ডরাই না কাউরে, আমিও এহন পার্টি করি :
প্রতিটি এলাকায় বা মহল্লায় পৌরসভা দ্বারা নির্বাচিত এক বা একাধিক কর্মী থাকে যাদের দায়িত্ব হল, উক্ত এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষার্থে রাস্তা বা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলা ময়লাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা। এরা সরকার থেকে বেতন ও ভাতা প্রাপ্ত তাদের কাজের জন্য। তারপরও প্রতি বাসা থেকে এরা ময়লা পরিষ্কারের বিনিময়ে ২০/৩০ টাকা করে নেয়। ঈদের সময় বকশিশ নেয় প্রতি ফ্ল্যাট থেকে। আমাদের মহল্লাতেও আছে এমন দুজন মহিলা কর্মী। প্রতি সপ্তাহে পালাক্রমে তারা ময়লা পরিষ্কার করেন। এর মধ্যে একজন আছেন যিনি ৪/৫ দিন পর পর আসেন ময়লা পরিষ্কার করতে। মহল্লার অনেক মানুষ তাঁর উপর ত্যক্ত বিরক্ত। এতটুকু গলি, তাঁর মাঝে চারিপাশে ময়লা আবর্জনা পরে আছে। গলির মাথায় যে ডাস্টবিনটা আছে তা উপচে পড়ছে ময়লায় ভর্তি হয়ে। চারিদিকে মাছি ভন ভন করছে, কাকদের যেন মেলা বসে প্রতিনিয়ত ময়লা খাবার জন্য। এহেন অবস্থায় ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে মহল্লাবাসীরা ঠিক করলেন মহিলাটির সাথে কথা বলবেন তাঁর কাজ ফাঁকি দেয়ার বিষয়ে।
মহিলার সাথে যখন কথা বলা হল তখন মহল্লাবাসীর সাথে তাঁর একরকম তর্ক বেধে গেল। তরর্কের একপর্যায় একজন ভদ্রলোক মহিলাকে বল্লেন-“আপনি এর পর থেকে ঠিক মত ময়লা পরিষ্কার না করলে প্রয়োজনে আপনার সুপারভাইজারকে আপনার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত করে অভিযোগ করা হবে”। মহিলা খুবই উদ্ধত ভঙ্গিতে হাত নেড়ে বললেন-“ ও ভদ্দরলোকেরা, যা পার কর গিয়া। নালিশ কইরা মুখে ফেনা তুইলা ফেললেও কোন লাভ নাই। এখন আমি আর সুপারভাইজার একই পার্টি করি। এখন কোন মায়ের পুত আমার কিছুই বিগড়াইতে পারবেনা। আর বেশি করলে আরেকজন যে মহিলা আসে তাঁর আসাও বন্ধ কইরা দিমু। ময়লা তারপর নিজেরা হাত পা দিয়া পুইচ্ছা লইয়ো”।
মহিলার কথার সারমর্ম হল-তিনি সরকারী দল করেন, তাই তাঁর কোন ভয় নাই। যত পারি আমরা যেন অভিযোগ করি।
অবাক হইনাঃ মহিলার কথাটি আমার ওইদিন স্বাভাবিক লেগেছিল। যতদূর বুঝি বাকিদেরও স্বাভাবিকই লেগেছিল যেহেতু এই কথার পর আর কেউ কোন টু শব্দটিও করেনি। প্রবাদ ছিল-“জোর যার মুল্লুক তাঁর”। আমরা সময়ের সাথে বদলাতে জানি। তাই মন ও মস্তিষ্কে প্রবাদটির পরিবর্তন ইতোমধ্যে করে ফেলেছি। এখন-“ জোর যার জনসাধারণের জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস এর উপর অধিকার তাঁর”। যেহেতু আমিও পরিবর্তনশীল সমাজেরই অংশ তাই অবাক হইনি সেদিন।
আজকাল আর খুব একটা অবাক হওয়া হয়না।
২। সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই: পাশের ফ্লাটে আছে ফুটফুটে একটি শিশু। একদিন দেখি দরজা খোলা আর শিশুটি হামাগুড়ি দিয়ে দরজার বাইরে চলে আসতে চাইছে। পাশেই অবশ্য শিশুটির মা দাঁড়ান আছেন। শিশুটিকে আদর করে গাল টিপে দিলাম। ইতোমধ্যে সে হামাগুড়ির দিক পরিবর্তন করেছে। শিশুটির মায়ের সাথে কুশল বিনিময় করতে করতে ফ্লাটে ঢুকে পড়লাম। দৃষ্টি আমার পবিত্র মুখের ওই শিশুটির দিকে। তাকে ধরার জন্য কিছুদুর এগুতে শিশুর মা পিছন থেকে বললেন-“আর আগাবেন না প্লিজ”। হাঁসতে হাঁসতেই পিছন ফিরে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কেন ভাবি? খুব সহজেই ভদ্রমহিলা উত্তর দিলেন-“সামনেই আমার রান্নাঘর”। আপনি অন্য ধর্মের। আপনার ছোঁয়া লাগ্লে আমার পুরো রান্নাঘর আবার ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করতে হবে। মুখের হাঁসিটা চকিতে মিলিয়ে গেল। হতবাক হয়ে বের হয়ে আসতে আসতে বললাম দুঃখিত। রান্নাঘরের সামনে থেকে ফ্ল্যাটের মেইন দরজাটা কয় পায়ের দূরত্বেই আর হবে!!কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে মনে পরে গেল অনেকগুল টুকরো স্মৃতি। কর্মক্ষেত্রে আমার হাতেখড়ি দিদির কাছে। এতটাই আপনজন হয়ে গিয়েছিলেন তিনি যে আমি সন্দিহান আমার কোন বড় বোন থাকলে এর চাইতে বেশি আপন হতে পারতো কিনা। ঈদের সময় আমাদের সকলকে নতুন পোশাক কিনে দিতেন আর নিজেও নতুন পোশাক পরতেন। বলতেন আমি কি ঈদ উদযাপন করব না নাকি! আবার দিদিদের ধর্মীয় যেকোনো অনুষ্ঠানের খাবার অফিসে নিয়ে আসলে আমরা সবাই মজা করে খেতাম। কিছুদিন আগেও আমার লেখা পরে বলেছেন-“এইভাবে শক্ত করে কলমটা ধরে রেখো”। দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন ২০১১ সালে। কিন্তু গত ঈদেও বিদেশ বিভূঁই থেকে ২/৩ ঘণ্টা চেষ্টার পর ফোন করে আমাদের সাথে কথা বললেন। এমনি আত্মার সূত্রে বাধা আমাদের সম্পর্ক।
একান্ত উপলব্ধিঃ ভেদাভেদ ধর্মে নয়। ভেদাভেদ মানুষে।যত ভেদাভেদ, দূরত্ব, তুচ্ছাতিতুচ্ছতা- এই সব কিছু দিয়ে শক্ত, নিরেট দেয়াল তৈরি করি আমরা মানুষেরা। ধর্মের নিয়মগুলো ধর্মগ্রন্থ দিয়ে চিহ্নিত ও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত।কিন্তু মনুষ্যত্তের কোন নিয়মকানুন বর্ণিত পুস্তক নেই। কোন ধর্মেই নেই। কারন বিশাল বিশ্ব নিয়ে মহান স্রষ্টা যে খেলায় মেতে আছেন তাঁর নিয়ম হল-মনুষ্যত্তের সকল সংজ্ঞা, সকল অপ্রকাশিত নিয়ম থাকবে মানব হৃদয়ে।
পাছে লোকে কিছু বলেঃ অনেকদিন লেখা হয়না। কিন্তু লেখাগুলো পড়ি নিয়মিত। গত বেশকিছুদিন থেকে দেখছি ইভ-টিজিং নিয়ে নানা চমৎকার লেখা। বেশিরভাগ লেখা খুবই প্রশংসনীয়। কিছু লেখা পরে উপলব্ধি করেছি আমার এই ক্ষেত্রে মতভেদ আছে। যেমন অনেকেই বলছেন ইসলাম ধর্মের অনুশাসনই একমাত্র উপায় মানুষকে এই পশুত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য। ইসলামের অনুশাসন অনুযায়ী যদি মেয়েরা পোশাক আশাক পরিধান করেন, তাহলে পুরুষদের মনে কামনা, বাসনার উদ্রেক হবেনা। এই ক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হল-আমরা একটা স্বাধীন ভূখণ্ডে বাস করি যেখানে ইসলাম ধর্ম ছাড়াও আরও অনেক ধর্মের লোকের বসবাস। এবং আমরা খুব গর্ব নিয়ে বলি যে নানা ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এর মাধ্যমে আমরা এক বিরল উদাহরণ উপহার দিতে সক্ষম। এখন প্রশ্ন হল অন্য ধর্মের মানুষেরাও কি ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী পোশাক পরবেন? যতদূর মনে হয় সেটা সম্ভব নয়।
তাহলে প্রকৃত অর্থে সচেতন হওয়া উচিৎ শালীন পোশাক পরিধান নিয়ে। শালীন পোশাক পরিধান অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু শালিনতা শুধু পোশাকে আনলেই চলবেনা। মনের শালীনতাটা যে আরও প্রয়োজন এই বিষয়ে আলোচনা খুবই কম হয়। এখন শালীন পোশাক পরিধেয় মেয়েও যে অশালীন মনের অধিকারী মানুষদের কাছে নোংরা মন্তব্য শুনে নাজেহাল হয় তাঁর একটা বাস্তব উদাহরণ বিস্তারিত বর্ণনার সাথে দিচ্ছিঃ
একটি মেয়েকে চিনি যে পোশাক আশাকে খুবই সাধারণ। দেশীয় সুতি কাপড় পরে। অফিসে ফুলহাতার জামা। জামার হাতাটা হাতের কব্জি পর্যন্ত, বোতাম দিয়ে আটকান। সেলওয়ারের পায়ের নিচেও বোতাম দিয়ে আটা যেন নড়াচড়ায় কাপড় এদিক ওদিক না হয়। অফিসের কাজে বাইরে গেলে সুতির লম্বা চওড়া ওড়নাটাকে সারা গায়ে ভালমত পেছিয়ে নেয়। মাঝে মাঝে রোঁদের জন্য মাথায় কাপড়ও দিয়ে বের হয়। কিন্তু এরপরও রাস্তায় বের হওয়ার সাথে সাথে রাস্তার সামনের চাওয়ালা লোকটার নিকৃষ্ট মন্তব্যগুলো মেয়েটার হৃদয়টাকে যেন খণ্ড বিখণ্ড করে দেয়, রাস্তায় হেঁটে যাওয়া পথিকের নির্লজ্জ চাহনি তার চোখ দুটোকে নিচু করে মাটির সাথে আটকে রাখে। মেয়েটার প্রশ্ন হল আর কিভাবে পোশাক পরলে যথাযত শালীনতা বজায় করা হয়েছে বলে ওই অশালীন মনের মানুষগুলো চুপ হবে, থেমে যাবে তাদের নির্লজ্জ দৃষ্টি?
