Home » অন্যান্য » সাদা মন্ত্রী – কালো মন্ত্রী

সাদা মন্ত্রী – কালো মন্ত্রী

545 বার পঠিত

দাবা খেলা আমরা মোটামুটি সবাই জীবনে কখনও না কখনও নিজেই খেলেছি অথবা খেলতে দেখেছি অন্যদের। একটা বোর্ডের মধ্যে সাদা কালো চৌকোনা কিছু ঘর কাটা থাকে আর তাতে থাকে সাদা আর কালো কিছু গুটি। গুটিগুলোর আবার এক একটির এক এক রকম নাম আর এক একটির এক এক রকম পাওয়ার বা শক্তি থাকে। এই গুটিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পাওয়ারফুল বা শক্তিশালী থাকে মন্ত্রী। যদিও রাজাও থাকে, কিন্তু মন্ত্রীর পাওয়ারই সবচেয়ে বেশী। সাদা দলের সাদা মন্ত্রী আর কালো দলের কালো মন্ত্রী। তো দাবার বোর্ডের এই দুই মন্ত্রীর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা হয়ে ওঠে সকলের কাছেই বেশ উপভোগের একটি বিষয়। যারা দাবা খেলা বুঝে, তারা ঊর্ধ্বশ্বাসে অপেক্ষা করে, কোন মন্ত্রীর সুচারু আক্রমনে অন্য মন্ত্রীখানি তার রাজা সহ ঘায়েল হবে শেষপর্যন্ত! দুই রাজার এই যুদ্ধক্ষেত্রে সাদা মন্ত্রী আর কালো মন্ত্রী’র সংগে সৈন্য সামন্ত আর হাতী ঘোড়াও অংশগ্রহন করে। তারা যুদ্ধ করতে থাকে একজন আর একজনের সংগে সাদাকালো ঐ ময়দানে, অবশেষে কোন এক রাজার ভাগ্যে জোটে পরাজয় আর অন্যজনের ভাগ্যে জোটে জয়। সাদা মন্ত্রী আর কালো মন্ত্রী’র এই যুদ্ধ শুধু কি দাবার ময়দানেই হতে হবে? বাস্তবে অন্য কোন ময়দানে সাদা আর কালো মন্ত্রী’র এই যুদ্ধ লাগিয়ে দিলে কেমন হতো?

দাবার বোর্ডের কালো মন্ত্রী সংখ্যায় মাত্র একজন হলেও বাস্তবের কালো মন্ত্রী’র সংখ্যা কয়টি তার সঠিক হিসেব আমার মত দুর্বল মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষে উদ্ধার করা খুবই কঠিন কাজ। তবে বাস্তবের ইদানিং কালের কালো মন্ত্রীদের কথা বলতে গেলে যে কয়জনের নাম সবার মুখে মুখে সাংবাদিক ভাইদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কল্যাণে ঘোরাঘুরি করে, তাদের মধ্যে প্রথম থেকেই পদ্মা সেতু ঘটনা, শেয়ার বাজারের লূটপাট, আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি, বিদ্যুতের কুইক রেন্টাল পদ্ধতি বিশেষ ভাবে আলোচিত ছিল। আর এর সংগে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সর্বশেষ রেল মন্ত্রনালয়ের অর্থ কেলেঙ্কারি’র ঘটনা। অবশ্য আমি শুধু বর্তমান সরকারের কথাই বলছি। বিগত সরকারের কথা বলতে গেলে, এই কালো মন্ত্রী’র হিসেব এর থেকে কয়েক গুণ বেশী হবে বলেই আমার ধারনা। সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করনের কল্যাণে প্রতিদিন হাজারো জনতার ছোঁড়া লক্ষ তীরের আঘাতে জর্জরিত হতে দেখি এই সব মন্ত্রনালয়ের মাননীয় সকল বর্তমান আর বিগত মন্ত্রীমহোদয়দের। উপরিউক্ত আলোচনার হিসেবে এই সংখ্যা আপাত দৃষ্টিতে আমার কাছে অনেক অনেক কম মনে হলেও পাঠককুলের কাছে নিশ্চই এর চেয়েও ভুরি ভুরি হাজারো অরাজকতার উদাহারণ জানা আছে, হোক সে বর্তমান অথবা বিগত যেকোনো সরকারের। আর রাজা মহারাজা, হাতী-ঘোড়াদের কথা নাহয় বাদই দিলাম। তাদের সংখ্যার হিসেব দেবার মত ক্ষমতা বা জ্ঞান, কোনটাই আমার মত অতি সামান্য মানবের পক্ষে সম্ভব নয়, আর সে ধৈর্যও আমার মধ্যে অনুপস্থিত।

