একটা ছোটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ খবর সবাইকে জানাতে আজ লিখছি। প্রতিদিন অফিস যাওয়ার সময় আমি দেখি অনেক প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভাররা গাড়িতে মানুষ তোলেন মালিকের অনুপস্থিতিতে। আমার খুব খারাপ লাগে যখন দেখি একজন বেতনভোগী ড্রাইভার এইভাবে গাড়ির মালিকের চোখে ধুলো দিয়ে তাঁর অজান্তে গাড়িতে নানা মানুষ তুলে কিছু বাড়তি টাকার আশায়। এইসকল গাড়ির সকল মালিকই বিত্তবান এমন ভাবাটা ভুল।আমি এমন অনেককেই চিনি যারা রাস্তা ঘাটে অহরহ ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা ও অনিরাপত্তার কারনে সন্তানের বা সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য বহু কষ্ট করে হলেও প্রাইভেট গাড়ির খরচ বহন করছেন। এর জন্য তাঁদের হয়ত জীবনের অনেক চাহিদা অপূর্ণ রাখতে হচ্ছে, কিন্তু তবুও তারা পরিবারের নিরাপত্তার আশায় যাতায়াতের জন্য প্রাইভেট গাড়ি ব্যাবহার করে থাকেন।
আজকেও একই দৃশ্য দেখছিলাম। দেখতে দেখতে ভাবলাম এমন নির্বাক ক্ষোভ নিয়ে আর কতক্ষণ তাকিয়ে থাকব! তাই ব্যাগ থেকে ডায়েরি আর কলম বের করে টুকে নিলাম এমন দুটি গাড়ির নাম্বার।আমি ট্রাফিক জ্যাম-এ বসে ছিলাম মগবাজার এলাকায়। রাস্তার ঠিক অপর পাশের অবস্থিত যমুনা অটো সেন্টার নামক জ্বালানি সরবরাহের পাম্পের সামনের রাস্তায় গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে ছিল। প্রথম গাড়িটির নাম্বার ছিল ঢাকা মেট্রো-গ, ১৯-৯২৮৫। গাড়িটি ছিল corolla X মডেলের। দ্বিতীয় গাড়িটির নাম্বার ছিল ঢাকা মেট্রো-গ, ২৭-৭৮-১৬ যার মডেলটি আমি দেখতে পারিনি।
যেসকল যাত্রীরা এইসব প্রাইভেট গাড়িতে ওঠেন তাদেরকে অনুরোধ করবো এমনটি না করার জন্য। কারন এটি মোটেও নিরাপদ নয়। আমি জানি প্রতিদিন চলতি পথে যানবাহন পাওয়া কত কঠিন। রীতিমত যুদ্ধ করার সামিল। কিন্তু জীবনের নিরাপত্তার চাইতে আর কোন কিছুই বড় নয়। তাই অনুরোধ রইল এমনটি না করার।
এখানে একটি সত্যি ঘটনা সবাইকে অবগত করতে চাই। আমার স্বামীর অফিসের একজন কর্মী অনেক রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। কোন যানবাহন পাচ্ছিলেননা বলে এক কোনায় দাঁড়ানো একটি প্রাইভেট গাড়ি যেটি অন্য আরও অনেক যাত্রী তুলছিল তাতে চেপে বসলেন। রাত প্রায় ১১টা বাজায় রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা ছিল। গাড়ি ভর্তি আরও ৬/৭ জন মানুষ থাকায় তিনি চিন্তিত ছিলেননা। কিছুদূর গাড়ি ঠিক মতই চলল। এরপর গাড়িটা সোজা পথে না গিয়ে গলির ভেতর দিয়ে ঢুকে গেল এবং থেমে গেল। আর ভদ্রলোক খুব অবাক হয়ে আবিষ্কার করলেন গাড়ির মধ্যে থাকা ৩ জন লোক চারপাশ থেকে তাঁর হাত পা চেপে ধরল শক্ত করে। আর বাকীরা তাঁর পকেট থেকে মানিব্যাগ, মোবাইল সেট, হাত থেকে ঘড়ি নিয়ে নিল।