SBA অর্থাৎ School Base Assessment. সম্ভবত ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিদ্যালয়গুলোতে SBA পদ্ধতি চালু হয়। এই পদ্ধতি অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে ১০০ এর বদলে ৭০ এর পরীক্ষা হত। বাকি ৩০ নম্বর শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় যেমন উপস্থিতি, বাড়ির কাজ, ক্লাস পরীক্ষা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে দিত; বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেমন হয়। তখন চিন্তা করা হয়েছিল এ পদ্ধতির কারণে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও মনোযোগী হয়ে উঠবে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসের প্রতি মনোযোগী হবে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই ধারণাটি ভুল প্রমাণিত হয়। তাই পরের বছরই এটি বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়। এই পদ্ধতির সমস্যা ছিল যে শিক্ষার্থী বা শিক্ষক কেউই এ ব্যাপারে ঠিকভাবে জানতো না। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল যে কিছু কিছু শিক্ষক এই পদ্ধতিকে তাদের প্রাইভেট বাণিজ্যের মূলধন হিসেবে ব্যবহার করে। তারা উপস্থিতি, বাড়ির কাজ, ক্লাস পরীক্ষা এইসবের ওপর ভিত্তি করে নম্বর দিত না। দিত কে তার কাছে পড়ছে আর কে পড়ছে না; তার ওপর ভিত্তি করে। জাফর ইকবাল স্যার তখন রসিকতা করে বলেছিলেন, SBA-স্যার এর বাসায় এসো। তাই এই পদ্ধতি বাতিল হওয়াতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং সাধারণ শিক্ষকরা খুশি হলেও খুশি হন নি ব্যবসায়ী শিক্ষকরা। এইসব শিক্ষকদের কারণেই এখনও কিছু বিদ্যালয়ে এই পদ্ধতি চালু আছে।
ঢাকার ডেমরার একটি প্রসিদ্ধ বিদ্যালয়ের নাম বাওয়ানী আদর্শ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে এখনও এই পদ্ধতি চালু আছে। এখানকার শিক্ষকরা এখন এই পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করেন এবং নম্বর দিয়ে থাকেন। যার কারণে এখানকার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এখানকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যআয়ের পরিবারের। তাদের পক্ষে এতগুলো শিক্ষকের কাছে আলাদা আলাদাভাবে পড়া সম্ভব না। তারা শিক্ষার্থীদের শেখান না, শুধু পরীক্ষায় যা দিবেন তা পড়ান। তাই কিছু শিখতে হলে শিক্ষার্থীদের আলাদা গৃহ-শিক্ষকের প্রয়োজন হয়। শিক্ষকেরা এখন ক্লাসেও তাদের কাছে পড়ার জন্য বলে। এমনকি মাঝে মাঝে তারা ‘বেত’ও ব্যবহার করেন। আর তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র এই SBA পদ্ধতি।
এ দুর্যোগে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা দিশেহারা। কিন্তু এ থেকে নিস্তারের উপায় তাদের জানা নেই।






ছাত্র শিক্ষক সবই একই অবস্থা! কেউ কারো থেকে কম নয়! সবাই না কেউ কেউ লুটপাটের সংগ্রাম এ ব্যস্ত! সামগ্রিক মূল্যবোধের উন্নয়ন ব্যতীত এর থেকে বের হয়ে আসা কঠিন! সবার নৈতিক মূল্যবোধের শুভ পরিবর্তন হোক!
এখানে কিন্তু আমি ছাত্রদের কোনো দোষ দেখছি না।
আমি বদলে যাও বদলে দাও কে অনুরোধ করব এ ব্যপারে কিছু করার জন্য। আপনারা যদি কিছু না করেন, তাহলে কে করবে। আর এসবের ব্যপারে বলার জন্যই তো এই সাইটের উৎপত্তি, তাই না????
এটাই যদি শিক্ষকদের চরিত্র-আদর্শ হয় তবে ছাত্ররা কি শিখবে? এসব কারনে আজ আমাদের সংস্কৃতি থেকে মানবিকতা, মূল্যবোধ, মনুষ্যত্ব দূরে সরে যাচ্ছে। সর্বদা দরকার আইন ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ।