Home » অন্যান্য » খুব জানতে ইচ্ছা করে !!!

খুব জানতে ইচ্ছা করে !!!

294 বার পঠিত

মন্দ, কতটা মন্দ হলে আমরা তাকে মন্দ বলি? প্রশ্নটা মনস্তাত্ত্বিক। আচ্ছা শুরুতে না হয় মন্দ নিয়ে কথা না বলে। একটু ভাল নিয়েই আলোচনা করি। সুন্দর নিয়ে আলোচনা করি। ‘সুন্দর’ সবার চোখেই তো সুন্দর। তাই না? কিছু কম অথবা বেশি। একটু উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে। গোলাপের সৌন্দর্যের কথা উঠলে আমরা এক কথাতেই সবাই বলি, গোলাপ খুবই সুন্দর। আবার কেউ কেউ বলি, গোলাপ? হুম সুন্দর। কিন্তু কেউ কি বলেন গোলাপ অসুন্দর? আমার তো মনে হয়, বলেন না। কখনও বলতে শুনিনি। সুন্দরকে আমরা সবাই কম বেশি সুন্দরই বলি। অথবা ভালকে আমরা সবাই ভালই বলি। কিছু কম কিছু বেশি। শুধু ভাব প্রকাশের ভাষাটা ভিন্ন, এই যা। কিন্তু প্রশ্ন হল, মন্দকে নিয়ে। মন্দ, কতটা মন্দ হলে আমরা তাকে মন্দ বলি? দ্যাট’স মাই মিলিয়ন ডলার’স কোশ্চেন।

মাঝে মাঝে মনে হয়, ভাল ও মন্দের এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারটা আমার কাছেই দিন দিন জটিলতর হচ্ছে। আপনাদের মাঝে এমনতর অবান্তর প্রশ্ন জাগে কিনা, সে জন্যই আপনাদেরকে এই বিরক্তি করণ।

একজন মায়ের প্রসব বেদনা কেবল সে মা’ই বুঝেন। অন্য কেউ বুঝার প্রশ্নই আসে না। আমরা যারা সমবেদনার কাতারে, বাবা, স্বামী অথবা ভাই। তাঁরা শুধু দীর্ঘশ্বাসের পর পুলকিত মনে প্রজন্ম প্রাপ্তির  আনন্দ আর আনন্দই অনুভব করি। এতসব কথা বলার কারণ কি? বলছি, অবশ্যই বলব। ধীরে ধীরে সে কথার দিকেই ফিরে আসছি। তদানীন্তন সেনা প্রধান, স্বৈরশাসক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাহেবের আমলে আমার বয়স খুব বেশী নয়। আমি তখন উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। সেই স্বৈরচারী রাজার পতনের আন্দোলনে সকল বয়সের আমজনতাই রাজপথে নেমেছিলেন। তার মধ্যে আমিও সামিল হয়েছিলাম গণ-মানুষের মুক্তির মিছিলে। আজ দেশের যা অবস্থা তা দেখে আমার মনে হয় না। দেশ স্বৈরশাসনের চেয়ে ভাল আছে। কতটুকু মন্দ আছে তার হিসেব দেশের আমজনতাই জীবন দিয়ে উপলব্ধি করছেন। আমি কি তাহলে সেই স্বৈরশাসনের ন্যায্যতার পক্ষে কথা বলছি? অবশ্যই না। আমি শুধু স্বৈরশাসন আর গণতন্ত্রের মাঝে ব্যবধান খুঁজছি। ভাল মন্দের শ্রেণীবিন্যাসের চেষ্টা করছি।

