Home » অন্যান্য » জেগে ওঠো বাংলাদেশ…..( দুই)

জেগে ওঠো বাংলাদেশ…..( দুই)

220 বার পঠিত

আমি নিজের ঠিকানা খুঁজতে দৈনিক যায় যায় দিন অফিসে এসেছিলাম। তেঁজগা অফিস থেকে বেড়িয়ে রিক্সায় দশ টাকায় সাত রাস্তা। সেখান থেকে বাসে যাবো গোলাপবাগ। বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি হঠাৎ একটি স্টাফ বাস, ওই যাত্রাবাড়ি চিটাগাং রোড বলে হেলপার ডাকছে…। আমি উঠে বসলাম। পাশে এসে বয়স্ক এক লোক বসলেন। বাস চলছে। আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে দুচোখে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ঢাকা শহর দেখছি ।

হঠাৎ পাশের লোকটি আমার দিকে মোবাইল সেট বাড়িয়ে বললো, ভাই আমার মোবাইলে দুইটা সিম! আপনি আমারে রবি’টা চালু কইরা দেন। আমি আড়চোখে তাকিয়ে দেখি, আহারে কেমন মফিজ মফিজ চেহাড়া! বুঝে না যখন, দেই ঠিক করে। কিন্তু আমি ঘুনাক্ষরে জানতে পারিনি কিছুক্ষনের এই ধোঁকাবাজ সমাজের লোকগুলো উল্টো আমাকেই মফিজ বানিয়ে দেবে। কিভাবে ? দেখুন………

আমি হাত বাড়িয়ে তার মোবাইল সেটটি নিলাম। দেখতে সুন্দরী ? কিন্তু গাধি ! এই জাতীয় নারীদের মত চাইনিজ সেট! কম দাম। সেটিং অপশনে যেয়ে ডুয়েল সিম-1, ডুয়েল সিম-2, ডুয়েল সিম অপশনগুলি দেখছি ,বড় জটিল ? সময় লাগছে। হঠাৎ পাশের লোকটি দাঁড়িয়ে যেয়ে,প্যান্টের পকেট চেক করছে আর বলছে, আমার মোবাইল ? আমার মোবাইল ? হঠাৎ কিছুবলার সুযোগ না দিয়ে, আমার হাত থেকে ছোঁ মেরে মোবাইল সেট নিয়ে বলছে, এই যে আমার মোবাইল ! আপনার হাতে গেল কেমনে ? বলে চিৎকার জুড়ে দিয়েছে। আমি তো হতভম্ব ? বলে কি ? পিছন থেকে দুজন এগিয়ে এলো, কি হইছে ভাই ? বলে ধমকের সুরে চার্জ করছে।

ড্রাইভার বাসটি এফডিসি আসার আগেই রাস্তার পাশে সাইড করে থামিয়ে সিট থেকে নেমে এলো। ওই দেখি কি ? বলে হৈ চৈ বাঁধিয়ে দিলেন। এক ভয়াবহ অবস্থা। সিদ্ধান্ত নিলো, আমাকে নামিয়ে রেখে বাস চলে যাবে। হঠাৎ আমার সামনের সিটের তেইশ/চব্বিশ বছরের তরুণ ছেলেটি ভরাট কন্ঠে চিৎকার দিয়ে ওঠলো, চুপ! একদম চুপ!

আমি সব দেখেছি। সাতরাস্তা মোড়ে এই আংকেল নিজের কাঁধের কালো ব্যাগ থেকে,মানিব্যাগ বের করতে যাইয়া, মোবাইল, রেকর্ডার, ডিজিটাল ক্যামেরা বাইর করছিল। তখন থেইকা এই শালা পিছে লাগছে। আর আংকেলরে যখন ডুয়েল সিম ঠিক করতে কয় তখন, কথাডা কানে যাওয়ায় আমি পিছন ফিরা তাকায়ছিলাম। আংকেলও দেখে নাই! এই শালাও দেখে নাই বলে, ব্যাটারে দিল কষে এক থাপ্পর……….

পরিস্থিতি গেল পাল্টে। লোকটি ছিল পল্টিবাজ। পল্টি দিয়ে মফিজ বানাতে চেয়েছিল আমাকে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের সেই যোদ্ধা করলো প্রতিবাদ। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নিলো বলিষ্ঠ অবস্থান। বাস থেকে নামার আগে আমার সেই স্বপ্ন যোদ্ধা, আমার কানে কানে মুচকি হেসে বলে, সব জায়গায় সব কিছু দেখা ঠিক না ? তা ছাড়া সব কিছুর নির্দিষ্ট জায়গা আছে ? যার যে জায়গা, তাকে সেখানেই মানায়। মানিব্যাগ থাকবো পিছনের পকেটে,মোবাইল থাকবো সামনে, সব ব্যাগে রাইখেন না। দিনকাল ভাল না। সামলাইয়া চইলেন….

এমনি করে হবে ? আমাদের সবার স্বপ্নের পূরন। সমাজের প্রতিটি রোমকূপে অন্যায় পাপ দূর্নীতি মিথ্যা লোভ জগদ্দলের মত চেপে বসেছে। তা থেকে মুক্তি পেতে হলে, যেখানে সত্য থাকবে ? ন্যায় থাকবে ? দেশপ্রেম থাকবে ? ভোটের প্রতিশ্রুতি কিংবা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থ জড়িত থাকবে ? মুক্তিযুদ্ধ থাকবে ? সর্বোপরি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য গণতন্ত্র থাকবে ? সেখানেই থাকবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে বলিষ্ঠ অবস্থান আর এগুলোর জন্য সবার হৃদয়ে জ্বলবে আগুন হয়ে প্রতিবাদ। আর মুখে সবার থাকবে দৃপ্ত উচ্চারণ জেগে ওঠো বাংলাদশ……….

�SZ9�

মন্তব্য
  • zanasir মে 7, 2012 at 11:55 অপরাহ্ন

    mr showkat, you are luky. in all of ostrich, there was the young brave man. who saved you from the tough situation. let us get together to ‘ thakbo naier shonge ‘

  • সাঈদ মোহাম্মদ ভাই মে 6, 2012 at 6:20 অপরাহ্ন

    ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজে নানাবিধ জঞ্জালের সৃষ্টি হয়। এইটা সেই রকমের একটি জঞ্জাল। আর যতদিন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হচ্ছে, এই রকম জঞ্জাল দিন দিন বাড়বেই। ওদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। বড় চোর বাটপাড়দের বিচার হচ্ছে না বলে ছোট খাট বাটপাড়দের উৎপাত দেখতে পাচ্ছেন। বড্ড দেরি হয়ে যাচ্ছে। থামাতে না পারলে এই সমাজটার খুব সহজেই নিস্তার নেই।

    আমার চোখ কপালে উঠে গেছে। বলেন কি!! সাবধানে চলাফেরা করবেন। শুভেচ্ছা রইল।

© বদলে যাও বদলে দাও