আমার সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে মেঘ টিভিতে কার্টুন দেখছিল একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে। বিজ্ঞাপন-বিরতিতে বিস্কিটের বিজ্ঞাপন দেখে ও বায়না ধরল, সেই বিস্কিট খাবে। আমি ওকে বললাম পরে কিনে দেব। এবং বিষয়টা আমি পরে ভুলে গেলাম। এর কিছুদিন পর মহল্লার এক মুদি দোকানে সেই বিস্কিট দেখে আমার কৌতুহল হলো। দাম জিজ্ঞেস করলাম এবং দাম জেনে চমকে উঠলাম। ছোট্ট একটা প্যাকেট। গায়ে দাম লেখা আছে ১২ রূপী। দোকানী চাইলেন ৪৫ টাকা! একটা চকলেট-এর প্যাকেটের গায়ে লেখা ১০ রূপী, কিনতে গেলে লাগবে ৩৫ টাকা। এই ৩-৪ গুন দাম কেন? আর এত দাম দিয়ে লোকে কিনছেই বা কেন? বাতাস ভরা প্যাকেটে নামমাত্র পরিমাণে Lays Chips কেন খেতেই হবে? আমি অনেক শিশুকে দেখেছি দেশী চিপস, বিস্কিট খেতে চায়না।
মেঘের জন্যে আমি দেশি একটা ভাল ব্র্যান্ডের বিস্কিট কিনলাম। সেটা পেয়েই ও খুব খুশি। কারণ এটাও ক্রীম স্যান্ডুইচ বিস্কিট, যেমনটা ও চেয়েছিল। মেঘ ব্র্যান্ড চেনেনা। সে ক্রীম-বিস্কিট পেলেই খুশি। কিন্তু আরেকটু বড় বাচ্চারা হয়ত টিভিতে দেখা বিস্কিটটিই চাইবে। আর এখানেই আমার আতঙ্ক। আমাদের দেশে ভারতীয় চ্যানেলের যে জোয়ার বইছে, তার প্রভাব পড়ছে আমাদের চিন্তায়, মননে, ভাষায়, পোশাকে, এমনকি খাদ্যাভ্যাসে! আনারকলি, মাসাককালী, কুসুম, কুটুম, কাসৌটি জিন্দেগীকা ইত্যাদি-র পোশাক আমাদের কিশোরী-তরুণীদের শীর্ষপছন্দ। আজকাল ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট-এর ‘কুইজিন’ না কী যেন বলে, ওই বস্তু ছাড়া অনেকের মুখে রোচেনা। বাচ্চাদের না হয় দেশপ্রেম জাগ্রত হয়নি, কিন্তু যে প্রাপ্তবয়স্ক বাঙালিরা ভারতীয় পণ্যকে সাদরে আঁকড়ে ধরছেন, তাদেরকে কী বলব? সেই দলে যে আছি আমিও! কী বলে ধিক্কার দেব নিজেকে? কী গভীর আর ব্যাপকভাবে ভারত তার পণ্য আর সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশে, ভেবে শিউরে উঠি। বাংলাদেশ হয়ে উঠছে আরেক নেপাল! আমি গত বছর এক আত্মীয়কে দেখে ঝোঁকের মাথায় একটা ভারতীয় বাইক কিনেছিলাম। এখন মনে হয়, ভুল করেছি। আমার মতো লাখ লাখ লোক এইভাবে ভারতের পণ্যকে বাংলাদেশে জনপ্রিয় করতে পরোক্ষভাবে ভুমিকা রাখছে। এতে একদিকে যেমন দেশী পণ্য মার খাচ্ছে, অন্যদিকে আমরা হয়ে পড়ছি ভারত-নির্ভর। চিকিৎসা, ভ্রমণ, বিনোদন – সবকিছুতেই আমরা হয়ে পড়ছি ভারতের মুখাপেক্ষী। সরকারও নীরবে সমর্থন করছে এই ভারতপ্রেম। বি.এস.এফ. যতই বাংলাদেশী মারুক, বি.জি.বি. নীরব।
ফেইসবুকে আমার এক বন্ধু মজা করে লিখেছে ‘বাংলাদেশ আমার মাতা, ভারত আমার মাসী…’। আমার এখন আর মজা লাগেনা, ভয় হয়…। আমরা মায়ের থেকে মাসী-র প্রতি বেশি আসক্ত পড়ছি। এ যুগে কেউ আর যুদ্ধ করে দেশ দখল করেনা। অর্থনীতি, সংস্কৃতি আর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘটে এখনকার ঔপনিবেশিকতা। এর থেকে উত্তরণের উপায় কী? কে তুলবে পাল, কে ধরবে হাল?






কেন যে আমাদের দেশ এর মানুষের আজ এতো ভারতপ্রিতি তা আজও বুঝতে পারলাম না। সত্যি বিচিত্র এ দেশ আর এ দেশের মানুষ ! তাই হয়তো কবি বলেছেন ” এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাক তুমি!! “
kazi monjur, you and me can do the change. you do yourself, ask your family, and your friends. if we try it will happen but slowly. like, restrict to watch indian chanels. you can’t stop, but gradualy do it. stop buying indian goods, try to love bangladeshi goods. love bangladesh.
আপনি ভারতীয় বাইক কিনে অনুশোচনায় ভুগছেন। কিন্তু আমার কথা হলো ভারত বাংলাদেশকে এত অবহেলা করে অথচ আমাদের সরকার এদিকে নজর দেয় না কেন? এসব ভারতীয় পন্য দেশে আমাদানীর প্রচলন থাকবে কেন? যেখানে ভারতে বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল দেখানো হয়না, বিএসএফ হত্যা করে বাংলাদেশীদের, ভারত আমাদের কে কোন দিন ক্রিকেট খেলতে আমন্ত্রণ জানায় না আরো কত কি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সবসময় ভারত কে পীরসেবা করতে ব্যস্ত।