Home » সড়ক দুর্ঘটনা কি চলতেই থাকবে? » মৃত্যু অমোঘ : কিন্তু এভাবে?

মৃত্যু অমোঘ : কিন্তু এভাবে?

315 বার পঠিত

মীর আব্দুল আলীম :
মৃত্যু অমোঘ। কিন্তু এভাবে ? কী মর্মান্তিকই না এ মৃত্যু! দুটি বাসের চাপে থেঁতলে গেছে শিশুটির শরীর। দেখা যাচ্ছিল মাথাটুকু। তাও ক্ষতবিক্ষত। দুটি যন্ত্রদানবের মাঝখানে আটকেপড়া একটি তরতাজা শরীর থেকে গলগলিয়ে রক্ত বয়ে যাচ্ছিল। মুহূর্তে লাল হয়ে যায় রাজপথ। রাজধানীর কমলাপুরে এই মর্মান্তিক, ভয়াবহ দৃশ্যের অবতারণা। আমাদের জাতীয় দৈনিক গুলো পর দিন গুরুত্বেও সাথে এ সংবাদটি ছেপেছে। বিআরটিসি ও মাইলাইন পরিবহনের বাসের মধ্যে সংঘর্ষকালে ঘটনাস্থলেই ১২ বছর বয়সী শিশুটির মৃত্যু ঘটে। প্রচণ্ড চাপে চ্যাপ্টা হয়ে যায় শিশুটির সারা শরীর। তার পরনে ছিল লাল রঙের শার্ট ও সাদা প্যান্ট। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে বাসযাত্রী, পথচারী, সবাই এটি দেখে আঁতকে ওঠেন। ঘটনার সময় শিশুটি রাস্তা পার হচ্ছিল। হঠাৎ দুটি বাসের মধ্যে সে আটকে যায়। দুটি বাসের সংঘর্ষকালে মুহূর্তেই শিশুটি কীভাবে আটকা পড়ল সে ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেন উদ্ধারকারীরা। অদক্ষ চালকের খেশারত জীবন দিইে দিতে জয় এ শিশুটিকে।
এমন মৃত্যু কি মেনে নেয়া যায় ? দুর্ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে । রোধ করা যাচ্ছে না। আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। প্রশ্ন হলো এসব দুর্ঘটনার ‘স্রষ্টা’ কে ? বেপরোয়া গতির গাড়ি । চালায় কে ? মানুষই ! অতএব মানুষরূপী দানবদের কেন রোধ করা যাচ্ছে না ? আইনের প্রয়োগ হলে; আমাদের বিআরটিএ , ট্রাফিক যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে; জনগন সচেতন হলে অনেকাংশেই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। কিন্তু কার কথা কে শোনে। পয়সা পেয়ে সবাই একদম চুপ্। তখন সবার মুখেই কুলুপ আটা থাকে। এসব রুখতে হবে ? যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। সে মৃত্যু যদি অকাল ও আকস্মিক হয়, তবে তা মেনে নেয়া আরো কঠিন। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একের পর এক অকালমৃত্যু আমাদের শুধু প্রত্যক্ষই করতে হচ্ছে না, এ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বিভীষিকাময় ও অরাজক পরিস্থিতিও মোকাবেলা করতে হচ্ছে, যা আমাদের কারো কাছেই কাম্য নয়। সে দিন খোদ জাতীয় সংসদে অনভিজ্ঞ ও অল্পবয়স্ক হেলপার বাস-মিনিবাস চালানোর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানালেন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। পুলিশের এফআইআরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি সংসদকে জানিয়েছেন, গতবছর (২০১০ সালে) সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৪৬ জন মারা গেছে। তিনিই বলেন গাড়ির সংখ্যা যে হারে বাড়ছে সে হারে দক্ষ চালক বাড়ছে না। ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক অমূল্য প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে আমাদের জীবন থেকে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী-শিক্ষক, শিশু, নববধূ-বরসহ পুরো বরযাত্রী, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এমনকি সাবেক মন্ত্রীও এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিহত হওয়ার খবর আমরা পত্রিকার পাতায় প্রত্যক্ষ করেছি। যার একটিও সহজভাবে মেনে নেয়া যায় না।