এক.
জীবনযুদ্ধে আমরা সবাই একেকজন যোদ্ধা। হাত পা নিয়ে শারীরিক সার্মথ্যে, মেধা জ্ঞাণ অভিজ্ঞতায় ও নানা বুদ্ধি প্রয়োগে আমরা আগামী জীবনের পথে এগিয়ে যাই। নানা শ্রেনী পেশায় জড়িয়ে, কেউবা প্রতিষ্ঠিত হই। কেউবা নিজ ব্যর্থতা ও নানা কুটকৌশল এবং ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে, জীবনযুদ্ধে হেরে যাই। আবার কেউবা পালিয়ে বেড়াই। যেমন মাদকাসক্তরা জীবন থেকে পালিয়ে বেড়ায়। আবার একশ্রেনীর মানুষ আছে,যারা অন্যের অবলম্বন ভর করে বেঁচে থাকে। হাত পেতে চলে। অনেকটা ভিক্ষাবৃত্তি যাকে বলে।
কিন্তু জীবনযুদ্ধে এমন কিছু মানুষ আছে, যারা পরাজয় জানে না। পরাভব মানে না। শুধু সকল বাঁধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করে যায়। তাতেই তাদের তৃপ্তি। জীবন যুদ্ধে তারা এক একজন বড় যোদ্ধা। তেমনি এক যোদ্ধা জামালপুরের নূর ইসলাম। ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনায় দুটি পা হারিয়েও হার মানেনি। অনেকের মত অসহায়ত্বকে পুঁজি করে, ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেয়নি। অদম্য মনোবল নিয়ে, নিজে অমানুষিক পরিশ্রম করে, জীবন সংগ্রামে একজন লড়াকু সৈনিক হয়ে, লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে………..
দুই.
মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে, মধুমিতার দিকে আসতে হাতের বা দিকে হীরাঝিল হোটেল। ভোজণরসিক বাঙালিদের কারণে হোটেলটি সবসময় হাউসফুল থাকে। আজ দুপুর একটার দিকে, হীরাঝিলের সামনে দিয়ে আসছিলাম। হঠাৎ দেখি হোটেলের সামনে হুইল চেয়ারে বসে, চাকা ঘুরিয়ে এক চব্বিশ/পঁচিশ বছরের ছেলে, মুখে বাঁশি বাঁজিয়ে হুইসেল দিয়ে গাড়ি পার্ক করাচ্ছে। ঘটনা কি ? উৎসুক হয়ে জানলাম, জীবন যোদ্ধার নাম, নূর ইসলাম। বাড়ি জামালপুর। বাড়ি যাবার সময়, এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়, নূর ইসলামের পা দুটি হাঁটুর উপর থেকে কেটে ফেলতে হয়। সেদিনের কথা সে মনেও করতে চায় না। বলা তো অনেক দূর …।
নূর ইসলাম হুইল চেয়ারের চাকা ঘুরিয়ে, গাড়ি পার্কিং’এর যে কাজ করছে, তা অনেক কষ্টের। প্রতিদিন এ কাজে তার আয় দেড়শ টাকা। তিন ভাই এক বোন ও মাকে নিয়ে সংসার। বাবা নেই। পুরো পরিবার থাকেন দেশের বাড়ি জামালপুর। সেখানেও টাকা পাঠাতে হয়। তাই খরচ বাঁচাতে রাত্রিযাপন করেন, মতিঝিল ওয়াপদা বিল্ডিং’এর মসজিদে। জীবন কেমন কাটছে ? জিজ্ঞেস করতেই চোখ নামিয়ে বলল, কষ্টের জীবন! আর কেমন কাটবে ? তবুও ভাগ্য ভাল, এক পাকিস্তানী স্যারের দেখা পেয়েছিলাম।
তিন.