আমরা এখন বড়ই খুঁতখুঁতে। আমি জানি উপরের মেয়েটির পোশাক আশাকের বর্ণনাতেও অনেকে খুত খুঁজে পাবেন। তাদের জন্য আরেকটি উদাহরণ আমার কাছে আছেঃ
আমার এক সহকর্মী। একজন একনিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মুসলিম। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কথায় কথায় আল্লাহ্র গুণগান, অবসরে দোয়া পড়া, ইসলামী নানা বই পাঠ- এই সবই তিনি নিয়মিত করে থাকেন। বাসে অথবা ট্রেনে চলাফেরা করেন এবং অবশ্যই বোরকা পরেন ঘরের বাইরে যেকোনো স্থানে। তাঁর চোখদুটো বাদে আর কিছুই দেখা যায়না। এরপরও তো রক্ষা হয়না তাঁর শালীনতা! একদিন বাসের সিটে পাশে বসে থাকা লোকটি বার বারই তাঁর পায়ের সাথে পা লাগিয়ে দিচ্ছিল। প্রথমে দুবার তিনি ব্যক্তিটিকে ব্যাপারটি ভদ্র ভাষায় অবলম্বন করলেন। কিন্তু লোকটা পা একটুও না সরিয়ে একইভাবে পা ছড়িয়ে রাখলেন। তৃতীয়বারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় তিনি অনুরোধ করলেন লোকটাকে পাটা একটু সরিয়ে বসতে। লোকটি তাঁর জায়গাতে অনড়। চতুর্থবার আমার সহকর্মী নিজেই সিট থেকে উঠে দাঁড়ালেন আর লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন-“আপনার বাসায় সোফা নেই বুঝতে পারছি। এক কাজ করুন আপনি দুটা সিট নিয়ে পা ছড়িয়ে আরাম করে বসুন। আমার বসা লাগবেনা। আমার বাসায় বহুদিন থেকেই সোফা আছে”। এই বলে আমার সহকর্মী সারা রাস্তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। এখানে উল্লেখ্য যে তিনি মতিঝিল থেকে টঙ্গী যাত্রা করছিলেন। ইসলামের সকল নিয়ম মেনে শালীনতা বজায় রাখা সত্ত্বেও তাঁর এত দীর্ঘ পথ বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পাড়ি দিতে হল।
লেখা পড়তে পড়তে দেখলাম অনেকে অভিযোগ করছেন আজকাল মেয়েরা মডেলদের মত অতি আধুনিক পোশাক পরিধান করছেন যা যুবকদের আকৃষ্ট করে। যার ফলাফল ইভ-টিজিং। আমি জানিনা তারা কোন রাস্তা বা কোন অভিজাত এলাকার বাসিন্দা। আমি রাস্তায় বের হয়ে গত কয়েকদিনে খুব ভালো করে খেয়াল করে দেখেছি। অফিস পারা, শপিং মল, মহল্লার গলি, আবাসিক এলাকার রাস্তাগুলোতে বেশিরভাগ মেয়েরাই সেলোয়ার কামিজ বা শাড়ি পরিধান করা। তাও খুব সাধারণভাবে। কারন শহরের অধিকাংশ মানুষ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আগত। তাই পোশাক আশাকের ব্যাপারে এই পরিবারগুলো থেকে কম বেশি একই রকমের পারিবারিক অনুশাসন পালন করা হয়। আজকাল কিছু অল্পবয়সী মেয়েরা প্যান্ট এর সাথে শার্ট বা ফতুয়া পরেন। কিন্তু যেভাবে কিছু লেখক বর্ণনা করেছেন ততখানি অশালিনভাবে পাশ্চাত্য পোশাক পড়ার উদাহরণ আমাদের দেশে বিরল। যারা জিন্স শার্ট ফতুয়া পরেন তাদের অনেকেই এর সাথে ওড়নাও পরেন। যতটা গলি চড়িয়ে পাশ্চাত্য পোশাকের গুষ্টি তারা উদ্ধার করছেন তাদের লেখায়, তেমন পাশ্চাত্য পোশাক পরিহিতা কয়টা মেয়ে দেখা যায় আমাদের দেশে?
