বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মুলত বিদ্যুত ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য গণশুনানির আয়োজন করে। পেট্রোবাংলা থেকে প্রস্তাবনাসমুহ কমিশনে পাঠানো হয়। কমিশন প্রস্তাবগুলোর উপর গণশুনানী করার জন্য পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সাধারন জনগনকে অংশগ্রহনের জন্য আহবান জানায়। কিন্তু গণশুনানিতে কারা যায় তা বোধগম্য নয়। এই কমিশনের বাংলা রূপ হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ কমিশন কিন্তু যেভাবে অনিয়ন্ত্রিত উপায়ে প্রত্যেক বছরই দুই চারবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে তাতে এ কমিশনের ভূমিকা কতোটা সঠিক তা প্রশ্নাতীত নয়। পেট্রোবাংলার প্রস্তাবের হ্যাঁ না ভোট নেয়াই কমিশনের কাজ। সরকারের অযাচিত মুল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বৈধ্যতা দেওয়াই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে। যাই হোক কমিশনের বদনাম করার জন্য এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। যা বলতে চাচ্ছি তা হলো সরকার শিল্পমালিকদের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছে। বিষয়টি শুনতে ভালোই লাগছে যেখানে বিদ্যুতের লোডশ্যাডিংয়ে নাভিশ্বাস দেশের মানুষের সেখানে এধরনের স্কিম মন্দ নয়।
নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত পেতে হলে শিল্পমালিকদেরকে গুনতে হবে ইউনিট প্রতি ১৪ থেকে ১৫ টাকা। যেখানে এখন উনারা পাচ্ছেন পিক আওয়ারে ৮টাকা ৮ পয়সা প্রতি ইউনিট। রপ্তানিমুখী শিল্পকে টিকিয়ে রাখার লক্ষেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানায় বিদ্যুত জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের কর্তাব্যক্তিরা। তবে এধরনের উদ্যোগ সাধারন মানুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করবে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। বেশি দামে বিদ্যুত থেকে উৎপাদিত প্রডাক্টের প্রডাক্ট কস্ট বেড়ে গেলে তা প্রতিযোগীতার মার্কেটে টিকে থাকবে কিনা তাও বিবেচনায় আনতে হবে।
শিল্পগ্রাহক যদি ১৩২ হাজার ভোল্ট থেকে সরাসরি বিদ্যুত নেয় সেক্ষেত্রে তাকে গুনতে হবে ১৩ টাকা ৮৮ পয়সা প্রতি ইউনিট। ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইন থেকে বিদ্যুত সংযোগ নিলে প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ১৪ টাকা ৪৫ পয়সা । ১১ হাজার ভোল্ট থেকে সংযোগ পেতে হলে ইউনিট প্রতি দাম দাড়াবে ১৪ টাকা ৯৯ পয়সা। ২৪ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সংযোগ পেতে হলে শিল্পমালিকদেরকে নিজ উদ্যোগে পকেটের পয়সা খরচ করে উপকেন্দ্র, ফিডার ও লাইন বসাতে হবে।
বিদ্যুতের হজপচ অবস্থা নিয়ে রপ্তানিমুখী শিল্পমালিকরা বেশ বেকায়দায়ই রয়েছে একথা বলতে দ্বিধা নেই। বিদ্যুতের মিসকলের যাতাকলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে প্রডাকশনবেইজ শিল্প প্রতিষ্ঠান। বিদেশি ক্রেতাকে চাহিদামতো সময়ে শিপমেন্ট বুঝিয়ে দিতে না পারায় অনেক ক্রেতা এ দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তাই শিল্পমালিকরা বিদেশে নিজেদের মার্কেট ধরে রাখার নিমিত্তে জেনারেটর দিয়ে প্রডাকশন সচল রাখতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু দৈনিক ১২/১৪ ঘন্টা জেনারেটর চালিয়েও যেখানে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ হচ্ছে ১১/১২ টাকা। সেখানে কেন