তো প্রশ্ন হোল, এক দাবার বোর্ডে এতগুলো কালো মন্ত্রীর সংগে মাত্র একটি সাদা মন্ত্রির খেলা কেমন হতে পারে? কস্মিনকালেও কি একটি সাদা মন্ত্রী’র পক্ষে একাই জয়লাভ করা সম্ভব এতগুলো কালো মন্ত্রী’র বিপক্ষে? উত্তর – “অসম্ভব”। সদ্য বিদায়ী রেলমন্ত্রী নিজের ঘাড়ে অর্থ কেলেঙ্কারির পুরো বোঝা চাপিয়ে নিয়ে দল নেত্রী আর গণতন্ত্রকে কলুষমুক্ত করতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন না চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, সে প্রশ্নে না হয় নাইবা আসলাম। কিন্তু মাত্র ৩০ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই আবারও তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী পদে পুনর্বহাল কতটা যুক্তিযুক্ত, তা আমার মত সাধারন জনতার কাছে কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছেনা। আর আমরা গণতন্ত্রের এত বড় বড় বুলি নিজের মুখে আউলিয়ে নিজেই আবার সেই “দপ্তরবিহীন” মন্ত্রিত্ব পদটি গ্রহণই বা কেন করলাম, তা আমার ছোট্ট মাথায় কিছুতেই ঢুকাতে পারছিনা। এখানেও কি উনি সেই কালো, কালোই রয়ে গেলেন না? সাদা হবার সুযোগটা হাতের কাছে পেয়েও হাতছাড়া করে ফেললেন, তাই নয় কি? এমনিতেই কিন্তু ঘটনা ঘটার সংগে সংগে অনেক অনেক অসঙ্গতিপূর্ণ কথা বলে অনেকের মনেই নিজেকে ঘটনার সংগে সংশ্লিষ্ট হিসেবে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিয়েছেন। কি এমন ক্ষতি হতো যদি বিদায়ী রেলমন্ত্রী ঘোষণা দিতেন নিজের মুখে যে, “না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি দপ্তরবিহীন মন্ত্রী কেন, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী কোন কিছুর পদ আগলিয়েই থাকতে চাইনা! আমি চাই নিরপেক্ষ তদন্ত, আমি চাই কালো থেকে সাদা হতে!”

পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ব্যাপারে নতুন করে আর কিইবা লিখবো? এই সেতু’র দুর্নীতিতো এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সর্বজনবিদিত। আর এর দায়ভার বিশ্বব্যাংক দিয়েছেন বিগত যোগাযোগ মন্ত্রী’র উপড়ে আর তার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান “সাকোর” উপড়ে। যদিও উনি গতানুগতিক ভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন, কিন্তু তারপরেও কি পেরেছেন সাদা হতে? সুত্র। শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির জন্য আমজনতা এখনও তর্জনী উঁচিয়ে যাকে দেখায়, তার কথাও নতুন করে বলার কিছুই নেই। তাঁদের কোটি কোটি টাকার লাভের মাশুল দিয়েছে আমার মত লক্ষ লক্ষ মানুষ। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে কতজন, তাঁদের কোন হিসেব নেই। আবার মাথার উপড়ে ঋণের বোঝা সইতে না পেরে নিরুপায় হয়ে আত্মহননের মত জঘন্য পথ পর্যন্ত বেঁছে নিতে হয়েছিল আমার মত বিনিয়োগকারী কিছু কিছু তথাকথিত আমজনতাকেই। কত কত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসে গেছে তার হিসেব কি রেখেছে সরকার বা তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়? সারমর্ম হোল, যেই কালো, সে কালোই রয়ে গেল, সাদা আর হতে পারলনা।

আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কথা লিখতে গেলে শুধুই কান্না পায়। স্বাধীন দেশে একের পর এক সব খুন, গুম, অপহরন, উধাও/লাপাত্তা হয়ে যাওয়া এ যেন এক নিত্যদিনের ব্যাপার। দিনেদুপুরে ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ এতো সমাজেরই একটি অংশ হয়ে গেছে আজ আমাদের। রাতের বেলায় দেশের প্রধান বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক সম্পাদক আর বিগত সংসদের সংসদ সদস্যর মত অতি ক্ষমতাবানেরও হঠাৎ উধাও হবার ব্যাপারে আর কিইবা বলবো! ভিলেন-নায়ক ড্রাইভার আলী আজমের জন্য চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ওঁর মা আজ শুন্য মরুভুনিতে পরিনত হয়ে গেছে, সেই খোঁজই বা কার রাখার প্রয়োজন? চাঞ্চল্যকর কোন একটি খুনের রহস্যও বের করে জনসম্মুখে প্রকাশ করার যোগ্যতা নেই আমাদের। মানুষকে টুকরা টুকরা করে কেটে ব্যাগের মধ্যে ভরে ট্রেনের মধ্যে তুলে দেই, অথবা খুন করে ইটভাটার মধ্যে পুড়িয়ে ফেলি আমরা! বেডরুমের ভিতরে আর রাস্তার উপরে একের পর এক সব হত্যাকাণ্ড! হায়রে আমাদের দেশের আইন শৃঙ্খলার কি সুন্দর অবস্থা! থাক আর কিছুই লিখতে ইচ্ছে করছেনা এই মন্ত্রনালয়ের উপরে। অযোগ্যতাই তাকে কালো করে রেখেছে। সাদা হবার হাজারো চেষ্টা করলেও হয়তবা কোনদিনই তা সাদা হবেনা এই অযোগ্যতার জন্যই।

পত্রিকা পড়ে জানতে পাই যে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, শ্রদ্ধেয় মরহুম তাজ উদ্দীনের সন্তান সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ মন্ত্রীপরিষদ সচিবের কাছে দুইটি চিঠি দিয়েছেন। একটি চিঠিতে তিনি জানতে চেয়েছেন, ২০০৯ সালে মে মাসে পদত্যাগ পত্র দেবার পরেও এখনও কেন তাঁর পদত্যাগ পত্র গ্রহন করা হয়নি এবং অপর চিঠিতে তিনি জানতে চেয়েছেন কেন উনার অসম্মতি সত্তেও উনার ব্যাংক একাউন্টে উনার বেতন ভাতা সরকার পাঠাচ্ছেন এখনও? উনি তাঁর পদত্যাগ পত্র গ্রহন করে তাঁর ব্যাংক একাউন্ট থেকে ২০০৯ সালের জুন মাসের পর থেকে প্রেরিত সমুদয় অর্থ ফেরত নিতে মন্ত্রীপরিষদের সচিবের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। সুত্র। আজকে আবার নতুন করে নতুন একটি খবরের শিরোনাম হয়েছেন এই মানুষটি, তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করলেন আজ আর কেন এই পদত্যাগ, তা তিনি জনসম্মুখে খুলে বলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। সুত্র। উনি নিজ থেকে খুলে না বললেও আমরা সাধারন জনগন বুঝতে পারি কিসের অভিমানে উনি এই রাজনীতি বিমুখ হয়ে গেলেন। তিনি বলেছেন, “সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নিতে আমার অনেক চিন্তাভাবনা করতে হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা, ভালবাসা, স্নেহ, আমার জন্য এলাকার মানুষের ত্যাগ স্বীকার, আবেগ এই সবকিছু চিন্তা করার পরও বাস্তবতা বিচার করে আমি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি।” তিনি আরও বলেছেন, “কথার পেছনে অনেক কথা থাকে। অনেক লুকায়িত সত্য থাকে। যা দেশ, জনগণ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে জনসম্মুখে বলা উচিত না। আর তা সম্ভবও নয়। শুধু এইটুকু বলি, আমি ‘সঙ্গত’ কারণেই এমপি ও মন্ত্রীত্বের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।” নিজের অবস্থান ব্যখ্যা করে তিনি একটি চিঠি লিখেছেন, যা সোমবার নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা নিউজওয়ার্ল্ডর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়, তার সেই চিঠিরই  কিছু অংশ আমি আমার এই লিখাতে উল্লেখ করলাম। কিন্তু আমার সংশয়, রাজনীতি থেকে এরকম সুস্থ ধারার মানুষগুলো ইস্তফা দিলে তো আমাদের সাধারন জনগনের সামনে আলো জ্বালিয়ে পথ দেখাবার আর কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবেনা!

