কোন প্রসঙ্গে কানাডা নামক দেশটির কথা উঠলে আমাদের চোখে ভাসে উত্তর আমেরিকার বিশাল একটি দেশ, অনেক উন্নত ধনী দেশ, ম্যাপল পাতার দেশ। তাদের তুলনায় আমাদের বাংলাদেশ কিছুই না। কিন্তু যখনই ক্রিকেটের প্রসঙ্গে দুটি দেশের কথা ওঠে তখন আমরা দেখি বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী দল কানাডা থেকে। আর ক্রিকেটের জন্য কানাডা অনেক সমীহ করে চলে বাংলাদেশকে।
বর্তমানে ক্রিকেটের বড় কোন আসরে আমরা নিজেদের দেশকে দেখতে চাই সবসময় জয়ী হতে। একসময় চাইতাম বাংলাদেশ ভাল খেলুক; অন্তত একটা-দুইটা ম্যাচ জিতুক। কিন্তু এখন চাই সবম্যাচেই বাংলাদেশ জিতুক। আমরা এখন শুধু বাংলাদেশের জয় দেখতে চাই। কারণ এখন আমাদের দেশের সেই যোগ্যতা আছে। বিশ্বসেরা খেলোয়াড়রা এখন আছে এই বাংলার টাইগারদের মধ্যে।
ক্রিকেট বিশ্বকে বাংলাদেশ তার ক্রিকেটের চেহারা দেখিয়েছে এশিয়াকাপে। এখান থেকে কয়েক বছর আগে মাঝে-মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতো ক্রিকেট শক্তির অনেক বাঘা বাঘা দলকে হারিয়ে। বিশ্বের সব শক্তিশালী দল এবং টেষ্ট প্লেইং দেশগুলোর বিরুদ্ধে জয় লাভ করলে এদেশের ক্রিকেট কে অনেক প্রশাংসা করা হতো। কিন্তু ভাল খেলার ধারাবাহিকতা না থাকায় অনেক সমালোচনার মুখেও পড়তে হতো।
তখনও বাংলাদেশের দলে ছিল তরুণ খেলোয়াড়রা এবং সে কারণে বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক বিদেশী ধারাভষ্যকররা মন্তব্য করতেন ২০১১ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী দল হবে এবং নিজেদের মাঠের বিশ্বকাপে তারা কিছু ঘটাতে পারে। কারণ ততদিনে বাংলাদেশের এই তরুণ দলটি অনেক অভিজ্ঞতা লাভ করবে। আমরাও তেমনটি আশা করতাম। কিন্তু দু:খের বিষয় বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভাল শুরু করলেও শেষের দিকে আমাদের কে অনেক হতাশ করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি এশিয়া কাপে বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়েছে ক্রিকেটে নতুন এক অস্ত্রের নাম বাংলাদেশ। এবং আগামীর ক্রিকেট বিশ্ব শাসন করবে এই বাংলাদেশ নামক দেশটি। কারণ আমাদের আছে সাকিব-তামিমের মতো বিশ্বসেরা খেলোয়াড়। সাকিব আল হাসান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার ওয়ানডে এবং টেষ্টে উভয়ে।
কিন্তু সাকিব আল হাসান বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কি যথাযথ মর্যাদা পাচ্ছে? বর্তমান ভারতে আইপিএলে সাকিবের থেকে অনেক পিছনের খেলোয়াড়রা নিয়মিত খেলছে। সাকিব আল হাসান কে প্রায়ই বসে বসে খেলা দেখতে হয়। ভারতে গিয়ে যে দিনের পর দিন উপেক্ষিত হচ্ছে আর তামিমকে কোন দিন মাঠেই নামায় নি। শাহরুখের দল তো সাকিব কে বিচার করেছে শুধু বলার হিসেবে তাই তারা বাম-হাতি, ডান হাতি খেলোয়াড় দেখে দেখে সাকিবের খেলা নিয়ে ‘খেলা’ করছে; উপহাস করছে। ওরা মনে হয় সাকিব কে শুধু বোলিং মনে করে; ব্যাটিং মনে করে না। ০৪ মে ২০১২ তারিখে সাকিব প্রথম আলোতে লিখেছেন সে নিজেই জানেন না তাঁর না খেলার কারণ।
আবার দেশের হয়ে সাকিব ৫/৬ নম্বরে ব্যাট করে এটাও হয়তো একটি কারণ। তাই এখনই উচিত সাকিব যেন দেশের ক্রিকেটে ওপেনিংয়ে বা ওয়ান-ডাউনে খেলে।
সাকিবের এখনও অনেক কিছু দেওয়ার আছে দেশের ক্রিকেটকে। দেশের ক্রিকেট দলটি এখনও তারুণ্য নির্ভর; অনেক দেশের মতো অনেক অভিজ্ঞ, এবং দীর্ঘদিন খেলছেন এমন খেলোয়াড় আমাদের দলে নেই। তাই আরও কয়েক বছর পরে বাংলাদেশ একাই রাজত্ত্ব করবে সারা বিশ্বের মধ্যে এই আশাবাদ ব্যক্ত করি।
আইপিএলে সাকিব কি খুব খারাপ খেলেছে বা এক ওভারে ৬ টি ছক্কা দিয়েছে? তাকে তো ব্যটসম্যান হিসেবে দলে নামাতে পারতো! কিন্তু ওরা তা করেনি। বরং ওয়ষ্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল বিশাল-বিশাল ছক্কা মেরে বোলার কে নাজেহাল করে তোলে। আর যদি সাকিবের এক ওভারে ৪/৫ টি ছয় মারতো তাহলেতো মনে হয় সাকিব কে বিমান বন্দরের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হতো।