উনারা সরকার থেকে ১৪ টাকায় বিদ্যুত কেনবে? এমন প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে এখন শিল্পমালিকরা। এক্সপোর্টার এ্যাসোসিয়েশন সভাপতির মতে চড়া দামে বিদ্যুত ব্যবহার করে শিল্প প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগীতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবেনা। শিল্পোদ্যোক্তদের চড়া দামে বিদ্যুত বিতরনের কৌশলে পিছিয়ে পড়বে ক্ষুদ্র ও মাঝারিমানের শিল্প মালিকরা যাদের নিজস্ব জেনারেটর নেই। তারা এতো দাম দিয়ে বিদ্যুত সংযোগ নিতে না পারার কারনে প্রতিযোগী মার্কেটে পিছিয়ে পড়বে। যা পুরো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অস্থিরতার যোগান দিবে।
এতো গেল শিল্পমালিকদের কথা। সাধারন মানুষদের মধ্যেও এ নিয়ে কানাঘুষা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছে বিদ্যুতও নাকি টাকাওয়ালাদের কব্জায় চলে গেছে। যার টাকা আছে তার বিদ্যুত আছে। আর যার টাকা নেই তাকেওতো লোডশেডিংয়ের যাতাকলে পিষ্ট হতেই হবে।
সত্যিকার অর্থেই বিদ্যুত নিয়ে সরকার বেশ বেকায়দায়ই রয়েছে। সরকার শুরুর সময়টাতেই রেন্টাল কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের দিকে ধাবিত হয়ে বিদ্যুত সেক্টরে একটা অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। যা থেকে সরকার এখন পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারেনি। এখন প্রশ্ন হলো শিল্পখাতে চড়া দামে বিদ্যুত দেয়ার নামে ধনীক শ্রেনীর কব্জায় যদি বিদ্যুত চলে যায় তাহলে তা সরকারের জন্য বৈরিতার জন্ম দিবে। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টা ও স্বীকার করেছেন যে রেন্টাল কুইক রেন্টাল বিদ্যুত কেন্দ্রের কারনেই জ্বালানী তেলে ভর্তুকির পরিমান বেড়ে গেছে। যা পরিশোধে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সরকারি হিসেব মতে, সরকার এক লিটার ডিজেল ক্রয় করে ৮৫ থেকে ৮৭ টাকায়। বিক্রি করে ৬১ টাকায়। ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ২৪ থেকে ২৬ টাকা। এক লিটার অকটেন ক্রয় করে ৯৬ থেকে ৯৮ টাকায় আর বিক্রি করে ৯৪ টাকা। ভর্তুকি দিচ্ছে লিটার প্রতি দুই থেকে চার টাকা। ফার্ণেস ওয়েলের বেলায় সরকারের ক্রয় মুল্য লিটার প্রতি ৭১ থেকে ৭৩ টাকা। আর বিক্রি করছে ৬০ টাকা। তার মানে লিটার প্রতি সরকারের গচ্ছা যাচ্ছে ১১ থেকে ১৩ টাকা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য মতে, বিভিন্ন গ্রেডের জ্বালানী তেল ক্রয়ে সরকারকে প্রতি মাসে ১১০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে। তার মানে এ খাতে বছরে ১৪০০০ থেকে ১৫০০০ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। এই যদি হয় জ্বালানী তেলের ক্রয় চিত্র। তাহলে তা আশংকার কারন হতেই পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে বিদ্যুত খাতে সরকারের পলিসিগত ভুল রয়েছে। ফকরুদ্দিন-মইনের আমলে নেয়া রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের দিকে ধাবিত হওয়া সরকারের উচিত হয়নি। যদি সরকার রেন্টাল কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্রজেক্টে ধাবিত না হয়ে দেশের কয়লা ও গ্যাস সম্পদের দিকে নজর দিতো তাহলে এতদিনে হয়তো ভালো রেজাল্ট পাওয়া যেত বলেই বিশ্বাস। এখনো সরকার যদি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সংকট নিরসনে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহন করে তাহলে