Home » অন্যান্য » আমরা (ছাত্ররা) যা শিখছি…

আমরা (ছাত্ররা) যা শিখছি…

219 বার পঠিত

২১.০৪.১২ তারিখে প্রথম আলোয় জোবাইদা নাসরিন (সহ: অধ্যাপক) লিখেছেন- “শিক্ষার্থীদের আমরা কি শেখাচ্ছি?” তার উত্তর হিসেবে আমার এই লেখাটি।

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা আমাদের যে শিক্ষা দেয় সমাজে যার টাকা আছে তার সন্মান আছে। সমাজে সবাই টাকার পিছে ছুটে চলেছে। সমাজ ব্যবস্থা আরও শিক্ষা দেয় পুরুষের থেকে নারীর ত্রুটিকে বড় করে দেখা; সরকারি চাকরি পেতে ঘুষ দিতে হয়।
শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই কোন নৈতিকতার বিষয়; নেই কোন মনুষত্ত্ববোধের বিষয়। আছে শুধু সার্টিফিকেট লাভ আর ভাল চাকরি পাওয়ার শিক্ষা। দেশের বিশ্ববিদ্যালগুলোতে নেই ভাল গবেষণাগার। ব্যবহারিক বিষয়গুলোর গুরুত্ব কম দিয়ে তাত্ত্বিক বিষয়গুলো শিক্ষকেরা পড়া দেন আর নেন।
বিদ্যালয়ে যেসব বইপত্র পড়ানো হয় সেগুলো মানবিকতার বিপক্ষে না হলেও মানবিকতার পক্ষে নেই। তবে অমানবিক বিষয় পড়ানো হয় না তা নয়। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিষয়টি পড়াতে গিয়ে স্যারেরা বলে থাকেন- মার্কেটিং-এ একটু চাপাবাজি থাকবেই। অর্থাৎ পণ্য বিপননের স্বার্থে মিথ্যার সংমিশ্রণ থাকতে পারে।
আর সমাজে মূল্যবোধ শেখানোর আলাদা কোন প্রতিষ্ঠানতো তো পাইনা।
তাই এই বিষয়গুলোকে- (মূল্যবোধ, মানবিকতা, মনুষত্ত্ববোধ) বিদ্যালয়/ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তি অত্যান্ত জরুরী। সেই সাথে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, ইভটিজিং ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানসিকতা তৈরিতে পাঠ্যসূচিতে ‘যৌনতা’ বিষয়টির অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে আমি মনে করি।
আমি গত বছর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছি। সত্যি বলতে কি আমি শিক্ষা জীবনে মানবিকতা, মূল্যবোধ, মনুষত্ত্ববোধ, নৈতিকতা ইত্যাদির কোন শিক্ষা আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাইনি। নৈতিকতা ও ব্যাক্তিত্বের শিক্ষাটা আমার মনে হয় আমি আমার পরিবার থেকে পেয়েছি। এ ধরণের কোন বিষয় কোন শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত ছিলনা।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মানবাধিকারের পক্ষে সচেতন। নারী-শিশুদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারীদের অধিকার রক্ষায় একজন সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে আমাকে সাহায্য করেছে পাঠ্যপুস্তকের বাহিরে পড়াশোনার কারনে, যা আমাদের প্রচলিত পাঠ্যশ্রেণীতে কোনদিন কল্পণাও করতে পারতাম না।
বিজ্ঞানের ছাত্র না হয়েও আমার মনে হয় আমি একটু বেশি বিজ্ঞান মনস্ক, আমার সহপাটিবৃন্দ যারা বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছে অন্তত তাদের তুলনায়। এটাও আমার পাঠ্যসূচির বাহিরে পড়াশোনার কারণে। যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছে দেখি তারাও অনেক কুসংস্কারের মধ্যে পড়ে আছে।
আল মাসঊদ খান

মন্তব্য
  • Al Masud মে 2, 2012 at 5:36 অপরাহ্ন

    বিদ্যালয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক; আমাদের সমাজ ব্যবস্থা আমাদেরকে কি শেখাচ্ছে? ছোট্ট বাচ্চারা কি শিখছে? আমাদের রাজনীতি- গণতন্ত্র কি শেখাচ্ছে?
    রাজনীতি বিদরা আমাদের কি শেখাচ্ছে?
    মন্ত্রীরা কি শেখাচ্ছে?

