Home » অন্যান্য » সউদি আরবের শিরচ্ছেদ প্রথা : এই ধর্মান্ধতার শেষ কোথায়?

সউদি আরবের শিরচ্ছেদ প্রথা : এই ধর্মান্ধতার শেষ কোথায়?

321 বার পঠিত

গত বছরের নভেম্বর মাসে (২০১১) সউদি আরবে একজন মিশরীয়কে হত্যার অপরাধে আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের শিরচ্ছেদ করা হয়েছে । বংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নিজে সউদি আরবের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের এই আটজন নাগরিকের যেনো শিরচ্ছেদ না করা হয় । সউদি আরবের সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির এই আনুরোধ রক্ষা করেনি । একজন মিশরীয়কে হত্যার অপরাধে তারা আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের শিরচ্ছেদ করেছে । এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলো শিরচ্ছেদ-এর এই বর্বর প্রথার বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ করেছিলো । সউদি আরব এই প্রতিবাদে কান দেয় নি । এ বর্বরতাকে তারা আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় আইন বলে এই সভ্য যুগেও চালু রেখেছে ।
সম্প্রতি সউদি আরবে আরো দুইজন বাংলাদেশির শিরচ্ছেদ করা হয়েছে । বৃহস্পতিবার সকালে (৩ মে) ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজে এই খবরটা দেখে আমি দুঃখিত না হয়ে পারিনি । খবরের কাগজে এই দুই হতভাগা বাংলাদেশির করুণ পরিণতির কথা অত্যন্ত গুরুত্ত্বহীনভাবে ছাপা হয়েছে । বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এই দুই নাগরিককে বাঁচানোর জন্য কোনো উদ্যোগ নিয়েছিলো কিনা বা সউদি সরকারের কাছে তারা অনুরোধ জানিয়েছিলো কিনা এ সম্পর্কে কোনো কথা খবরের কাগজে নেই ।
সউদি আরবসহ আরো কয়েকটি আরব দেশে এই শিরচ্ছেদের প্রথা ইসলামি আইন হিসেবে চালু রাখা হয়েছে । আমি দুঃখ পেয়েছি, আল্লাহ যেখানে পরম করুণাময় ক্ষমা করাই যাঁর বৈশিষ্ট্য, তিনি মানবতাবিরোধী একটি আইনকে সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য আইন করে দিয়েছেন কিনা এ সম্পর্কে ধর্মবেত্তা এবং মানবতাবাদী আলেম সমাজ ব্যাখ্যা দেবেন । তারা তা দেননি । আমি জানি, ইসলাম একটি মানবিক এবং উদার ধর্ম । আমি আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করছি না, সেই ধৃস্টতা আমার নেই । ইসলামের নাম ভাঙিয়ে যারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ইসলামপূর্ব যুগের বর্বরতাকেও ইসলামি আইন বলে চালাতে চায় তাদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য আমি আজকের এই নিবন্ধ লিখছি ।
সউদি আরবে ইসলামি আইনের নামে যেসব বর্বরতা চালু রয়েছে তা আসলে ইসলামপূর্ব যুগের আরবদের কিছু বর্বর প্রথা । আরবের বাদশাহরা নিজেদের রাজতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে এসব বর্বরতাকে এই আধুনিক যুগেও চালু রেখেছে । ২০১০ সালে পবিত্র হজ সমাধা করার জন্য আমি মক্কা শরিফে গেছি এবং সেখানকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দেখেছি । দেশে থাকতেই শুনেছি, সউদি আরবে কেউ রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বললে বা এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করলে তাকে গুম করে ফেলা হয় । তবু সাহস করে একদিন এক ট্যাক্সিক্যাবের ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করেছি, রাজতন্ত্রের দেশে বাস করতে তোমাদের কাছে কেমন লাগে? সে আমার দিকে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঠোঁটে তর্জনি আঙুল চেপে বলে উঠলো, স্ স্ স্ । এ সম্পর্কে কোনো কথা আমি বলতে পারবো না । এ ব্যাপারে আমি কথা বলেছি সরকার তা জানতে পারলে আমার জিভ কেটে নেওয়া হবে ।
