Home » অন্যান্য » সামাজিক আন্দোলনে চাই দৃঢ় মনবল

সামাজিক আন্দোলনে চাই দৃঢ় মনবল

191 বার পঠিত

সমাজের নানা সামাজিক অপরাধ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক ছোট অপরাধ ক্রমস বড় অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমাদের। দেশে যা ছড়িয়ে পড়ছে অনায়াশে এবং প্রতিরোধব্যবস্থা ক্রমশ দূর্বল হয়ে পড়ছে। সমাজের প্রধান উপাদান যখন বিপর্যস্ত তখন অবশ্যই দূর্যগ আসন্ন। তাই আমরা প্রতিনিয়ত হারাচ্ছি আমাদের মানবতার মাত্রা। হারিয়ে ফেলছি নিজ অস্তিত্ব। আমরা প্রায়সই অগ্রসর হচ্ছি প্রলয়ংকারী কোন বিপদের মূখে। কিন্তু এ থেকে মুক্তির উপায় কি? আমরাই বা কি সামাজিক অপরাধ করি? কি বা ক্ষতি করে আমাদের?

বাস্তবতাকে আমরা বড়ই নির্মম ও কঠিন বলে অভিহিত করে থাকি। বাস্তবতা আসলে সত্য এবং এটাই আমাদের সমাজের চিত্র। যার ফলে দশের বোঝা পড়ে একার কাধে। পরিশ্রমের বদলে পেতে হয় তিরস্কার আর উন্নয়নের পথে দেখতে হয় করুন চিত্র। আমরা প্রায়সই পথে-ঘাটে দেখতে পাই দেয়ালে লিখা-”সুযোগ চাই মানুষ হবো”। আসলে সুযোগটা পাব কথায়? পরিবেশ তৈরি করে নিতে হয় এটা কোন গুরুজন শিখিয়েছিলেন আমাকে। যখন দেখি শত চেষ্টায় বিফল তখন রাগ হয়! ভাবি কেন? এর মূলে আমাদের সামাজিক চেতনা। এর মূলে আমাদের অসচেতনতা। আমাদের জানতে হবে আমাদের ত্রুটিগুলো; লড়তে হবে সামাজিক আন্দোলনের দৃঢ় মনবল নিয়ে। বাল্যবিবাহ,দূর্নীতি, ইভটিজিং, সড়ক দূর্ঘটনা, নৌদূর্ঘটনার,আইন-বিচার, গণমাধ্যমের অপব্যবহার এখন আমাদের দৈনিক যাত্রার করুনচিত্র। কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রের এ রূপ পরিবর্তনে আলোচনা-সমালোচনায় আমরাই পঞ্চমূখ হই আগে। আমরা সমালোচনা করতে পারি কিন্তু পরিবর্তন করতে শিখিনী। পথে ইভটিজিং হলে তা নিশ্চুপ করে দেখতে হয় পারলে নিজেরাই এটাকে অভ্যাস করে নিয়েছি।

বাল্যবিবাহ এটা আমাদের বহুপুরাতন একটি সামাজিক রোগ যার প্রতিষেধক এখনও আমরা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারিনি। শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত, নিরক্ষর সব স্তরে এটি এখনও গ্রহণ যোগ্য সামাজিক চিত্র। দু’একটি সামাজিক সচেতনতা আর বাল্যবিবাহ রোধ গণমাধ্যমে ফুটে উঠে গুরুত্বের সাথে কিন্তু সমস্যা যেখানে সেটা আজও সমস্যাই রয়েগে‍ছে আর সেটা হল প্রতিকার। সড়ক দূর্ঘটনা এখন আমাদের দৈনিক সংবাদ। এই সংবাদ ছাড়া কোন গনমাধ্যম কোনদিন সংবাদ প্রচার করেনা বললেই চলে। মানে প্রতিদিন ঘটে সড়ক দূর্ঘটনা। এর কারন ঐ একটাই সচেতনতা আর অচেতনতা। অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানো আর চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলাকে অনেকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। এর দৃষ্টান্ত হয়ে আছে ২০১১ স‍ালে চট্রগ্রামের মিরসরাইয়ে ৪৪ জন ক্ষুধে শিক্ষার্থীর অকালে ঝরে যাওয়া। মোবাইলে কথা বলার কারণে চালক হারায় গাড়ির নিয়ন্ত্রন। সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে মিশুক মুনীর আর তারেক মাসুদের মত দেশের কৃতি মেধাবিকে।

অপরদিকে দেশের প্রধান সমস্যার একটিতে পৌঁছেছে সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর বিকৃত অনুষ্ঠানমালা আর ভাষার বিকৃতি। অথচ আমরা বুক ফুলিয়ে বলি একমাত্র আমরাই ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি। অথচ সে ভাষার অনুষ্ঠানমালা খিচুড়ির মত পুষ্টিকর ভাষায় প্রচারিত হচ্ছে অনুষ্ঠানমালা। এর ফলস্বরুপ আমরা হারাচ্ছি আমাদের সংস্কৃতি আচার আর চিরায়ত আমাদের বাঙ্গালীর অভ্যাস। বাংলার রূপসী নদী আজও আছে কিন্তু তা দূষিত কিংবা পানিশূণ্য। যেখানে খেলা করত বাংলার নানান স্বাদের মাছ আর পানকৌড়ের দল সেখানে পলিথিন আর দূর্গন্ধ পৌঁছেছে জীবনানান্দের রূপসী বাংলার মাঝে।
“আমি বাংলার রূপ দেখিয়াছি, তাই পৃথিবীর রূপ
দেখিতে চাই না আর”

আমাদের চলমান ধারা আর অভ্যাসের খিচুড়ি সংস্কৃতি চর্চা হয়ত জীবনানন্দের ছন্দময় চরণকে তিরস্কার করে। এর মূলে দায়ী আমাদের সামাজিক চলনধারা আর আমাদের অদ্ভূত মানের সংস্কৃতি চর্চা। আসুন শুধু নিজেকে সচেতন রাখি আর পা‍শের মানুষকে তেমন ভাবেই সচেতন করে তুলি। নিজে বদলাই তাহলে দেশ বদলাবে।

মন্তব্য
  • musaddek মে 5, 2012 at 4:40 অপরাহ্ন

    মাননীয় মডারেটর লেখাটি যথাযথ ভাবে দেখা যাচ্ছে না। আপনার সহযোগিতা আশা করছি………….

© বদলে যাও বদলে দাও