Home » অন্যান্য » ঘুরে দাঁড়াতে হবে সাংবাদিকদের :

ঘুরে দাঁড়াতে হবে সাংবাদিকদের :

347 বার পঠিত

মীর আব্দুল আলীম :  বিশ্বের যেসব দেশে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না, সেসব দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সাংবাদিক খুন হয় আর তার বিচার হবে না তা কি করে হয়? পরিসংখ্যানটি আতকে ওঠার মত। গত দেড়যুগে ৩৯ সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার বগকিলোমিটারের এই দেশটিতে। সর্বশেষ সাংবাদিক দম্পতি ‘সাগর-রুনি’ হত্যার ঘটনার পর সংবাদপত্র থেকে যে তথ্য পেয়েছি তা হলো ৩৯ সাংবাদিক হত্যাকান্ডের একটি ঘটনারও নাকি সঠিক বিচার হয়নি। খবর সংগ্রহকারী সাংবাদিকরা নিজেরাই খবর হচ্ছেন। প্রতিবছরই একাধিক সাংবাদিকের অপঘাতে মৃত্যু হচ্ছে, কিন্তু সারা জীবন সত্যের পেছনে ছুটে বেড়ানো এসব সাংবাদিকদের হত্যারহস্য হিমশীতল বরফের আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। কেবল বিচারই নয় একটির হতাকান্ডেরও রহস্য প্রকাশিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যাপন করছেন স্বাভাবিক জীবন। কেউ কেউ রয়েছেন জামিনে। কেউ আবার মিডিয়াতেই কর্মময় জীবন যাপন করছেন। অনেক হত্যাকান্ডের বিচারকার্য এমনকি তদন্তকাজ, চার্জশিট ঝুলে আছে। কয়েকটি মামলার ক্ষেত্রে বছরের পর বছর সময় নিয়েও তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। এ দীর্ঘ সময়ে সাংবাদিক হত্যারও বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের অমার্জনীয় ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতার দায় কোন সরকারই এড়াতে পারবে না। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে অস্তিত্ব রক্ষায় সাংবাদিক সমাজকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। দলীয় সন্ত্রাসী ক্যাডার, মাস্তান, ভাড়াটে কিলার, ঠিকাদার, কালোবাজারি, অসাধু ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজদের রা, সুবিধাভোগী পুলিশ বাহিনীর দুর্বল তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা অন্যতম কারণ। বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কিছু মামলা বছরের পর বছর তদন্তের নামে কালপেণ করে দীর্ঘ সময় নিয়েও তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি পুলিশ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা, মূল অপরাধীদের পাশ কাটিয়ে চার্জশিট প্রদান, দুর্বল অভিযোগ উত্থাপন এবং চার্জশিটভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার না করার অভিযোগ আছে। এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী খুনিদের প নিয়ে নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ আছে। নিম্ন আদালতের দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি বিষয় লক্সনীয় যে প্রায় সাংবাদিক হত্যার পেছনে রাঘববোয়ালদেও হাত থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে সরাসরি জড়িত প্রবাবশালীরা। যার কারনে বিচার কার্য প্রভাবিত হয়। এ অবস্থা একটি রাষ্ট্রের জন্য দুভাগ্যজনক। এতে খুনিরা দিন উৎসাহিত হচ্ছে। সাংবাদিক হত্যাকান্ডের সংখ্যা বাড়ছে। ভাবা কি যায় কেবল মতাসীন মহাজোট সরকারের শাসনামলে ৩ বছর ১ মাসে ১৪ সাংবাদিক খুন হয়েছেন। এসব খুন