সোহেল তাজ বর্তমান সরকারের মন্ত্রীপরিষদের প্রথম একজন প্রতিমন্ত্রী যিনি রহস্যময় কারনে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন করে ইতিহাস রচনা করে নিজ থেকেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া স্বল্প বয়সী, তেজী, উচ্চযোগ্যতাধারী এই মানুষটি কেন আর কিসের দুঃখে সেই মন্ত্রীপরিষদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন, তা আজ পর্যন্ত সাধারন জনগনের কাছে দৃশ্যতঃ অন্ধকারেই রয়ে গেছে। তবে আমরা সাধারন জনগন বুঝতে পারি, যোগ্য বাবার যোগ্য সন্তান হওয়াতে আর বাবার রক্ত শরীরে থাকার জন্য হয়ত কোন অন্যায়কে মেনে নেবার বা সহ্য করার ক্ষমতা সোহেল তাজের মধ্যে ছিলনা। যেমনটি এখনও দেখতে পারছি যখন তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেবার পর থেকে আজ পর্যন্ত যে পরিমান অর্থ বেতন ভাতা হিসেবে তাঁর একাউন্টে জমা করেছে সরকার, তার সমুদয় অর্থই সরকারের কোষাগারে ফেরত দিতে চাইছেন। বিবেক আছে জন্যই সাধারন জনগনের ট্যাক্সের টাকা দপ্তর বিহীন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গ্রহন করতে তাঁর এই অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি। স্যালুট সোহেল তাজ। আপনি সত্যি সত্যি একজন সাদা মন্ত্রী। এই সরকারের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়েছেন তো কি হয়েছে, আপনি আমাদের মত অসংখ্য মানুষের মনে নিজের মন্ত্রিত্ব ঠিকই ধরে রেখেছেন। আপনার জন্য তাই “হ্যাটস অফ”, “গান স্যালুট” আর অন্তরের অন্তর স্থল থেকে জানাই শত গোলাপের ফুলেল শুভেচ্ছা। খুব খুব জানতে ইচ্ছে করে, কেন আমাদের ছোট্ট এই দেশের সব গুলো মন্ত্রীই আপনার মত সাদা হতে পারেননা? একটি সুন্দর দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি জন্য আমাদের খুব প্রয়োজন আপনার মত কিছু সংখ্যক সাদা মন্ত্রির। সবগুলো মন্ত্রীকেই সাদা মন্ত্রী হতে হবে, এমন চাওয়া নেই আমাদের। কিন্তু আপনার মত কয়েকজন সাদা মন্ত্রীই পারবেন আমাদের সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নগুলোকে সার্থক করে তুলতে। হোক সে যেকোনো দলের, যেকোনো মতধারার সাদা মন্ত্রী। আমারা চাই এই কালো থেকে আলোতে আসতে। সবকিছুকেই সাদা রঙে রাঙিয়ে কালো এই অন্ধকারকে দূরে ঠেলে দিতে। আমরা চাই সাদা মন্ত্রী আর কালো মন্ত্রী’র এই বাস্তব দাবার বোর্ডের লড়াইয়ে সবসময় সাদা’রই জয় হোক।

মন্তব্য
  • Qazi Manzur Karim (কাজী মিতুল) এপ্রিল 26, 2012 at 2:34 অপরাহ্ন

    পঁচা পুকুরে ভাল মাছ বাঁচেনা। কিন্তু সাদা মন্ত্রীরা যদি এভাবে পিছে হটে যান, আমরা (জনগণ) তাহলে বেঁচে রইব কী আশায়? ড. ইউনূস পিছু হটেছেন, ১/১১ ব্যর্থ হয়েছে… এরপর আর কী সূচিত হবে নতুন কোন অধ্যায়?