পাশ্চাত্য পোশাকের কথা যখন চলেই আসল তখন আরেকটা কথা না উল্লেখ করে পারছিনা। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে চেষ্টা করা হচ্ছে কিভাবে টুরিস্টদের আকৃষ্ট করা যায়। কারন আমাদের দেশে সত্যি খুব চমৎকার সব জায়গা আছে। আছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্রতট, পাহাড়, সবুজ বনানী, চা বাগান, সুন্দরবন। আছে নানা ঐতিহাসিক স্থান। টিভিতে আমরা বিজ্ঞাপন দিচ্ছি “School of learning” যেখানে দেখানো হচ্ছে আমদের দেশের চমৎকার স্থানগুলোর টুকরো টুকরো চিত্র। যদি এমন হয় আগামী ৫/১০ বছরে আমাদের দেশের অনেক উন্নয়ন হল আর টুরিস্টরা এসে ভিড় জমাল আমাদের দেশে এই অপূর্ব স্থানগুলো অবলোকনের উদ্দেশে। তারা তখন কি পোশাক পরে আসবেন? তারা যদি পাশ্চাত্য পোশাক পরে আসেন আর এটাই যদি স্বাভাবিক হয় যে ইসলামের বিধান অনুযায়ী পোশাক পরিধান না করলেই পুরুষদের কামনা বাসনার উদ্রেক হয়, তাহলে বলতে হবে শুধু বিদেশী ট্যুরিস্ট নয়, বিদেশ থেকে আগত কূটনীতিবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, নানা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি- এরা কেউই বাংলাদেশি পুরুষদের কামনা বাসনা থেকে রেহাই পাবেননা বলেই মনে হচ্ছে।
আরেকটা কথা উল্লেখ না করলেই না। আরব একটি মুসলিম রাষ্ট্র। ওখানে নারী পুরুষ সবাই পর্দা করেন। ওখানে আইন মানে মুসলিম আইন। এমন একটি দেশ যেখানে কঠোরভাবে মুসলিম আইন মানা হয়, চুরি করলে হাত কেটে নেয়া হয়,সে দেশেও কিন্তু অন্য দেশ থেকে ট্যুরিস্ট যায়, পাশ্চাত্য পোশাক পড়া মেয়েরা কর্মের সুবাদে বা অন্য কোন উদ্দেশে রাস্তায় বের হচ্ছেন। পর্দা প্রথায় ঢাকা একটি দেশেও পাশ্চাত্য পোশাক পড়া মেয়েরা কোন ইভ-টিজিং বা কটূক্তির মুখোমুখি হয়েছেন এমনটা পত্রিকায় বা সংবাদ মাধ্যমে আমি কখনও শুনিনি। আরেকটি মুসলিম দেশ হল মালায়শিয়া যা একটি খুবই বিখ্যাত টুরিস্ট স্পট। সময়ের সাথে সাথে দেশটির উন্নতি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ওখানে শপিং মলগুলোতে গেলে দেখা যায় আজান পড়ার সাথে সাথে দোকানীরা open লেখা বোর্ডটি উলটিয়ে close sign লাগিয়ে নামায পড়তে বসে যান। এমন ধর্মপ্রাণ মুসলিম একটি দেশে কিন্তু পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে নানা পোশাক পড়া মানুষ যাচ্ছে। কিন্তু কেউ ইভ-টিজিং এর মুখোমুখি হচ্ছেনা সেখানে।
ইসলাম ধর্মের দোহাই যারা দেন, যারা বলেন অশালীন পোশাকে দেশ ভরে গেছে, তাদের উদ্দেশে বলছি, ধরে নিন কোন একটি মেয়ে অশালীন পোশাক পরেছে। কিন্তু ইসলামের কোন নিয়মে বলা আছে তাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করতে হবে? আমাদের নবীজী নিজ দেশের মানুষদের দ্বারাই আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন, অনেকে পাথর ছুরে মেরেছেন তাঁর দিকে। তিনি পাল্টা পাথর ছুরে মেরেছেন এমন কোথাও পড়িনি, শুনিনি। আরও একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই ওইসব লেখকদের উদ্দেশে যারা ধর্মের আর শালীনতার দোহাই দেন। আমাদের দেশে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণের উদাহরণ রয়েছে। ১০ বছরের মেয়ে তৃষা বখাটেদের তাড়া খেয়ে পানিতে ঝাপিয়ে পরে প্রাণ হারিয়েছে এমন নিদর্শনও আছে। ওই ৪ বছরের শিশু আর ১০ বছরের শিশু মেয়েটিরও কি পর্দা প্রথা রক্ষা করা উচিৎ ছিল? একটা ৪ বছরের শিশুকে কিভাবে পর্দা রক্ষা করে রাখা যায়? ওই ৪ বছরের শিশুটি বেঁচে আছে কিনা জানিনা। যদি থাকেও যখন ওর সত্যিকারের বয়স হবে পর্দা প্রথা কি তা বোঝার, তখন তাঁর উপলব্ধিটা কি থাকবে জীবনের প্রতি?
