একটি বাচ্চার তীব্র জ্বর । মাথায় পানি ঢালছে । তবুও জ্বর কমছে না । মা বাবার অবস্থা কেমন হবে । বা বাচ্চাটিরই বা কি হতে পারে । তার মধ্যে যদি তাদের থাকার জায়গা রাস্তা হয় তবে আমরা যারা অট্টালিকায় বাস করি তারা কি মানবতার প্রশ্নে একটুও দায়বদ্ধ হবো না ? প্রশ্নগুলোর উত্তর পরে দিচ্ছি ।
গতকাল ও আজ প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে । সাধারন মানুষের দুর্ভোগই অনেক বেশী । যারা খুব কাজে ঘর থেকে বের হচ্ছেন তারাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন । এই ভোগান্তির কথা বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রকাশিত হল কিন্তু অধিকার বঞ্চিত মানুষগুলো তখনও রাস্তায় জীবন যাপন করছে । এবার প্রশ্নের উত্তরে আশা যাক ।
যদি অমন জ্বরওয়ালা কোন বাচ্চা থেকে থাকে তবে তার কি হবে ? পরের দিন কি কোন সংবাদ পত্রে সংবাদ হওয়ার জন্যই ঐ উচ্ছেদকে আমরা নিভৃতে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছি ।
মানবতা, মানবতা করে অস্থির হয়ে যাচ্ছি সবসময় । একজন মানুষ ক্রস ফায়ারে মরলেই মানবাধিকার কমিশন সোচ্চার হয়ে বলে এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন । কিন্তু এতগুলো মানুষ আজ খোলা আকাশের নীচে । হয়ত সেখানে শিশু আছে, আছে অসহায় রুগ্ন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাও ।
আমি জানি ঢাকাকে আধুনিকায়ন করতে হবে, উন্নত করতে হবে, করতে হবে পরিপাটিও । এই লক্ষ অর্জনের জন্য অবশ্যই বস্তি সরিয়ে ফেলতেই হবে । তবে এভাবে কেন ? এটাতো কোন নিয়মতান্ত্রিক প্রকিয়া নয় । যাদের জীবিকা তারা এখানে গড়ে নিয়েছে হঠাৎ উচ্ছেদে তাদের সব পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে ।
বস্তি উচ্ছেদ না করে পুর্ণবাসন করতে হবে । শহরের প্রান্তীয় অঞ্চলগুলোতে থাকার জায়গা করে এদের স্থানান্তর না করে এভাবে উচ্ছেদ করলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হবে চরমভাবে । আর এই অবস্থা দূর করানোর জন্য অবশ্যই সরকারের উচিৎ মানুষের ঢাকামুখীতা বন্ধ করা । আর এটা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়া কখনই সম্ভব হবে বলে মনে হয় না ।
আমি এই ব্লগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা এই মানবিক অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন না । এই ছিন্নমুল মানুষগুলোর কথা শোনার কেউ নেই । মানুষের কষ্ট বুঝে হলেও পূর্ণবাসন করার পর স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহন করুন । এই সভ্য সমাজে মানুষকে আর্থিক অবস্থার মানদন্ডে পরিমাপ করে আমরা যেন মানুষ হিসেবে নিজেদের ছোট না করে ফেলি । সঠিক গণতন্ত্রের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সৃজনশীল মানুষের পাশাপাশি ছিন্নমূল মানুষদের অধিকার নিয়ে ভাবতে হবে । একটা জনগোষ্ঠি বাদ পড়লে বা অবহেলিত থাকলে গণতন্ত্রের মধ্যে অস্থিরতা থেকেই যাবে ।






আগে পুনর্বাসন তারপর উচ্ছেদ ।
আমাদের নিচু স্তরের মানুষগুলোর অসহায়ত্ব কারও কানেই পৌছায়না । যেখানে চাপ প্রয়োগ করা যায় সেখানেই সবাই নিজের প্রভাব খাটাতে চায় । দুঃখ একটাই সরকারের এমন অবুজ নীতি হবে কেন । মা বাবার দায়িত্ব থাকে সব সন্তানকে এক নজরে দেখা । ধনী দরিদ্রের মধ্যে পার্থক্যসৃষ্টি সরকারের কাছে আমাদের কাম্য নয় ।
অবশ্যই পুনঃবাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা অনুচিত এবং অমানবিক! কিন্তু কে কার কথা শুনে? তবে মায়া কান্না দেখানোর লোকের অভাব নেই! এটাইতো আমাদের সমাজ ব্যবস্থা! ধনী দরিদ্রের বৈষম্য তো থাকবেই! ধনীরা অতি দরিদ্র না থাকলে অল্প পয়সায় শ্রম পাবে কোথায়?
সবসময় মনে হয় ছিন্নমূল মানুষদের জন্য কিছু একটা করি । কিন্তু যখন এত মানুষের মধ্যে একজন দুজনকে সাহায্য করতে হয় তখন মনে হয় যে সাগরের একটি বালুকনার সান্নিধ্যে যেতে পেরেছি মাত্র। আর সবার কি হবে এই চিন্তা করে হতাশ হয়ে নিজের কাছে ফিরে আসি বারবার ।তারপরও অন্তত লিখার মাধ্যমে এই সহানুভুতি সবার মধ্যে প্রকাশ করে দুঃখ ভরা হৃদয় হালকা করার প্রয়াস মাত্র । মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে, সহানুভূতিশীল হবে এবং একে অন্যের সাহায়্যে এগিয়ে আসবে এর মত স্বাভাবিক সত্য আর নেই । কিন্তু উঁচু স্তরের বৈশম্যের কারনে আজ যে অস্থিরতা সামাজিক ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তার ছোঁয়া কিন্তু অতিতেও ছিলো । এগুলো কাটিয়ে উঠেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে । আর মানুষের জন্য কাজ করা নিজের ভালো ব্যক্তিতেরই প্রকাশ ।কিন্তু কাজটিকে আরও গতিশীল করার জন্য প্রয়োজন একে অন্যের সহযোগীতা । এই পাশে দাঁড়ানোর ভাষা লিখা থেকে বাস্তবে রুপদান করার জন্য ভালো মানুষদের এক কাতারে আশা খুব জরুরী যা সহযোগীতার মাধ্যমেই সম্ভব । মায়া কান্নাওতো সহানুভূতির বঃহিপ্রকাশ । যারা দেখানো কান্না কাদেঁ তারা কি আদৌ মানুষ নামের সবোর্তকৃষ্ট জীব ?