আরব স্প্রিংয়ের আগের কথা বলছি । ২০১০ সালের শেষের দিকের এক মাস পবিত্র হজ সমাধা করার জন্য আমি সউদি আরবে ছিলাম । ঠিক এক মাসও নয় । ২৯ অক্টোবর জেদ্দায় পৌঁছেছি । তারপর ২৪ নভেম্বর ঢাকার ফ্লাইট ধরেছি । সাতাশটা দিন যেন এক রাতের স্বপ্নের মতো সহসাই শেষ হয়ে গেছে । মাত্র সাতাশ দিনে একটা দেশকে চট করে জানার ও বোঝার উপায় নেই । তবু যতটা বুঝতে পেরেছি, সউদির বাদশাহরা রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করতেও কুণ্ঠিত হন না । মহানবি (দঃ) নিজে তাঁর বিদায় হজের ভাষণে বলে গেছেন, ধর্ম নিয়ে তোমরা বাড়াবাড়ি করবে না । ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরুন তোমাদের আগে অনেক সম্প্রদায় ধ্বংস হয়ে গেছে । সউদি আরবে এই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করাটাই বেশি চোখে পড়ে ।
একথা সত্য, কোনো বাংলাদেশি যদি সউদি আরবে গিয়ে কোনো শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে । মৃত্যুদণ্ডও পেতে পারে যদি বিচার সঠিক ও সুষ্ঠু হয় । তবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেই কি তাকে গরুর মতো নির্দয় জবাই দ্বারা হত্যা করতে হবে এবং বলা হবে এটা অলঙ্ঘনীয় আল্লাহর আইন? এটা বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হয় । ইসলামপূর্ব যুগে পশু জবাই করা হতো অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে । ভারতের হিন্দু সম্প্রদায় তো আগে খাঁড়ার এক ঘায়ে পাঁঠা বলি দিতো । মহানবি (দঃ) কোরবানির সময় ধারালো ছুরির আড়াই ঘায়ে পশুটির ধমনি ছিন্ন করার নির্দেশ দেন ।
মৃত্যুদণ্ডের বিধান সব দেশেই আছে । কিন্তু তা সউদি আরবের মতো এতো বর্বর পন্থায় নয় । আমেরিকার মতো উন্নত দেশেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে । কিন্তু সেখানে একজন সিরিয়াল কিলারকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে ১৪ বছর ধরে তার আপিলের পর আপিল সব পর্যায়ের আদালত ঘুরেছে । তার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয় । কিন্তু এই মৃত্যু যাতে দীর্ঘ যন্ত্রণাময় না হয়ে মুহূর্তের মধ্য দণ্ডিতের মৃত্যু ঘটায় সেজন্য ফাঁসির দড়ির ব্যবহার তুলে দিয়ে বৈদ্যুতিক চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে ।
সউদি আরবের বিচার ব্যবস্থাতেও বৈষম্যের আভিযোগ শোনা যায় । সেখানে চুরি করলে হাত কাটার বিধান রয়েছে । কোনো সউদি নাগরিক চুরি করলে তার বাঁ হাতের আঙুলের একটি কোনা কেটে দেওয়া হয় । কিন্তু কোনো আজমি (আনারব) মুসলমান অভিযুক্ত হলে তার তর্জনী পর্যন্ত কেটে ফেলা হয় ।
ইসলামের চোখে সবাই সমান । রাজা-প্রজার মধ্যেও কোনো বৈষম্য ইসলাম ধর্মে নেই । সউদির বাদশাহরা এই বিধান মানছে কি? মুখে তারা ইসলাম ধর্মের কথা বলে এবং নিজেদের ধর্মের সেবক বলে দাবি করে । আর বাস্তবে তারা ধর্মকে নিজেদের বিলাসবহুল জীবনের ক্ষেত্রে বিরাট প্রতিবন্ধক বলে মনে করে । নইলে মক্কা-মদিনার সেবা ছাড়া তারা ইসলাম ধর্মের আর কী সেবা করছে? ইসলাম ধর্মে চার বিয়ে পর্যন্ত (খুব প্রয়োজনে) বৈধ । কিন্তু ‘হারেম’ রাখা তো চরমভাবে নিষিদ্ধ । তবু আরবের বাদশাহরা দেশি-বিদেশি সুন্দরী নারী দ্বারা ‘হারেম’ ভর্তি রাখে কিভাবে?
