ , সেটা হওয়াটা স্বাভাবিক। কারন একজন সরকারী চাকুরীজীবী যে বেতন পান, তা নিতান্তই নগন্য, বেসরকারির তুলনায়। তাই সরকারের উচিত সরকারী চাকুরিজিবীদের বেতন আরো বৃদ্দি করা।
আপনাকে ধন্যবাদ, আপনার লেখাটা ঠিক আমার মনের কাথা।
ধন্যবাদ। বদলে যাও বদলে দাও,তে আমরা যেমন সুন্দর চেতনার পরিচয় দেই ঠিক তেমন এই যদি হই তবে বলবো ভালোর দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।আমরা এক হয় এগিয়ে যাব।
Al Masud বিনীত ধন্যবাদ আপনাকে। খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন আপনি। প্রথম আলো বাংলাদেশ বদলে দিবে এমন কথা কিন্তু কখনো বলেনা। আমরা এই প্রিয় দেশটির দুখঃজনকভাবে কিছু অচলাবস্থা দেখছি বা একটি অনাকাঙ্খিত ফাদেঁ পড়ে গেছি। এই সংকটটি সারা দেশের মানুষেরই। পৃথিবীতে রাজনৈতিক মুক্তির চেয়ে বড় কোন মুক্তি নাই। ১৯৭১ আমাদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মুক্তি।
ঐতিহাসিকভাবেই রাজনৈতিক দল সাধারণ জনগণের প্রতিষ্ঠান। সাধারন মানুষের দুঃখ কষ্ট দুর্দশা দূর করতে তাদের স্বপ্ন আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করতে কাজ করবে। তাদের কমিটমেন্টকে শ্রদ্ধা করে, তাদের আদর্শকে সমর্থন করে তাদেরকে ভোট দিয়ে সাধারন মানুষ সরকার গঠন করতে রায় দেয়। তাদের হাতে সমস্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা চলে যায়। ভেবে দেখুন এটি কত পবিত্র দায়িত্ব! কত আস্থা আর বিশ্বাসের দায়িত্ব! কিন্তু আমরা সাধারন জনগন প্রথম পার্টটুকু পর্যন্ত কত সততার সাথে কাজটি করে দিচ্ছি। যা কিছু সমস্যা ঐ সরকার গঠন করার পর অর্থাৎ দ্বিতীয় পার্টটিতে। আমরা পাঁচ বছরের জন্য যেন এক একটি মহাখাদে নিক্ষেপিত হই। একটি বারের জন্য আমাদের কিছু জিজ্ঞাস করে না। কত অবজ্ঞা সাধারন মানুষের প্রতি।
আমাদের যা কিছু সম্পদ, শক্তি, সামর্থ আছে শুধু তার যদি সঠিক ব্যবহার করতে পারতাম তাহলে এই দেশটির চেহারাটাই পাল্টে যেত। আমরা কিছু বলিনা বলে আজ এতটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। মনে করে দেখুন কানসাট আন্দোলনের কথা। সেখানে কিন্তু রাজনৈতিক দল কোন সুযোগ পায়নি। সম্পূর্ণ সাধারন মানুষের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। সেখানের সাধারন মানুষ কিন্তু তার ফলাফল পেয়েছে। এটি আমাদের বোঝাপড়ার জন্য একটি সূচক। সব দাবি দাওয়া’তো এভাবে আদায় করতে পারা যাবে না। একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে হবে। আর তার জন্য আমাদেরই কথা বলতে হবে। যে প্রজন্ম ৭১ এ নিজের জীবন দিয়ে আমাদের জন্য একটি স্বাধীন দেশ এনে দিয়েছে। আমরা তাদের উত্তরপ্রজন্ম হয়ে কি দায়িত্ব পালন করছি? ওঁরা যদি জীবন দিয়ে দিতে পারে আর আমরা তাদের সম্মান রক্ষায় একটু প্রতিবাদ করবো না? অন্যায়, অনিয়ম দেখে চুপ করে থাকবো?
আমাদের আগে দেশকে ভালোবাসতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে পারলে দেশের সমস্যাগুলোও আমরা বুঝতে পারবো। আর সমস্যা বুঝতে পারলে তার সমাধানে আমরা মতামত পরামর্শ দিতে পারবো। বদলে যাও বদলে দাও মিছিল আপনাদেরই চেতনার মিছিল। আপনাদের স্বাধীন প্লাটফর্ম। আপনাদের কথা বলার জন্য, কাজ করার জন্য সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত। আমাদের সাধ্যের মধ্যে যা কিছু তা আমরা করবো। আমরা যেন নিজেরা হতাশ না হই এবং অন্যকে হতাশ না করি। আমরা একটু ধৈর্য্য ধরে কাজ করতে পারলে খুব বেশিদিন সময় লাগবে না।