শুরুতে যা শুরু করেছিলাম আমি কি তার রাহা হারিয়ে ফেলেছি? মন্দ আর ভাল নিয়ে কথা হচ্ছিল। সেই মন্দ ভালোর প্রসঙ্গ টেনেই শেষ করতে চাই। এই যে কিছুদিন আগে মেঘনায় লঞ্চ ডুবিতে কত মায়ের বুক খালি হল। তাতে কি কারো কিছু এসেছে গেছে? দেশের রাজনীতিবিদ অথবা বুদ্ধিজীবী কার কি কিছু এসেছে গেছে? ওদের কর্মকাণ্ড দেখে  তো  মনে হয় না, ওরা দেশের সাধারণ মানুষের ধার ধারেন। মায়ের প্রসব বেদনার যে প্রসঙ্গ টেনেছিলাম। সেই কথাটায় ফিরে আসি। সন্তান প্রসবের যন্ত্রণা যেমন কেবল মা’ই বোঝেন। তেমনি সন্তান হারা মায়ের দুঃখ কেবল সে মা’ই বুঝেন। এই যে এতগুলো মায়ের বুক খালি করে ওরা মেঘনায় চলে গেল। তাতে কি কারো কিছু এসেছে গেছে? কিন্তু প্রশ্ন হল, এরা কি একটু সহানুভূতি পর্যন্ত করবেন না? রাজনীতিবিদদের কথা না হয় বাদই দিলাম। সমাজের বিবেক, বুদ্ধিজীবীরা তখন এত নীরব হলেন কি করে? নাকি এই সব বোদ্ধারাও গরিব মানুষগুলোকে গিনিপিগ বলেই মনে করেন? রাজনীতিবিদরা যে মনে করেন তাতে আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু শাল পাঞ্জাবীর বুদ্ধিজীবীরা কি করে নির্বাক থাকেন?

এখন দেশে শুধু যে লঞ্চ ডুবিতে মানুষ মারা যাচ্ছে তা কিন্তু নয়। একটা উদাহরণ দিলাম মাত্র। হরতালে লাশ, মিছিলে লাশ, গুপ্ত হত্যায় লাশ, রাস্তায় লাশ, ক্রস ফায়ারে লাশ এমন কি বেডরুমে লাশ। দেখে মনে হয়, এ দেশটা এখন শুধু লাশ আর লাশের দেশ। বাতাসে শুধুই লাশের গন্ধ। আর আমাদের দেশদরদি, জনগণের বন্ধু, সবার চোখের মনি, গণতন্ত্রের মানস কন্যা আর গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রীদ্বয় আর তাঁদের দোসরদের কি দেশ প্রেম। তাঁরা শুধু নিজেদের ভাগ বাটোয়ারা নিয়েই ব্যস্ত।

মন্দ কতটা মন্দ হলে তাকে আমরা মন্দ বলি? দ্যাট ওয়াজ মাই কোশ্চেন। কেউ কি বলতে পারেন, কতটুকু মন্দ হলে আমরা তাঁদেরকে মন্দ বলাতে পারব? আর কতটুকু মন্দ হলে, আমরা তাঁদেরকে মন্দ বললে, আমাদের বিরুদ্ধে কোন নির্যাতন হবে না? আর কত জীবন গেলে তাঁদের চোখে সত্যিকারের জল আসবে? আর কত মানুষ রাস্তায় মারা গেলে ওনারা বলবে আমাদের রাস্তা নিরাপদ নয়? আর কত লাশ মেঘনা, যমুনায় ভেসে উঠলে ওনারা বলবে, এনাফ ইজ এনাফ, না আর না। এ দেশ আমার, এ দেশ তোমার, এ দেশ আমাদের, এ দেশ সকলের। চল সবাই মিলে একটি সোনার দেশ গড়ি। চল, সকলের জন্য একটা নিরাপদ দেশ গড়ি। সেই দিনটি কবে আসবে?

সাঈদ মোহাম্মদ ভাই

saeedmbhai@hotmail.com

মন্তব্য
  • সাঈদ মোহাম্মদ ভাই এপ্রিল 18, 2012 at 6:13 পূর্বাহ্ন

    ஜ۩۞۩ஜஜ۩۞۩ஜ

    আহা! আমি যদি হ্যামিলনের বংশীবাদকের মত একটা মোহিনী বাঁশি পেতাম। যে বাঁশি বাজালে দেশের রাজনীতিবিদদের সাথে বুদ্ধিজীবীরাও ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হত। তাহলে সে বাঁশি বাজাতে বাজাতে আমি চলে যেতাম বঙ্গোপসাগরের পারে, ওরাও পিছু নিত আমার। সমাজের সকল জঞ্জাল নিয়ে আমি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতাম সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে। সাগরের নোনাজলে এই জলধি-স্নান কি ওদের জন্যে যথেষ্ট হত?
    আর কত! যথেষ্ট হয়নি কি!!!