সউদি বাদশাহদের নিজেদের স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহারের উদাহরণ দিতে গেলে আমাকে একটা মহাভারত লিখতে হবে । পঞ্চাশের দশকে পাকিস্তানে আহমদীয়া বিরোধী দাঙ্গায় অসংখ্য মুসলমান হত্যার জন্য জামায়াতে ইসলামীর তখনকার আমির মাওলানা মওদুদী দেশটির আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন এবং তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয় । আইয়ুবের আমলে এই দণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়ার কথা ।কিন্তু আরবের তৎকালীন বাদশাহ মওদুদীকে প্রাণভিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের কাছে অনুরোধ জানান । আইয়ুব সে অনুরোধ রক্ষা না করে পারেন নি । তিনি মওদুদীর কাছ থেকে প্রাণভিক্ষার একটি আবেদন গ্রহণ করেন এবং তা মঞ্জুর করেন ।
এখানে কি সউদি সরকার আল্লাহর আইন অমান্য করেনি? তারা কেন মাওলানা মওদুদীকে উপদেশ দেয়নি যে, তিনি ও তার দল যাদের হত্যা করেছে তাদের পরিবারের কাছে আগে ক্ষমা চাইতে হবে । তারা ক্ষমা করলে তবে মওদুদী প্রাণভিক্ষা পাবেন । শুনেছি, সউদি আরবে অনেক সময় আসামীকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগও দেওয়া হয় না । সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি? এই দুইজন হতভাগ্য যদি বাংলাদেশি না হয়ে আমেরিকার কিংবা ভারতের নাগরিক হতো তাহলে এতো বর্বর পন্থায় তাদের শিরচ্ছেদের আগে সউদি সরকার দশবার ভাবতো ।
চুরি করলে হাত কেটে ফেলা এবং খুন করলে শিরচ্ছেদ করা এগুলো ইসলামপূর্ব অসভ্য ও জংলি যুগের রীতিনীতি । ইংল্যান্ডের এক রাজাকেও গিলোটিনে শিরচ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে । সভ্য ও আধুনিক যুগে এসব রীতিনীতির পরিবর্তন হয়েছে এবং আরো সহজ ও মানবিক পন্থা চালু হয়েছে ।
আগেই বলেছি, অসভ্য ও জংলি যুগের অনেক রীতিনীতি সউদি আরবে ইসলামি বিধানের নামে চালু রয়েছে । আরবের বাদশাহরা তাদের রাজতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে এসব আইন বহাল রেখছে । আল্লাহর আইনের কথা বলে মোল্লারা সব সময় ধর্মকে পেছনমুখী করে রাখতে চেয়েছে । যুগের পরিবরর্তনের সাথে সাথে ধর্মেরও যে আধুনিকায়ন প্রয়োজন এই বাস্তব সত্যটা তারা কখোনো উপলব্ধি করতে পারেনি । ধর্মের নাম করে মোল্লারা এক সময় ক্লোরোফর্মকে হারাম দ্রব্য বলে ফতোয়া দিয়েছিলো এবং ক্লোরোফর্ম দ্বারা রোগীকে অজ্ঞান করে তার দেহে অস্ত্রোপচার করা শরীয়ত বিরোধী কাজ বলে গণ্য করতো । অতীতে রোগীর হাত পা মুখ বেঁধে জ্ঞান থাকা অবস্থাতেই নির্মমভাবে ধারালো ছুরি চালিয়ে অপারেশন করার যে প্রথা ছিলো তা অনুসরণ করাই ধর্মীয় বিধান বলে তারা চালাতো । কিন্তু এই ফতোয়া তারা দীর্ঘকাল তাদের অনুসারীদের দ্বারাই চালু রাখতে পারেনি । সউদি আরবের একাধিক বাদশাহ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্লোরোফর্ম ব্যবহার দ্বারা অস্ত্রোপচার করা হয়েছে । এখনো হচ্ছে এবং সউদি আরবের হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে । ধর্মের নামে চিকিৎসার পুরনো ব্যবস্থায় তারা আটকে থকেন নি । তাহলে আল্লাহর আইনের নামে প্রাণদণ্ড কার্যকর করার বেলায় কেন মধ্যযুগীয় নির্মম প্রথাটি বহাল রাখতে হবে তা আমার বোধগম্য নয় । আইন মান্য করা আর সেই আইন কার্যকর করার জন্য বর্বরতার আশ্রয় নেওয়া তো এক কথা নয় ।
সউদির বাদশাহদের ইসলামের নাম ভাঙিয়ে রাজতন্ত্র রক্ষা করা এবং বর্বর কিছু প্রথাকে কোরাআনিক আইন বলে চালু রাখার বর্ণনা দিতে গেলে আমাকে একটা মহাভারত লিখতে হবে তা আমি আগেই বলেছি । আমার সহৃদয় পাঠকেরা সউদির বাদশাহদের কুকীর্তি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত কিছু জানতে চাইলে স্যামুর গ্রে’র লেখা ‘Behaind The Veil’ বইটি পড়ে দেখতে পারেন ।

