হযরত আলী মারা গেছেন এক মাস । মাসপূর্তির ঠিক ১ দিন আগে গত ৫ মে’র প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছে সালমা সুলতানার গল্প। তিনি আর কেউ নন। ৬ই এপ্রিল মিরপুরে ছিনতাইকারীর গুলীতে নিহত হযরত আলীর স্ত্রী। এই সময় সালমার কথায় জানা গেলো নতুন তথ্য। হযরত আলী ১৫ মিনিট গুলীবিদ্ধ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন। তাঁকে হাসাপাতালে নেয়ার জন্যে একজন লোক পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ছিনতাই রোধে তাঁকে সাহায্য করা তো অনেক দূরের ব্যাপার। আবারো আপনা আপনিই ধরা পড়লো, আমরা বেশিরভাগ কতখানি উটপাখি চরিত্রের!
একটু কষ্ট হলেও বলতে বাধা নেই। এই জনারন্যে মানুষের সংখ্যা খুব কম। মানুষ বলতে বোঝায় হযরত আলীর মত চরিত্র। একটু ভুল হলো বোধ হয় । তিনি প্রমাণিত মানুষ। যদিও আপাত দৃষ্টিতে সাধারণের চেয়েও সাধারণ তিনি। তবু জীবন দিয়েই তিনি শেখালেন । মাথা কতটা উঁচু রাখার পর মানুষগুলো ‘মানুষ’ হয়। সবার প্রচলিত চিন্তায় ধাক্কাও দিলেন বোধ হয়। ছিনতাই ঠেকাতে গুলীবিদ্ধ হয়েছেন তিনি। আমাদের আশে পাশে ছিনতাই কিন্তু হচ্ছেই। প্রকাশ্যেই হচ্ছে। ঠেকাতে আসার নজির নেই। তাই মৃত্যুর আগে হয়তো হযরত আলী বিড় বিড় করে বলেছিলেন “ভালভাবে বাঁচতে রুখে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। এটাই বেঁচে থাকা আর টিকে থাকার পার্থক্য”
হযরতের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তার প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে । কারণ অনেক। তার মধ্যে একটা কারণ , প্রথম আলোর ওই প্রচারটা এখন থেকে কম মন খারাপ করবে। কোন পোস্টার বুঝতে পারছেন ? ওই যে ‘উট পাখি নয় মানুষের জীবন চাই ’। তিনি মরে গিয়ে অনেককে বাঁচালেন। অন্তত মনে মনে মনে হলেও যারা উট পাখির জীবন অপছন্দ করেন, তাঁদের। হযরত হয়তো ছিনতাই ঠেকাতে পারেননি। কিন্তু খারাপ লোকদের কাছে সংবাদ পৌঁছে দিয়েছেন। “এখন থেকে ছিনতাই করতে গেলে বাধা আসবে” তাই একথা এখন বলাই যায়। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। অনিয়মের প্রতিবাদ হবেই।
সত্য সহ্য করা খুবই কঠিন। তাই প্রথম আলোর ওই প্রচারটি আমার কাছে কাঁটার মত। খুবই অস্বস্তিকর। কারণ আসলেই উট পাখির জীবন আমাদের। সারাক্ষণ অনিয়মের সঙ্গে বসবাস। আপোষ করছি। অথবা করতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ টিকে থাকাটাই মুখ্য। কিন্তু ব্যতিক্রম হযরত। তার দর্শন ‘ভাল করে বাঁচতে হলে মাথা উঁচু থাকতে হবে’। আমরা যদি এখনই ওর দলে নাম নাও লেখাই। তবু গলা চড়িয়ে বলতে পারি । সবাই অন্যের বিপদ দেখে বালিতে মুখ লুকায় না। কেউ কেউ আছেন, যারা বিপদ হতে পারে জেনেও এগিয়ে আসেন।
হযরত যখন গুলীবিদ্ধ হন তখন পৌনে ৭ টা। বেশ সকাল। একটু কম হলেও লোকজন চলা শুরু হয়েছে রাস্তায়। আশে পাশে নানান রং এর নিরাপত্তা বাহিনীর টহলও থাকার কথা। বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীও থাকা উচিত আশে পাশের বাড়িতে । কিন্তু ওই দিন কেউ ছিল না। যদি কেউ থেকেও থাকে হয়তো উট পাখি হয়ে ছিল। ভাবলো কী দরকার ঝামেলা বাড়িয়ে। অথচ অন্তত আরো দু’জন যদি এগিয়ে আসতো, ফল হয়তো অন্যরকম হতে পারতো। আর কিছু না হোক, হযরতের প্রাণটা নিরাপদ হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতো । কিন্তু দীর্ঘশাস ছাড়তেই হচ্ছে। হযরতরা এখনো একা।
