Home » ইভটিজিংমুক্ত বাংলাদেশ চাই » ইভটিজিং প্রতিরোধ

ইভটিজিং প্রতিরোধ

201 বার পঠিত

সুলতানা কামালের একটি কথা না বললেই নয়। ”বখাটেদের পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে ইভটিজিং সমস্যাটি এত চরম আকার ধারণ করত না।” ইভটিজিং সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রথমে জানতে হবে কোন বয়সের এবং কারা এই অপরাধগুলো করে ? শধুমাত্র বেকার, অছাত্র বা মাস্তান টাইপের ছেলেরায় কি এ কাজ গুলো করে? অনেক শিক্ষিত, স্বচ্ছল পরিবারের ছেলেরাও এ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, মেয়েরা যুক্ত, কিছু বয়স্ক লোকেরাও এই ধরনের কাজ করে। যে বিষয়গুলো লক্ষ করা দরকারঃ পারিবারিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থা, বাবা-মার দায়িত্ব, অর্থনৈতিক অবস্থা, চারপাশের পরিবেশ, এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের সন্তানদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারিনা অথবা ব্যর্থ হই। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার অন্যতম একটা কারণ হতে পারে। সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতিও অন্যতম একটা কারণ যা বন্ধ করতে না পারলে এই অপরাধের মূল ধ্বংস করা যাবেনা। প্রতিটি ঘরে ডিশ, স্কুলের ছেলেমেয়েদের বা ১৮ বছরের নিচে মোবাইল ব্যবহার, সাথে ইন্টারনেট জ্জকিভাবে রোধ করা যাবে ? আড্ডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়েরা অশ্লিল বিষয় নিয়ে গল্প বা ঠাট্টা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। পিতামাতার অগোচরে তার অতি আদরের সন্তানটি কম্পিউটার , ইন্টারনেট বা মোবাইলের অপব্যবহার করছে না তো ? বয়ঃসন্ধি কালের বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে। এই সময়েও বিপত্তি ঘটতে পারে। সাইবার ক্রাইম বিষয়টিকে মাথায় আনতে হবে।আজকাল এস.এম.এস, এম.এম.এস. তথা মোবাইলের মাধ্যমে উত্ত্যাক্ততা, রাস্তায় দাঁড়িয়ে দূর থেকে মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তোলার মাধ্যমেও অপরাধ ছড়াচ্ছে। সবকিছু এত উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছে যে সেকেন্ডের মধ্যেই অশ্লিল ছবি পৌঁছে যাচ্ছে স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে অথবা তরুণ-তরুনীদের হাতে। ছেলে বা মেয়ে উভয়ই মোবাইলের ব্লুটুথের মাধম্যে অশ্লিল ছবি, ভিডিও ক্লিপ বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে। এ ধরনের কাজ করতে করতে ধৈর্য্যরে বাধ যখন ভেঙে যায় তখন ইভটিজিং চরম আকার ধারণ করে। অশ্লিল ছবির ভিডিও ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। একটি ক্লাস এইটে পড়া ছেলে তার ক্লাসের বইয়ের ফাঁকে অশ্লিল বই পড়ে, বন্ধুদের সাথে পর্ণো মুভি শেয়ার করে। কেন ? একটি ছেলে সরাসরি অথবা মোবাইলে একটি মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়, তারপর রাজি হওয়ার জন্য চাপ দেয়। প্রস্তাবে রাজি হলে ভালো, তা না হলে উক্ত্যক্ত করা চালিয়ে যায়। দেখা গেছে এ ধরনের কাজে কিছু মেয়ে ঐসব বখাটেদের সহযোগিতা করে। যেমন বাসার টেলিফোন, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা, প্র¯তাবে রাজি হওয়ার জন্য চাপ দেয়া ইত্যাদি। অথচ একটি স্কুল পড়–য়া কোমলমতি মেয়ে বাসায় গিয়ে বাবা-মা অথবা কাউকে বলতে পারেনা যে, সে কি সমস্যার মধ্যে আছে। এভাবে বখাটে, খারাপ ছেলেদের হাতে পড়ে অনেক অল্প বয়সেই একটি মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। বেশিরভাগ মেয়ে ভয়ে কিছু বলতে পারেনা। গার্লসস্কুল, কোচিং সেন্টার, সুনামধন্য সব শিক্ষকদের বাসার সামনে, আশেপাশে সমস্যা তৈরী হয় বেশি। অপরাধ নিম্নমধ্যবিত্ত, ছিন্নমূল, বস্তিতে বেড়ে উঠা শিশুদের, তরুনদের মধ্যেও ঘটে । এ ধরনের সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করার পূর্বেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা যতই বলিনা কেন, ধর্মীয় অনুশাসনেরও যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। আইনের পাশপাশি সামাজিক আন্দোলন আমাদের এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। শুধু প্রয়োজন এ আন্দোলনে প্রত্যেকের নিরপেক্ষ অংশগ্রহণ এবং সদিচ্ছা। ইভটিজিং এর সাথে জড়িয়ে আছে আরও অন্যান্য অপরাধ।

মন্তব্য
  • Faiba মে 3, 2012 at 6:48 অপরাহ্ন

    সত্যি বখাটেগুলোর পিছনে রাজনৈতিক আনাগোনা বেশী বাড়িয়ে দিয়েছে এ ঘটনা

  • বদলে যাও বদলে দাও মে 2, 2012 at 9:35 অপরাহ্ন

    Moniruzzaman Dipu আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ। ইভটিজিং নিয়ে আমাদের গোটা সমাজব্যবস্থাই এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। আমরা এই অশুভ সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারছিনা। নিরবে সরবে এটি প্রতিদিন ঘটে যাচ্ছে। যখন একটি দুর্ঘটনা ঘটে তখন সবাই আলোচনা করি কিন্তু, এর স্থায়ী সমাধানের দিকে কোন কাজ করতে পারছিনা। আমাদের প্রচলিত আইন এই সমস্যার মূলউৎপাটন করতে পারে ঠিকই, আসলে এর বাস্তব প্রয়োগ হচ্ছে না। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাও এর জন্য একটি বড় অন্তরায়। নারীর প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে আমাদের কত ভয়, কতইনা আশঙ্কা! এই সামাজিক চিন্তাধারা পরিবর্তনে নারীদের মেধা ও যোগ্যতায় রাষ্ট্রীয় সকল কর্মক্ষেত্রে বাধাহীন করে তুলতে হবে। ঘরে বাইরে তাদেরকে যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। শুধু মুখে বলে কোন সুফল আসবে না সেটা প্রমান হয়ে গেছে। ইভটিজিং নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট লিখার জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।

    দেশ নিয়ে সবাক থাকুন। বদলে যাও বদলে দাও মিছিল ব্লগে নিয়মিত লিখুন। আমরা নিশ্চয়ই পরিবর্তন আনতে পারব…।

© বদলে যাও বদলে দাও