মন্তব্য
  • মুর্শিদকুলী খাঁ মে 12, 2012 at 10:19 অপরাহ্ন

    ঈশা খঁ নামে আরেকজন ব্লগার আছেন। না জেনে এই নামতি ব্যবহার করার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

  • সাঈদ মোহাম্মদ ভাই মে 11, 2012 at 7:02 পূর্বাহ্ন

    প্রিয় লেখক,
    নিজের ব্যক্তিগত দর্শনে ইসলামকে বিবেচনা করলে তবেই এমন মানবাধিকার চর্চা সম্ভব। ব্যক্তিগত আবেগকে ইসলাম গ্রহন করে না। ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন হলে তবেই এর সমাধান সম্ভব। লেখক যে প্রশ্নগুলো রেখেছেন তা ব্লগে লেখার আগে ইসলাম চিন্তাবিদগণের সাথে আলোচনা করলে সঠিক তথ্য পেতেন বলে আমি বিশ্বাস করি। এখানে আপনার মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই আছে, কিন্তু মতামত প্রকাশের আগে সমাধানের পথ খুঁজা যথাযথ নয় কি?
    @বদলে যাও, বদলে দাও
    এ ধরনের লেখাকে উৎসাহিত না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। তবে হ্যাঁ ইসলামকে পুঁজি করে যারা অন্যায় করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমানসহ লেখাকে অবশ্যই উৎসাহিত করা উচিত। এখানে লেখক আল্লাহ আইন সম্পর্কে যেভাবে বর্ননা করেছেন তা তাঁর ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতাই প্রকাশ পায়।

    • বদলে যাও বদলে দাও মে 12, 2012 at 2:41 অপরাহ্ন

      সাঈদ মোহাম্মদ ভাই আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ। আমরা ধর্ম নিরপেক্ষতায় থাকতে চেষ্টা করি। ইতোপূর্বে সৌদি’তে আটজন বাংলাদেশীর শিরচ্ছেদ-এর ঘটনায় বাংলাদেশের রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তে এই শাস্তি ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলো, এর মধ্যে মানববন্ধন, সেমিনার, আলোচনাসভা হয়েছে এবং মিডিয়ায় সে খবরগুলো ভালোভাবেই এসেছে। নিজের ব্যক্তিগত দর্শণে ইসলাম চলে না এটা চির সত্য কথা। ইসলাম সম্পূর্ণ একটি জীবন বিধান। কিন্তু আমাদের দেশে এর অপব্যবহার হয়। বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশগুলির চেয়ে অনেক বেশি ধর্মপ্রাণ, সহজ সরল এবং ধর্মীয় সংবেদনশীল। আর এই সরলতাকে পুজিঁ করে তাদেরকে অনেক ধর্মীয় রাজনৈতিক দল প্রতারণা করে, ব্যবহার করে। কোন কোন দল এখনও প্রকাশ্যে দাবি করে ‌”আমরা আল্লার দল”! আসলেই কি তাই? মহান আল্লাহ কি বাংলাদেশে এমন কোন রাজনৈতিক দল গঠন করে দিয়েছেন?

