কষ্ট বলবো না বলবো একটি চেতনা, অধিকারের তীব্র আকাঙ্খা এবং দীপ্ত পথচলা । একহাতে একটি বাচ্চা আর অন্য হাতে ইটের ঝাকা । একদিকে জীবিকা আর অন্য দিকে নাড়ির বন্ধন ‘মমতা’ । সহাবস্থানে জীবিকা আর মমতা অনেক দূরে রয়ে যায় এই সব অসহায় এবং চরম কষ্টে অর্জিত জীবিকা অর্জনকারী আমাদেরই কোন মা বা বোনদের । প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি, উসকানিমূলক কথা তারপর আবার মজুরি দেওয়ার সময় কম দেওয়ার প্রবনতা নারীদের শ্রমিক অধিকার থেকে পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি বঞ্চিত করে রেখেছে আমাদেরই গড়ে দেওয়া সামাজিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় । সামাজিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আমার মতে আমুল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন । নইলে নারী এবং পুরুষের ক্ষেত্রে এই মজুরি বৈষম্য আজীবন থেকে যাবে । সময়ের হিসাবে একটি নির্দিষ্ট মজুরি তালিকা করা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়ের উপর নির্ধারিত বলতে বোঝাচ্ছি কাজের ধরনের উপর যদি ঘন্টায় একটি নির্দিষ্ট পরিমান মজুরি ঘোষণা থাকে তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রহসন অনেকটাই দূর হতে পারে । যদিও বলা হয় এখন শ্রমিকদের নির্দিষ্ট সময় কাজ করিয়ে একটা স্বাচ্ছন্দিক বেতন কাঠামো দেওয়া হয় তা আসলে কাগজ কলমেই ! কারন এখনও ১২ ঘন্টা কাজের বিনিময়ে অনেক প্রতিষ্ঠানেই বেতন দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০০০ টাকা । আর একজন মহিলার ক্ষেত্রে ১২ ঘন্টা কাজের পর সাংসারিক কাজের সময় কোথায়? সব দিক বিবেচনায় নারী শ্রমিকদের আট ঘন্টা কাজের একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো প্রদান করার ব্যবস্থা খুব তাড়াতাড়ি করতে হবে ।
রাস্তায় চলতে গেলে অনেক অসহায় মানুষের মুখ আমাদের কিছুক্ষণের জন্য হলেও আমাদের চলার গতিকে মন্থর করে ফেলে । কিন্তু যারা এত কষ্ট করে আমাদের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছে তাদের সঠিক মজুরি এখনও নিশ্চিত করা যায়নি ।এটা নিশ্চিত করতে সরকারের এখনই এগিয়ে আশা প্রয়োজন । ন্যয্য অধিকার আদায়ে এদের কাছে সরকারই নইলে একদিন বড় অসহায় হয়ে পড়বে !






যে নারীরা বাইরে কাজ করছে তারা ঘরেও কাজ করছে । শুধু কাজই নয় পরিবার ব্যবস্থাপনায় নারীর যে ভূমিকা তা অনেক বড় মাপের কাজ যেটা ইচ্ছা করলেই একজন পুরুষ পারে না । তাই নারীর ঘরের কাজের মূল্য অনেক বেশী । যারা বাইরেও কাজ করছে তাদের প্রতি সরকারের আরও অনেক বেশী উদার নীতি গ্রহন করা উচিৎ । কারন নারীরা ভবিষ্যৎ গঠনের কারিগর । ধন্যবাদ আপনাকে গুরুত্বপূর্ন মন্তব্য করার জন্য ।
purus r mohilar kajer jodi bichar kori tahole dakhbo narirai purus der chaye basi kaj korsey.office thakey farer por o akjon nari songsarer sob kaj korse r sontan lalon palon korse. tar koto tuku mullo pai nari.???
sorkar nari niti bastobaion kobe korbe jani na. tobe ai manobadikar er juga ase o ja amra narider manus bole vabte parsena ata lozzar r opomaner .ai juge ase sompotti te narider soman odikaer bipokkhe jara kotha bolse tader nijer der hinomanosikotar e porichoi dissey.ai somaje narider ato somossa ato obohela ar mul karon hosse susto sundor paribarik ain er ovab.juger proyojone ainer poriborton houa uchit.
সরকারের উপর ভরসা করে কি লাভ। গার্মেন্টস-এর মজুরির জন্য শ্রমিকরা এখনও রাস্তায় নামে। শুধু গার্মেন্টস্ নয় আরও অনেক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান আছে যারা ঠিক মতো বেতন ভাতা পরিশোধ করে না; নায্য ছুটি দেয়না; বেতন কাঠামো খুবই কম। অনেক নামকরা প্রতিষ্ঠান আছে তাদের ভিতরেও অনেক সমস্যায় জর্জরিত। নারী শ্রমিকদের মাতৃত্ব্যকালীন ছুটিতো দূরের কথা সাধারণ ছুটিও থাকে অনেক প্রতিষ্ঠানে। এরকম বৈষম্য নিয়ে চলছে আমাদের এই দেশটি যা দেখার কেউ নেই।
একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো প্রকাশ করা সরকারের দায়িত্ব । একজন স্নাতোকোত্তর পাশ করা মানুষের বেতন যদি আট হাজার হয় সে ক্ষত্রে শ্রমিকের বেতন হয় তিন – চার হাজার । চল্লিশ টাকা কেজি চাল হলে তিনজন সদস্য পরিবারে থাকলে মাসিক খরচ কত দাড়ায় ? সব কিছু ভেবে এই শ্রমকিদের অধিকার নিয়ে আমাদেরই কথা বলতে হবে । অধিকার বঞ্চিত মানুষের সাথে থেকে কাজ করাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ।
নারী শ্রমিক দের প্রতি আলাদা নিয়ম, অবকাঠামোগত সুবিধা, মাতৃত্বকাণীন ছুটি প্রযোজ্য থাকলেও তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না । যে কোন মূল্যে এটা করে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হবে । নইলে জাতি পিছিয়ে পড়বে ।
কর্মক্ষেত্রের পরিবেশজনিত বাধাও বড় হয়ে দাঁড়ায় নারীদের জন্য । এ বিষয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কঠোর তদারকি টিম করা উচিৎ বলে মনে করি আমি । ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য ।