    ஜ۩۞۩ஜஜ۩۞۩ஜ
    অনুলিপি(আংশিক)-প্রিয় ব্লগ।

  • সাঈদ মোহাম্মদ ভাই এপ্রিল 17, 2012 at 3:14 অপরাহ্ন

    ஜ۩۞۩ஜஜ۩۞۩ஜ
    ব্লগের সবার প্রতি বিনীত আর্জি, রেল মন্ত্রীর একান্ত সচিবের ব্যক্তিগত গাড়ীর চালক আলী আজমকে খুঁজে বের করুন। তা নাহলে অসত্যের বিরুদ্ধে কেউ আর এগুতে উৎসাহিত হবে না। সকল গণমাধ্যমের প্রতি করজোড়ে নিবেদন, দয়া করে আপনারা আলী আজমকে নিয়ে লেখালেখি করুন। এভাবে একজন দেশ প্রেমিক গুম হয়ে যাবে? তা মেনে নিতে পারছি না। যারা নিজেদেরকে দেশ প্রেমিক হিসেবে দাবি করেন। তাঁদের দেশ প্রেমের প্রতি একটা পরীক্ষা দেবার সময় এসেছে। ஜ۩۞۩ஜஜ۩۞۩ஜ

    • বদলে যাও বদলে দাও এপ্রিল 17, 2012 at 6:20 অপরাহ্ন

      সাঈদ মোহাম্মদ ভাই আপনার দবির সাথে এখন দেশের ষোল কোটি মানুষেরও একই দাবি। ষোল কোটি মানুষ মানে বত্রিশ কোটি চোখ। এত চোখে সরকার ধূলা দিতে চাইলেও অতো ধূলা পাবে কোথায়? আমাদের প্রচীন প্রবাদ আছে ”মরা শামুকে পা কাটে” শেষ পর্যন্ত এই আলী আজম সব কিছুর কাল হয়ে না দাঁড়ায়! বদলে যাও বদলে দাও মিছিল আপনাদেরই সমন্বিত কণ্ঠস্বর। আপনাদের সংগ্রামে সব সময় পাশে আছে, থাকবে।

      • A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT(SAYED CHOWDHURY) এপ্রিল 18, 2012 at 12:59 পূর্বাহ্ন

        ঠিকই বলেছেন । এই আলি আজমই কাল হয়ে দাঁড়াবে । তার কোন অপসংবাদ আমরা মেনে নিতে রাজি নই । অবশ্যই এর জবাব দিতে হবে । সারা দেশ উন্মুখ হয়ে বীরত্বের নায়ক আলী আজমকে বরন করে নেওয়ার প্রহর গুনছে ……..। অনেক অপেক্ষায় রইলাম ।

      • সাঈদ মোহাম্মদ ভাই এপ্রিল 18, 2012 at 6:11 পূর্বাহ্ন

        কে জানে মিশরের সবজি বিক্রেতার দগ্ধ দেহদান যেমন আরব বিশ্ব জেগেছে তেমনি একজন ড্রাইভার সমস্ত জাতির উদ্দামতার প্রতীক হয়ে রইবে কিনা। শিক্ষক বুদ্ধিজীবী সমাজ কর্মী অথবা সামান্য নগর পাচকের ঘুম হয়ত এবার ভাঙ্গাবে। যথার্থই বলেছেন, পচা শামুকেই তো পা কাটে।

    • pantharma এপ্রিল 17, 2012 at 9:24 অপরাহ্ন

      Amer bishash bodlejaobodledao misiler bonddura sochchar holai azomke khuze paoa sahoz hobe. E deshe joto boro arzon ta toruraee koreche.

      • সাঈদ মোহাম্মদ ভাই এপ্রিল 18, 2012 at 12:07 অপরাহ্ন

        সহমত। আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

© বদলে যাও বদলে দাও