ভয় বলিব, নাকি নির্ভয় বলিবঃ ইভ-টিজিং নিয়ে প্রতিটা লেখার নিচে দেখেছি চুল চেরা বিশ্লেষণ। দেখে ভয়ই পেলাম এ নিয়ে লেখার জন্য। কারন এত চুলচেরা ধর্ম জ্ঞান তো আমার নেই। তবে মনুষ্যত্ব জ্ঞান একটু আধটু আছে। সেই মনুষ্যত্ব জ্ঞান থেকেই ভয় নির্ভয় মিলিয়ে লিখছি। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে ইভ-টিজিং এর সমাধান দিতে চান, তাদের জন্য বলতে চাই, ধর্মের অনুশাসনের কোন বিকল্প নেই এবং তা অতিব প্রয়োজনীয়। কিন্তু ধর্ম নামের পবিত্র জীবন দর্শন যেন মানুষকে অন্ধ করে দেয়ার যন্ত্র না হয়ে যায়, ধর্ম যেন অন্যায়ের বিপরীতে কোন দোহাই হয়ে না যায়। মানুষকে ভালো মন্দ বিচারের ক্ষমতা স্রষ্টা দিয়েছেন। আমরা যেন আমাদের সেই ক্ষমতাকে ভুলে না যাই। খারাপকে স্পষ্ট ভাষায় খারাপ বলুন, কিন্তু কাউকে ধিক্কার দিয়ে নয়, কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যাবহার করে নয়, কাউকে লজ্জায় মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে নয়।
বড় লেখার শেষে আমার ছোট্ট একটি কথাঃ
উপরের ঘটনাগুলো কোন চলমান সমস্যার উপর লেখা নয়। সব কথাগুল চলমান জীবনের ঘটনা। ছোটবেলায় আমার বড় ভাই যখন ঘুড়ি ওড়াত আমিও চাইতাম ঘুড়ি ওড়াতে। পারতাম না। ভাইয়েরা এত ব্যস্ত থাকতো নিজেদের ঘুড়ি ওড়াতে যে আমাকে ঘুড়ি ওড়ানোর শিক্ষা দেয়ার ওদের সময় কই ছিল! আমি ওদের ঘুড়ি দিয়ে ভো কাট্টা খেলা দেখতাম। আর কোন ঘুড়ি সুতো ছিরে বাসার ছাদে পরলে ছেঁড়া ফাটা ঘুড়িটা স্বযত্নে জোরা লাগানোর চেষ্টা করতাম। এই লেখাটাও অনেকটা গতি রোধ হয়ে যাওয়া জীবনের টুকরো কিছু অংশকে জোড়া লাগানোর একটা চিত্র।






অনেক বাস্তব প্রতিবেদন লিখেছেন আপনি।
হোসাইন ফারহানা, মানুষের জন্মটা আমাকে অবাক করে, মৃত্যু নয়, কেননা মৃত্যু নিশ্চিত একটি সত্য। তা কেউ রুখতে পারবে না। ৩০ লক্ষ তরুন, জীবনের বিননিময়ে বাংলাদেশ দিতে পারলে নতুন একটি নেতৃত্বের জন্য কিছুটা সাহস নিয়ে এই মিছিল থেকেই হাতে হাত ধরে নতুন মঞ্চ তৈরীর উদ্যোগ কি নেয়া যায় না? ভাল থাকবেন।
অসাধারণভাবে সাধারণ কিছু বিষয় নিয়ে লিখেছেন! কোনটা রেখে কোনটার জন্যে অভিনন্দন জানাই আপনাকে?
তবে যে কথাটি সবচেয়ে বেশি প্রচার হওয়া দরকার বলে মনে করছি, তা আপনার ভাষায় পুনরুক্তি করতে চাই : “ইসলাম ধর্মের দোহাই যারা দেন, যারা বলেন অশালীন পোশাকে দেশ ভরে গেছে, তাদের উদ্দেশে বলছি, ধরে নিন কোন একটি মেয়ে অশালীন পোশাক পরেছে। কিন্তু ইসলামের কোন নিয়মে বলা আছে তাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করতে হবে?”