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ঘটনা যেমন আমাদের ব্যথিত করে, তেমনিভাবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম অরাজক পরিস্থিতির উদ্ভবও আমাদের মর্মাহত ও স্তম্ভিত করে। আমরা এর আগেও বহুবার লক্ষ্য করেছি, সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত বা আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের ঘনিষ্ঠজন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু লোক রাস্তায় নেমে রাস্তা অবরোধ, হামলা, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে এক বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করেন। এতে কার কী উপকার হচ্ছে তা আমাদের জানা নেই। তবে এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ ও নির্দোষ জনগণ যারা কোনোভাবেই এ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। যে কোনো হত্যার বিচার আমরা চাই, তবে কোনো হত্যা বা দুর্ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়াকথ তা আমরা চাই না।
নিয়ম ভেঙে সামনের গাড়িকে ওভারটেক করতে যাওয়া, অদক্ষ ড্রাইভারের হাতে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া, ড্রাইভারের অনুপস্থিতিতে হেলপারের গাড়ি চালানোর উদ্যোগ গ্রহণ, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা না করেই রাস্তায় গাড়ি নামানো, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় না আনা এবং সর্বোপরি ট্রাফিক আইন না মানার কারণেই একের পর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহন মালিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সমন্বিত আন্তরিক, সচেতন, দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আমরা আশা করি।মীর আব্দুল আলীম
মৃত্যু অমোঘ। কিন্তু এভাবে ? কী মর্মান্তিকই না এ মৃত্যু! দুটি বাসের চাপে থেঁতলে গেছে শিশুটির শরীর। দেখা যাচ্ছিল মাথাটুকু। তাও ক্ষতবিক্ষত। দুটি যন্ত্রদানবের মাঝখানে আটকেপড়া একটি তরতাজা শরীর থেকে গলগলিয়ে রক্ত বয়ে যাচ্ছিল। মুহূর্তে লাল হয়ে যায় রাজপথ। রাজধানীর কমলাপুরে এই মর্মান্তিক, ভয়াবহ দৃশ্যের অবতারণা। আমাদের জাতীয় দৈনিক গুলো পর দিন গুরুত্বেও সাথে এ সংবাদটি ছেপেছে। বিআরটিসি ও মাইলাইন পরিবহনের বাসের মধ্যে সংঘর্ষকালে ঘটনাস্থলেই ১২ বছর বয়সী শিশুটির মৃত্যু ঘটে। প্রচণ্ড চাপে চ্যাপ্টা হয়ে যায় শিশুটির সারা শরীর। তার পরনে ছিল লাল রঙের শার্ট ও সাদা প্যান্ট। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে বাসযাত্রী, পথচারী, সবাই এটি দেখে আঁতকে ওঠেন। ঘটনার সময় শিশুটি রাস্তা পার হচ্ছিল। হঠাৎ দুটি বাসের মধ্যে সে আটকে যায়। দুটি বাসের সংঘর্ষকালে মুহূর্তেই শিশুটি কীভাবে আটকা পড়ল সে ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেন উদ্ধারকারীরা। অদক্ষ চালকের খেশারত জীবন দিইে দিতে জয় এ শিশুটিকে।
এমন মৃত্যু কি মেনে নেয়া যায় ? দুর্ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে । রোধ করা যাচ্ছে না। আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। প্রশ্ন হলো এসব দুর্ঘটনার ‘স্রষ্টা’ কে ? বেপরোয়া গতির গাড়ি । চালায় কে ? মানুষই ! অতএব মানুষরূপী দানবদের কেন রোধ করা যাচ্ছে না ? আইনের প্রয়োগ হলে; আমাদের বিআরটিএ , ট্রাফিক যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে; জনগন সচেতন হলে অনেকাংশেই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। কিন্তু কার কথা কে শোনে। পয়সা পেয়ে সবাই একদম চুপ্। তখন সবার মুখেই কুলুপ আটা থাকে। এসব রুখতে হবে ? যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। সে মৃত্যু যদি অকাল ও আকস্মিক হয়, তবে তা মেনে নেয়া আরো কঠিন। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একের পর এক অকালমৃত্যু আমাদের শুধু প্রত্যক্ষই করতে হচ্ছে না, এ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বিভীষিকাময় ও অরাজক পরিস্থিতিও মোকাবেলা করতে হচ্ছে, যা আমাদের কারো কাছেই কাম্য নয়। সে দিন খোদ জাতীয় সংসদে অনভিজ্ঞ ও অল্পবয়স্ক হেলপার বাস-মিনিবাস চালানোর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানালেন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। পুলিশের এফআইআরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি সংসদকে জানিয়েছেন, গতবছর (২০১০ সালে) সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৪৬ জন মারা গেছে। তিনিই বলেন গাড়ির সংখ্যা যে হারে বাড়ছে সে হারে দক্ষ চালক বাড়ছে না। ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক অমূল্য প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে আমাদের জীবন থেকে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী-শিক্ষক, শিশু, নববধূ-বরসহ পুরো বরযাত্রী, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এমনকি সাবেক মন্ত্রীও এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিহত হওয়ার খবর আমরা পত্রিকার পাতায় প্রত্যক্ষ করেছি। যার একটিও সহজভাবে মেনে নেয়া যায় না।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ঘটনা যেমন আমাদের ব্যথিত করে, তেমনিভাবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম অরাজক পরিস্থিতির উদ্ভবও আমাদের মর্মাহত ও স্তম্ভিত করে। আমরা এর আগেও বহুবার লক্ষ্য করেছি, সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত বা আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের ঘনিষ্ঠজন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু লোক রাস্তায় নেমে রাস্তা অবরোধ, হামলা, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে এক বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করেন। এতে কার কী উপকার হচ্ছে তা আমাদের জানা নেই। তবে এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ ও নির্দোষ জনগণ যারা কোনোভাবেই এ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। যে কোনো হত্যার বিচার আমরা চাই, তবে কোনো হত্যা বা দুর্ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়াকথ তা আমরা চাই না।
নিয়ম ভেঙে সামনের গাড়িকে ওভারটেক করতে যাওয়া, অদক্ষ ড্রাইভারের হাতে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া, ড্রাইভারের অনুপস্থিতিতে হেলপারের গাড়ি চালানোর উদ্যোগ গ্রহণ, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা না করেই রাস্তায় গাড়ি নামানো, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় না আনা এবং সর্বোপরি ট্রাফিক আইন না মানার কারণেই একের পর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহন মালিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সমন্বিত আন্তরিক, সচেতন, দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আমরা আশা করি।

মন্তব্য
  • zanasir এপ্রিল 25, 2012 at 8:45 পূর্বাহ্ন

    Mr Abdul Alim, there will be no benefit, unless untill the emplimentation of rules. and for killing anyone, toughest punishment. we need to change the traffic act. for killing anyone, whether the driver was wrong or not he should have pay blood money to the victim a hudge amount, alike the amount can be the future to the victims family. and for life or 10 to 15 years imprisonment (if driver guilty). then, because of the hudge amount of bloodmoney, the driver will try to save the victim. the bloodmoney should be around 10 to 15 laks taka. Mr Alim, can you try to do something like, anytime go and stand near a foot overbridge. when you see someone crossing the road not using the bridge, stop him politly, and explain and convince to use the footover bridge. by any reason, if yourself can’t do it, can you insist somone to do that. if this can motivate one person a day, that would be a great job for the country and to reduce the accidents. YES, I CAN DO IT, I HAVE A DESIRE TO DO THAT WHEN I WILL BE BACK ON VACATION FROM DUBAI. this is my answer of the question you thinking. thank you.

© বদলে যাও, বদলে দাও!