Home » অন্যান্য » মহান মে দিবসে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে অভিনন্দন

মহান মে দিবসে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে অভিনন্দন

228 বার পঠিত

শ্রমিকশ্রেণীর আন্তর্জাতিক সংহতি ও সংগ্রামের প্রতীকী দিন হিসেবে আবার এসেছে পয়লা মে, মহান মে দিবস। আজ থেকে ১২৬ বছর আগে ১৮৮৬ সালের ১ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের শ্রমিকেরা কর্মক্ষেত্রে মানবিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে রাষ্ট্রশক্তির নিষ্ঠুর নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। সংগ্রামের সেই স্মৃতি বাংলাদেশের শ্রমিকেরাও বুকে ধারণ করেন, প্রতিবছর উদ্যাপন করেন দিবসটি। শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি আর শ্রমের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এই দিবসে যেন নবায়িত হয়। আর বর্তমানের বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দিনটি পালিত হয়। দুঃখের বিষয়, ১২৬ বছর আগে শিকাগোর শ্রমিকেরা যেসব দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন, আজও সেসব দাবির অনেক কিছু এ দেশে পূরণ হয়নি। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষকে ন্যায্য মজুরি, কার্যক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সদাচরণসহ ন্যূনতম মানবিক পরিবেশের দাবিতে এখনো রাজপথে আন্দোলন করতে হয়। আজও তাঁরা অনেক মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত।
শ্রমিকদের মজুরি, কর্মঘণ্টা, কাজের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি ক্ষেত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক পরিবর্তন এসেছে মে দিবসের পথ ধরেই। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে শ্রমিকদের অধিকার আইন দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে, শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কেও মালিকশ্রেণীর দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এসব ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তন এসেছে এমন কথা বলা যায় না। গত দুই দশকে বিশ্বায়নের ফলে আমাদের দেশেও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি একইভাবে ঘটেনি। বিশেষত তৈরি পোশাকশিল্প ও ইমারত নির্মাণশ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করে একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা যায়নি। শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারও সর্বক্ষেত্রে স্বীকৃতি পায়নি। অনেক ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবে আক্রান্ত হয়ে গঠনমূলক সংঘবদ্ধ চরিত্র হারিয়েছে। কৃষিশ্রমিক, গৃহশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালকসহ বহু খাতের বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের শ্রমিকের স্বীকৃতি মেলেনি। নারী ও শিশুশ্রমিকদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।
দেশের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক অধিকাংশ শিল্প খাতে ন্যূনতম মজুরির বিধান নেই। যেখানে আছে সেখানেও সম্পূর্ণভাবে তার বাস্তবায়ন নেই। যেসব শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত মজুরিকাঠামো ঘোষণা করা হয়নি, সেগুলোতে মজুরিকাঠামো ঘোষণা করা এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
শ্রমিকদের স্বার্থ ও কল্যাণের দিকটি অবহেলা করে জাতীয় অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শ্রমিকদের স্বার্থ ও শিল্প-কারখানা লাভজনকভাবে টিকে থাকা পরস্পরের পরিপূরক। মহান মে দিবসে বদলে যাও বদলে দাও মিছিল-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে অভিনন্দন।

মন্তব্য
  • Al Masud মে 2, 2012 at 12:37 অপরাহ্ন

    শুধুমাত্র সরকারীভাবে ১লা মে শ্রমিক দিবস পালন করা হয় সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে। তাহলে তো সমাজতন্ত্র সাম্যের কথা বলে; গরীব-মজুরদের কথা বলে। কিন্তু আমরা গণতন্ত্রের জন্য এত মাতামাতি করি কেন? আমরা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাই, অন্তত বৈষম্য থেকে যেন রেহাই পেতে পারি।