মানিব্যাগ খুলে এটিএম কার্ড বের করল আর তাঁর কাছে জানতে চাইল অ্যাকাউন্ট এ কত টাকা আছে। তিনি বললেন ২৫ হাজার।তারপর তাকে সবাই মিলে অনেক মারল আর বলল এটিএম কার্ড এর পিন নাম্বার বলতে। ভয় দেখাল যে ভুল নাম্বার বললে সাথে থাকা অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করবে। ভয় পেয়ে তিনি সঠিক পিন নাম্বারই বললেন। এই অবস্থায় ৩ জন গাড়ি থেকে বের হল কার্ড দিয়ে টাকা তোলার জন্য এবং বুথ এর দিকে রওনা হল।
এর পরের ঘটনা আরও ভয়ঙ্কর ও করুন। যারা এটিএম কার্ড নিয়ে টাকা তোলার জন্য গিয়েছিল তারা নোংরা খেলা খেলল, যাকে বলে সোজা বাংলায় “চোরের উপর বাটপারি”। ওই ৩জন গাড়িতে থাকা বাকিদের মোবাইল এ ফোন করে জানাল পিন নাম্বার ভুল, টাকা তোলা যাচ্ছে না।এরপর গাড়িতে থাকা বাকীরা আবারো ভদ্রলোককে অনেক মারল। এক পর্যায় তারা টের পেল আসলে তাঁদের সাথীরা তাদের রেখে পালিয়েছে। এরপর তারাও ভদ্রলোকের চোখে লাল মরিচের গুঁড়ো মেখে গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল।
এই লেখাটা আজ লিখছি মানবিক সচেতনতা থেকে। লেখার আরেকটি উদ্দেশ্য হল যাদের মাঝে এই সচেতনতাটা এখনও সুপ্ত তাদেরকে বাস্তবতাটা দেখানো যেন তারাও এমন অন্যায় কাজে সামিল না হন এবং নিজের নিরাপত্তার দিকে লক্ষ রাখেন।
সকাল তখনই হবে যখন সবাই জাগবে। ঘুমন্ত সচেতনতা জাগানোর আশায় লিখছি।






কিছু কিছু অবস্থা দম বন্ধকর । রাস্তায় যানবাহন একটি প্রহশনের নাম হয়ে দাঁড়াচ্ছে দিন দিন । গাড়ি পাওয়াতো যায়ইনা আর পাওয়া গেলেও ওঠার মুহুতের্র কথা মনে হলে মনে হয় বাড়ি ফিরে যাই । কিন্তু জীবিকার প্রয়োজন আমাকে ছাড়েনা । যে কথাটা বলেছেন যে প্রাইভেট গাড়িতে ওঠা যাবে না । এটা একদম সত্য কথা । যার জন্য আপনি সত্যিই ধন্যবাদ প্রাপ্য ।
সবারই সবার আগে মনে রাখা উচিৎ সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশী । ভালো থাকুন ।
এই সচেতনতাটাই বাংলাদেশের সহজ সরল মানুষগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার যদিও …
” আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান” ! সবাই জানে সবাই বুঝে তারপর সোনার হরিণ এর মত করে পাওয়া চাকুরি টাকে বাঁচাতে ্প্রতিদিন কত অদ্ভুত রকমের হুমকির সম্মখীন হতে হয় অফিস মুখী মানুষ গুলুকে সেটার দেখার দু্ভাগ্য হয় আমার াপ নার সকলের ।
কিন্তু নিজের নিরাপত্তার কথাটা ভুলে গেলে কি হবে ?!! যারা প্রতিনিয়ত যান বাহনের দুর্ভোগে পড়েন , যান জটের কবলে পরে অফিস যেতে দেরি করে এই ধরনের ভয়ানক বিপদের পথ বেছে নিতে বধ্য হন তাদেরকে অনুরুধ করব দয়া করে আগে ভাগে বাসা থেকে বের হয়ে যান জট শুরুর আগেই অফিস যাতে পৌছতে পারেন সেইভাবে দিনের রুটিনে টা করে নিন। এতে শুধু আপ নি নন সাথে আপ নার পুরু পরিবার টা এক টা বিশাল দুর্ঘটনার ছোবল থেকে বেচে যাবে।
সময় সচেতন হওয়া মানে বিপদ কাধে তুলে নেয়া না !