Home » অন্যান্য » সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে বদলে যাও বদলে দাও মিছিল-এর সকল লেখক পাঠকদের ৪১ তম মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা

সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে বদলে যাও বদলে দাও মিছিল-এর সকল লেখক পাঠকদের ৪১ তম মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা

280 বার পঠিত

বাঙালির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সময় ১৯৭১, শ্রেষ্ঠ ঘটনা স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। স্বাধীনতা এসেছিল দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদকে। গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সব নারী ও পুরুষকে, যাঁরা নিজ নিজ অবস্থান ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে সম্ভব করে তুলেছিলেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকে। স্বাধীনতাসংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদসহ প্রবাসী সরকারের সব নেতার স্মৃতির প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।
দীর্ঘ নয় মাসের সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আমরা হারিয়েছি ৩০ লাখ শহীদকে, দুই লাখ মা-বোনের ওপর চলেছিল সীমাহীন বর্বরতা। সেই সব শহীদ-পরিবারের সদস্যরা আজও বয়ে চলেছেন স্বজন হারানোর দুঃসহ বেদনা। তবে বেদনার বিপরীতে গৌরব আর আনন্দও আছে। ছাব্বিশে মার্চ থেকে যে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, নয় মাস পর ষোলোই ডিসেম্বর সেই যুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তিতে আমরা অর্জন করেছিলাম গৌরবের বিজয়। আজ আমাদের সেই সবকিছুই স্মরণ করার দিন।
আমরা এও ভুলতে পারি না যে গোটা জাতি যে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এক হয়ে দাঁড়িয়েছে সর্বাত্মক জনযুদ্ধে, সেই হানাদারদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল এ দেশের কিছু মানুষ। তারা শুধু পাকিস্তানি বাহিনীকে গণহত্যায় সহযোগিতাই করেনি, নিজেরাও অস্ত্র ধরেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে। রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী সেদিন এই দেশের নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষের ওপর চালিয়েছিল মানবতার বিরুদ্ধে নানা অপরাধ। সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নিলেও এ নিয়ে সংশয়-সন্দেহ দূর হয়নি। বিচার-প্রক্রিয়াও চলছে ঢিমেতালে। গত বছর কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; কিন্তু এখনো তদন্তকাজ শেষ হয়নি। দ্রুত বিচারকাজ শেষ হোক, সেটাই সবার প্রত্যাশা।
এবারে আমরা স্বাধীনতার ৪১ বছর উদ্যাপন করছি। ইতিহাসের বিচারে এটি দীর্ঘ না হলেও কোনো জাতির অগ্রগতির জন্য একেবারে কম সময়ও নয়। আজ আত্মজিজ্ঞাসার সময় এসেছে, মুক্তিযুদ্ধে এত আত্মদান ও ত্যাগ-তিতিক্ষার পেছনে আমাদের যে লক্ষ্য ও স্বপ্নগুলো ছিল, সেসব কতটা পূরণ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র; আমাদের পুরো মুক্তিসংগ্রামের মর্মকথা ছিল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সব ধরনের অন্যায়-অবিচার, বৈষম্য থেকে মানুষের মুক্তি। বলা বাহুল্য, সেই পথে আমরা বেশি দূর এগোতে পারিনি। আমাদের গণতন্ত্র এখনো চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আমাদের কিছু অগ্রগতি নিশ্চয়ই হয়েছে; তবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন পূরণ করতে আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার সংগ্রামে দল-মতনির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য
  • rahi মার্চ 26, 2012 at 6:15 অপরাহ্ন

    26 th march aj. govir srodha vore soron korchi bir mukti joddhader. jader karone gorbo kore bolte pari ami shdhin desher nagorik.mukti joddhder shei deshprem sobar majhe chria poruk

  • free will মার্চ 26, 2012 at 4:47 অপরাহ্ন

    amader kichu desh pemik er moddhe J gumonto vab gulo to akono jacche nah. Amdr desh shadin hOicha tik ei kintu mone hoi desh er manus gulo akono karo hathe bondi hoia ache.

  • EMDADUL HUQ TUHIN মার্চ 26, 2012 at 2:35 পূর্বাহ্ন

    মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার সংগ্রামে দল-মতনির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
    আশা করি এই প্রতাশ্যায় সবাই নতুন করে বাংলাদেশকে মায়ের মতই ভালবাসবে।

    • free will মার্চ 26, 2012 at 4:50 অপরাহ্ন

      notun kore kano, vash te jabo???? jonmo thake to ai desh k valobashi>>>> kintu amader valobasha gulo shopne prokashito hoi……!!!!

  • EMDADUL HUQ TUHIN মার্চ 26, 2012 at 2:34 পূর্বাহ্ন

    সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

  • rafikalamgir মার্চ 25, 2012 at 10:58 অপরাহ্ন

    ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা শুরু করেছিলাম একটি স্বাধিন রাস্ট্রের ভাবনার যাত্রায়। আমি মুক্তিযুদ্ব দেখেনি, তাই কল্পনা করতেও কিঞ্চিত খাটতে হয়। তবে আমি এই নিয়ে পড়েছি, তাই একটু ভাবনার জগত সহজে কল্পিত। সেই কল্পনার পাহাড় যখন আমার কনক কে নাড়া দেয় তখন আমার বিবেককে একটি প্রশ্ন করতে আমি বাধ্য হই যেই জাতি একি উদ্দেশ্যে একটি স্বাধিন ,সুন্দর, সোনালি – সবুজ ভুমির জন্য একসাথে নেমে পড়েছিল, সেই একি জাতি কিভাবে আজ নিজেদের মাঝে কলহের বিবাদে আবদ্দ হয়ে খুনা-খুনি করতে পারে। কিভাবে বিভক্তের চুয়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে দেশ নিয়ে অতিতে ফিরে যেতে পারে। ৪১ বছর আগে যেই জন্য বাংলার আবাল,বৃদ্দ,বালকেরা একসাথ হয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিল আজ সেই উদ্দেশ্যের পরিপুর্ন রুপ নিতে আমরা কি আরেকবার একসাথে ঝাপিয়ে পড়তে পারিনা। আমাদের একটু উদারতা,একটু সহানুভতি, আর একটু ভাল্বাসাই পারে এই দেশটাকে সপ্নের সোনালি দারান্তে পোছে দিতে। আমরা কি পারিনা? আমাদের কি মানুসত্বের নিম্ন পরিসীমাটুকুও নেই? যদি থেকে থাকে তাহলে আসুন আরেকবার ঝাপ দেই, এই দেশটার সোনালি-সবুজ ভূখণ্ড কে রাঙ্গিয়ে তুলি আমদের একাকিত্ব সাধনা ও ভালবাসা দিয়ে। এটাই হোক আমাদের ৪১ তম স্বাধিনতা দিবসের অঙ্গিকার।

  • A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT(SAYED CHOWDHURY) মার্চ 25, 2012 at 10:50 অপরাহ্ন

    গনতন্ত্র, মানুষতন্ত্র, মূল্যবোধতন্ত্র, প্রেমতন্ত্র, স্বাধীনতাতন্ত্র সহ সব কিছুর স্বাধীনতা আমাদের জাতি উভভোগ করুক । আসুন আমরা এ লক্ষ্যে কাজ করি । সবাইকে স্বাধীনতা দিবশের শুভেচ্ছা ।

© বদলে যাও, বদলে দাও!