ভবিষ্যত বাংলাদেশের চিত্র ভিন্নতর হবে। বিদ্যুত সেক্টরের স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারকে দ্রুত কয়লা খনিগুলোর উন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে। পুরাতন বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোর সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব বড় বড় কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে হবে। বিদ্যুতের সিস্টেম লস, অপচয় ও চুরি রোধ করাও জরুরি। বস্তুত বিদ্যুত খাতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করে সুনির্দিষ্টভাবেই অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজন। দেরিতে হলেও ভুল সংশোধন করে নতুন দীর্ঘমেয়াদী কর্ম পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। তবে সিদ্ধান্তগত ভুলের দায়ভার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উপর চাপিয়ে দেয়া সমীচীন হবেনা। তাহলে বিদ্যুতের কারনে শিল্প প্রতিষ্ঠানেও ধ্বস নেমে আসবে। যা সামগ্রিকভাবেই দেশের অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব ফেলবে।






ধন্যবাদ মো: গালিব মেহেদি খান, আমিও শুনেছি উপদেষ্টা মহোদয়ের কথা। তবে উনার কথায় তো আর বিদ্যুতের উন্নতি হবেনা, বিদ্যুতের উন্নতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়াই দুরদর্শিতা বলে বিবেচিত। আমার বিশ্বাস বর্তমান সরকার সত্যিকার অর্থেই বিদ্যুত সমস্যা সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবে। আপনার বর্নিত বিষয়গুলোতে আমার কোন দ্বিমত নেই।যুক্তিনির্ভর ও বাস্তবতার নিরিখেই আপনার দেখানো সমস্যাগুলো সাদা চোখে দৃশ্যমান।
মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়ের সর্বশেষ উক্তি “কুইক রেন্টালের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন তারা হয় সরকার বিরোধী নয় দেশ বিরোধী” যদিও এটা মাননীয় উপদেষ্টার মহানুভবতা যে তিনি এখনো বলেননি যারা আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তারা দেশবিরোধী। আর সে জন্যে তাকে ধন্যবাদ জানানো আমাদের সকলের একান্ত কর্তব্য। আর তাই প্রথমেই তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। হাসান কামরুল যদি ঐ উক্তির পড়ে লিখতেন। হয়ত লেখাটা অন্যরকম হতে পারত। সরকার অনেক কিছুই করতে পারত তারা সিষ্টেম লস কমাতে পারত, পারত পূড়াতন কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়ন করতে। পারত বিকল্প জ্বালানি যেমনঃ কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে। করেনি । কারন হয়ত একটাই “কুইক রেন্টালের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন তারা হয় সরকার বিরোধী নয় দেশ বিরোধী”
we haven’t any shorties gas and electricity, we have enough but we can’t use it properly. we miss used and unluckily problem is our system loss. some of gas and electric officer and workers are looting our gas and electric.in every new build house and apartments are e legally use gas and electric. our government plan were wrong. they are given to chance for looting our national property, no one ask them about it.