দেশের সন্ত্রাসী খুনিদের উস্কে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে সাংবাদিক হত্যার বিচার না হলে সাধারন মানুষের কি হবে? যেহেতুক গত দেড়যুগে ৩৯ সাংবাদিক হত্যাকান্ডের একটিরও বিচার হয়নি, প্রভাবিত হয়েছে সবগুলো মামলা। আমরা মনে করছি সাগর-রুনির মামলাটিও প্রভাবিত হচ্ছে তাই প্রয়োজনে বিশেষ বিবেচনায় এনে সরকার এসব মামলা গুলো নিস্পত্তি করতে পারে। দরকার হলে এ ক্ষেত্রে বিশেষ আদালত গঠনের মাধ্যমে ফি বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলা গুলো বিচার কার্য শুরু করা যেতে পারে। রাষ্ট্র্রের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হলে সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ, আমাদের দেশে আজো পর্যন্ত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তো দূরে থাক কোনো সাংবাদিক হত্যাকান্ডেরই বিচার হয়নি বলে অভিযোগ উছছে হরদম। সরকারকে এসব হত্যাকান্ডের বিচারে অবশ্যই আন্তরিক ও কঠোর হতে হবে। সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশন ও এটিএন বাংলার সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারো আলোচনায় চলে এসেছে। কোনো একটি মামলার বিচারকার্য আজো পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের আরো বেপরোয়া করে তুলছে। ফলে তারা সাংবাদিকদের বাসগৃহে প্রবেশ করে নৃশংসভাবে হত্যা করার মতো স্পর্ধা দেখাতেও পিছপা হচ্ছে না। সাগর ও রুনির ঘটনা সাংবাদিকরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ জীবনে বসবাস করে তা সবার সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছে। তবে দুঃখজনক হল, এই হত্যাকান্ড সম্পর্কে ঊর্ধ্বতনদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করেছে। আমরা চাই, দেশে সংগঠিত প্রতিটি হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হোক। এটি একটি দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। এখন আর মুখের কথায় কেউ আস্থা স্থাপন করতে চায় না। সাগর-রুনির হত্যাকান্ড নিয়ে কোনো টালবাহানাও দেশের জনগণ ও সাংবাদিক মহল মেনে নেবে না। তাই সংশ্লিষ্টমহল এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন ও বাস্তবিক পদপে নিয়ে অতিসত্বর মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে বিচারের সম্মুখীন করবে এটাই আমরা বিশ্বাস করতে চাই। আতংকের কথা হল, এখন সাংবাদিকরা খুন হচ্ছেন নিজের ঘরেই। খোদ ঢাকায় ১ বছরের ব্যবধানে নিজে গৃহে সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ দম্পতি ও সাগর-রুনী দম্পতি খুন হয়েছেন। দিনের পর দিন এই হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলছে। গত দেড় যুগে খুন হওয়া ৩৯ সাংবাদিকের মধ্যে বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মতাসীন মহাজোট সরকারের শাসনামলে ৩ বছর ১ মাসে ১৪ সাংবাদিক খুন হয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকাতেই খুন হয়েছেন ১০ সাংবাদিক। এছাড়া সড়ক ও জনপথ খুন করেছে আরও ৫ সাংবাদিক, বিভিন্ন তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, বর্তমান সরকারের শাসনামলের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন ৩৪০ সাংবাদিক, বিশিষ্ট সাংবাদিক নিউ এইজের সম্পাদক নুরুল কবিরসহ ১৬৯ সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। বিগত ‘বিএনপি-জামায়াত’ জোট সরকারের আমলে খুন হয়েছে ১০ সাংবাদিক। চলতি বছরেই খুন হন ২ জন, ১১ ফেব্রুয়ারি খুন হয়েছেন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়ির রিপোর্টার মেহেরুন রুনি । এ আলোচিত হত্যাকান্ডের রহস্য সরকারের সর্বোচ্চ সংস্থা হস্তপে করেও উদঘাটন করতে পারেনি। ২০১১ সালে খুন হন ৫ জন, ২৮ জানুয়ারি রাজধানীতে সাংবাদিক দম্পতি প্রবীণ সাংবাদিক ফরহাদ খান ও তার স্ত্রী রহিমা খানম , ৭ এপ্রিল ‘দৈনিক আজকের প্রত্যাশা’র সাংবাদিক মাহবুব টুটুল এবং একই দিন সাপ্তাহিক ‘বজ্রকণ্ঠ’র সাংবাদিক আলতাফ হোসেন, ৭ ডিসেম্বর ‘দৈনিক ভোরের ডাক’ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ফরিদুল ইসলাম রাঞ্জু। ২০১০ সালে খুন হন ৩ জন, ২৮ এপ্রিল ‘সাপ্তাহিক ২০০০’র সিলেট প্রতিনিধি ফতেহ ওসমানী, ৯ জুন ‘এটিএন বাংলা’র সিনিয়র ক্যামেরাম্যান শফিকুল ইসলাম টুটুল এবং ২৩ ডিসেম্বর মুলাদী উপজেলা প্রেসকাবের সভাপতি মনির হোসেন রাঢ়ী। ২০০৯ সালে খুন হন ৪ জন, ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ‘এনটিভি’র ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম আতিক, জুলাই মাসে পাকি ‘মুক্তমন’র স্টাফ রিপোর্টার নুরুল ইসলাম ওরফে রানা, আগস্ট মাসে গাজীপুরে ‘সাম্প্রতিক সময়’র নির্বাহী সম্পাদক এমএম আহসান হাবিব বারী এবং ডিসেম্বরে রূপগঞ্জ প্রেসকাবের সহ-সভাপতি আবুল হাসান আসিফ। ২০০৫ সালে খুন হন ৩ জন, ১১ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক সংগ্রাম’র সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দিন, ২৯ মে ‘দৈনিক কুমিল্লা মুক্ত কণ্ঠ’র সম্পাদক মুহাম্মদ গোলাম মাহফুজ এবং ১৭ নভেম্বর ‘দৈনিক সমকাল’র ফরিদপুর ব্যুরো প্রতিনিধি গৌতম দাস। ২০০১ সালে খুন হন ৪ জন, ২ মার্চ ‘দি নিউ এজ’র সাংবাদিক আবদুল লতিফ পাপ্পু, ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক সংবাদ’র খুলনা ব্যুরো প্রধান, নিউএজ ও বিবিসির সাংবাদিক এবং খুলনা প্রেসকাবের সাবেক সভাপতি মানিক সাহা, ২৭ জুন খুলনার ‘দৈনিক জন্মভূমি’ পত্রিকার সম্পাদক হুমায়ুন কবির বালু, ২ অক্টোবর বগুড়ার ‘দৈনিক দূর্জয় বাংলা’র নির্বাহী সম্পাদক এবং বিএফইউজের তৎকালীন সহ-সভাপতি দীপঙ্কর চক্রবতী। ২০০২ সালে খুন হন ২ জন, ২ মার্চ খুলনার ‘দৈনিক পূর্বাঞ্চল’র স্টাফ রিপোর্টার হারুনার রশীদ খোকন এবং ৫ জুলাই খুলনা ডুমুরিয়ার সাংবাদিক সরদার শুকুর হোসেন। ২০০১ সালে খুন হন ১ জন, ২১ এপ্রিল খুলনার ‘দৈনিক অনির্বাণ’ পত্রিকার সাংবাদিক এসএম নহর আলী। ২০০০ সালে খুন হন ২ জন, ১৫ জানুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার ‘বীরদর্পণ’র সাংবাদিক মীর ইলিয়াস হোসেন দিলীপ এবং ১৬ জুলাই ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’র যশোর প্রতিনিধি শামছুর রহমান কেবল। ১৯৮ সালে খুন হন ২ জন, ১৬ জুলাই কালীগঞ্জ প্রেসকাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা এবং ৩০ আগস্ট ‘দৈনিক রানা’র সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল। ১৯৯৬ সালে খুন হন ৩ জন, ১২ জুন চুয়াডাঙ্গার ‘দিন বদলের কাগজ’র সাংবাদিক বজলুর রহমান, ১৯ জুন সীতারার ‘দৈনিক পত্রদূত’র সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দিন