Home » অন্যান্য » তিনি বৃদ্ধ হলেন তাই বৃদ্ধাশ্রমে গেলেন

তিনি বৃদ্ধ হলেন তাই বৃদ্ধাশ্রমে গেলেন

208 বার পঠিত

একজন নারী যিনি অতি সাধারণভাবে জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তার দৈনন্দিন জীবনের রুটিন কেবলমাত্র ঘরের চার কোনে আবদ্ধ। তিনি তার সমস্ত অস্তিত্বকে বিলীন করে দিচ্ছেন স্বামী ও সন্তানদের জন্য। আর একজন, যার জীবনধারাতে চার দেয়ালের সাথে পুরো পৃথিবীটাও যুক্ত ছিল।

কিংবা সেই পিতা যিঁনি গ্রামের মেঠোপথটাই ধরে ‘উন্নত জীবনের’ আশা আর বিভোরতায় প্রিয় সন্তানকে সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন হাসি মুখে। আজ তারা জীবনের অনেক বসন্ত পেরিয়ে বৃদ্ধ(!), হৃদয়টা কি ভেঙেচুড়ে যায় না যদি আমি আপনাকে বলি যে তারা এখন বৃদ্ধাশ্রমে প্রতি মূহুর্তে প্রতীক্ষায় বসে থাকেন তাদের সন্তানেরা তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন এই আশায় …!

সে দিন একটা গল্প শুনেছিলাম:
এক বৃদ্ধ পিতা ঘরে একটি চেয়ারে বসেছিলেন। বাইরে একটি কাক দেখছিল। তিনি তার সন্তানকে জিজ্ঞাস করলেন- ”বাবাগো বাইরে কিসের শব্দ করতেছে”?
- ‘কাক’
- কি বাবা ?

পিতার এ প্রশ্ন তার বিরক্তিকর বলে মনে হয় সন্তানের কাছে.. সে চলে যায়। পিতা তখন আপন মনে বলেন ‘ বাবা রে, তুই যখন ছোট আছিলি তখন তুই নতুন কিছু দেখলে ২০-২৫ বার জিগাইতি! আজ তুই আমার সাথে কথা কওনের সময় পাস না?

যে পিতা মাতার জীবন সন্তানের কল্যাণে ব্যয় হয় সেই পিতা মাতা কি বৃদ্ধ বয়সে একটু সময়, সেবা, নির্ভরতার সাথে আমাদের কাছে আশা করতে পারে না? আমাদের এতটুকু নৈতিকতা, মানবিকতা কি আজও তৈরি হয়নি?

কোন মা বা বাবা যখন সন্তানের জন্য বৃদ্ধাশ্রমে চোখের জল ফেলে, আর আপনি বা আমি যদি তার পাশে বসে তার জীবনের গল্প শুনি, তবে একজন মানুষ হিসেবে, একজন সন্তান হিসেবে মাথাটা নিঁচু হয়ে যায়। যে সন্তান এমনটা করল, তার কি নিজের বৃদ্ধকালের কথা একবারও মনে হয় না?

 
কেন আমাদের দেশে বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলা হলো? এটা তো আমাদের দেশের সংস্কৃতি নয়। কেন আমাদের মা-বাবাদের মতই কোন মা বাবা’কে সন্তানের নির্মমতার জন্য বৃদ্ধাশ্রমে চোখের জল ফেলতে হয়? যে সকল নিষ্ঠুর বিবেকহীন সন্তান একাকী পিতামাতাদের রেখে যায় তাদের কি এতটুকু অনুশোচনা জাগে না?
আমরা আমাদের সুন্দর সমাজ জীবনকে কেন ধ্বংস করে দিচ্ছি? কেন এসব হচ্ছে?

নচিকেতার বৃদ্ধাশ্রম গানটি যেন প্রতিফলিত হয় প্রতিটি বৃদ্ধাশ্রমের আকাশে বাতাশে..