  • Al Masud মে 2, 2012 at 12:26 অপরাহ্ন

    Mir Abdul Alim কে অসংখ ধন্যবাদ
    আপিন অসাধারণ মন্তব্য করেছেন।

  • Dakua মে 2, 2012 at 11:35 পূর্বাহ্ন

    শ্রম মূল্যের বৈষম্য প্রকট! জেন্ডার ভেদে! সংস্থা ভেদে! ক্ষেত্র ভেদে! অবস্থান ভেদে! মে দিবসের অন্যতম বিষয়টি অবশ্যই শ্রম মূল্যের বৈষম্য দূরীকরণ! কিন্তু এই সমাজ ব্যবস্থায় কত যে বৈষম্য তা বলে শেষ হবে না! আর এই বৈষম্যের কারণেই শ্রমিক নিষ্পেষিত হয়! নারী এবং পুরুষ শ্রমিকের মুজুরী অনেক ক্ষেত্রেই সমান নয়! সংস্থাভেদে বৈষম্যও কম নয়! একই কাজ করে একই দক্ষতা সম্পন্ন একজন যা পাচ্ছে অপরজন তার চারগুণ পাচ্ছে! আমারই চোখের সামনেই এটা ঘটছে! আমরা কী করতে পারি? এখানে আমরা অসহায়!!

  • (ব্লগার সাজ্জাদ হোসাইন ধূসর).সাজ্জাদ হোসাইন মে 1, 2012 at 11:42 পূর্বাহ্ন

    শ্রমজীবী সকল মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই

  • musaddek মে 1, 2012 at 9:49 পূর্বাহ্ন

    ব্লগের পক্ষ থেকে শ্রমজীবী মানুষকে শুভেচ্ছা

  • Mir Abdul Alim মে 1, 2012 at 1:29 পূর্বাহ্ন

    ‘মে দিবস’ এর উদ্দেশ্য কি !
    mehedi71_1241140070_1-revolutionary_hand_by_pielariane-copy.jpgমীর আব্দুল আলীম:
    পহেলা মে। মহান মে দিবস। এটি শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস নামেও পরিচিত। বেশকিছু দেশে মে মাসের প্রথম দিনটিকে লেবার ডে হিসাবে পালন করে। এদিনটি সরকারীভাবে ছুটির দিন। জাতিসংঘও এ দিনটিকে অনুমোদন করে। ১ মে শ্রমিক শ্রেণীর উৎসবের দিন। মাঠে-ঘাটে-কলকারখানায় খেটে খাওয়া মানুষের এক গৌরবময় ইতিহাসের দিন। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে এ দিনই বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন শ্রমিকরা। সৃষ্টি করেছিলেন এক অমর উপাখ্যান। ১২২ বছর আগে শ্রমিকের রক্তে লেখা সেই ইতিহাসের পথ ধরেই নতুন করে আজ উজ্জীবিত হবে শ্রমজীবী মানুষ। ১ মে শ্রমজীবী মানুষের আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশের দিন।১৮৮৬ সালের এই দিনে যক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমজীবী মানুষ গড়ে তুলেছিলেন এক অতুলনীয় আন্দোলন। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেন শ্রমিকরা। শিকাগো শহরের হে মার্কেট রূপ নেয় লাখো শ্রমিকের বিক্ষোভ সমুদ্রে। শহরের ৩ লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ বন্দ রাখেন। ১ লাখ ৮৫ হাজার নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে আরো অসংখ্য বিক্ষুব্ধ শ্রমিক লাল ঝান্ডা হাতে নেমে আসেন পথে। এ সময় নির্বিচারে তাদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। প্রাণ হারান ১০ শ্রমিক। অব্যাহত থাকে ধর্মঘট। ৩ মে ফসল কাটার এক কারখানার সামনে শ্রমিক সভায় পুলিশের নির্বিচার গুলিতে প্রাণ হারান আরো ৬ শ্রমিক। হত্যার প্রতিবাদে ৪ মে হে মার্কেট স্কয়ারে স্মরণাতীতকালের শ্রমিক সমাবেশে আবারো র্ববরোচিত হামলা চালায় পুলিশ ও গুন্ডাবাহিনী। প্রাণ হারান আরো ৪ শ্রমিক। পরে ৬অক্টোবর ফাঁসি দেওয়া হয় মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত চার শ্রমিক নেতাকে। এতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তষ্ট্র সরকার। পরে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে কনভেনশনে ওই ঘটনার স্মারক হিসেবে ১ মে’কে ঘোষণা দেওয়া হয় ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে। এ সিদ্ধানেস্নর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর বিশেষ খবর বিভিন্ন দেশে পালিত হয়ে আসছে ‘মে দিবস’।
    পৃথিবীর প্রতিটি দেশের জাতীয় দিবসগুলো আলাদাভাবে উদযাপিত হলেও একমাত্র মে দিবসটিই পৃথিবীর প্রায় সব দেশে সরকারিভাবে পালন করে থাকে। প্রত্যেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, আমলা, শ্রমিক ফেডারেশন, শিল্পপতি সবাই মে দিবসে শ্রমিকদেরকে উদ্দেশ্য করে সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দিয়ে থাকেন। কিন্তু মে দিবস পার হয়ে গেলে শ্রমিকদের প্রতি তাদের কর্তব্য ও এ দিনে তাদের প্রদেয় আপ্ত বাণী বেমালুম ভুলে যান। এ তথ্য আজ প্রতিষ্ঠিত সত্য। মূলতঃ কথিত সব দিবস পালন তাই শুধুই আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব এবং এ কারণেই তা ইসলামের দৃষ্টিতে অর্থহীন বটে। কারণ দিবস পালনের মাধ্যমে উক্ত দিনে সংবেদনশীল হয়ে বাকি ৩৬৪ দিন গাফিল থাকার কথাই প্রকারান্তরে প্রতিভাত হয়। ঠেলার চাকা ঘোরে, রিকশার চাকা ঘোরে। যে শ্রমিক যানবাহনের চাকা সচল রাখে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে; কিন্তু সেইসব শ্রমজীবী মানুষের জীবনের চাকা জগদ্দল পাথরের মতো স্থির ; যা কিছুতেই সচল হয়না; বোধ করি সহসা হবেও না। আমাদেও শ্রমজীবি মানুষ গুলোর জীবনে কোনো শুক্র-শনি নেই। দিনরাত নেই। আরাম-বিরাম নেই। মে দিবস নেই। কোন মুখে মে দিনের শুভেচ্ছা জানাই তাঁদের?