জনাব কাজি মিতুল, আপনার অভিনন্দনের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।আমার লেখাটি ধৈর্য নিয়ে পড়েছেন দেখে খুব ভালো লাগছে।অনুপ্রেরণা উৎসাহ ও উদ্দীপনার বাহক।তাই সকল অনুপ্রেরণামূলক মন্তব্যগুলো আমার জন্য নতুন করে লেখার, ভাবার উদ্দীপনা নিয়ে আসছে।
ভালো থাকবেন। আবারো ধন্যবাদ।
hossain.farhana ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন আপনাকে। শক্ত হাতে কলম ধরে রাখার সৈনিক হিসেবে আপনার অবদান রাষ্ট্রে কতটুকু প্রভাব পড়বে তা আমরা বলতে না পারলেও এখানে বদলে যাও বদলে দাও মিছিলে আপনার লেখার তথা আপনার বক্তব্য ও চিন্তাশীলতার স্বীকৃতি অনেকেই জানাচ্ছে। এজন্যে আপনাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একজন মানুষও যদি আপনার লেখা পড়ে বদলে যেতে পারে আমরা মনে করি সেটাই অনেক বড় কিছু। আমরা আমাদের অফিসে খুব উদ্বেলিত ছিলাম আমাদের নারী সহকর্মীদের সাথে দুজন নারীর এভারেষ্ট জয় নিয়ে। কী অসম্ভবকে তারা সম্ভব করেছে! এখন এই জয়ীর তালিকায় দুজন পুরুষ দুজন নারী। আমাদের দেশের সকল নারীদের জন্য এ যে কত বড় অনুপ্রেরনার তা ভাবতেই পারছি না। আমরা আশা করব আপনি হার না মানা শক্তি নিয়ে লেখালেখির জগতে থাকবেন। এদেশের নারীদের সামনে এগিয়ে দিতে আমাদের কমিটমেন্ট সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
প্রিয় বদলে যাও বদলে দাও,
আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি যেদিন প্রথম এখানে লেখা শুরু করি সেইদিনও জানতামনা যে এই বদলে যাওয়ার মিছিলটা আমাকে নিজের বিবেক, চিন্তাধারা, স্বপ্ন, আশা, আকাঙ্খা, ক্ষোভ, না পাওয়া এই সব কিছুর স্বচ্ছ ও স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি দেখাবে। ঠিক যেন আয়নায় নিজের মনের অনুভূতিগুলোকে দেখা।আকার, গন্ধ, বর্ণহীন অনুভূতিগুলো এখন যেন আমার কাছে দৃশ্যমান। অতি সাধারণ একজন আমি। আমার কাছে নিজেকে খুজে পাওয়া যে কতখানি তা বলার ভাষা আমার অজানা।তাই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে যতবারই ধন্যবাদ দেব এই আলর মিছিলকে, নিজের কাছে তা কম মনে হবে।
এখানে সব লেখক ও পাঠকরা যেভাবে আমার লেখায় শারা দিয়েছেন, মন্তব্য দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন তা ছিল আশাতীত।আমি শবার কাছে খুবই কৃতজ্ঞ এবং এইভাবেই ভবিষ্যতে সকলের অনুপ্রেরনা, উপদেশ পাওয়ার আশা রাখি।
ছোটখাটো লেখালেখি করতাম লুকানো ডায়রিতে, পাছে কেউ দেখে হাশি ঠাট্টা করে এই ভয়ে।আমার পরিবারের কেউ জানতোনা আমি লিখতে পারি।এই বদলে যাও বদলে দাও মিছিলের সোচ্চার ভূমিকার দরুন আমার লেখা প্রথম “প্রথম আলো” এর মত দৈনিকে ছাপা হয়, স্বজন হারা ব্যথায় সমবেথি হয় অনেক অচেনা মানুষও।আমার বাবার হাথে যখন খবরের কাগজটা দিয়ে বলেছিলাম মামার মৃত্যু নিয়ে আমার একটি লেখা এসেছে, আমার বাবা অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন।বুজতে পারছিলেন না কি বলছি।এই মিছিলের সবাক ও সোচ্চার পদক্ষেপের কথা তাঁকে খুলে বলাতে তিনি খুব খুশি হলেন।এই প্রথম আমার বাবার চোখে আমার লেখার জন্য গর্ব দেখেছিলাম।সবই সম্ভব হয়েছে এই আলর মিছিলের জন্য।
কবি শামসুর রাহমানের মত এখন আমারও মনে হয়, আমার আমি, আমার চিন্তা, স্বপ্নগুলোর স্বাধীনতা হল আমার লেখার খাতা।আর আমার লেখার খাতা, আমার স্বপ্নের স্বাধীনতা হল এই “বদলে যাও বদলে দাও” মিছিলের সাথে আলোকোজ্জ্বল পথের দিকে যাত্রা।
sister farhana, i read your whole writing. in one word ” impresive.” all of your stories are because of our so-called politics. because of the politicians there are no proper implementation of ” rules “.
the sister in the bus should raise her voice or shout to him, there should have some good people who can support her. in this type of case sisters/mothers has to become stronger to protect themselves. not to shy to raise their voice.
after all, we have to find a third power platform to protect the family baised corrupt political parties. hope to see your more writtings. thanks.
Dear brother Zanasir,
Thank you so much for your inspiring words. I am grateful that you read my writing with patience. Yes, the rotten politics is making our life worthless and empty in many cases. We have just learnt how to utter the word “RULE”. But now a day the rulers and also some irresponsible citizens just entirely forgot the process of implementation of such so called rules. Sometimes I think that our every day’s life gives us a hard and bitter lesson. And that is-Its take two to make a noise. But if one hand is trying to do some magic and other hand is not moving rather still being idle, then it is a foolish act to believe that the magic will happen in any way and a magical moment can be relished with great astonish. Now the condition is like these two hands-one is trying every time, and the other is useless. We, the ordinary people are trying harder and harder with time even for a slight betterment of life. But the rulers are just sitting idle except acting perversely for their own good. Of course I agree with you that a third eye is the utmost need to protect our nation from blindness. But it is heart aching that there is no one like that at present. At least no such revolution is seems to be coming in near future. And as I have described in a previous comment-yes, in this matter I feel much incapacitated.