    • সাআখান এপ্রিল 26, 2012 at 3:48 অপরাহ্ন

      আপনি ঠিক কথা বলেছেন কাজী মিতুল। পঁচা পুকুরে ভাল মাছ বাঁচেনা। কিন্তু পুকুরের পানি পরিস্কার করতে পারলে মনে হয় ভালো মাছ বাচতে পারত। আমাদের সবাইকেই এই পুকুরের পানি পরিস্কার করতে হবে। একদিনেই সম্ভব নয়, কিন্তু ধীরে ধীরে সম্ভব। সমাজের অনেক অনেক জায়গা থেকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই কাজটি করতে হবে। তাহলে একদিন ঠিক সম্ভব হবে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

  • সাজ্জাদ হোসাইন এপ্রিল 25, 2012 at 4:29 অপরাহ্ন

    প্রত্যেক সাদা মনের মানুষের জয় হোক সেই কামনা করি।
    সুন্দর লিখাটির জন্য শুভেচ্ছা জানাই।এ দেশের মানুষ সব সাদা মনের মানুষের জয় এ মেতে উঠুক।

    • সাআখান এপ্রিল 25, 2012 at 7:43 অপরাহ্ন

      সাজ্জাদ হোসাইন, শুভেচ্ছা জানাবার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। সাদা মন্ত্রিদের জয় হক। সহমতের জন্য অনেক অভিনন্দন। ভালো থাকুন সবসময়।

  • সাআখান এপ্রিল 24, 2012 at 9:30 অপরাহ্ন

    প্রিয় আ.ন.ম. আফজাল হোসেন, আপনি একদম ঠিক বলেছেন। আমি বলবনা যে সেই একই সুত্রে আজকে বঙ্গবন্ধুর কন্যাও বঙ্গতাজের পুত্রকে ভুল বুঝেছে। বরং, উনি ঠিকই বুঝেছিলেন বঙ্গতাজের পুত্রের মনের মাঝে কি আকাংখা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে, কি ধরনের আশা ছিল দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার! দিন বদলের স্লোগানে স্লোগানে উদ্দীপ্ত হয়ে সেই তাজ পুত্র চেষ্টা করেছিলো সত্যিকারের সুস্থ রাজনীতির জন্য, আর তাতেই যত বিড়ম্বনা, তাছাড়া আর কি হতে পারে?

  • আ.ন.ম. আফজাল হোসেন এপ্রিল 24, 2012 at 9:05 অপরাহ্ন

    বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন সাহেবকেও বঙ্গবন্ধু ভূল বুঝেছিল।

  • Al Masud এপ্রিল 24, 2012 at 3:37 অপরাহ্ন

    সাদা মন্ত্রীর বিবেক আছে; জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছেন না, তাই পদত্যাগ করেছেন; বিবেকের তাড়নায় পদত্যাগ করেছেন। কালো মন্ত্রীরা ভাবছেন দেশ খুব ভালভাবে চলছে কোন অসুবিধা নেই! আপনাদের বিবেক থাকলে, লজ্জা থাকলে আপনারাও পদত্যাগ করতেন।
    বিরোধী দলে থাকলে মনে হয় দেশ অসভ্য হচ্ছে; দেশ অন্ধকারে যাচ্ছে; দেশ শেষ হয়ে যাচ্ছে, যা বিএনপি এখন যা বলছে। ক্ষমতায় থাকলে বলতো সব ঠিক আছে। আ. লীগ এখন বলছে সব ঠিক আছে।
    আমরা জনগন শুধু শুনছি, আর দেখছি; আমরা কিছু বুঝি না!
    ক্ষমতা লোভী আ.লীগ ছি!
    ক্ষমতা লোভী বিএনপি ছ!

