আমি স্কুল ছাত্রী। পড়াশোনা বলতে গেলে ভালই চলছে। তবে পড়াশোনার নিয়মটা মোটেও ভালো চলছে না। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর আমি অনেক বড় ভক্ত। তাঁর জন্য আজ আমরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছি। তাঁর প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তবে এই পদ্ধতি নিয়ে সবার সুস্পষ্ট এবং পরিষ্কার কোন ধারনা নেই। বিশেষ করে শিক্ষকদের ধারনা দেওয়া খুবই জরুরিভাবে দরকার। সরকার জানে এবং বলেও যে গাইড বই শিক্ষাকে চিরে খাচ্ছে। মাঝে মাঝে খবরে দেখি গাইড বইয়ের বিরুদ্ধে কথা বলে সবাই। কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না।
শিক্ষকরা অনেক সময়ে ক্লাস রুমে বসেই গাইড বই থেকে প্রশ্ন লিখেন। ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে গাইড সঙ্গে নিয়ে গিয়ে পড়ে। সবাই পড়ে এবং ভালো ফলাফল করে বলে অভিভাবকরাও আমাদেরকে গাইড পড়তে বলেন। সবাই বলে, “মুখস্ত করতে হবে না, শুধু প্রশ্নের উত্তরটা কিভাবে লিখতে হবে এটা জানতে পড়ে ফেল।” কিন্তু এই কথার আসলে যুক্তি নেই। সৃজনশীল পদ্ধতিতে নিজের মত করে লিখতে হবে, এখানে গাইড বই কিভাবে জানবে আমি কিভাবে লিখব?
এক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষকদেরকে বেশি করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। গাইড বই ততদিন চলবে যতদিন আমরা তা পড়ব। তাছাড়াও আমাদের ইংরেজী বইয়ের পড়াগুলো পড়ে আমি এবং আরও অনেকে মনে করি না যে এসব পড়ে আমাদের ইংরেজীতে বিশেষ কোন উন্নতি হবে। আমাদের দেশের ইংরেজী শিক্ষার অনেক অভাব। শুধু গ্রামার-এর উপর ভিত্তি করে পড়লেই হবে বলে আমার মনে হয় না, আমাদের উচ্চারণের দিকে একটু মন দিতে হবে। ইংরেজী বিষয়ের জন্য ইংরেজী, বিজ্ঞান-এর জন্য বিজ্ঞান বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা প্রয়োজন, এবং তা ছোট শ্রেণী থেকেই শুরু করতে হবে বলে আমাদের ধারনা।
আশা করি এই লেখাটি সকলের চোখে পরবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে জড়িতরা বিবেচনা করে দেখবেন।






amar chinta porikkha nie na, guid ar private teacher nie. tara ki amader srijonsil hote dicche? karon ami rajuk college e class eight e pori
গভিরভাবে চিন্তা করার জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ ।
শিক্ষার মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন করে না। সবাই পরীক্ষার রেজাল্ট দেখে। বছর বছর এ প্লাস পাওয়ার সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তার মানে নিশ্চিত পড়াশোনার উন্নতি হচ্ছে। শিক্ষার মান বাড়ছে। ছাত্ররা কি শিখছে তা বিবেচ্য নয়। এ প্লাস পেল কিনা এটাই বড় প্রশ্ন। ভাবছিলাম সৃজনশীল পদ্ধতি এসে গতানুগতিক প্রশ্নোত্তর মুখস্থ করা থেকে বাচ্চারা রেহাই পাবে। কিন্তু তা আর হল কই। এখনও গাইড বইয়ের প্রচলন রয়েই গেছে। আর প্রাইভেট টিউটর, কোচিং এর দৌরাত্ম আগের চেয়ে কমেছে বলে মনে হয়না। তাহলে সৃজনশীল কারিকুলাম এর উদ্দেশ্য ও অর্জন দুটিই প্রশ্নবিদ্ধ। আর শিক্ষকদের যথাযথ প্রস্তুতিরও দরকার আছে। না হলে শিক্ষার মানের অবনমন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যাই হোক তবুও আশাবাদ; অদূর ভবিষ্যতে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রনালয় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবে।
আহমেদ ইউসুফ
ঢাকা ০৯ এপ্রিল ১২