এবং একই সালে নীলফামারীর ‘নীলসাগর’ পত্রিকার সাংবাদিক কামরুজ্জামান। ১৯৯৫ সালে খুন হন ১ জন, যশোর জেলার ‘দৈনিক রানা’র পত্রিকার সাংবাদিক ফারুক হোসেন। ১৯৯৪ সালে খুন হন ২ জন, যশোর জেলার ‘দৈনিক স্ফুলিঙ্গ’ পত্রিকার সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধূরী ও মানিকছড়ির সাংবাদিক কামাল হোসেন। এছাড়াও ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আরও ৫ খুনের তালিকায় যারা আছেন তাদের মধ্যে, ‘দৈনিক জনবাণী’র রিপোর্টার বেলাল হোসেন, যশোরের ‘দৈনিক রানার’র গোলাম মাজেদ, রাঙ্গামাটির ‘এনটিভির প্রতিনিধি জামাল উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় ‘দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক আহসান আলী, মৌলভীবাজারের ফারুক আহমেদ। এসব সাংবাদিক হত্যা কান্ডের মামলা গুলো বলা যায় প্রায়টিই হিমাগারে আছে। মামলা গুলোর হালহকিকত এমন- গৌতম দাস হত্যা মামলা ২০০৬ সালের ২৮ আগস্ট ঢাকার ঢাকার দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হলেও এখন পর্যন্ত বিচার শেষ করা যায়নি। ১১ বছর আগে মারা যান শামছুর রহমান কেবল। গত পাঁচ বছর ধরে মামলার বিচার কাজ স্থগিত। তার স্বজনরা সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা আশাহত। আর কোনও দিন এ হত্যার সাথে জড়িতদের বিচার হবে কিনা সন্দেহ। ১৩ বছরেও শেষ হয়নি সাইফুল আলম মুকুল হত্যা মামলা। গত আট বছরেও মানিক সাহা হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় মানিক সাহা নিহত হওয়ার পর খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রনজিৎ দাস বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী আতাউর রহমান ও পরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ২০০৪ সালের ২০ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল ট্রাইবুনালের বিচারক মামলার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়ে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠান। মুখ্য মহানগর হাকিম ১৯ এপ্রিল মামলাটির নথিপত্র সদর থানায় পাঠান। ২০০৬ সালের ১২ নভেম্বর মামলাটি খুলনা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় পাঠানো হয়। এ মামলার আসামীরা হলেন, জনযুদ্ধের আঞ্চলিক নেতা সুমন ওরফে নুরুজ্জামান, আকতার হোসেন, আলি আকবর, ডিসকো সাত্তার, ওমর ফরুক প্রমুখ এ যাবত ৩৫ জনের স্যা গ্রহণ করা হয়েছে। যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক ঠিকানার মাধ্যমে ৪০’র দশকে সাংবাদিকতা শুরু করে ২০০০ সালের ১৬ জুলাই যশোরে নিজ অফিসে খুন হন সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল। এরপর তিনি দৈনিক বাংলা ও জনকন্ঠে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন। তার মৃত্যুর পরদিন ১৭ জুলাই তৎকালীন স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম যশোর টাউন হলে এক সমাবেশে বলেন, ‘আমি জানি, কারা সাংবাদিক শামছুর রহমানকে হত্যা করেছে। যারা আত্মসমর্পণকে মেনে নিতে পারেনি। যারা দণি-পশ্চিমাঞ্চলে শান্তি চায়নি। তারাই শামছুর রহমানকে হত্যা করেছে। সাত হাত মাটির নিচ থেকে বের করে তাদের বিচার করবো।’ কিন্তু মন্ত্রী কথা রাখতে পারেননি। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজন সাংবাদিককে আসামী করা হয়। তাদের নামে চার্জশীটও দাখিল করা হয়। দু’জন দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। বর্তমানে তারা জামিনে। ২০০৬ সাল থেকে এ মামলার বিচার কাজ স্থগিত রয়েছে। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক বলে বিবেচিত। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব সহকারে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অনিয়ম, অসঙ্গতি কলমের ডগায় তুলে আনেন তারা। বস্তুনিষ্ঠতা ও সততার সঙ্গে পৌঁছে দেন সাধারণ মানুষের কাছে। বর্তমান বিশ্ব ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নখদর্পণে। তাই মুহূর্তের মধ্যে সংবাদ চলে আসে জনসাধারণের দোরগোড়ায়। আর এসব সংবাদ পৌঁছে দিতে প্রিন্টিং ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা তাদের সর্বোচ্চ মেধা, শ্রম, দায়িত্ব ও আন্তরিক সেবা বিনিয়োগ করেন। এসব তথ্য ও অসঙ্গতি তুলে ধরে যেমন দেশের নাগরিকদের তাদের ন্যায্য অধিকার সম্বন্ধে সচেতন করে তোলেন তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদেরও বাধ্য করেন সঠিক পথ অনুসরণ করে সঠিক কাজটি করতে। এর ফলে অনেক সাংবাদিকই হয়ে ওঠেন অশুভচক্রের চুশূল। সংবাদ সংগ্রহ ও উপস্থাপনকারীর জীবন হয়ে ওঠে বিপন্ন। তবু প্রাণের ঝুঁকি জেনেও কখনো তারা থেমে থাকেন না দায়িত্ব পালনে। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে সত্যের সন্ধানে ছুটে চলেন দেশ-বিদেশের এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত। যুদ্ধ, অগ্নিকা-, যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক, ঝড়-তুফান কিংবা ভয়াবহ বিপদকে মাথায় নিয়ে ঢুকে পড়েন মাদক বা সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায়। বিশ্বকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন অন্তরালের অনেক অজানা তথ্য। ত্নীদৃষ্টিতে উদ্ঘাটন করে নিয়ে আসেন ঘটনার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা গূঢ় রহস্য। কিন্তু এর কোনোটাই একেবারে সহজসাধ্য কোনো কাজ নয়। এসব কাজে যেমন আছে সম্মান তেমনি আছে মারাত্মক ঝুঁকিও। তাই আমরা সারাবিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের নানাভাবে প্রতিপরে জিঘাংসার শিকার হতে দেখি। নির্যাতিত ও নিপীড়িত হতে হয় তাদের। হত্যাকা-ের শিকারও হয়। দেশে সাংবাদিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে অথচ এর বিচার হয় না এটা ভাবা যায় না। অতীতের অভিজ্ঞতায় সর্বশেষ সাংবাদিক দম্পতি ‘সাগর-রুনি’ হত্যার বিচার হবে কি না, তা নিয়ে সাংবাদিক মহলই নয়, দেশ ও বিশ্ববাসীর কাছে সংশয় দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের দেশের সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। জাতির বিবেক সাংবাদিক হত্যা রহস্যই যদি ঢাকা থাকে আঁধারে, তবে আর সাধারণ মানুষ কিভাবে বিচার পাবে? গত দেড় দশকে একজন সাংবাদিক হত্যারও বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের অমার্জনীয় ব্যর্থতা। কোন সরকারই এ ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারে না। আমরা সাংবাদিক হত্যার সব কটি মামলার দ্রুত নিস্পত্তি চাই। [ লেখক : লায়ন মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট, newsstore09@gmail.com ]

মন্তব্য
  • Mir Abdul Alim মে 1, 2012 at 9:56 পূর্বাহ্ন

    পর্নগ্রাফি সাইবার ক্রাইম
    শিরোনাম-১ :
    এ কোন বরবরতা ? ধষর্ণের দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ ! ফরিদপুরে অস্ত্রের মুখে ১৪ বছরের এক স্কুল ছাত্রীকে ধষর্ণ করে তা ভিডিওতে ধারণ করে বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। ঐদিকে চরভদ্রাসনের আলমনগর এলাকায় পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে পুকুর ঘাটে দুইজনে ধর্ষন করে ধষর্ক মোবাইলে ভিডিও করে বাজারে ছেড়েছে।

    শিরোনা- ২ :
    টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় মধ্যযুগীয় কায়দায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সহ কর্মী বাহিনী।তারা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে উল্লাস প্রকাশ করেছে। ধর্ষিতা কিশোরী বাদী হয়ে মামলা করলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। শনিবার সকালে ধর্ষিতের পরিবার বাড়ি ছেড়ে আত্মরক্ষার্থে অন্যত্র পালিয়ে গেছে। বাড়ি ফেরার সময় পথিমধ্যে সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ ইতিহাস ওরফে হাবিব, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আরিফ আহমেদ, সখীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত শিকদারের ভাগ্নে বাবুল আজাদ ও তার নাতি আরিফুল ইসলাম আকাশ জোরপূর্বক অপহরণ করে কিশোরীকে মোটর সাইকেল যোগে সখীপুর হাজিপাড়ায় আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। পরে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুলস্নাহ ইতিহাস ওরফে হাবিব কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার সহযোগীরা ধর্ষণের চিত্র ভিডিও ধারণ করে।

    শিরোনা- ৩ :
    পিরোজপুরে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের সময় ভিডিওচিত্রে সেই অশ্লীল দৃশ্য ধারণ করে ছাত্রলীগ ক্যাডার আহসান কবীর মামুন।
    জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আহসান কবীর মামুন ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের সময় তার বন্ধুদের দিয়ে ভিডিও চিত্রটি ধারণ করেই ক্ষান্ত হয়নি পরে তা সিডি করে বাজারজাত করে।

    শিরোনা- ৪ :
    গত জুলাই মাসে ফরিদপুরের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণীর এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে তার ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে মোবাইল ফোনে, ভিডিও সিডি আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে।

    শিরোনা- ৫ :
    ফরিদপুর জেলার সদরপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের এক কিশোরী বেড়াতে গিয়েছিলেন চরভদ্রাসনে তার নানীবাড়িতে। আর সেখানে তাকে পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে তুষার, কালামসহ চার যুবক। মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় আবার সেই ধর্ষনের ভিডিওচিত্রও তুলে রাখে তারা।

    শিরোনা- ৬ :
    যশোর সদর উপজেলার একটি গ্রামের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দৃশ্য ধারণকৃত শত শত ভিডিও সিডি বাজারে । ওই মেয়ের পরিবার ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, জঙ্গাল বাঁধাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে গ্রামের মনিরার বাড়িতে আটকে রেখে শুকুর নামে এক যুবক ধর্ষণ করে। আর ধর্ষণের এ দৃশ্য রফিকুল নামে আরেক যুবক ভিডিও করে। গত ১৪ এপ্রিল সকালে এ ঘটনা ঘটে। এরপর ভিডিওচিত্র সিডি করে তারা বাজারে ও মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেয়। কাউকে কিছু বললে মেরে ফেলা হবে বলে ওই স্কুলছাত্রীকে অভিযুক্তরা হুমকি দেয়।

    শিরোনা- ৭ :
    যশোরের কেশবপুর উপজেলার বায়শা গ্রামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের চিত্র মোবাইল ফোনের ভিডিওতে ধারণ করে সহযোগীরা।এতে ধর্ষিতার পিতা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে একই গ্রামের মাসুদ ও ইজাজুল স্থানীয় মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে মহিউদ্দিন নামক এক ব্যক্তির পুকুরপাড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ধর্ষণের চিত্র মোবাইল ফোনের ভিডিওতে ধারণ করা হয়। পরে তা সিডি আকারে বাজারে ছাড়া হয়।

