“চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনী” প্রবাদটা বিগত মাসগুলোতে বহুবার শুনেছি। টক শো, পত্রিকা, ব্লগ মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ মতামতের মাধ্যমে ইতিমধ্যে উনাদের (!) কতইনা বোঝানো হল। কই(?) তিনারা আপনাদের কোন কথা শুনেছেন বলে মনে তো হয় না।
রাস্তায় একজন চোর ধরা পরলে তাঁকে মারতে মারতে মেরেই ফেলি। অথবা সংসারে কেউ আমাদের অবাধ্য হলে তাঁর চরম শাস্তি না মিললেও কটাক্ষ আর শক্ত হাতে একখানা চপেটাঘাত নির্ঘাত মিলে যায়। চাকরিতে কেউ আমাদের মতের বাহিরে গেলে তাঁর বারোটা বাজিয়ে দেই। রাস্তায় কেউ উল্টা পাল্টা কথা বললে তাঁকে দু ঘা মারতে না পারলেও রক্তচক্ষুতে নিজের ক্ষমতা বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু যারা দেশটাকে বারোটা ছাড়িয়ে চৌদ্দটা বাজিয়ে দিয়েছে। তাঁদের পিছনে নাচানাচি করতে আমাদের কতই না মজা। তা নাহলে, সরকার ও বিরোধীরা জনগণের রক্ত যেভাবে চুষে নিচ্ছে, তা দেখে আমাদের চুপচাপ বসে থাকার কথা নয়।
প্রশ্ন হলো, আমাদের কী বা করার আছে? দুই বেলা দু মুঠো খাবার জোগাড় করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা, তারপর শরীরে আর কী বা অবশিষ্ট থাকে(?) এ প্রসঙ্গত উত্তরের চেয়ে, প্রশ্নের সংখ্যাই বেশি। তাছাড়া কেউ আমাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ধার ধারেন বলে তো মনে হয় না। তাই নিজের প্রশ্নের উত্তর প্রাপ্তির আশা বিসর্জন দিয়ে কোন রকমে উট পাখির মত জীবন যাপন করাকেই সংগত বলে মেনে নিয়েছি।
অত্যাচার এখন আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। দুইশত বিশ বছরের ওলন্দাজ, পর্তুগিজ, ইংরেজদের অত্যাচার, তারপর পাকিস্তানীদের আর এখন সরকার, বিরোধীদের অত্যাচারে আমরা অভ্যস্ত। যেখানে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে একটু মাথা গুঁজার ঠিকানা আর দুমুঠো খাবার জোগাড় করতে পারি না। সেখানে রাজনৈতিক অত্যাচারের মোকাবেলা করার আমাদের কীইবা ক্ষমতা আছে? যে কষ্টে আছি সে কষ্ট বহন করার শক্তিই যেন অবশিষ্ট নেই। দয়া করে আর কোন কষ্টের ভার বহনের কথা বলবেন না। তাহলে আত্মবিসর্জন দেয়া ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকবে না।
সাঈদ মোহাম্মদ ভাই






mr sayeed, don’t be an oastrich. if you want to survive, survive as a man with all your wrights. so to defend yourself find the third power to tackle the corupted two political parties. for the timebeing, i think we can gather under any other party, like jatio party ( ershad ). we can enhance their political straingth to protect these two ladies. at least the government will not be one party government. let’s think. BELIVE ME I AM NOT A PARTY WORKER OF JATIO PARTY. OR A SUPPORTER. BUT AS I HAVE SEEN ERSHAD WAS MUCH MORE BETER THAN THESE TWO LADIES. GO BACK TO ERSHAD PERIOD, AND COMPARE WITH PRESENT.
এক রাজনীতি ও রাষ্ট্র নিয়ে যেভাবে প্রতিনিয়ত পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। রেডিও টিভির talk showতে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে আপনার কি মনে হয় না কথাগুলো যারা শুনার কথা তাঁরা শুনছেন। তাহলে নৈতিকতার কি পরিবর্তন হচ্ছে? দেশের ১৬ কোটি মানুষকে পরিবর্তন হতে না বলে তিনশত পঞ্চাশ জন পরিবর্তন সহজ নয় কি?
দুই আমরা যারা শিক্ষিত সমাজ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত। তাঁরা সমাজ পরিবর্তনে কি ভূমিকা রাখছি।
তিন খেঁটে খাওয়া মানুষগুলো তো কারো মুখাপেক্ষী ছিল না। আজ কেন তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বলয়ে বিভিন্ন দলে বিভক্ত? রাজনীতি জাতিকে আজ যেভাবে শ্রেণীবিন্যাসে বিভক্ত করে রেখেছে। তাতে এই অপ-রাজনীতির পরিধান থেকে মুক্তি চাওয়া যুক্তিযুক্ত নয় কি?
একজন দিনমজুর অথবা একজন কৃষকের কথা শুনেছেন কখনো? কিভাবে তাঁদের দিন যায়, কিভাবে তাঁদের সংসার চলে? শীতাতপ কক্ষে ছায়াছবির অভিজ্ঞতায় জীবন বিলাসে মুক্ত কথা বলা কতই না সহজ। আমি কল্পনা করে কোন লেখা লেখি না। তাই দেশ দরদীদের নৈতিকতায় প্রশ্ন তুলতে পারি। নিরাশা নয়, শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে বৈকি।
সাঈদ মোহাম্মদ ভাই বিনীত ধন্যবাদ আপনাকে। আপনি একজন সাচ্চা দেশপ্রেমী মানুষ। আপনার হতাশ হওয়া চলবে না। আপনার লেখাগুলো নতুন প্রজন্মকে আলোর পথ দেখায়। আমরা প্রকৃতির কাছ থেকেও শিক্ষা পাই যে, কোন সাইক্লোন হবার আগে সমস্ত প্রকৃতি গুমোট হয়ে যায়। বহমান বাতাস গরম হয়ে ওঠে। অন্যরকম এক আলো অন্ধকারের ছায়া ফেলে। এর পরেই আসে সেই ভয়াল সাইক্লোন। আমরা পনের কোটি মানুষ এখন একটি গুমোট আবহওয়ার মধ্যে আছি। এবার যে সাইক্লোনটি আসছে তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসবে। সুমন চট্টপধ্যায়ের সেই গানটি নিশ্চয়ই শুনেছেন ”হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোড়ে…..” নিজের প্রতি নিজের ভরসা রাখুন, সেটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
আমি হতাশ নই, কিছুটা শঙ্কিত তবে আশাবাদী। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত সত্যের আশা জাগিয়ে চলেছি। এখানে শুধু আমাদের সমাজের খেঁটে খাওয়া মানুষের বাস্তব চিত্রটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তাঁদের মনের কথাগুলো দিয়ে মানুষের বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করেছি। আমরা একটি ঘূর্ণিঝড়ের মাঝেই আছি আর অচিরেই শান্তির একটি সকাল আসবে তা বিশ্বাস করি।
ঘুণে ধরা এই সমাজে আপনার মূল্যবান মন্তব্য প্রাণ সঞ্চালনের শক্তি যোগাক। আপনার প্রতিও শুভ কামনা রইল।