  • সাজ্জাদ হোসাইন এপ্রিল 23, 2012 at 8:26 অপরাহ্ন

    al masud.ভাই বিষ খেয়ে মারা যাওয়া আর অনেকদিন ধরে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে মারা যাওয়া তো এক কথা না।মানুষের প্রতি মানুষের কাজ কর্ম ধর্ম প্রতিটি ধর্মে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।আমরা যে অশান্তিগুলো দেখি ধর্মের নামে তা তো কোন ধর্ম এই বলে না।কিন্তু ধর্মের দোষ পড়ে কারণ তারা ধর্মীয় চেহারা ধারন করে,নাইলে সমস্যা ছিল না।কু-শিক্ষা কখনো শিক্ষা নয়।যখন সত্যিকার শিক্ষা ছড়িয়ে পরবে আলো আসবে তখনই। আমাদের অধিকাংশ নেতা দুর্নীতিবাজ কিনতি ধর্মের দোষ পড়ে না কারণ তারা ধর্মীয় চেহারা ধারন করে না।শুধু বলবো যে শিক্ষায় সত্য এবং সততা নেই সেটা শিক্ষা নয় তার উপর ভর করে সত্যিকার শিক্ষাকে মাপা ঠিক হবে না।
    ভালো থাকুন সর্বদা সেই কামনা করি,আপনার মত সবাই সুস্থ মন নিয়ে সমাজের কাজে মন দেখ সেই কামনা করি।

  • Al Masud এপ্রিল 23, 2012 at 7:34 অপরাহ্ন

    ধন্যবাদ সাজ্জাদ হোসাইন
    অতিরিক্ত ধর্মান্ধদের কারণে সমাজে অনেক সময় অশান্তির সৃষ্টি হয়ে। আসলে আমরা মানুষ হিসেবে আমাদের প্রধান ধর্মটা শিখতে পারিনা। এটাও অনেক বড় সমস্যা।

  • সাজ্জাদ হোসাইন এপ্রিল 23, 2012 at 6:37 অপরাহ্ন

    দেখুন ধর্ম হচ্ছে শান্তির বার্তা।কোন ধর্ম এই অশান্তি করাকে সমর্থন করে না।ধর্ম শিক্ষা যদি না পারে তাহলে অন্য কোন শিক্ষা মানুষকে আলো দেখাতে পারবে না,কারণ সব শিক্ষা এই বইতে লিখা থাকে।কাজ করতে হবে যেন শিক্ষাটা চর্চার মাধ্যম সৃষ্টি হয়।এই ব্লগে আমরা সমাজ তথা দেশের ভালো করতে আছে আর সব ধর্মের প্রধান কাজ এটি।তাই শিক্ষা যেন চর্চায় রুপ নেয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার সময় হয়েছে

  • Al Masud এপ্রিল 23, 2012 at 6:22 অপরাহ্ন

    ধন্যবাদ Dakua অনেক সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
    প্রচলিত ধর্ম শিক্ষা পেয়ে ছাত্ররা তো প্রগতিশীল হচ্ছেনা, মননশীল হচ্ছেনা; মানুষ সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ হতে মুক্ত হচ্ছেনা। ধর্ম শিক্ষা ছাড়াও মানবিকতা, মূল্যবোধ ও মানুষকে প্রথমে মানুষ হিসেবে ভাবার শিক্ষাগুলো আলাদাভাবে শেখানো দরকার।

  • Dakua এপ্রিল 23, 2012 at 10:31 পূর্বাহ্ন

    শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া হয় না! এটা পুরাপুরী সঠিক নয়! কিছু কিছু আছে কিন্তু ঐ শিক্ষাটা আমরা গ্রহণ করতে পারিনা! যেমন ধর্ম শিক্ষা দশম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক। ধর্ম শিক্ষা থেকে আমরা ধর্মীয় অনুশাসন যেমন নামাজ রোজা হজ্জ্ব যাকাত পালন করা বেশ কিছুটা শিখতে পারি, তবে ধর্ম শিখতে পারি না!! ধর্মের মূল বিষয় হলো সত্য ন্যায় কল্যাণ.. আমরা এগুলো অনুধাবন করার চেষ্টাও করিনে!! ফলে বাহ্যিকভাবে ভালো মানুষ বা ধার্মিক মানুষ মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে সে ভালো নাও হতে পারে! এটা বিরাট ব্যর্থতা! কিন্তু এই ব্যর্থতা কার শিক্ষা ব্যবস্থার নাকি ব্যক্তির নাকি সমাজের নাকি দেশের? নাকি সামগ্রিক সকলের?

© বদলে যাও বদলে দাও