ডুবুরী আবুল খায়ের - দুর্যোগের এক দুঃসাহসী বীর।
সৌভাগ্যক্রমে নিজের নামের সাথে হুবহু মিল থাকলেও কর্মক্ষেত্রে রয়েছে ভীষণ গরমিল। দুর্যোগের এই দুঃসাহসী বীরের সাথে নিজের তুলনা করার দুঃসাহস অন্ততঃ আমার মত নরাধমের নেই। ছুটির দিনে এই ডুবুরির বীরত্বগাঁথা নিয়ে প্রথম আলো একটি ‘ক্রোড়পত্র’ প্রকাশ করে। ক্রোড়পত্রটিতে তাঁর ২২ বছরের কর্ম জীবনের বহু দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা ও অবদানের কথা জেনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় শির নত হয়ে আসে। সাবাস বীর ডুবুরি, সাবাস আপনার দৃঢ় প্রত্যয়ী মানসিকতাকে। যিনি নিজের জীবনকে অতি তুচ্ছ মনে করে দুর্ঘটনা কবলিত মানুষদের উদ্ধারে ছুঁটে যান জলে-স্থলে। উদ্ধার করেন হতাহত মানুষ অতি আদর ও মমতার সাথে। ফিরিয়ে দেন শেষ সান্তনাটুকু স্বজনহারা মানুষের কোলে। ফায়ার সার্ভিসের গর্ব এই ডুবুরি তাঁর কাজের কৃতিত্ব স্বরূপ পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড, জাতিসংঘের সম্মাননাসহ অনেক পুরস্কার । প্রসঙ্গক্রমে বলছি , এই বীর ডুবুরি আবুল খায়েরের রয়েছে দুইটি যমজ সন্তান । মেয়ে ইসমাত আরা ইংরেজিতে অনার্সে অধ্যয়নরত । ছেলে জিহাদুল ইসলাম একজন লেগুনা চালক ! স্ত্রী নুরজাহান ক্যান্সারে আক্রান্ত। ভাবতেই অবাক লাগে দেশের এমন একজন বীরের সন্তান কেন লেগুনার চালক? বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘরে ঘরে চাকুরি দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন! তাহলে ঘরে ঘরে না হোক অন্ততঃ আবুল খায়েরের মত বীরের একটি ঘরে তার সন্তানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় (Special Consideration) চাকুরির ব্যবস্থা করাটা কী খুবই কঠিন কাজ? অবশেষে বলছি, তাঁর স্ত্রী ক্যান্সার আক্রান্ত নুরজাহান সর্বশেষ মেঘনার লঞ্চডুবির দুইদিন আগে যার অস্ত্রোপচার হয় এমনি এক বিপদগ্রস্থ মানসিকতা নিয়েও তিনি (আবুল খায়ের) ছুটে আসেন উদ্ধার কাজে। এমন দৃঢ় ও আত্ম-প্রত্যয়ী ডুবুরি তাঁর স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলবেন পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখাবেন আরো কিছু দিন- তাতে যত টাকাই লাগুক! হ্যাঁ তিনি পারবেন, পারতেই হবে তাকে। তবে আমাদের সমাজ তথা রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে বিপদে তাঁর পাশে দাঁড়ানো যেমনি করে তিনি ছুটে আসেন ভয়াবহ দুর্যোগে আমাদের পাশে। তাই নুরজাহানকে আরো কিছুদিন পৃথিবীর আলো দেখাতে আমি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের নিকট বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানাই, নুরজাহানের চিকিৎসা ব্যয় সরকার কর্তৃক বহন করে তাকে সুস্থ করে তুলুন দেশের স্বার্থে দেশের জণগনের স্বার্থে । কারন স্ত্রীকে বাঁচাতে না পারলে তিনিও হয়তো হারিয়ে ফেলবেন তাঁর অটুট ও দৃঢ় মনোবল। দেশ তথা জাতি হারাবে দুর্যোগের এক দুঃসাহসী বীরকে!






আসলেই অনেক দুঃখ । যদিও জন্মের সময় সব মানুষ একই রকম কিন্তু বিখ্যাত হওয়ার পর মানুষ শুধু তাদেরই মানুষ মনে করছে । আর এখানেই যত ভেদাভেদ ! আরেকটা প্রবনতা আমাদের তৈরী হয়েই থাকে সেটা হল কোন স্বীকৃতি বা ভালো কাজের সব মানগুলো মরনোত্তর দেওয়া হয় ! জাতি হিসাবে যে গর্ব আমাদের তাকে আরও পরিস্ফুটিত করার জন্য অবশ্যই এই বীর মানুষগুলোকে আমাদের সামনে নিয়ে আসতে হবে, তাদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে হবে, দিতে হবে কাজ করার জন্য অনুপ্রেরনা । এই বীর মানুষগুলোর পরিবার অথৈ পানিতে পড়ে হাতরিয়ে মরবে আর তা মাথা পেতে নিলে আমরাই অনেক ঋনী হয়ে থাকবো ।
প্রথম আলো যা পারে তা আমরা অনেক কাজের মাধ্যমে দেখেছি । আবুল খায়ের আজ আমাদের মাঝে এতটা পরিচিত মানুষ তাতো প্রথম আলোর কল্যানেই । আমি বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি আবুল খায়েরের পরিবারকে একটু নিশ্চিন্ত করতে প্রথম আলোকে এগিয়ে আসতে । অনেক কাজ, অনেক ভাবনা এবং অনেক ব্যস্ততার মাঝেও প্রথম আলো এই টুকু কাজ যদি করে তবে আমরা কিছুটা হলেও ঋন থেকে মুক্ত হতে পারবো।
আবুল খায়ের- আপনি অনেক দিন আমাদের মধ্যে আলো ছড়ান । জাতি আপনাদের মত মানুষদের অপেক্ষায় রয়েছে তীর্থের কাকের মত ।
ধন্যবাদ লেখককেও এই লেখাটি লেখার জন্য ।