নৌ-দুর্ঘটনা নিয়ে প্রথম আলোর বদলে যাও বদলে দাও ব্লগ যে উদ্যোগ গ্রহন করেছে তা যেমনি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য তেমনি এই লেখাগুলো জাতির জন্য নৌ-দুর্ঘটনা বিষয়ক একটা দিকনির্দেশক প্লাটফর্মও সবার সামনে উন্মুক্ত করেছে । আর মতামত এবং সচেতনতা সম্মৃদ্ধ লেখাগুলো পত্রিকায় প্রকাশের পর সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়েরও দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে । কিন্তু এগুলো কর্যকরের জন্য এই কর্মকান্ডগুলোকে অবশ্যই তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে । সরকারের নীতিনির্ধারক যারা রয়েছেন তাদেরকে কোন একটা নির্দিষ্ট কাজের দিকে দৃষ্টি ফেরানো অনেক কঠিন কাজ আমাদের দেশে । কারন বেশির ভাগ সময় আমাদের রাজনীতিকরা তাদের স্বার্থের জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে ব্যস্ত থাকেন ।
বর্ষা শুরু হওয়ার আগে কালবৈশাখী ঝরের কারনে এই সময়ে নৌ-দুঘর্টনা বেড়ে যায় । আর যেহেতু এখনই নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ শুরু হয়েছে তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষনের সময় এটাই । আজও প্রথম আলোতে দেখলাম প্রধানমন্ত্রি এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে বানিও দিয়েছেন । এখন যদি এই বিষয়ে কোন দিক নির্দেশনা বা এই সমস্যা সমাধানে কি করনিয় তা সরকারের কাছে পৌঁছানো যায় তবে কিছুটা হলেও সুফল পাওয়া যেতে পারে । সত্যিই মানুষের অকাল, অযথা এবং অসহায়ত্বের মৃত্যু দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত ।
একটা একটা করে জনসমস্যাগুলো থেকে বের হয়ে আসতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে । বসে না থেকে অবশ্যই যে যেখানে আছে সেখান থেকেই সচেতনতার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে । এটা কঠিন কাজ নয় । যেটা কঠিন সেটা হল নীতি নির্ধারকদের কাছে আমাদের কান্নার করুন সুর পৌঁছানো এবং কাজ করানো। আমি এ ব্যপারে গতিশীল পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইসহ প্রথম আলোকে আকুল আবেদন করছি ।
আবারও সবার কাছে কৃতজ্ঞতা রইলো এত ভালো করে আমার দেশকে ভালোবাসার জন্য ।






SAYED CHOWDHURY অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। বদলে যাও বদলে দাও মিছিল ব্লগের মাধ্যমে নৌ-দুর্ঘটনা বন্ধ করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। প্রয়োজন বৃহত্তর আন্দোলন। আন্দোলন ছাড়া এদেশে সরকারের কাছ থেকে কিছুই আদায় করা যায় না। প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনের জন্য কিধরনের দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হয় তা সংশ্লিস্টদের জানা থাকলেও সেটার তোয়াক্কা করেন না। আর জবাবদিহিতা ! সেটা তো আরও বহু দূরের পথ। সরকারের নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ । রাষ্ট্রপতি প্রধান মন্ত্রীর বানী দুর্ঘটনা কমাবে না। ঐসব বানী তারা নিজেরা লিখেন না, পড়ার সময় পান কিনা সেটাও ভাববার বিষয়। নৌ দুর্ঘটনা কমাতো তাদের বিশেষ কোন উদ্যোগ। প্রশ্ন আসে এই সপ্তাহব্যাপি কর্মকান্ডের জন্য বাজেট কত? সে অর্থ কি ভাবে কোন কাজের মাধ্যমে করা হচ্ছে? কাদের নিয়ে এসব কর্মকান্ড করা হচ্ছে? সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, তাদেরকে কতটুকু সম্পৃক্ত করা হয়েছে?
আপনারা যে কাজটি করেছেন তা কম নয় বরং নৌ-দুর্ঘটনা বিষয়ে আমরা অনেক দিকনির্দেশনা, বৈজ্ঞানিক ধারনা এবং মতামত পেয়েছি এবং সরকারও এ বিষয়ে জনগনের মনোভাব ও ধারনা জানতে পেরেছে । আগে আমরা হাজার চিল্লা চিল্লি করেও সরকারের কাছে কোন বিষয়ে আমাদের মতামত বা কোন বিষয়ে ধারনা পৌছাতে পারিনাই ।এই কাজটিই আপনারা করে আমাদের কাছ থেকে অনেক কৃতজ্ঞতা পাওয়ার দাবি রাখেন ।
এখন যেটা প্রয়োজন সেটা হলো কিভাবে সরকারকে এ ব্যপারে একটা দায়িত্বশীল এবং অবশ্যই গতিশীল একটা ভূমিকাতে অবতীর্ন করানো যায় । আপনি ঠিকই বলেছেন বাজেট বাস্তবায়ন এবং এর স্বচ্ছতার উপর বড় ভূমিকা থাকে একটা কাজের সফলতা বা ব্যর্থতা । বাজেট করন, বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য জনগনের কাছে তা প্রকাশ করা সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিৎ । যদি তা ই-সিসটেম হয় এবং সবসময় আপডেট বাধ্যতামূলক করা হয় তবে কিছুটা দুর্নীতি কমে যেতে পারে । যাদের সুফল পাওয়া উচিৎ তাদের অসহায়ত্বকে পুজিঁ করে কিছু আমলা বা সরকারের নীতি নির্ধারকেরা যে মনখেলা খেলছে তা বন্ধ করতে হলে দক্ষিনাঞ্চলের জনগনের সম্পৃক্তা খুব প্রয়োজন । এজন্য তাদের মধ্যে কিভাবে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাগ্রত করা যায় এ বিষয়ে দৃষ্টিপাতের জন্য অনুরোধ করছি । সব একবারে বন্ধ করা যাবেনা । একটি একটি করে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সফলতা পাওয়া বেশী সম্ভব ।
টাকার কোন অভাব হবে বলে মনে হয় না । আমরা জলবায়ু ঝুকিপূর্ন দেশ হিসাবে যে টাকাগুলো বিদেশ থেকে পেলাম তার কোন হিসাবই আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হলোনা । সিডর আক্রান্তদের এখনও পুর্নবাশন সঠিকভাবে করা হয় নি । এই টাকা তাহলে গেল কোথায় । যে টাকা বিভিন্ন প্রকল্প থেকে উচ্ছিষ্ট থাকে সে টাকার হিসাব সঠিকভাবে নিয়ে অন্য কাজকে গতিশীল করা খুব কঠিন কাজ বলে আমার কাছে মনে হয় না । এ বিষয়ে প্রথম আলো যদি একাটা রিপোর্ট করে তবে ভালো কাজে আসতে পারে ।
অনেক কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ আপনাদের সহ সবাইকে ।