      আমরা মনে করি আলোচনার মাধ্যমে প্রকৃত সত্যটি প্রকাশিত হোক। পৃথিবীতে মুসলিম দেশের সংখ্যা ৫০-এরও অধিক। এসব দেশগুলিতে এই শিরচ্ছেদ প্রথাটি কোন কোন দেশ বহাল রেখেছে? না কি অন্যরা এই শাস্তির ধারাতে যায় না? না গেলে কেন যায় না? বিষয়টি আরও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। আমরা জানি না বলেই এটা ভালো করে জানতে হবে। আমরা যেন মিথ্যা নিয়ে, অসত্য নিয়ে নষ্ট তর্ক বিতর্কে লিপ্ত না হই। আপনার মাধ্যমেও একটি সত্য তথ্য, সত্য বিশ্লেষণ বেরিয়ে আসতে পারে। অথবা আপনার আলোচনায় কোন অপূর্ণতায় অন্য কেউ পূরণ করতে এগিয়ে আসবে। এটাই হওয়া উচিত।

      অপরাধ করলে তার বিচার হবে, শাস্তি হবে এটাই স্বাভাবিক। একই সাথে সকল অপরাধীর আইনের আশ্রয় পাওয়া ও আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগটাও নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে যে কোন বিচারেই ভুল থেকে যাবার সম্ভাবনা থেকে যায়। হয়ত মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত একজন আসামী এমন একটি তথ্য দিল যার জন্যে বিচারক তার জীবন কেঁড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তার শাস্তিটা একটু লঘু করে দিতে পারেন। এটাইতো মানবাধিকার! ইসলাম ধর্মে মানবাধিকারের জায়গাটি অনেক গুরুত্ব দিয়েছে বলে আমারা বিভিন্ন ধর্ম বিশ্লেষকদের লেখা থেকে জানতে পারি।

      আমাদের ব্যাখাতে কোন ত্রুটি থাকলে তার জন্যও আপনাদের কাছে সতর্ক হবার পরামর্শ চাই। আপনাকে আবারও বিনীত ধন্যবাদ।

      • ঈশা খাঁ মে 12, 2012 at 7:42 অপরাহ্ন

        ধন্যবাদ বদলে যাও বদলে দাওকে।

  • shopnoshiri মে 10, 2012 at 8:55 অপরাহ্ন

    জনাব ঈশা খাঁ , আপনি ইসলামের নীতি সম্মন্ধে কতটুকু জানেন ? আপনি একজন বাদশাহর কিছু অনিয়ম কে পুঁজি করে কিভাবে কোরআনের নীতি কে জংলি বা বর্বর নীতি বলছেন ? ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা বা শিরচ্ছেদ বা ক্রস ফায়ার বা গুম এগুলুর মধ্যে পার্থক্য কোথায় ? মানবধিকার নিয়ে এত মাতামাতি করা জাতিসঙ্গ কি পেরেছে ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিনের হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রান বাচাতে ? বুশ ,ওবামা ওরা যে দ্রোণ দিয়ে প্রতি দিন প্রাণ হানি ঘটাচ্ছে তাদের আইন কি ধোয়া তুলসী পাতা? আমাদের নিজের দেশে যে মাননীয় প্রেসিডেন্ট সাহেব খুনিদের ক্ষমা করে দেন আমাদের দেশের আইন কতটা ভাল? জনাব বিশ্বাস করেন যখন নিজের দেশের মানুষের চোখে এক ফোটা পানি দেখি তখনই কষ্ট পাই, আর মৃত্যু সংবাদ কতটা খারাপ লাগে তা বুঝে নিন তবে ভাই ইসলামের নীতি সম্পর্কে কিছু বলার আগে ইসলাম কে জানুন , বুঝুন । আপনি যখন পড়বেন ,বুঝবেন আমি হলফ করেই বলতে পারি তখন আপনার ভুলটা কোথায় বঝতে পারবেন।

    • zanasir মে 11, 2012 at 9:06 অপরাহ্ন

      shopnoshiri, thank you very much for you comment on isha kha. i am very much imprest by your comments. may Allah bless you.