জনাব হুদা সাহেব, আপনার কিছু কিছু কথায় আমি সহমত পোষন করতে পারছিনা বলে দু:খিত। সিস্টেম লস, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়গুলোর সাথে বিদ্যুতের শর্টেজটাকে ও যোগ করতে হবে। চাহিদার বিপরীতে উতপাদনের ঘাটতিতো রয়েছে। তবে যদি সিস্টেম লস ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রনে আনা যেত তাহলে হয়তো বিদ্যুতের এতোটা বাজে অবস্হা হতোনা। যাই হোক, আপনার মুল্যবান মতামতের উপর আমার প্রভুত শ্রদ্ধা রয়েছে। ধন্যবাদ।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে বদলে যাও বদলে দাও মিছিলের সাথে সহমত পোষন করছি। প্রতিভা কখনই লুকিয়ে রাখা ঠিকনা। এস এম বাহাউদ্দিন সাহেব আপনি এ ক্ষেত্রে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।
জনাব এস এম বাহাউদ্দিন, আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আপনার মতো গুনী মানুষ আমি নই। বিদ্যুত নিয়ে সত্যিই দেশ বড়ো ক্লান্তিকর এক অবস্হার মধ্যে রয়েছে। সরকার কিছুতেই যেন পেরে উঠতে পারছেনা। এতো প্রকল্প এতো শর্টকাট রাস্তায় গিয়েও হিতে বিপরীত হয়ে গেল। তাই বিদ্যুত সত্যিই বড়ো অস্তিতে রেখেছে আমাদের। আপনার নিজস্ব চিন্তা ভাবনার কথা শুনে আমি অত্যন্ত ব্যক্তিগত ভাবে আশস্ত হতে পেরেছি যে নিশ্চয়ই কোন আলোকবর্তিকা আমরা পেয়ে যাবো। আপনার গবেষনার বিষয়ে যদি আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন সাহায্য করতে পারি তবে খুশি হবো। সেক্ষেত্রে আপনার গবেষনার বিষয়বস্তু আমার জানার দরকার তবে গবেষনার মুল প্রতিপাদ্যের প্রয়োজন নেই। যদি আপনি সিকিওর ফিল করেন তাহলে শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।
আপনার লেখাটি খুবই ভাল। কিন্তু এ সমস্যা থেকে বের হওয়ার উপায় কি? আজকে বিদ্যুৎ নিয়ে যে সমস্যা আমি মনে করি সেটিও আমাদের বর্তমান পচে যাওয়া রাজনীতিরই ফল। কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট যার প্রভাব পরেছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। বিদ্যুৎকেও পুজিবাদীদের পকেটস্থ করে সাধারন মানুষকে আরো ভোগান্তিতে ফেলতেই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের নামে অধিক দামে বিদ্যুত দেয়ার এই প্রস্তাবনা। সামগ্রিক রাজনীতির পরিবর্তন না হলে আমাদের মুক্তি নেই। আর তাই চলমান পঁচে যাওয়া রাজনীতির বিরুদ্ধে বৈষম্যহীন গনতান্ত্রিক রাজনীতির মঞ্চ তৈরী করা না গেলে আমরা মুক্তি পাব না।
বিদ্যুত নিয়ে আমার একটি গবেষনা রয়েছে কি করে অল্প টাকায় বিদ্যুত উৎপাদন করা যায়। আমি একটি ডিজাইনও করেছি এবং আমি আশাবাদী তাতে সফল হওয়া যাবে। কিন্তু আমি প্রকল্প নিয়ে কার কাছে যাবো? দেখা যাবে আমার ডিজাইন, প্রকল্প, মেধা এমনকি আমাকেও গিলে ফেলা হতে পারে। রাজনীতি দিয়ে রাজনীতির মুক্তি না হলে কোন কিছুই মুক্ত হবে না।
এস এম বাহাউদ্দিন আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ। অভিনন্দন জানাচ্ছি বিদ্যুৎ নিয়ে আপনার গবেষণার জন্য। সারা দেশের মানুষ যে সমস্যাটি নিয়ে কষ্টে ধুকছে আপনি তাই নিয়ে কাজ করেছেন। এখানে যে কোন উদ্ভাবন সরকারকে বিবেচনায় আনতে হবে। এ জাতীয় কাজের জন্য সবাই এগিয়ে আসার কথা। মানুষ প্রমাণে বিশ্বাস করে। তাই প্রমানটা ভালো করে দিতে হবে। আপনি যে জায়গাটিতে সংশয় প্রকাশ করতেছেন বা ভয় পাচ্ছেন এটা মাথায় না নেয়াই ভাল। আপনি মূল জায়গাটিতেই সফল হতে আরও নিষ্ঠাবান আরও নিশ্চিত হোন।
আপনার মনে আছে কি না জানি না। বান্দরবান জেলার গহীন প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক যুবক জল বিদ্যুৎ নিয়ে গবেষণা করতে করতে সফল হয়ে গিয়েছিল। ২০০২ সালের ঘটনা। তাঁর ফর্মুলাটি প্রথমে লোকজনকে বোঝাতে পারলেও ”সাসটেনটি” নিয়ে কেউ অস্থা রাখে নি বা বিশ্বাস করে নি। জেদ ধরে লেগে থাকার পর সে ছেলেটি সফল হয়ে যায়। গ্রামীণ ব্যাংক বা কোন একটা এনজিও তাকে প্রাথমিক সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে। এর পর বিষয়টি ইউএনডিপির নজরে আসে।
