Home » অন্যান্য » চা বাগানের কর্মীদের মজুরী ৪০ টাকা!

চা বাগানের কর্মীদের মজুরী ৪০ টাকা!

211 বার পঠিত

সিলেটে চা বাগানের কর্মীদের সর্বোচ্চ মজুরী প্রদান করা হয় চল্লিশ টাকা। চা বাগানে সারাদিন কাজ করে আয় হয় মাত্র ৪০ টাকা এবং প্রায় সবগুলো চা বাগানে নাকি এই অবস্থা। চা বাগানে কাজ করে প্রায় সবাই আদিবাসী। আমার এক বন্ধু দীর্ঘ ৪/৫ মাস সিলেট ভ্রমনের শেষে এমন তথ্য দিয়েছেন। একটা পরিবারের ছোট থেকে বড় সবাই চা বাগানে কাজ করেন। তাদের লেখাপড়ার কোন বালাই নেই। পড়ালেখার জন্য তেমন সুযোগ-সুবিধাও নেই। অধিকাংশ তরুণ ছেলেরা নাকি নেশাগ্রস্থ। বন্ধুটি আরও জানিয়েছেন সিলেটে ধনী লোকের বসবাস থাকলেও অভাবী-বঞ্চিত লোকের সংখ্যাও কম নয়। বন্ধুটি চা বাগানের দেখভাল করে এমন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানতে পারে- চা বাগানের কর্মীরা প্রায় সবাই নেশা করে তাই মজুরি বেশি দিলে তারা নাকি আরও বেশি নেশা করবে।

এমন খবর শুনে বড় অবাগ লাগল। ওরা কি আদিবাসী বলে এত বঞ্চনার শিকার ? যদি তাই হয়, আমরা কিসের মানুষ, আমরা মানুষ হয়ে সবাইকে মানুষ ভাবতে পারি না? বাংলাদেশের সব আদিবাসীরা কি এমনই বঞ্চনা ও অবহেলায় পড়ে আছে? এই ব্যাপারটির সত্যাতা যাচাইয়ের জন্য সরজমিনে পরিদর্শন করে ও সঠিক তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রথমআলো কর্তৃপর কাছে অনুরোধ করছি।

আল মাসঊদ খান

মন্তব্য
  • Al Masud মে 5, 2012 at 5:23 অপরাহ্ন

    ‘চা বাগানের কর্মীদের মজুরী ৪০ টাকা!’ বিষয়ে সামান্য লিখে ‘বদলে যাও বদলে দাও’ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার পর মনে হচ্ছে আমরা সভ্য নই, অসভ্যই আছি। সভ্যতার আড়ালে সুযোগ সন্ধানী মানুষের চালাকি আর বৈষম্যের মস্তক বড় বেশি শক্তিশালী হচ্ছে। সভ্যরুপী মানুষেরা চোরের মতো কোন এক স্থানে পোপনে তাদের উদ্দেশ‌্য সফলভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। সভ্যতার আড়ালে আমরা দেখি আমেরিকা কত বাহানা করে মানুষের জীবন কে পিঁপড়া- মাছির মতো মেরে ফেলে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে আবার মুখে মানবতার বড় বড় কথা বলে; লোক দেখানো কাজ করে। ভেবে ছিলাম, এদিক থেকে আমরা অনেক ভাল আছি, কিন্তু ‘বদলে যাও বদলে দাও মিছিল’ যে সংবাদ জানালো, তা সত্যিই দেশী সভ্যতাকে নতুন করে ঘৃণা করতে শেখায়।
    এতো বৈষম্য-শোষন-বঞ্চনা-অবহেলা দূর হবে বাংলার মাটি থেকে!

  • বদলে যাও বদলে দাও এপ্রিল 29, 2012 at 12:45 অপরাহ্ন

    Al Masud অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ৪০ টাকা! এ তথ্য দেশের প্রায় সকল সচেতন মহল জানেন। কিছুদিন আগেও এটা ছিল ২৬ টাকা। বিষ্ময়কর হলেও সত্য আমাদের চা বাগান এখনো ব্রিটিশ উপনিবেশের আদলেই চলে। ওখানে স্বাধীন বাংলাদেশের হাওয়া এখনো লাগেনি। তাদের আইন কানুন সেই আমলেরই। এত সস্তা শ্রমিক যাতে বছরজুড়ে নিয়মিত পাওয়া যায় তার জন্য আছে নানা কৌশল। কাজ শেষে শ্রমিকরা যাতে সস্তা চুয়ানি নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে এটাও একটি কৌশল। এর জন্য আইনগত বৈধতাও দেয়া আছে।

    স্কুল দেয়া হয় না যাতে উত্তর প্রজন্ম শিক্ষিত সচেতন হয়ে না পড়ে। এতে বাগানে শ্রমিক প্রবাহ কমে যাবে। তাদের আবাসন সুবিধা দেয়া হয় বাগান থেকেই। মাটির ঘর আর সন-এর চাল। এটারও শর্ত আছে, থাকার ঘর তারাই পায় যাদের পরিবারের ন্যুনতম দুই জন সদস্য বাগানে কাজ করে। তাদেরকে রেশন দেয়া হয় ”মোটা আটা”। চালের কোন বিধান নেই। তাদেরকে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহের বিধান থাকলেও দু’শ বছরের বেশি সময় ধরে দিই দিই করে আর দেয়া হয় না। এই যুগেও তারা অধিকাংশ মাটির পাত কুয়ার পানি পান করে। পাত কুয়ায় পোকা মারর জন্য বছরে দুবার বিনামূল্যে পটাশ দেয়া হয়। ল্যাট্রিন এর ব্যাপারে ওদের মধ্যে এমন একটি বিশ্বাস স্হাপন করিয়েছে ব্রিটিশরা ” ঘরে খাবে বাগানে পায়খানা করবে” – এতে চা গাছ ভলো সার পাবে। পাতার ফলন ভালো ফলন হবে। আর বাগান তাজা হলে তাদের পাতার উৎপাদন বেশি হবে। সারা বছর কাজ থাকবে।

    সরকারি মালিকানা এবং বেসরকারি মালিকানা উভয় চা বাগান প্রায় একই নিয়মে পরিচালিত হয়। আশা করি আপনি কিছুটা বুঝতে পেরেছেন। শ্রমিকরা ঐ একটু রেশনের আটা আর মাটির ঘরে আশ্রয়ের জন্য প্রজন্ম পরষ্পরায় শ্রমিক থাকতেই হয়। ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান সরকার এদেরকে ভোটাধিকার দিতো না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার এবং তাজউদ্দিন আহমেদ-এর উদ্যোগে তাদেরকে প্রথম ভোটাধিকার দেয়া হয় এবং দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এর পরে কোন সরকার তাদের মৌলিক অধিকারের জন্য দেয়ার মত কিছুই দেয় নি।

    অনেক লিখালিখি হয়েছে তাদের নিয়ে। কিছুই হয় না তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে। আমরা ভদ্র সমাজ তাদের রোদে পোড়ানো কালো তামাটে হাড্ডিসার শরীরের শ্রমে তৈরি চা’য়ের দানায় চুমুক দিয়ে চাঙ্গা হই ঠিকই। কিন্তু ওদের জীবন প্রদ্বীপ কখনও চাঙ্গা হয় না। ওরা দূর নক্ষত্রের কোন অধিবাসির মত আমাদের দেশেই বাস করে যাচ্ছে।

© বদলে যাও বদলে দাও