  • zanasir মে 10, 2012 at 8:02 অপরাহ্ন

    mr isha kha, please don’t contrudict with islam. whatever the rule in the Holly Quraan, that is not for any timebeing. it is for ever. if you want to know, study on islam and its rules. if you don’t impliment the rule you can’t stop crime. look at our countries law and order. you can do anything wrong in our country. you will be on trail, but depends on ” who are you ” . so the criminals get chances to do crime, if there no implimentation of rules.

  • Al Masud মে 10, 2012 at 5:14 অপরাহ্ন

    অসাধারণ লিখেছেন। আমাদের প্রগতিশীলতার জন্য এমন উপযুক্ত লেখার প্রয়োজন আরও বেশি বেশি। আরও লিখবেন…। আন্তরিক ধন্যবাদ – ঈশা খাঁ

  • ঈশা খাঁ মে 10, 2012 at 4:10 অপরাহ্ন

    উৎসাহ দেওয়ার জন্য বদলে যাও বদলে দাওকে ধন্যবাদ।আপনাদের উৎসাহ আমার চলার পথকে আরো সহজ করবে।

    • বদলে যাও বদলে দাও মে 10, 2012 at 7:53 অপরাহ্ন

      ঈশা খাঁ আপনাকে উৎসাহ দিতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। এটা শুধু সামান্য উৎসাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আপনি অনেক বড় একটি মানবাধিকারের ইস্যুকে স্পস্ট করে দিয়েছেন বাংলাভাষাভাসিদের জন্য। বিশেষকরে বাংলাদেশের মানুষদের জন্য। ধর্মের অপব্যাখ্যা আর অপপ্রয়োগ দিয়ে কত নিকৃষ্টতম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটানো হচ্ছে তা আমরা অনেকেই জানি না। বদলে যাও বদলে দাও মিছিল- এ আপনার সরব উপস্খিতি কামনা করি বা দাবি করি।
      দেশ নিয়ে, দেশের মানুষের জন্য আপনি আপনার সামর্থ অনুসারে অবদান রাখতে চেষ্টা করুন । এই ব্লগটি আপনাদের মত মানুষদের কথা বলার জন্য। আমাদের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই একটি ভাল ফলাফল নিয়ে আসবে।

  • বদলে যাও বদলে দাও মে 10, 2012 at 2:36 অপরাহ্ন

    ঈশা খাঁ আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অসাধারন আপনার যুক্তি বিশ্লেষণ। মানবাধিকার নিয়ে আমরা বদলে যাও বদলে দাও মিছিল সব সময়ই সোচ্চার থাকতে চাই। সৌদি আরব-এর শিরচ্ছেদ প্রথাটি নিয়ে আমাদেরই আগে কথা বলা প্রয়োজন। আমরা ব্লগের মাধ্যমে আরও যুক্তিযুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টিকে স্বচ্ছ করে তুলতে পারি। বিশ্বের প্রভাবশালী সকল মানবাধিকার সংগঠনগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি যাতে ঐ শিরচ্ছেদ আইনটিতে ক্লোরোফর্ম দিয়ে দেয়া যায়।

    • shopnoshiri মে 10, 2012 at 8:35 অপরাহ্ন

      @বদলে যাও বদলে দাও । আমি অবশ্যই চাইব আমার দেশের মানুষ যেন মাথা উচু করে পৃথিবীর বুকে বিচরন করে , কেউ প্রান হারাক তাও চাই না । তবে আমার একটা ছোট প্রশ্ন আছে শিরচ্ছেদ, গুম হওয়া, আর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারার মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

© বদলে যাও বদলে দাও