পাকিস্তানী স্যার (নূরের কথায়) হীরাঝিলের পাশের বিল্ডিং’এর মালিক। তিনি মাঝে মধ্যে বাংলাদেশে আসেন। নূর ইসলামের অসাহায়ত্ব দেখে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। একটি দামি হুইল চেয়ার নূরকে কিনে দেন। এই হুইল চেয়ারে বসেই এখন নূর ইসলাম, তার কর্মটি সুন্দরভাবে করতে পারছেন। ভাবতে ভাল লাগে, এক পাকিস্তানী ভদ্রলোক, বাংলাদেশের এক তরুণের জন্য অতীতের সবকিছু ভুলে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তার মানে সব পাকিস্তানী এক নয়! তাঁদের অনেকেই আমাদের কাংখিত ও স্বপ্নের স্বাধীনতাকে সমর্থন জানিয়েছিল……
নূর ইসলাম শারীরিকভাবে পঙ্গু একজন মানুষ হয়েও, পরিশ্রম করে, আন্তরিকতা দিয়ে জীবনকে সংগ্রাম করে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। টাকা জমাচ্ছে। একটি স্বপ্ন পূরণের জন্য। ছোট সাধারন একটি স্বপ্ন। একটি মুদির দোকান। শারিরিক অমানুষিক শ্রম থেকে বাঁচার জন্য। প্রাতঃকৃয়া সম্পন্নের জন্য,পরিবারের ভালবাসা পাবার জন্য। স্থির হয়ে জীবনে বসার জন্য। একটু জীবনকে উপভোগ করার জন্য। নূর ইসলাম তোমার মনের অদম্য ইচ্ছে, মনোবল তোমাকে শক্তি যোগাবে। স্বপ্ন পূরণে সফলতা এনে দিবে। মহান আল্লাহর নিকট এ আমার প্রার্থনা। ভাল থেকো বীর জীবনযোদ্ধা নূর ইসলাম। তোমাকে সালাম………………
ne�K|`�






এখানে ছবি আপ লোড করার সুবিধা থাক লে আমি গতকালের ামার তুলা এক টি ছবি সবার সাথে শেয়ার করতে পারতাম। যেটা আমি গতকাল সন্ধ্যায় গুলশান-২ থেকে তুলেছি ৃশ্যটা বর্ণনা করতে গেলে এমন ।
১০/১১ বছরের এ্ক টি ছেলে উপর হয়ে কি যেন করছে। কাছে দিয়ে দেখি কাঁদা নিয়া নাড়া চাড়া করছে । শুরুতে বুঝতে ষ্ট হলেও তারপর বুঝলাম যে সে পাশেরড্রেন থেকে কাঁদা গুলু তুলে এনেছে কিছু খুঁজে পেতে ! তারপর আস্তে আস্তে আবিস্কার করল প্লাস্টিক এর বোতল, বাক্স ইত্তাদি । আমি তার ছবি তুলতে দেখেই এটা হাসি দিতে পজ দিল । মনে হল মানিক মুক্তা হীরা খুজে পেয়েছে ! ততক্ষনে সে পুরু ক্দমাক্ত একজন কাঁদা ভরা মূর্তি হয়ে গেছে ! তারপর আমিও আর দশ জনের মত হেটে হেটে আমার গন্তব্বের দিকে রউনা হলাম !!
আপনার অনুভূতি প্রকাশে আম মুগ্ধ। আসলেই আমরা অনেককিছু দেখে মুখ ফিরিয়ে চলে আস। আপনাকে ধন্যবাদ।
শওকত হোসেন বাদল, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। কি আর বলব ! ” দেখা হয় না চক্ষু মেলিয়া , ঘর হতে দু’পা ফেলিয়া” নূর ইসলাম শারীরিকভাবে পঙ্গু একজন মানুষ হয়েও, পরিশ্রম করে, আন্তরিকতা দিয়ে জীবনকে সংগ্রাম করে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নিজেকে। প্রশ্ন জাগে নূর ইসলাম আসলেই পঙ্গু? এরকম সংগ্রমী মানুষকে কি পঙ্গু বলা যায়! সমাজে লাখ লাখ সক্ষম মানুষ অক্ষম হয়ে কি তান্ডব না করে বেড়াচ্ছে শুধু একটু রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে। এক টেলিফোন কলে একেঁ দেয় রোজগারের কত রকম মানচিত্র। সময় করে একদিন নূর ইসলামকে লাল সালাম দিয়ে আসবো।
না নূর ইসলামদের পঙ্গু বলা যাবে না। নূররা একেকজন বীর……….
আপনার উপস্থিতি আমাকে অনুপ্রানিত করবে। ভাল থাকুন।
লেখার মাধ্যমে একটি সংগ্রামী জীবনের চিত্র তুলে ধরার আপনার এই প্রচেষ্টা সত্যি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ধন্যবাদ এমন একটি সংগ্রামী জীবন কাহিনী তুলে ধরার জন্য। আশা করি যারা আপনার এই লেখাটা পরবেন তাদের মাঝে অনেকেই এই সৈনিকের পাশে দাঁড়াবেন।শুভ কামনা রইল।
আপনার অনুভূতি প্রকাশে আমি মুগ্ধ। আপনাকে অ-নে-ক ধন্যবাদ।