মন্তব্য
  • বদলে যাও বদলে দাও মে 2, 2012 at 10:09 অপরাহ্ন

    summiya tabassum আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ। খুব মানবিক একটি সমস্যা আমাদের তথাকথিত আধুনিক সমাজ,এর চর্চাকারিরা জোর করে তৈরি করছি। বৃদ্ধ বয়সে যাদের একেবারে দেখাশোনার কেউ থাকে না, যাদের সন্তানাদি থাকে না তাদের প্রতি রাষ্ট্রের এটি নৈতিক দায়িত্ব। হয়ত এ কারনেই বৃদ্ধনিবাসের জন্ম হওয়ার একটি কারণ। আমরা বাঙালি। আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য যৌথ পরিবার। এর মধ্যে অনেকে নানা সমস্যা খুজেঁ বেড়ান। আধুনিকমনারা বলেন প্রাইভেসি নষ্ট হয়ে যায়, দেবর ননদদের সাথে বণিবনা হয়না ইত্যাদি ইত্যাদি..। এই যে নিজের মত করে একটি স্বতন্ত্র পৃথক সংসার গড়ে তোলার নাগরিক সভ্যতার ভ্রান্তিবিলাস মূলত এটাই এগিয়ে দিয়েছে এই বৃদ্ধ পিতা মাতা’কে সংসারের দূরে রাখতে।

    বৃদ্ধরা যে কোন বাড়ির শোভা, প্রধান আকর্ষণ, শ্রেষ্ঠ সম্পদ। গ্রামের মানুষ বেশি লেখাপড়া করে না বলে তারা এই চিন্তাটি মাথায় আনতে পারে না। তারা যে কোন দুঃখ কষ্ট ভাগাভাগি করে নিতে যানে। তারা বৃদ্ধের সেবা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করে, পরম কর্তব্য বলে মনে করে। তারা সব সময় নজর রাখে গ্রামের সবচেয়ে বয়বৃদ্ধ মানুষটি কে? তিনি শুধু একটি বাড়ির মুরুব্বি থাকেন না, গোটা গ্রামের মুরুব্বি হয়ে যান। তাঁর বা তাঁদের কাছে সবাই ছুটে যায় শুধু চায় একটু দোয়া। পৃথিবীতে পরিবারই হলো শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। পরিবার-এ একত্রে বসবাস করেই মধুরতম ভলোবাসা গড়ে ওঠে। আমাদের বাঙালিদের প্রাশ্চাত্যের সভ্যতা বেমানান। আমরা যেন সবাই একসাথে সুখে দুঃখে থাকতে পারি সেই চেষ্টাই করতে হবে।
    আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।
    সবাক থাকুন দেশ নিয়ে। বদলে যাও বদেলে দাও মিছিলে নিয়মিত লিখুন।

    • summiya tabassum মে 3, 2012 at 1:32 অপরাহ্ন

      apnake dhonnobad. amra amon ak juge bosobash korchi jekhane sikkhito jonogosthi matroi paschattopremik. ar gramer osikkhito jonogosthi matroi geo, chasha-vushar dol. kinu sikkhito poribar gulor ai hridoy hinotar chittro asolei sobaike vabay je ata kon dhoroner sikkha, ja manush ke sekhate parena tar noitikota, manobikota o mullobodh. sei tulonai ak jon geo chashir tr briddho pitamata o poribarke nia kono ak sonday golpo korar o pran khule hashar shikka ki beshi mulloban noi? poribar ke jodi akti dalaner sathe tulona kori tahole gurujon rai tar vitti. sei vittitake kapia dile dalantir chad o dhoshe pore. tai aj sokol ke amader somaj jibon theke atotuku moulik manobikota geno chole na jai se dikke lokkho rakhate hobe. abar o sobaike dhonnobad janai

  • মিজান আব্দুর রশিদ মে 2, 2012 at 7:27 অপরাহ্ন

    আপনার লেখাটা পড়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। এইসব কুলাঙ্গার সন্তানদের জন্য ঘৃণা ছাড়া আর কিইবা করার আছে। আফসোস হয় তাদের জন্য,যে কিনা নিজ হাতে ঠেলে জান্নাতকে বাইরে ফেলে দেই। আমার বাবা-মা-ইতো আমার জান্নাত।

© বদলে যাও বদলে দাও