আমাদের বাঙালি সাংস্কৃতিকে জাগ্রত করার প্রধানতম দিনগুলির মধ্যে এই বৈশাখের প্রথম দিনটি অন্যতম । সেই বাংলা সাল গণনার প্রথম দিককার দিনগুলি থেকে আমরা এই দিনটি নিজেদের সাংস্কৃতি, দেশীয়বোধ চর্চা পালনের একটি শ্রেষ্ঠ দিন হিসাবে সারা জাতি একসাথে পালন করে আসছি । বুড়িয়ে যাওয়া, ধুলা বেষ্টিত একটি অগোছালো পরিবেশকে একটা ঝাপটা ঝড়ে পরিস্কার করে যে তারুণ্যভরা বৈশাখের শুরু সে বৈশাখের উদযাপনও তারুণ্যদীপ্তাতা মনে করিয়ে দেয় বারবার । কিন্তু আমাদের দেশের একমুখী অর্থ ব্যবস্থার মত ঐতিহ্য পালনেও একমুখীতা এসে গেলে অবশ্যই তা সাংস্কৃতিক পটভূমিতে নেতিবাচক ভূমিকা নিয়ে আসতে পারে ।
বৈশাখ মানেই যে পান্তা ইলিশ, এটা কোথা থেকে আসলো ? আমাদের গ্রাম বাংলা, একেবারে অজ পাঁড়া গা যেখানে এখনও ছোট কুপির আলোয় সন্ধ্যা নামে , যেখানে সাঁজ বেলায় মা এখনও তার সন্তানকে খোকন খোকন বলে চিৎকার করে ডেকে ঘরে নিয়ে আসে, সেখানে মোবাইল নেই কিন্তু শেষ বিকালের লাল রোদে সন্তানের জন্য মার, প্রিয় মানুষটির জন্য মধুর টান এখনও রয়ে গেছে প্রকৃতির মতই। যে পান্তা ইলিশের কথা বলছিলাম অর্থাৎ যেখান থেকে আমাদের এই বাঙালি খাবারের উৎপত্তি সেখানে ইলিশ না পাওয়ার হাহাকার । কারণ এক কেজি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্তও হতে পারে । হায়রে বাঙালি, অভাগা মানুষগুলোর সাংস্কৃতি চর্চাই কি, আর পহেলা বৈশাখই বা কি !
কিন্তু শহর কেন্দ্রিক এই সভ্যতায় এমনও মানুষ রয়েছেন যারা হয়তবা এক প্লেট পান্তা আর ইলিশই খাবেন ১০০০ টাকা দিয়ে । যেখানে তার পাশেই হয়ত কোন রাস্তায় বা বাগানের ধারে অভুক্ত মানুষগুলো উচ্ছিষ্টের আশায় দাঁড়িয়ে থাকবে ।
সাংস্কৃতিক চর্চাতে গিয়েও আমরা যেমন নিজেদের ভাওইয়া পল্লীগীতি বাদ দিয়ে রক কনসার্টের প্রতি ঝুঁকে দেশীয় বোধ ভুলে হই-হুল্লোরে নিজেকে মাতিয়েছি তা দেখে হতাশ না হলেও শঙ্কায় পড়ে গেছি এক দিন কি আর সত্যিই আমার মমতা ভরা মন আকুল করা গানগুলো প্রাণ জুড়াবে কিনা ।
সবই হোক । আনন্দে থাকুক সারা দেশ । কিন্তু বৈশাখের তারুণ্য মনে করে নিজের ভেতরের অবস্থানে তারুণ্য এনে সব ময়লা ধুলো পড়া সমাজকে এক ঝাপটায় পরিস্কার করার লক্ষে কাজ করতে হবে প্রতিটি মানুষকে । নিজের বাড়িতেই রান্না হোক ইলিশসহ সকল দেশীয় খাবার আর রাতের ভাত পানি দিয়ে রেখে নিজেরাই আয়োজন করে ফেলি পান্তা ইলিশের । এত করে অন্তত এক প্লেট পান্তা ইলিশ এক হাজার টাকায় কেনার প্রয়োজন হবে না । কিছু টাকা আমরা সাহায্য করতে পারি অসহায় এবং আনন্দ বঞ্চিত সেই মানুষ গুলির দিকে ।
আরেকটা কথা আমাদের দেশের মন্ত্রী এবং সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষগুলো কখনই আমাদের দুঃখ না বুঝে একটি দেশকে ইলিশ মাছ দিয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষার যে কৌশল বার বার নিচ্ছে তা প্রতিহত করতে আমাদেরই ।এর জন্য সক্রিয় আন্দোলন প্রয়োজন । যারা আমাদের নদীর পানি দেয়না, সীমান্তে মানুষ হত্যা করে, গণমাধ্যম দিয়ে প্রহসন করে, ট্রানজিটের সুবিধা নিজেরা ফ্রি গ্রহন করতে চায় তাদেরকে ইলিশ দিয়ে আমাদের সরকারের শান্তি কোথায় বুঝিনা । তবে লজ্জাজনক মনে হয় আমার দেশের মাছ খাওয়ার জন্যও এখন বুঝি আবার আন্দোলন শুরু করতে হয় !
তারপরও এই বৈশাখের সবচেয়ে বড় চাওয়া হবে আমাদের সংস্কৃতি বিকশিত হোক প্রতিটি ক্ষেত্রে, তারুণ্যের শক্তি সব জঞ্জাল দূর করে দিক, নিজেকে মেলে ধরতে হবে সমাজের প্রতিটি কাজের বিকাশে এবং কাজ করতে হবে মানুষের জন্য । নিজেকে মুক্ত মনের সাদা মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞাই হোক আমাদের সকলের নতুন বছরের অগ্রযাত্রায় । সবাইকে শুভ নববর্ষ-১৪১৯ ………………।






Khub hridoy-chhoa ekta lekha… Onek sriti mone koriye dilen… Ar notun projonmer jonne royechhe onek barta…. Dhonnobad!
আসলে আমাদের সবারই গোরার কথা অর্থাৎ আমরা যেখান থেকে এসেছি সেখানকার কথা মনে রাখা উচিৎ । তাহলে এত পাপকর্ম আমরা করতে পারতাম না । আমাদের জীবন বোধ, ধর্মবোধ, সাংস্কুতি বোধের সঠিক বিকাশই পারে আমাদের শুদ্ধ জীবন দান করতে । আমি চাই সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের সব উদ্দীপকগুলোকে কাজে লাগাক । ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ।
নববর্ষের প্রথম উপহারটা আমরা আমাদের ছেলে সাকিব আল হাসানের কাছ থেকেই পেলাম । যাকে বাদ দিয়ে বার বার খেলছিলো কলকাতা নাইট রাইডার্স আজ তার উচিৎ জবাব দিয়ে দিলো ওদের । সারা জাতির পক্ষ থেকে সাকিবকে শুভ নববর্ষ ।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা ।