Home » সড়ক দুর্ঘটনা কি চলতেই থাকবে? » সড়ক দুর্ঘটনা এক ভয়াবহতার নাম

সড়ক দুর্ঘটনা এক ভয়াবহতার নাম

233 বার পঠিত

মানুষকে জীবনের প্রয়োজনে বাহিরে যেতে হয়,পথে চলতে হয়।কিন্তু এ পথেই প্রতিদিন অসংখ্য জীবন প্রদীপ নিভে যায়। ইট,পাথর,পিচের বুকে কান পাতলে শোনা যাবে অজস্র প্রানের মর্মভেদী অতৃপ্ত কান্না। যখন দুর্ঘটনা হ্রাস করার উপায় থাকতেও রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহন করে না এবং তার ফলে জনগনের প্রাণ ঝরে যায় সেটা সাধারণ মৃত্যু নয়,তা হচ্ছে হত্যা। রাষ্ট্রের উদাসীনতার ফলে অজস্র প্রাণ পথে ঝরে যায়। সর্ব প্রকার সমীকরণ একত্র করলে বিস্ময় নিয়ে ভাবতে হয় তাহলে কি রাষ্ট্র চুপ করে হত্যা করে চলছে সাধারণ মানুষকে। প্রত্যেক সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন দেখলে জানা যায় সরকারের স্বদিচ্ছা পারে শতকরা ৮০ভাগ দুর্ঘটনা কমিয়ে ফেলতে। তারপর ও হচ্ছে না,কেন মানুষের জীবন থেকে ব্যবসাকে বেশী মূল্যায়ন করা হচ্ছে প্রতিটি মানুষের মনে এ প্রশ্নই ঘুরে বেড়ায়। তদন্ত প্রতিবেদনগুলো দেখলে বোঝা যায়,সরকারের উদাসীনতায় কিভাবে মানুষের প্রাণ হারাচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী,২০১১সাল পর্যন্ত দেশে মোট ১৪লাখ ২৩হাজার ৯৮২টি রেজিস্টার্ড গাড়ির বিপরীতে বৈধ লাইসেন্সের সংখ্যা ১০লাখ,এর মধ্যে অবৈধ লাইসেন্সে এর সংখ্যা প্রায় ৪লাখ। অবৈধ চালকদের কারনে দুর্ঘটনা অতিমাত্রায় বেড়ে চলছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এফআইআর রিপোর্ট অনুসারে,১৯৯৪সাল থেকে ২০১০সাল পর্যন্ত দেশে ৭০হাজার ৫০৭টি দুর্ঘটনা ঘটে,যার ফলে হতাহত হয় ১লাখ ৩হাজার ৬০৪জনের মত মানুষ,আর মারা যায় ৫০হাজার ৫৪০জন।তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সংক্রান্ত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনার কারনে ১০হাজার মানুষের মৃত্যু হয়,সরকারি ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা কম হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে যেসব মৃত্যুতে মামলা হয় শুধু সেসব হিসেব করা হয়। জাতিসংঘ এর তথ্যমতে,বাংলাদেশ সবচেয়ে সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ দেশ,এবং প্রবণতা এত বেশি যে রেটিং এর ১ থেকে ১৬ এর ভিতর সর্বদা বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশ পুলিশ এর হিসেবে,রাস্তার নকশা,রক্ষণাবেক্ষণ এবং অদক্ষ চালক শতকরা ৭৫ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ। এক জরিপে দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনার মোট কারণ প্রায় ৪৫টি,এর ভিতর ৩৫ টি চালক চাইলে এই রোধ করতে পারে। যদি আইন চালকদের বাধ্য করে সেসব পদক্ষেপ নিতে তাহলে প্রথমেই ৬০ভাগ দুর্ঘটনা কমে যাবে।

দেশের সমস্ত গবেষণা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে শুধু একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে সরকার চাইলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করতে পারে। প্রতিটি নাগরিকের উচিত সোচ্চার আওয়াজ তোলার যেন এ মৃত্যুমিছিল অচিরেই বন্ধ হয়। আমরা সবাই bodlejaobodledao ব্লগ এ নাগরিক সব সমস্যা নিয়ে সরকারের দৃষ্টিআকর্ষণ কামনা করছি,আমরা আশা করি দেশের সকল নাগরিক আমাদের সাথে এক হয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবে যেন,মানুষ আর পথে হাড়িয়ে না যায়। সরকারের অবশ্যই চলার পথে নিরাপত্তা দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সব পন্থা জানা আছে এখন শুধু প্রয়োজন কাজ করার একটুখানি স্বদিচ্ছা।

মন্তব্য
  • (ব্লগার সাজ্জাদ হোসাইন ধূসর).সাজ্জাদ হোসাইন মে 4, 2012 at 2:11 পূর্বাহ্ন

    এখন দরকার কাজ করার। পন্থা জানা না থাকলেও কাজ এ নামলে সব রাস্তা পরিষ্কার হয়।আমাদের দুর্ভাগ্য সব পরিষ্কার থাকতেও কাজ হয় না

  • Faiba মে 3, 2012 at 6:49 অপরাহ্ন

    সব পন্থা জানা আছে এখন শুধু প্রয়োজন কাজ করার একটুখানি স্বদিচ্ছা।
    একমত

  • Dakua মে 2, 2012 at 5:26 অপরাহ্ন

    রাস্তায় যখন গাড়ী চলোথে তখন তিনটা জিনিষ সক্রিয়ভাবে কাজ করে-১)রাস্তা, ২)গাড়ী, ৩)চালক। রাস্তার সাথে আসে রাস্তার জ্যামিতিক ডিজাইন, রাস্তার সারফেস কন্ডিশান, অন্যান্য গাড়ী চালনা মানে অন্য চালক,অন্যান্য সকল প্রকার ট্রাফিক পথচারী রিক্সা ভ্যান করিমন নছিমন ইত্যাদি। তারপর গাড়ীর কন্ডিশান,চালকের দক্ষতা দায়িত্ববোধ ইত্যাদি। তার মানে সড়ক দুর্ঘটনা বহুমাত্রিক! এটা বিশ্লেষণ করাতে হবে সেই বহুমাত্রিকতা দিয়ে..!! তবেই সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে..!! বিষয়টি এত সহজ নয়..!!

    • (ব্লগার সাজ্জাদ হোসাইন ধূসর).সাজ্জাদ হোসাইন মে 2, 2012 at 10:29 অপরাহ্ন

      ধন্যবাদ ভাই।
      বিষয় সহজ কঠিন পরের কথা আগে তো করার মন মানসিকতা থাকতে হবে।কিভাবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যায়,এ পন্থা জানে না এমন একজন আপনি পাবেন না যে আমাদের রাষ্ট্র পরিচলানয় নিয়োজিত।সবাই জানে কিন্তু হচ্ছে না কারণ কেউ মন থেকে চাইছে না।সময় নিয়ে কাজ করতে হবে,একদিনে হবে না সময় লাগবে কিন্তু সেই সময়টা তো শুরু করা লাগবে।

© বদলে যাও বদলে দাও