Home » অন্যান্য » আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা : আমাদের ভবিষ্যত

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা : আমাদের ভবিষ্যত

166 বার পঠিত

 

পৃথিবীতে যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত,এই কথাটির সাথে  বাংলাদেশকে তুলনা করলে দাড়ায় , যে যত শিক্ষিত সে তত বড় দুর্নীতিবাজ  । আমাদের সোনার বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার ছেলে মেয়ে  পাস করে কেউ মাধ্যমিক, কেউ উচ্চ মাধ্যমিক, কেউ উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি হচ্ছে , অথবা স্নাতক, স্নাতকোত্তর  পাস করে চাকরি করছে ,কেউ বা আবার বিদেশ পারি জমাচ্ছে । পাস করছে, ডিগ্রিধারী হচ্ছে ,বড় বড় চাকরি করছে , অনেক টাকা রোজগার করছে কিন্তু আমাদের দেশ দুর্নীতিতে বার বার চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে । এর কারণ কি ? তবে কি সরষের মধ্যেই ভূত ? আমি বলব ,আমরা শিক্ষিত হচ্ছি না ,কেবল কিছু সার্টিফিকেট পাচ্ছি । এর কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা । আজকাল কোন মানব শিশু যখন জন্ম নেয় তার মাথার উপর শিক্ষা নামের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয় , শিশুটি যদি স্কয়ার/এপোলো হাসপাতালে জন্ম নেয় তাহলে ওই দিন থেকেই বাসায় টিচার দিতে চায় ,যে খেলার ছলে শিক্ষা দিবে যাতে করে মাষ্টারমাইন্ড ,স্কলাস্টিকা,ভিকারুননিসা,হলিক্রস বা সেন্টযোসেফ এ চান্স পেতে কষ্ট না হয় । ছোট্ট একটা শিশু যখন সকালবেলা মায়ের বকনি খেয়ে ঘুম ভেঙ্গে, বইয়ের ওজনে স্কুলের ব্যাগ পিঠে নিয়ে  কাঁদতে কাঁদতে ক্লাসরুমে প্রবেশ করে, তার কাছ থেকে সার্টিফিকেট পাওয়া সম্ভব হলেও সে শিক্ষিত হবে , মানুষের মত মানুষ এটা সমাজ আশা করতে পারে না । একটা অবুঝ শিশু যখন পরীক্ষার হলে ঘুমিয়ে পড়ে , স্কুল বা কলেজ থেকে ফিরে , বাসায় ৪/৫ জন শিক্ষকের পড়া পড়তে অতিষ্ঠ তখন এ থেকে বাঁচতে তার কাছে  অসুস্থ হওয়া ছাড়া অন্যকোন উপায় থাকে না। আর আমাদের দেশের স্কুল বা কলেজে ক্লাস করা যতটা না গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়েও বেশি দরকারি কোচিং এ ক্লাস করা , আজকাল কোচিং-এ স্কুলের স্যারের কাছে না পড়লে পরীক্ষার ফলাফল ভালো না হওয়ার নজির কম না । একই পড়া ক্লাসে না বুঝলেও কোচিং এ আসলে তা ঠিকই বুঝবে এর রহস্য আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ  ভালো জানেন । আমার এক ছাত্র ওইদিন আমাকে বলছে, স্যার যতদিন অসুস্থ থাকি ততদিন ভালো থাকি । অসুস্থ হয়ে যদি পড়াশোনা থেকে মুক্তি পেতে হয় , সুস্থ মস্তিষ্ককে যদি পড়াশোনা করা না যায় ,তাহলে আমরা বলতে পারি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শিক্ষিত মানুষ পাওয়া প্রায় অসম্ভব । এখন সৃজনশীল প্রক্রিয়া, বোঝার  উপর শাকের আঁটি ছাড়া কিছুই নয় ।

আমাদের প্রতিটি ক্লাসের পাঠ্যবই কমাতে হবে , শিক্ষার্থীকে চিন্তা করার সময় দিতে হবে , দিতে হবে মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার সু্যোগ , শিক্ষা দিতে হবে দেশকে ভালোবাসার , সুযোগ দিতে হবে মানুষের মত মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠার । তাহলেই পাস করা নয় আগামী দিনে আমরা পাব একটা সুন্দর জাতিকে । আবারও  বলছি ব্যাগ ভর্তি পাঠ্যবই নয় , অসুস্থ হয়ে শিক্ষা থেকে মুক্তি নয়, শিক্ষা হতে হবে আনন্দের, হাসির , সাদরে গ্রহণ করার মত । পরিশেষে বলছি ,শিশুদের মধ্যে যদি আমরা আগামী দিনের ভবিষ্যত দেখতে চাই তাহলে ,শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভালো করতে হবে ,আর শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভালো করতে  হলে পাঠ্যবই কমানোর কোন বিকল্প নাই ।

আসাদুজ্জামান ইব্রাহিম

 

 

 

মন্তব্য
  • Al Masud মে 3, 2012 at 2:53 অপরাহ্ন

    ধন্যবাদ আসাদুজ্জামান ইব্রাহিম,
    অনেক বড় সত্য কথা বলেছেন। বেশি চাপের মধ্যে লেখাপড়া হয় না। শিশুদের যদি ইচ্ছা না করে; তাদের ভাল না লাগে; তারা যদি আনন্দ না পায় তবে সে শিক্ষায় তাদের কোন লাভ হওয়ার নয়। তাদের পড়ানো হয় তাই তারা পড়ে। এ
    ‌ব্যাপারে অবিভাবকদের সচেতনতার দরকার আছে। বর্তমানে বাচ্চারা যে প্রেসারের মধ্যে পড়ালেখা করে তা মোটেই উচিত নয়। তাদের নেই কোন খেলাধুলার জায়গা, যার ফলে তারা টেলিভিশনের দিকে বেশি বেশি ঝুঁকছে।
    শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের ব্যাপারে সরকারের উপর নির্ভর করে কোন লাভ নেই। সরকারের আচারন তো আমরা দেখছি।

  • methopoth মে 2, 2012 at 12:00 অপরাহ্ন

    আপনার লেখাটি কাদের উদ্দেশ্যে জানিনা। যদি পাঠকদের উদ্দেশ্যে হয় তাহলে পাঠক হিসেবে বলবো কাজটি সাধারন মানুষ বাস্তবায়ন করতে পারবেনা। কারন দ্বায়িত্বটি রাষ্ট্রের। আপনার কথাগুলো যদি রাষ্ট্র চালকদের উদ্দেশ্যে লিখে থাকেন তাহলে বলবো এ রকম কথা তারা বহু শুনেছেন এতে তাদের কিছু যায় আসেনা।
    বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে শিক্ষার পুর্ণ নিশ্চয়তা দেয়ার দ্বায়িত্ব পুরোটাই সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের। কিন্তু আজ যখন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রাইভেট লিঃ কোম্পানী হয়ে গেছে তখন সেটা আশা করা কঠিন, এবং তা কখনই সম্ভব হবে না যতক্ষন না এ দেশের মানুষ বর্তমান দুই জোটের বাহিরে চিন্তা করতে শিখবে কিংবা এদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবে।

© বদলে যাও বদলে দাও