Home » সড়ক দুর্ঘটনা কি চলতেই থাকবে? » নৌ-দুর্ঘটনা এবং প্রতিরোধে করণীয়

নৌ-দুর্ঘটনা এবং প্রতিরোধে করণীয়

620 বার পঠিত

প্রতি বছর এই সময়টা এলেই শুরু হয় একের পর এক নৌ-দুর্ঘটনা । দুর্ঘটনার পরবর্তী সময়ে মৃতদেহ উদ্ধার এবং তদন্ত কমিটি গঠণ করা ছাড়া কর্তৃপক্ষের আর কোনও কার্যক্রম দেখা যায়না । তদন্ত কমিটি নিছক দুর্ঘটনা বলে সব কিছু শেষ করে দেন । শত শত মানুষের জীবন হারালেও পরবর্তী সময়ে যেন দুর্ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে কিছু করার আশ্বাস দিলেও তা আর কখনো কার্যকর হয় না । যদি কার্যকর করাই হতো তাহলে আমাদের একের পর এক দুর্ঘটনা দেখতে হতো না । লাশের মিছিল করতে হতো না । সব কিছুই আমার কাছে সিনেমার দৃশের মতো মনে হয় । নৌ দুর্ঘটনাগুলো ভয়ংকর ঘটনা হলেও,তা আজ আমাদের চোখে ভয়ংকর বলে মনে হয় না । এত এত লাশ দেখে ক্ষনিকের জন্য খারাপ লাগলেও মুহুর্তের মধ্যে আবার আমরা সব ভুলে যাই । কেননা এইসব ঘটনা এখন নতুন কিছু না । দেশের লঞ্চ-স্টিমার গুলো সামান্যতম ঝরে ডুবে যায় । এর কারণ কী? মানুষের জীবনের ঝুঁকি থাকলেও লঞ্চ গুলো নির্দিষ্ট ধারণ ক্ষমতা থেকে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে চলছে। মালিকদের অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যের কাছে মানুষের জীবনের কোনও মুল্য নেই । নৌ-পথে চালকদের সঠিক ভাবে দিক নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে না, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে না । ত্রুটিপূর্ণ সিগনাল ব্যবস্থা । নৌ-পথ নিয়ে নৌমন্ত্রনালয় তেমন কিছু ভাবছেন বলে মনে হয়না। কেননা এর কোন প্রমাণ পাই না। চালকের অদক্ষতা এবং খামখেয়ালিপনাও নৌ-দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ।

আমাদের দেশে যে কেউ গাড়ি থেকে শুরু করে লঞ্চ, স্টিমার ও জাহাজ চালাচ্ছে । দুর্ঘটনা ঘটার আগে চালকের অন্তত একটু হলেও আভাস পাওয়ার কথা । তাদের একটু দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা পারে যাত্রীদের মূল্যবান জীবন বাঁচাতে । কিন্তূ অত্যান্ত দুঃখের বিষয় দুর্ঘটনার আভাস পেলে চালকরা যাত্রীদের বিপদগ্রস্থ অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যান । এরকম বীর পুরুষের সংখ্যা খুব কম আছে যে যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখেন । নৌ-দুর্ঘটনা কমাতে নৌ-পথে উদ্ধারকারী জাহাজ ও কর্মী মজুদ রাখা প্রয়োজন । যেন তারা তৎক্ষনাত দুর্ঘটনাগ্রস্থদের উদ্ধার করতে পারে । বর্তমানে যেসব উদ্ধারকর্মী আছে তারা দুর্ঘটনার পর মৃত লাশ উদ্ধার করে । কিন্তু মানুষকে বাঁচাতে তারা কোনও কাজে আসে না। এছাড়া নৌ-পথে নিরাপত্তা বাড়াতে হবে । সর্বশেষ বলবো কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল-দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রহণের মাধ্যমেই সম্ভব নৌ-দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা ।

মন্তব্য
  • Love মার্চ 28, 2012 at 11:28 অপরাহ্ন

    সকলের সচেতনতাই পারে আমাদের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে ।

  • Love মার্চ 28, 2012 at 11:26 অপরাহ্ন

    সকলের সচেতনতাই পারে আমাদেরকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে ।

  • রফিকুল ইসলাম সাগর মার্চ 28, 2012 at 10:29 পূর্বাহ্ন

    আপনাদেরকেও ধন্যবাদ । আমি আপনাদের এই আয়োজনের সাথে আছি এবং সব সময় থাকবো । এই সমস্যা সমাধানে আমার বন্ধু-বান্ধব সহ সকলকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান করছি ।

  • বদলে যাও বদলে দাও মার্চ 27, 2012 at 8:05 অপরাহ্ন

    Rafiqul Islam Sagar আনাকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। খুব চমৎকারভাবে নৌ-দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিরোধের বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন। এই বিষয়গুলি নিয়ে আমাদের আরও খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। বিশেষ করে যে সমস্যাগুলোকে আমরা চিহ্নিত করতে পারব তার উৎসমূলে যাওয়া প্রয়োজন, তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন । যদি প্রধান সমস্যাগুলোকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয় এবং তার প্রকৃত কারণগুলো সনাক্ত করা যায় তবে তার সমাধানের সূত্রগুলি খুজেঁ পেতে সহজ হবে। যেমন অল্প ঝড়বাতাসে লঞ্চ ডুবে যাওয়ার কারণ, ত্রুটিপূর্ন সিগনাল, উদ্ধার তৎপরতা, নির্মাণ ত্রুটি, চালকদের দক্ষতা, নৌ-নিরাপত্তাসহ আরও যেসব জরুরি সমস্যাগুলো রয়েছে তার প্রত্যেকটি ইস্যুই আলোচনায় আসুক। প্রতিটি বিষয়ে চুলচেরা, নিখুঁত পর্যালোচনা হোক।

    আমরা চাই চিহ্নিত সমস্যাগুলির একটি কিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান এবং আর্থিক ব্যয় বরাদ্দের দিকগুলিও বেরিয়ে আসুক। বাজেট স্বচ্ছতাও আমাদের জানা প্রয়োজন। যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সরকারকে অনুসরণ করতে বাধ্য করানো যায়। এখানে জনমানুষের অভিজ্ঞতাগুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিশেষকরে যারা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, যারা নিয়মিত লঞ্চ- স্টিমারগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করেন তাদের যুক্তি পরামর্শ । আমরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই আপনারা অনুগ্রহ করে এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করুন। আপনাদের সাহায্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনাব সাগর আপনাকে আবারও বিনীত ধন্যবাদ।

© বদলে যাও, বদলে দাও!