    শিরোনা- ৮ :
    প্রেম-ভালোবাসার ফাঁদ পেতে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে তার ভিডিওচিত্র বাজারে ছেড়েছে একদল লম্পট। ঘটনার দেড় মাস পর এ ঘটনা জানাজানি হয় এবং ধর্ষকসহ ৩ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    প্রাইভেট কোচিং পড়ার সুবাদে পরিচয় ঘটে একই উপজেলার ফুলহরি গ্রামের আকাম শিকদারের ছেলে পারভেজ শিকদারের সাথে। চলতি বছরে ১৯ সেপ্টম্বর ঝিনাইদহের কন্যাদহ গ্রামে খালার বাড়িতে বেড়াতে যায় ওই কলেজছাত্রী। এর ৩ দিন পর ২২ সেপ্টম্বর ভ্যানযোগে নিজ বাড়িতে আসার জন্য ভাটই বাজারে এলে সেখানে পারভেজ শিকদারের বন্ধু মধুর সাথে দেখা হয়। মধু তাকে মোটরসাইকেলে বাড়িতে পৌঁছে দেবার কথা জানালে সে মোটরসাইকেলে ওঠে। মধু তাকে পারভেজ শিকদারের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে পারভেজের আর এক বন্ধু রাসেল অপেক্ষা করছিলো। সে সময় ওই কলেজছাত্রীকে তারা উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। সেই ধর্ষণচিত্র মোবাইল সেটে ভিডিও করা হয়।

    শিরোনা- ৯ :
    বরিশাল বিএম কলেজে এক ছাত্রলীগ নেত্রী তার রুমমেটের নগ্ন দৃশ্য মোবাইলে ধারন করে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। সেই ছাত্রী তিন হাজার টাকা দিলেও রক্ষা হয়নি। আরো টাকার দাবি করে বেশ কিছু নগ্ন ছবি ছাত্রদের মোবাইলে দেয়া হয়।

    শিরোনাম-১০ :
    পটুয়াখালীতে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা এক ছাত্রীকে ধর্ষনের পর তার সিডি বাজারে ছেড়েছিলো। এদিকে পিরোজপুরে স্থানীয় ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক এক ছাত্রীকে ধর্ষনের পর সে দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারন করে বাজারে সিডি আকারে ছেড়েছে।

    উপরোক্তরা তিনটি আইনে অপরাধ করেছে। সাইবার আইন ২০০৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ও পেনালকোডের অধীনে। সাইবার ক্রাইম রোধে বাংলাদেশের পুলিশ, RAB বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি করছে? এর জন্যই তো ছাত্রলীগের ছেলেরা ধর্ষন করে ভিডিও বানিয়ে বাজারে ছারে। এটাকে আমলে নেয়ার মত অপরাধই মনে করে না।অথচ বিদ্যমান তথ্যপ্রযুক্তি আইনেই -২০০৬ এর ৫৪ ও ৫৫ ধারায় সাইবার অপরাধের শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয়দণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।
    এদের অপরাধ কোন ভাবেই ইগনোর করার সুযোগ নাই। আজ একে ইগনোর করলে কাল মহল্লায় মহল্লায় ব্লুফ্লিম বানানো হবে এবং তা সিডি আকারে ও ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হবে। উপরে তার খুবই অল্প কয়টা শিরনাম-১ থেকে শিরোনাম-১০ তে সংক্ষেপ দেয়া হলো।

    • Dakua মে 2, 2012 at 11:09 পূর্বাহ্ন

      সামাজিকভাবে এই সাইবার ক্রাইমকে ঘৃণা করতে যুব সমাজ কে এগিয়ে আসতে হবে! পারিবারিকভাবে নারীদেরকে শ্রদ্ধা করা শিখাতে হবে। সমাজ ও পরিবার এখানে একটা বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। তারপর রাষ্ট্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় হলে, আমরা সামাজিক এই ব্যধি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।

  • আ.ন.ম. আফজাল হোসেন এপ্রিল 29, 2012 at 7:50 অপরাহ্ন

    আসুন সাগর-রুনির জন্য কিছু করি।

© বদলে যাও বদলে দাও