বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সুপ্রাচীন মাধ্যম হল জলপথ। নদিমাতৃক বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবেই নৌ পথের ব্যবহার ব্যাপক। বরিশাল বিভাগের সকল জেলায় ও চট্রগ্রাম এবং খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলায় জনগনের আন্তঃজেলা ও ঢাকার সাথে যোগাযোগের প্রধান পথ হল নদিপথ। সমগ্র বাংলাদেশে নদি পথ খুব জনপ্রিয় যাতায়েতের জন্য। এ জনপ্রিয় মাধ্যম এখন আতঙ্কের নাম।
কিছু ঘটনা এখনও মানুষের মনে দাগ কেটে আছে।২০০১ সালে চাঁদপুর মোহনায় ‘এমভি রাজহংসী’ নামক একটি লঞ্চ ডুবে যায় যাতে ৩০০শতাধিক যাত্রীর সলিল সমাধি ঘটে।২০০২ সালে ৩মে চাঁদপুরে ডুবে যায় ‘সালাউদ্দিন-২’ নামে যাত্রীবাহী লঞ্চ,তাতে ৩৬৩ জন যাত্রী মারা যায়।২০০৩সালে ৮জুলাই ‘এমভি নাসরিন’ নামে লঞ্চ ডুবে ৬৪১ জন প্রান হারায়।এমন আরও অনেক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মানুষের মনে এখন হাহাকার করে বেড়ায়।এসব দুর্ঘটনা শুধুমাত্র প্রাকৃতিক হলে মানুষ কিছুটা সান্ত্বনা পেত কিন্তু সমস্ত দুর্ঘটনা রাষ্ট্রযন্ত্রের উদাসীনতার ফল তা সমীকরণ এবং তদন্ত রিপোর্ট দেখলে বোঝা যায়।
কোস্ট ট্রাস্ট নামক বেসরকারি সংস্থার একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়,১৯৭৬সাল থেকে ২০০৬সাল পর্যন্ত ৪৯৬টি দুর্ঘটনা কারণ অনুসন্ধানে পাওয়া যায় শতকরা ৭০ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে নকশা জনিত কারনে এবং স্বাধীনতার পর ৪১বছরে নৌ দুর্ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছে ২০হাজার এরও বেশি,এর মধ্যে নিস্পত্তি হয়ে ২০০মামলা। কিন্তু কারো কোন শাস্তি হয় নি। আর এ উদাসীনতা এর ফল হচ্ছে বার বার নৌ দুর্ঘটনা ঘটা। সরকার এবং জনগনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা পারে এর অবসান করতে। জনগণের জোরালো আওয়াজ তুলতে হবে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপের ব্যাপারে। www.bodlejaobodledao.com ব্লগের মাধ্যমে শিক্ষিত সমাজ আওয়াজ তুলে সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করা হবে প্রথম পা বাড়ানো পরিত্রানের পথে। কিছু সু-নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে নৌ দুর্ঘটনা রোধে।
লঞ্চ যাত্রী সেবায় নামার আগে নিশ্চিত করতে হবে নকশায় ক্রুটি নেই,চালক দক্ষ। বাতি বা সার্চ লাইন ব্যবস্থা উন্নত। নিয়মানুসারে লাইফ গার্ড জ্যাকেট আছে। তারপর লঞ্চ নদীতে যাত্রী সেবায় নামলে নিরাপত্তা আইন মানতে যাতে বাধ্য থাকে সেদিকে নজর রাখবে প্রশাসন। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন প্রশাসনের আইনের সু-ব্যবহারের মাধ্যমে রোধ করতে হবে। নৌ পুলিশ সজাগ দৃষ্টি রাখবে যেন বেপরোয়া লঞ্চ না চলে নদি পথে,সতর্কতামূলক চিহ্ন ছাড়া নদিপথে যেন কোন মাছ ধরার জাল না থাকে। সর্বোপরি নিশ্চিত করতে হবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস যেন চালক ঠিক সময় মত পেয়ে যায়। এমন কিছু ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপই পারে নৌ দুর্ঘটনা নামক ব্যধি থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে।
আমরা আশা করবো আর কোনদিন যেন স্বজনের লাশের খোঁজে কোন মানুষকে নদীর তীরে উদ্বিগ্ন প্রহর গুনতে না হয়। সরকারের স্বদিচ্ছা এবং নাগরিক সচেতনতাই পারে এ পরস্থিতির অবসান ঘটাতে।






অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।অবশ্যই সাধ্য মত চেষ্টা করবো এমন একটি গঠন মূলক পোস্ট যেন ব্যবস্থা করতে পারি।কিংবা নিজে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা চালাবো।
সাজ্জাদ হোসাইন আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ। নৌদুর্ঘটনা নিয়ে আপনার মতামত পারামর্শগুলি খুবই গঠনমূলক। বদলে যাও বদলে দাও মিছিল এই ইস্যুটি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে । আমরা সরকারের সর্বোচ্চ মহল পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে যেতে চাই। এক্ষেত্রে আপনাদের অংশগ্রহনই প্রধান শক্তি, অবলম্বন। দুর্ঘটনা বন্ধ করতে আরও যুক্তিযুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। সনাক্তকৃত প্রতিটি সমস্যা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সমাধানের পথগুলি বের করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মেরিন (লঞ্চ/ স্টিমার) টেকনোলজি নিয়ে আমাদের কাছে কোন পোস্ট আসে নাই। আপনার পরিচিত কেউ থাকলে তাদেরকে লিখতে অনুরোধ করবেন। ধন্যবাদ।