    • সাআখান এপ্রিল 24, 2012 at 4:28 অপরাহ্ন

      Al Masud, আপনি একদম ঠিক বলেছেন। সাদা মন্ত্রীর আসলেই বিবেক আছে জন্যই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। অন্যদের সেই বিবেক নেই জন্যই তারা কালো মন্ত্রী। আর সেই বিবেক এই জনমে হবে বলেও মনে হয়না। কিন্তু আমাদের উপায় কি হতে পারে? আমরা কি আজীবন এই কালো দের মাঝে থাকতে থাকতে আরও ঘন কালো অন্ধকারে হারিয়ে যাব, না কি আলো জ্বালিয়ে পথ দেখাবে কেউ? আর তো সহ্য করতে পারিনা! ক্ষমতা লোভী স্বার্থান্বেষী এই রাজনৈতিকদের ধিক্কার জানাই। আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  • সাআখান এপ্রিল 24, 2012 at 1:13 অপরাহ্ন

    প্রিয় মুক্ত যাযাবর, ধন্যবাদ সহমতের জন্য। আমিও আপনার সংগে এক কণ্ঠে বলতে চাই, “রাজাকার, সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক, দূর্নিতীবাজ, ব্যাবসায়িক স্বার্থ উদ্ধারকারী রাজনৈতিক, দলের স্বার্থের জন্য যিনি দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয় এই সব রাজনৈতিক কে আমারা এর পরের নির্বাচন থেকেই বর্জন করবো, করবোই করবো। “মার্কা দেখে আর নয় ভোট, শিক্ষিত-স্বচ্ছ-যোগ্য ব্যাক্তিকেই করবো নির্বাচিত সাংসদ।” অনেক ধন্যবাদ সুচিন্তিত মতামতের জন্য। ভালো থাকবেন।

  • muktojajabor এপ্রিল 24, 2012 at 12:47 অপরাহ্ন

    ধন্যবাদ সাআখান একটি সুন্দর লেখার জন্য। আপনার সাথে আমি একমত। তবে আমি লিষ্টে আরোও যোগ করতে চাই। শুধু রাজাকার নয় সাথে সাথে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক, দূর্নিতীবাজ, ব্যাবসায়িক স্বার্থ উদ্ধারকারী রাজনৈতিক, দলের স্বার্থের জন্য যিনি দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয় এই সব রাজনৈতিক কে আমাদের বর্জন করতে হবে। জানি এভাবে ঠক বাছতে গেলে গা উজার হবে, কিন্তু আমরা এর মধ্যে থেকে অপেক্ষাকৃত ভালো কে বেছে নিতে পারি যার যার নির্বাচনি এলাকা থেকে, শুধু দলীয় চিন্তাধারা বা মার্কা দেখে নয় পরবর্তি নির্বাচনে আমাদের প্রতিনীধি নির্বচন করতে হবে প্রার্থীর যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা দেখে। আপনাকে শুভেচ্ছা।

  • সাআখান এপ্রিল 23, 2012 at 9:43 অপরাহ্ন

    @ বদলে যাও বদলে দাও ব্লগ টিম, আমার এই লেখাটি আজকে সর্বশেষ সম্পাদিত লেখা এবং এটি আজকের সন্ধ্যায় বহুল আলোচিত “সোহেল তাজের খোলা চিঠি” এর আলোকে লিখিত এবং সম্পাদিত। আমি বদলে যাও বদলে দাও ব্লগ টিমকে অনুরোধ করবো লেখাটি আর্কাইভ থেকে অনুগ্রহ পূর্বক প্রথম পাতাতে প্রকাশের জন্য। অনেক ধন্যবাদ।পুনশ্চঃ, লেখাটি আমি ২ দিন আগে জমা দিলেও এটি আজকেও যখন দেখলাম অপেক্ষমানের তালিকাতে, তখন এটি আমি আবার নতুন করে সম্পাদনা করেছি।

© বদলে যাও বদলে দাও