পাঠক, আপনি চাইলেই অতীত বর্তমানের অনেক ঘটনার মিল পাবেন সেদিন সকালের। আমাদের হাজারো সম্ভাবনা হাজারো সাফল্য। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে এর কোন প্রভাব নেই। একটু স্বস্তিও তাদের অধরা। আমাদের সবকিছু ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ হিসাবে যদি নিজেদের দায়ী করি । খুব কী ভুল হবে ? সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোন সাফল্য আসে না। আমাদের কোন ‘ভাল’ কেউ কখনো হাতে এসে তুলে দিয়ে যাবে না। অর্জন করে নিতে হবে। ভাল মন্দ দেখার দায়িত্ব যাদের দেয়া হয়েছিল তারা এরই মধ্যে উটপাখি হয়ে গেছে। একথা তো বার বার প্রমাণিত। কিন্তু তার মানে কী এই যে আমাদের জীবন আটকে থাকবে জন্ম আর মৃত্যুর ঘেরাটোপে। নিশ্চই নয় ? যার ‘ভাল’ তাকেই করতে হবে। কিন্তু এর জন্যে উদাহরণ চাই সামনে। প্রমিথিউসের মত, অনেকটা হযরত আলীর মত।
হযরতের মৃত্যু আর দশটা সাধারণ মৃত্যুর মত নয়। তার কথা যদি আমরা ভুলে যাই, জাতি হিসাবে অকৃতজ্ঞই হবো। তার জন্যে আর কিছু করতে পারি আর না পারি, তাঁকে স্মরণে রাখতে তো আর দোষ নেই। দেশ ভর্তি মানুষ যেখানে টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। সেখানে একজন ‘মানুষ’ ২ নারীর ছিনতাই ঠেকাতে গেলেন এবং প্রাণ দিলেন । এই মৃত্যু পাহাড়েও চেয়েও ভারি। এই মৃত্যু নিশ্চই আগামী দিনে নতুন প্রতিবাদ সৃষ্টির উদাহরণ হবে ।
পলাশ আহসান, গণমাধ্যম কর্মী






mr polash, let us follow mr hojrot ali. no more be an ostrich, be a man . help each other, stand strongly against the corruption or terror. ” THAKBO NAIER SHONGE”
প্রতিদিন চোখ ভিজানো সংবাদের আড়ালে এ এক আশার আলো। এ সত্যের আলো আমাদের রক্ষা করতে হবে।এমন অনেক সাহসী মানুষের সৃষ্টি যেন হয় সে দিকে নজর রাখতে হবে,নজর রাখতে হবে এ সাহসী মানুষের পরিবারটি যেন আঁধারে ভুপাতিত না হয়।তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য,এখন অবহেলা করলে এমন সাহসী মানুষ না পাওয়ার বেদনায় পুরো জাতি নীল হবে।
পলাশ লিখাটা পড়ে হতাশ মনে আশার আলো জাগে ।এ আলো প্রশাসনিক কাঠামোর কানা গলিটাতে যাবেতো!
প্রতিবাদটা হওয়া উচিৎ সামগ্রিক । এক হযরত আলী জীবন উৎস্বর্গ করে সারা জাতিকে একটি নির্দেশনা দিয়ে গেছে । কিন্তু তাঁর অসহায় পরিবারকে সাহায্য করাও আমাদের দায়িত্ব হয়ে পড়েছে । বসে থাকার এক মুহূর্ত সময়ও নেই । প্রতিবাদী হতে হবে, প্রতিবাদী মানুষকে বাচিয়েঁও রাখতে হবে । সততার জয় খুব কাছেই ।
ধন্যবাদ। একদম ঠিক বলেছেন।আসুন সবাই মিলে গলা মেলাই “ কে আছ বন্ধু , বাড়াও দরদি হাত’
মরু ঝড়ে উঠ পাখির মত আর মাথা বালিতে গুঁজে থাকা নয়, এখন সময় হল প্রতিবাধের, সেটাই প্রমান করেছে হযরত আলি। আমরা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আর তার কাছ থেকে আমাদের সবার অনুপ্রেরনা নেওয়াই কাম্য।
বড়ই হতাশাজনক ।