Home » অন্যান্য » বদলে যাও, বদলে দাও মিছিল!!! স্বাধীনতার কারিগর এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা।

বদলে যাও, বদলে দাও মিছিল!!! স্বাধীনতার কারিগর এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা।

312 বার পঠিত

 

মহান স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি দিবসগুলো নিয়ে নাটক গল্প কবিতা কম লেখা হয়নি। যে পরিমাণ মহান দিবস ভিত্তিক লেখা হয়েছে তাতে একটি কথা বলা চলে। আজকাল যে সমস্ত লেখালেখি হচ্ছে সেগুলোতে অনুকরণ সঙ্কলন জোড়াতালি দেয়া ছাড়া তেমন কিছু আশা করা যায় না। স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নতুন করে সাহিত্য চর্চা দেশ প্রেমে কি পরিমাণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে জানিনা। আমার মনে হয় বছরের একটি বিশেষ দিনে যতই সাহিত্য চর্চা হোক তেমন বৈচিত্র্যময় অনন্য কিছু পাওয়া যাবে না। আর এমন চর্চা হয় বলেই একের পর এক অনুকরণ লেখা ছাড়া তেমন উৎকৃষ্ট মানের লেখা আর চোখে পড়েনা।

দেশ গড়ার কারিগরদের নিয়ে এত লেখালেখি। এই যে গল্প কবিতা উপন্যাসের ছড়াছড়ি। এত সাহিত্য চর্চার পরেও কি জাতি হিসেবে শ্রদ্ধেয়দের প্রতি সত্যিকারের সম্মান জানাতে পারছি। যারা দেশকে বাঁচাতে। দেশের মানুষকে বাঁচাতে। অন্যের জীবনকে সাঁজাতে নিজের জীবনকে বিসর্জন দিলেন। সেই মহান দেশ গড়ার কারিগরদের জীবন ও মানের পরিবর্তন আমরা কতটুকু করতে পেরেছি। স্বাধীনতার চল্লিশ বছর অতিক্রান্ত হলেও ভাগ্যহতদের ভাগ্য কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে। যারা দেশ মাটি মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। চল্লিশ বছর পরে এসে তাঁদের জীবন ক্রান্তি লগ্নে আমরা কি দিতে পেরেছি। দেশ গড়ার রূপকারদের আজ জীবন বাঁচাতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে। সেই মহান বীরযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিতে আজ কয়েকটি কথা বলতে চাই।

মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে দুকলম লিখতে হলে রাজনীতিকে টেনে আনতেই হয়। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট আলোচনা না করে। শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন ও স্বপ্ন নিয়ে গল্পগুজব করা অবান্তর, অর্থহীন। তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে হলে সবার আগে দেশকে সম্মান জানাতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে হবে। একটি বিশেষ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কবিতা, গল্প প্রবন্ধ লিখে প্রকাশ করলেই তাঁদের প্রতি সম্মান জানান হয় না। দেশকে সম্মান জানানো হয়না। আর হয়না বলেই তো আজও মুক্তিযোদ্ধারা গল্প কবিতায় নাটক সিনেমায় শোভা বর্ধন করে চলেছেন। এই মনোভাব ধারাবাহিক ভাবে প্রচলিত বলেই আজ চল্লিশ বছর পরও আমাদের কাছে স্বাধীনতার ফলাফল প্রাপ্তি প্রশ্নবিদ্ধ।

একজন মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা পরবর্তী পরিস্থিতিতে কর্মকাণ্ড গুনে দেশদ্রোহী ও রাজাকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। কিন্তু একজন রাজাকার কখনও মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেনা। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় এমন অনেক রাজাকার আজ কাগজে কলমে মুক্তিযোদ্ধা। তাই অনেক মুক্তিযোদ্ধারাই আজ মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন। আবার মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ আজ রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে আশীর্বাদ পুষ্ট। তাঁরা রাজনৈতিক একচক্ষুনীতি গ্রহণ করেছেন বলে তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির চোখে আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সেই অবক্ষয়ের ফলাফলই কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জাতির সত্যিকারের সম্মান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে যদি মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক বলয় থেকে বের করে আনা না যায়। তাহলে তাঁদের প্রতি সত্যিকারের যে সম্মান, প্রাণের সিক্ততার যে শ্রদ্ধাঞ্জলি তা সম্ভব হবে না। রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা ভিত্তিক যে একচক্ষুনীতি চালু আছে। এটা অত্যন্ত মারাত্মক ভাবে দেশকে জিঘাংসার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন সহজ পথ খোলা রয়েছে বলে মনে হয় না। যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে একপেশে করে রাখা হয়েছে। যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান প্রকৃত পক্ষেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। সেখানে বিশেষ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেয়ার চেষ্টা কতটুকু অর্থবহ তা ভাববার সময় এখনও অতিক্রান্ত হয়ে যায়নি।