    যারা জনগণকে নানাভাবে সেবা দেন এবং যারা সভ্যতা নির্মাণের কারিগর তারাই শ্রমিক। যেমন যারা কল-কারখানায়, ক্ষেতে খামারে, ঘর গৃহস্থালীতে, রাজমিস্ত্রিীর অধীনে বা ঘরামীর কাজ করেন, যানবাহন চালান তারাই শ্রমিক। এছাড়াও কুলীর কাজ যারা করেন তারাও শ্রমিক। শ্রমিকরা সর্বাপেক্ষা কঠিন শ্রমের কাজ করে থাকেন অথচ সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক ও সামাজিক বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার তারাই হয়েছেন এবং এখনো হচ্ছেন। পৃথিবী থেকে ভৌগলিক সাম্রাজ্যবাদ উঠে গেলেও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ উঠে যায়নি। বরং আরও পাকাপোক্ত ভাবে জেঁকে বসেছে। অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ বলতে আমরা বুঝাতে চাচ্ছি মানবতার ঘৃণ্য অভিশাপ সমস্ত রকম শোষণ ও বঞ্চনার হাতিয়ার পুঁজিবাদকে। আইএলও শ্রমিকদের কাজ, পারিশ্রমিক ও সুযোগ সুবিধা সম্বলিত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে এবং বাংলাদেশ সেই নীতিমালার ৩১টি ধারা মেনে চলার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছে। যদিও সেই সব নীতিমালার কোনটিই প্রকৃতপক্ষে শতভাগ বাস্তবের মুখ দেখেনি। উদাহরণ স্বরূপ আমরা বলতে পারি আইএলও (ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন) নীতিমালা অনুযায়ী যে কোন দেশে নারী ও শিশু শ্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে নারী ও শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জীবিকার জন্য কঠিন শ্রমে নিয়োজিত থাকছে। তাদের কাজের ধরণ হচ্ছে রাজমিস্ত্রির অধীনে কাজ করা, ইট ও পাথর ভাংগা, শিশুরা কাজ করছে বেসরকারী দোকানপাট ও কল-কারখানাগুলোতে। তাদের পারিশ্রমিক উল্লেখ করার মত কিছু নয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা কোন পারিশ্রমিকই পায়না। শিশুদেরকে বেশী দেখা যায় লেদ মেশিনের কারখানা ও হোটেলগুলিতে। সেখানে তারা এখনও প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা একটানা পরিশ্রম করে পারিশ্রমিক পায় যৎসামান্য তবে প্রায়ই তাদের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদীদের প্রতিনিধি জাতিসংঘ হে মার্কেটের ঘটনাকে মে দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আর আমরা ঘটা করে মে দিবসই পালন করে থাকি। এটা হচ্ছে শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত দিবস। নামটা হওয়া উচিৎ ছিল শ্রমিক দিবস। সেই ১৮৭৬ সাল থেকে ডান বাম নির্বিশেষে সকলেই এটাকে মে দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। যেসব বামপন্থীরা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রাণপাত করে, তারাও সাম্রাজ্যবাদীদের তুলে দেওয়া নাম মে দিবসকে মেনে নিয়েছে। এতদিন আমরা যা করেছি তা কি এখনও করতে হবে? বিষয়টা শ্রমিকদেরকে এবং শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোকে নতুন করে ভাবতে হবে।
    আমাদেও শ্রমিকরা অমানবিক পরিশ্রম করলেও মজুরী মিলত নগণ্য। শ্রমিকরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করত; ক্ষেত্র বিশেষ তা দাসবৃত্তির পর্যায়ে পরত। সেই বৃত্ত থেকেই ১৮৮৬ সালের ১ মে শ্রমিকরা বেরিয়ে আসতে চেয়ে ছিল। তারা ঐ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সে অধিকার প্রতিষ্ঠিতও করতে পেরেছিল। শ্রমিক মজুরদের অধিকার আদায়ের যে আন্দোলন হয়েছিল তাতে শ্রমিকদের উপর কৃত অত্যাচার এবং শ্রমিক দের আতœত্যাগ এর বিনিময়ে প্রতীকি প্রতিবাদ হিসেবে পালিত হয় দিনটি। শুধু বাংলাদেশ নয় বরং গোটা বিশ্ব পালন করে এ দিনটি। কিন্তু কথা এখানেই শেষ হয়ে যায়না। মে দিবস যাদের অম্লান আতœত্যাগ এর ফসল সেই শ্রমিকরা পাচ্ছে কতটুকু ? দিনটি তে সব স্কুল-কলেজ-অফিস-আদালত বন্ধ থাকে বটে কিন্তু যারা এনে দিল এই ফসল তাদের ঘরে কতটুকুইবা সুফল পাচ্ছে! আমাদেও শ্রমজীবি মানুষ গুলো কি এই দিনটিতে একটুও স্বস্তি পাচ্ছে। তারা কি শ্রম ছাড়া থাকতে পারছে ? আজও এ দিনটিতেও শ্রমিকরা কাজ করছে অর্থ উপার্জনের জন্য। জীবিকা তাড়নায় তারা ছুটছে। কারন মে দিবসের এই একটি দিন বসে থাকলে এর মাসুল গুনতে হবে তাকেই। আমরা যারা মে দিবসে ঘরে আরাম করে ছুটি কাটাই কিংবা টিভি তে মে দিবসের নাটক সিনেমা দেখি তারা কি এই শ্রমিকদেও কষ্টের কথা ভাবি এতটুকুও। একজন রিক্সা চালকের প্রাত্যহিক আয় যদি হয় ৩০০ টাকা, তাহলে এই একটি দিন আরাম করে ছুটি কাটানো মানে তার জীবন থেকে ৩০০ টাকার বিসর্জন। তাই ওদেও ঘওে বসে দিনটিতে আরামআয়েশের ফুছরৎ কৈ ? আমরা শুধু ‘মে দিবস’ পালন করি; মিছিল করি; জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেই; শ্রমিকদেও আশ্বাস দেই। এসব বক্তিতা বিবৃতির কতটুকু পতিফলন ঘটে। এসব মনে হয়না ‘মে দিবস’ এর উদ্দেশ্য ছিল ! যাদের জন্য মে দিবস তারাই যদি সুফল ভোগ না করলো তাহলে দিবস পালনে স্বর্থকতা কোথায় ? মে দিবস সার্থক করতে সরকার এবং আমরা সচেতন হতে হবে। তবেই সার্থকতা আসবে মে দিবসে।
    (লেখক-সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও নিউজ বাংলাদেশ ডটকমের সম্পাদক)

© বদলে যাও বদলে দাও