Again thanks a lot.
হোসাইন ফারহানা আপনাকে ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। আমি, আপনি, আমরা এখানে যারা লিখছি সবাই কিন্তু সমস্যাগুলো বাস্তবতা দিয়ে উপলব্ধি করছি। ডরাইনা, আমিও অহন পার্টি করি। তার এ দৃঢ় প্রত্যয় হলো রাজনীতি। আমরা যারা রাজনীতি করি না তাঁদের জন্য ভয়, শঙ্কা। আপনার প্রতিটি উপলব্ধি যে ঘটনাগুলো থেকে সে ঘটনাগুলোর যোগানদাতা আমাদের পঁচে যাওয়া বর্তমান রাজনীতি। এ সমস্যাগুলো থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে প্রয়োজন রাজনীতির। পিস্তল দিয়ে যেমন রাইফেলের মুখোমুখি হওয়া যায়না তেমনী রাজনীতি দিয়ে রাজনীতির মুখোমুখী না হলে এ সমস্যা থেকে আমরা বেড়িয়ে আসতে পারবো না। বর্তমান জোট রাজনীতি এবং স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে বৈষম্যহীন গনতান্ত্রিক রাজনীতির মঞ্চ তৈরী করা না গেলে যা দেখছি এবং তা থেকে বলা, মনের ভাব প্রকাশ করা এভাবেই চলতে থাকবে। কোন সমাধান বা জাতির মুক্তি আসবে না।
জনাব এস এম বাহাউদ্দিন, আপনাকে ধন্যবাদ।আপনি সত্যি বলেছেন।জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোর জন্য বর্তমানে অস্থির ও বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকাংশে দায়ী।একথাও সত্যি বর্তমানে রাজনীতিতে বিদ্যমান দলগুলোর স্বার্থান্বেষী রুপ দেখতে দেখতে সাধারণ মানুষ ক্লান্ত।আমরা কিছু ক্লান্ত কিন্তু সোচ্চার মানুষেরা এই বদলে যাওয়ার মিছিলে জীবনের বাস্তবতাকে তুলে ধরছি শক্তভাবে কলম ধরে।কিন্তু আমি আপনার সাথে একমত।শুধু মত প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়।চাই সৎ, সাহসী, যোগ্য নেতৃত্ব।কিন্তু তেমন কোন রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব এখনও হয়নি।আর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটাই অস্থির যে কোন একজন কিংবা একদল মানুষ মিলে নতুন নেতৃত্ব দেয়ার সাহস দেখাবে এমন সম্ভাবনা বিরল।যান, মাল, পরিবার, সন্তান তথা আত্মমর্যাদার ক্ষুণ্ণ হবার ভয় সবাই করে।তাই বলব, আপনি যা বলেছেন টা ১০০ ভাগ সত্যি, কিন্তু এই নিয়ে কোনরকম সমাধানমূলক আলোচনা করতে আমি নিতান্তই অযোগ্যদের দলে।লেখাটা লিখেছি ব্যক্তিগত উপলব্ধি আর জীবনের বাস্তবতা থেকে ক্লান্ত হয়ে।কিন্তু সত্যি আমি অপরাগ আপনার বলা এই সত্যির মুখোমুখি হতে
আবারো ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকবেন।
ছোটবেলায় আমার বড় ভাই যখন ঘুড়ি ওড়াত আমিও চাইতাম ঘুড়ি ওড়াতে। পারতাম না। ভাইয়েরা এত ব্যস্ত থাকতো নিজেদের ঘুড়ি ওড়াতে যে আমাকে ঘুড়ি ওড়ানোর শিক্ষা দেয়ার ওদের সময় কই ছিল! আমি ওদের ঘুড়ি দিয়ে ভো কাট্টা খেলা দেখতাম। আর কোন ঘুড়ি সুতো ছিরে বাসার ছাদে পরলে ছেঁড়া ফাটা ঘুড়িটা স্বযত্নে জোরা লাগানোর চেষ্টা করতাম। এই লেখাটাও অনেকটা গতি রোধ হয়ে যাওয়া জীবনের টুকরো কিছু অংশকে জোড়া লাগানোর একটা চিত্র।
অসাধারন এই উক্তিটুকুর জন্য মন থেকে অনেক অনেক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আপনাকে । সত্যিই অনেক বৃথা চেষ্টা করে নিজেকে শান্তনা দিতে হয় আমাদের । এগুলোও ঔ ঘুড়ি জোড়া লাগানোর মতই মিথ্যে মনে হয় । তবে সবাইকে নিয়ে সবসময় অনেক এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি সবসময় । স্বপ্ন এবং কাজের গতিশীলতা অব্যহত থাকবে ।
