Home » অন্যান্য » এবার আমরা কাকে ভোট দিব ?

এবার আমরা কাকে ভোট দিব ?

243 বার পঠিত

আমরা ঠিক যে মূহুর্তের কথা বলি যে আমাদের দেশে গণতন্ত্র শুরু হয়েছিলো অর্থাৎ স্বৈরাচার সরকার পতনের পর থেকে আজ পর্যন্ত,  সে সময় থেকে আজ পর্যন্ত নির্বাচন বলতে যা পাওয়া তা হল শুধু দুটি দলের পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় আসার লিপ্সা । বোকা বানানোর নির্দিষ্ট কিছু কৌশলের মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ে কথা বলা, শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের ঝাপসা অবস্থান দাঁড় করিয়ে ভোট চেয়ে সাধারন মানুষের মন জয় করে ক্ষমতায় এসে শুধু একদলতান্ত্রিক গণতন্ত্র স্থাপন মূল চাবিকাঠি হিসাবে দুটি দলই ব্যবহার করছে । এই দলীয় ব্যবহারে সাধারন মানুষ বলতে শিখছে ঐ দল থাকলে এই দিকটা ভালো হত আর এই দল থাকলে এই দিকটা ভালো হত । কিন্তু প্রার্থী বাছাই করার ক্ষেত্রে রাজনীতির কালো টাকার কাছে অনেকেই অসহায়ত্ব বিক্রি করে নিজেদের মতামতও তাদের দিয়ে দেয় ।

এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ না টানলেই নয় । গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দেখলাম অসৎ প্রার্থীগুলো তাদের প্রচারের কৌশল হিসাবে অপেক্ষকৃত দুর্বল মানুষদের সাহায্য করে একটি ভালো মানুষভাব দল গঠন করে ফেললো । এমন একটা ভাব করলো যেন ভোটটা তাদেরই পাওনা ।

বর্তমানেও আমরা সরকারের বিভিন্ন দোষ দেখছি, সমালোচনা করছি কিন্তু বিগত সময় এরা অথবা বর্তমান বিরোধী দল ক্ষমতায় থাকার সময় কি কি উন্নতি বা অবনতি করেছিলো তা বিশ্লেষণ করে কোন সিদ্ধান্ত বা ভালো মানুষদের বাছাই করার কোন ধরনের লক্ষ বা চেষ্টা কোন দলের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি না । বরং টাকা দেওয়ার হারে প্রার্থী নমিনেশন দেওয়ার যে রীতি আমাদের দেশে চলে আসছিলো সেটাই বর্তমান রয়ে যাচ্ছে । প্রার্থী হওয়ার জন্য সরকারকে টাকা দেবে প্রার্থী আবার জয়ী হওয়ার পর টাকাগুলো সাধারন জনগনের কাছ থেকে বা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কিছু কিছু করে উঠিয়ে নেবেন ।

ভোট দেওয়া মানে এই নয় যে হয়ত এই দল অথবা ঔ দলকেই আমাদের ভোট দিতে হবে । কিন্তু আমাদের দেশে নিয়মটা তাই করে ফেলা হয়েছে । আর দুর্ভাগ্যক্রমে এই প্রহসনের শিকার হয়েছি আমরা । সব বোঝার পরও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে শুধু প্রার্থীর সংখ্যা কম থাকায় বাছাই করতে হয় সেই আগেরই কাউকে ।

তখন বিবেচনায় আনতে হয় চোরদের মধ্যেও কোন চোরটি একটু রয়ে সয়ে চুরি করবে অর্থাৎ সরাসরি গরিবের ধণ ঘর থেকে না নেবে সেই দিকে তাকানোর । কিন্তু এত কিছু বুঝেও আমাদের ভোট দিতে যেতেই হবে । আর না গেলেও আমার ভোটটা হয়ত অন্য কেউ দিয়েও দিতে পারে । আর গেলে তো বুঝতেই পারছেন অপারগ অর্থেই হয়ত সেই আগেরই চেনা মুখ ! অনেক দিন ক্ষমতায় থাকতে থাকতে যারা ভাবতে শুরু করেছেন ক্ষমতা জণগনের থেকে পাওয়া নয় এটা আমার মৌলিক অধিকার । এভাবেই আবার ক্ষমতায় চলে আসে মিথ্যে ইশতেহার দেওয়া ধোকাবাজ, অস্পষ্টভাসি এবং মানুষঅপ্রিয় জনপ্রতিনিধি । কিন্তু এত কিছু বুঝেও, উপলব্ধি করেও আমি কিভাবে এমন একজনকে নির্বাচিত করতে পারি ।(যদিও কিছু কিছু জায়গায় ভালো মানুষের জয় হচ্ছে । যা আমাদের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় নারায়নগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন )। আসলে আমি ভোটটা দেব কোথায় নাকি নির্বাচনের দিন দম বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকবো ? এই প্রশ্নটা আপনাদের কারও কাছেই নয় এটা আমার বিবেক, আমার সততা,আমার ব্যক্তিত্বের কাছে । আমি সামাজিক অস্থিরতার বিষাক্ত দংশনের শিকার ।

মন্তব্য
  • mtr এপ্রিল 17, 2012 at 3:24 পূর্বাহ্ন

    দল দেখে ভোট না দিয়ে। ভোট দিবেন প্রাত্থি দেখে। একটা দল এ সব প্রাত্থি যে ভাল হবে তার তো কোনো নিশ্ছয়তা নাই। আবার এ্কটা দল এ সব প্রাত্থি যে খারাপ তাওতো নয়। আর কাও কে পছন্দ না হলে সরাসরি না ভোট।

    • A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT(SAYED CHOWDHURY) এপ্রিল 17, 2012 at 10:52 পূর্বাহ্ন

      ধন্যবাদ পরামর্শ দেওয়ার জন্য । কিন্তু দুঃখটাই ওখানে যে আমরা কখনও কখনও পছন্দে দলের কাছ থেকে সঠিক প্রার্থীর মনোনয়ন দেখতে পাইনা । তারাও টাকার কাছে বিক্রি হয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের সামনে নিয়ে আসেন । ভোট দিতে বাধ্য করার জন্য না ভোটকেও উদ্র রাখতে চান । এই প্রহশনগুলো আমরা সবাই জানি এবং অনেকটা বাধ্য হই চুপ করে থাকার জন্য । সবকিছু সঠিক হলে অবশ্যই আপনার কথাটিই সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য । আবারও ধন্যবাদ আপনাকে ।

© বদলে যাও, বদলে দাও!