ও বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার তাই তার যোগ্যতার পরীক্ষা ঐ আইপিএলে দেওয়ার দরকার নেই। সাকিব দুটি/ একটি ম্যাচ খেলে এই খ্যাতি অর্জন করেনি। ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য সে এখন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার, এই উপাধি সে শুধু এ বছর পায়নি অনেক দিন ধরে এই সুনাম ধরে রেখেছে। ভারতের কোলকাতা নাইট রাইডারস সাকিব কে মূল্যায়ন করুক আর নাই করুক সারা বিশ্ব জানে সাকিব আল হাসান বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার।
বাংলাদেশের ক্রিকেট নির্বাচকদের বা ক্রিকেট বোর্ডকে এবং অধিনায়ক সকলকে অনুরোধ করবো সাবিক আল হাসানকে আরও এগিয়ে ব্যটিং ওর্ডারে নিয়ে আসার জন্য। সাকিবকে ওপেনিংয়ে বা ওয়ান ডাউনে ব্যাটিং করানো হোক। পাঁচ বা ছয় নাম্বরে দিয়ে তাকে সবসময় চাপের মধ্যে খেলতে হয়। শুধু তাই নয় সে তো সেরা খেলোয়াড় সে যত তাড়াতাড়ি ব্যাটিংয়ে নামবে সে তত বেশি দেশের ক্রিকেটকে অনেক বেশি কিছু দিতে পারবে। এবং তার অবদান আরও বেশি থাকবে বলে মনে করি।
নাকি এটা ভারতের সুক্ষ্ণ চালাকির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে সাকিব-তামিম! যেন সাকিব-তামিম আইপিএলের অন্য দল গুলোতে না খেলতে পারে তাই তাদের সাথে চুক্তি করে ডেকে নিয়ে বসিয়ে রেখেছে? ওরা চাইছে ওদের পারফর্ম ওরা যেন শো না করতে পারে। দলে একটা খেলোয়াড় খেললেই যে তাকে ম্যাচ উইনার হতে হবে এমন নয় ওখানে তো ছয় মারারও পুরস্কার থাকে। একটানা বসিয়ে রাখাকে আমরা কি বলতে পারি? আশা রাখি পরের বার আইপিএলে ডাক পেলে সাকিব-তামিম বর্তমান দলে থাকা দুই দল বাদে অন্য দলে ডাক পেলে যেন সেখানে যায়।
কে কে আর যখন প্রথমদিকে প্রায়ই ম্যাচে হারছিল তখন ভারতের মিডিয়াগুলোতে সাকিবের না খেলানোতে ঝড় উঠেছিলো, তারপর কয়েকটা ম্যাচে সাকিবকে খেলানো হয়েছিলো।
নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার ড্যনিয়েল ভেটরি প্রতিটা ম্যাচে খেলতে পারছে। সেকি সাকিবের থেকে সেরা?
আসলে ভারতের চরিত্র তো আমাদের অজানা নয়। ওরা কোনদিন বাংলাদেশেকে তাদের দেশে খেলার জন্য আহবান করেনি; ওরা হয়তো অহংকার দেখায় কিন্তু তাদের অহংকারকে কিছুদিন আগে আমাদের ক্রিকেটাররা চরম জবাব দিয়ে এশিয়া কাপ জয় করতে যাচ্ছিল।
ক্রিকেট আমাদের কে অনেক কিছু দিয়েছে তাই অনুরোধ রাখবো ক্রিকেটের ব্যাপারে কোন অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা না হয়। এর ভিতরে কোন রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি যেন প্রবেশ করতে না পারে। অন্য সবকিছুর মতো খেলাধুলার মধ্যে যদি কোন অনিয়ম ঢুকে পড়ে তার জন্য আমাদের ক্রিকেটকে চরম মূল্য দিবে হবে। এর বাস্তব উদাহরণ হতে পারে পাকিস্থান।
আল মাসঊদ খান
ক্রিকেট প্রসঙ্গ: সাকিব-তামিমের খেলা নিয়ে ‘খেলা’ করছে ভারত!
197 বার পঠিত
মন্তব্য






Thanks Mr. zanasir
Not only in Cricket we know the Indian tricks in another aspects. They don’t show in their country any Bangladeshi satellite channels. India produces the Phensidyl near the Bangladeshi border. Few days ago Prothom-Alo published ‘crossing the national boundry 32 phensidyl factory located’. And BSF kills the Bangladeshi peoples continuously.
thanks mr masud, you are wright. i think this one of the tricks of india . any bangladeshi player has been hired, they has been only sideliner. i think bangladesh should not send any player to ipl. they are spoiling our cricketers perform. now we can call them back.