জনাব সাইদ চৌধুরি, আপনার অনুপ্রেরণামূলক কথাগুলোর জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।যত দিন যাচ্ছে ততই মনে হচ্ছে ছেঁড়া ঘুড়ির পিছে ছুটতে থাকা সেই আমি কত বড় একটা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াতাম।যত দিন যাচ্ছে ততই আকাশটা ছোট্ট হয়ে যাচ্ছে, নিচে নেমে এসে যেন মিশিয়ে দিতে চাইছে মাটির সাথে।বাস্তবতাটা এখন এতটাই কঠিন লাগে যে মাঝে মাঝে মনে হয় অগ্নিশিখার বৃত্তের মাঝে দাঁড়িয়ে আছি, আবার মাঝে মাঝে অধিক শোকে মনটা বরফের মত জমাট বাধা মনে হয়।এমন জীবন কারো কাম্য নয়, হতে পারেনা
ভালো থাকবেন।
অনেক অনেক ধন্যবাদ hossain.farhana কে,
বর্তমান প্রচলিত অনেকগুলো সমস্যার কথা আপনি তুলে ধরেছেন বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। আপনার অভিজ্ঞতায় আলোচিত সমস্যাগুলো দেশে চলমান; থেমে নেই। দেশের আনাচে-কানাচে এ ধরনের সমস্যা গুলো ঘটে চলেছে আর আমরাও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেখে আসছি। বেশি খুশি হয়েছি ইভটিজিং বিষয়ে আপনার কিছু যুক্তি আমার চিন্তাধারায় মিলে যাওয়ার জন্য। আমার একটি লেখা ছিল ‘ইভটিজিং সমস্যা: নারী কতটুকু দায়ী? চাই সমাধান’ লেখাটিতে অনেকে মন্তব্য করেছিলেন ধর্মীয় আইন মেনে চলার ব্যাপারে। অন্য ধর্মের বা ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষগুলো আমাদের ধর্মের ধর্মীয় পোশাক পরে চলবে কিভাবে; সে বিষয়ে কিছু লেখেননি বা মন্তব্য করেননি। শুধু বলেছেন সব সমাধান পবিত্র কোরানে আছে।
আর এই ব্যপারে যুক্তিগুলো ছিলো সম্পুর্ণ আমার নিজের। আর তাই আপনার যুক্তিগুলো আমার লেখার যুক্তিগুলোকে সমর্থন করায় বেশি খুশি হয়েছি। অসংখ ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।
জনাব আল মাসুদ, আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।আপনার লেখাটি আমি পড়েছি।খুব সুন্দর লিখেছেন আপনি।আর ঠিক বলেছেন, আপনার সাথে আমার লেখার মতামতগুল অনেক খানি মিলে গেছে।আর তাই কি হওয়া চাইনা।একটি ভূখণ্ড যেখানে ১৬ কোটিরও বেশি লোক বসবাস করেন, নানা ধর্মের, নানা মানসিকতার, সেখানে শুধুমাত্র সংখ্যা গরিষ্ঠদের ধর্মের অনুশাসন দিয়ে কি ইভ-টিজিং এর মত কদর্য কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে?আমি খুব সাধারণ পোশাকে শালিনভাবেই চলি।কিন্তু তারপরও যখন নোংরা উক্তি শুনি তখন খুঁজে পাইনা আমার দোষ কোথায়।আমি অফিসে যাওয়া আসার পথে অনেক বার খেয়াল করে দেখেছি।রাস্তায় যেসব মহিলা বা মেয়েরা বের হয়য় তারা সবাই খুব সাধারণ পোশাকের।মডেলদের মত পোশাক পরে মেয়েরা চলে এমন যারা দাবী করেন তারা কয়টা এমন মেয়ে দেখেছেন রাস্তা ঘাতে আমি জানিনা। আমার খুব ইচ্ছা হয়য় প্রতিদিন সকালে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে যেসকল মেয়েদের ঘরের বাইরে দেখি তাদের কিছু ছবি তুলে সবার মুখ বন্ধ করে দিতে।কিন্তু কারো ব্যক্তিগত ছবি তাঁর অনুমতি ছাড়া তোলা যায়না।তাই…যাই হোক, ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য।আশা করি আপনার কাছ থেকে এমন চমৎকার লেখা সামনে আরও পাব।ধন্যবাদ।
অনেক গুলি বিষয়কে একসুতোয় গেথেছেন। তাই এক কথায়ই বলব সমস্যাটা বোধে, আর সমাধানও বোধদয়ের মধ্যেই নিহীত। ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।
জনাব মোঃ গালিব, আপনাকে ধন্যবাদ।আপনি একটি কথায় অনেক বড় ও মূল কথাটিই প্রকাশ করে দিয়েছেন।সমস্যাটা আমাদের বোধে।দিন দিন শিক্ষার হার বাড়লেও বোধোদয় কেন কমে যাচ্ছে টা বুঝিনা।আমরা যদি একটা আক্রমণাত্মক জাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করি তবে ঘরের দরজা বন্ধ করে সে লজ্জা ঢাকা যাবে না।
আবারো অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।