আজকে রাজনীতিতে যে রীতি রেওয়াজ চালু হয়েছে। সেটা বিচার বিবেচনা করার সময় এসেছে। অতি দ্রুত এর ব্যবস্থা না করা গেলে দেশে হানাহানি কাটাকাটির সম্ভাবনাকে একেবারে  উড়িয়ে দেয়া যায় না। যারা একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেন তাঁদের কার্যকলাপও বিবেচনার সময় এসেছে। কারণ একচোখা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে দিয়ে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া অসম্ভব। তাই দেশের এই অপ-রাজনীতি চর্চা বন্ধ করতে হবে। যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা না করা হলে। এদেশ একদিন অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

দেশের আমজনতাকে নিয়ে সরকার আর বিরোধীরা যেভাবে ইঁদুর বিড়ালের খেলা খেলছেন। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক জিঘাংসা গৃহযুদ্ধ রূপ নিতে পারে। সরকার ও বিরোধী দুই পক্ষই দেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনে অনস্বীকার্য অবদান রেখেছেন। দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি অগাধ যে ভালবাসা। সে ভালবাসাকে পুনর্জীবিত করে চলুন না সবাই মিলে আরও একটি ইতিহাস গড়ি। হিংসা হানাহানি পরিহার করে নতুন উদ্দীপনায় চলুন না আবার দেশ গড়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পরি। মিথ্যা অহমিকা, জিঘাংসার পথ পরিহার করে বন্ধুত্বের বাঁধনে চলুন না আবার দেশকে জাগিয়ে তুলি। আপনারাই তো আমাদের পথের দিশারী, শিক্ষক পথ প্রদর্শক। আপনারাই তো আমাদের শক্তি। নবীন প্রবীণের দুর্বার শক্তি নিয়ে চলুন না আমরা সবাই বদলে যাই। যুবক বৃদ্ধ সবাইকে নিয়ে চলুন না অন্যকে বদলে দেয়ায় অনুপ্রাণিত করি। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলুন না আবার সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

 

সাঈদ মোহাম্মদ ভাই

saeedmbhai@hotmail.com

মন্তব্য
  • সাঈদ মোহাম্মদ ভাই মার্চ 28, 2012 at 10:23 পূর্বাহ্ন

    হ্যাঁ পারতেই হবে। আমরা কি পাইনি বলুন? আমাদের একটি সোনার দেশ পেয়েছি। আমাদের মায়ের ভাষা পেয়েছি। আমাদের স্বপ্নগুলোর ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন দেখছি। একটা বিধ্বস্ত দেশকে আজ পৃথিবীর বুকে সম্মানের সাথে একই কাতারে দাড় করিয়েছি। কি না পেয়েছি আমরা।

    স্বপ্নের এই দেশটাকে এবার আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক হানাহানি বন্ধ হলেই দেশটা সোনার দেশে পরিণত হবে। এ দেশের মানুষ চমৎকার বাঁধনে অনন্য। শুধু এই অস্থিরতা থেকে বের হতে পারলেই আমাদের দেশ আরও উপরে উঠতে পারবে।

    বদলে দেয়ার মিছিলে কাঁধ কাঁধ মিলিয়ে সাম্য শান্তির দেশে পরিণত করতে হবে। এই হোক আমজনতা, মেহনতি মানুষ সহ সকল রাজনীতির অঙ্গীকার।

  • বদলে যাও বদলে দাও মার্চ 27, 2012 at 6:15 অপরাহ্ন

    সাঈদ মোহাম্মদ ভাই আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ, অভিন্দন। বদলে যাও বদলে দাও মিছিল নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পোস্ট লিছেন। আপনি ঠিকই বলেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এভাবে রাজনৈতিক দলের টাটাটানি আমাদের বন্ধ করতে হবে। তাদের কোন পৃথক দলীয় পরিচয় থাকা উচিত নয়। তাদের একটি পরিচয়ই থাকা উচিত সেটা ‌‌” মুক্তিযোদ্ধা” । আমরা সকল মুক্তিযোদ্ধাকে এই একটি দলেই দেখতে চাই। তাঁদেরকে কেউ দলীয় পণ্য করে তুলুক এটা আমরা কোনভাবেই চাই না। কাম্যও নয়। তাঁরা আমাদের দেশের ষোল কোটি মানুষের আদর্শ, শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরনার প্রতীক, শ্রেষ্ট অহংকার।
    বদলে যাও বদলে দাও মিছিল আপনার চিন্তা চেতনার প্রতি একমত পোষণ করে। আমরা এরকমই একটি বাংলাদেশ বিনির্মানের মিছিল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। নোংরা কলুষিত রাজনীতি থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতেই হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমাদের পারতেই হবে।

© বদলে যাও, বদলে দাও!