ইউএনডিপির টিম পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করে তার ডিজাইনটি প্রকল্প হিশেবে গ্রহন করে। তারা বুঝতে পারে এসব অতি রিমোট অঞ্চলে বিদ্যুৎ আগামী একশো বছরেও পৌঁছাবে না। পাহাড়ি ঝিরি বা শাখা নদীতে বাঁধ দিয়ে সামান্য একটি শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে সেই ছোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট তৈরি করা সম্ভব হলো। ইউএনডিপি এই ছেলেটির নামেই প্রকল্পটির নাম দিলো । ওর নাম ছিল ”অংথুঁই ক্ষয়” আর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি যতটি ইউনিট কেন্দ্র হয়েছে প্রতিটিতেই প্যাটার্ন মালিকানায় নাম দিয়ে ”অংথুঁই বিদ্যুৎ কেন্দ্র” নামে চালু হয়েছে। গভীর বনের যে দরিদ্র অধিবাসী জীবনে চাদেঁর আলো ছাড়া রাতে বড় কোন আলো দেখেনি তারা বিদ্যুৎবাতি দিয়ে ঘর আলোকিত করছে, শিশুরা বাতি জ্বালিয়ে পড়া লেখা করছে।
আপনার প্যাটার্নটি আপনার নামে যাতে হয় সে বিষয়ে মিডিয়া আপনাকে অবশ্যই সহযোগিতা করবে। যদি গরিবের জন্য সহায়ক হয় তবে আমি নিশ্চিত আপনার এগিয়ে যেতে কোন সমস্যা হবে না।
আপনি বাংলদেশের কোন অঞ্চলে বসবাস করছেন জানি না। যদি সম্ভব হয় বিষয়টি নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করুন। আমাদের প্রথম আলো প্রতিনিধি সেখানে অবস্থান করলে আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে অনুরোধ করবো। আপনি আরও একটি ধন্যবাদ পান মেঠোপথ থেকে মূল নামে ফিরে আসার জন্য। অতএব অভিনন্দন – এস এম বাহাউদ্দিন।
মি: চৌধুরি আপনার চিন্তাটি ফলপ্রসু চিন্তা হিসেবেই গণ্য। সেই সাথে আপনি জানেন ঢাকা শহরে প্রতিদিন মিলিয়ন টনের কাছাকাছি আবর্জনা সৃষ্ট হচ্ছে। এই গার্বেজ থেকে অনায়াসেই বিদ্যুত উঁপন্ন করা যায়। অতীতে সরকারগুলো শুধু এ বিষয়ে চিন্তাই করে গেছে। কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা গেলে অতিসহজে আবর্জনা বিদ্যুত ঢাকা শহরের ঘরে ঘরে পৌছে দেয়া সম্ভব। ধন্যবাদ আপনার মুল্যবান চিন্তা শেয়ার করার জন্য।
বিদ্যুতের অসহ্য অবস্থা থেকে আমাদের জনসাধারন কবে মুক্তি পাবে তা বলা খুবই কঠিন । তবে কিভাবে বিদ্যুৎকে উৎপাদন করলে উৎপাদন খরচ কম পড়বে, পরিবেশ দুষন কম হবে, এবং অধিক পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে তা নিয়ে না ভেবে তাড়াতাড়ি কিভাবে উৎপাদন করে আগামি নির্বাচনে ভোট নেওয়ার পায়তারা করা যাবে সবাই এই চিন্তাটাই করছে ।
বিদ্যুতের এই করুন অবস্থার কারনে অর্থনৈতিক ক্ষতির সাথে সাথে অনেক জীবনও বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে । এখন ভাবতে হবে কিভাবে আরও সহজভাবে এবং অল্প সময়ে সামান্য শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয় ।
আমার ছোট্ট পরিসরের একটি চিন্তার কথা শেয়ার করছি । যদি এই বিষয়টা নিয়ে ভেবে কোন কাজ করা সম্ভব হয় তবে কিছুটা হলেও বাড়তি বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে ।
যখন ঢাকার রাস্তায় প্রচন্ড পরিমান ট্রাফিক জ্যামে আমরা আটকা থাকি তখন যানবাহন থেকে প্রচুর জেনারেটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতে থাকে । এমনকি দিনের বেলায় একটি গাড়িতে যতটুকু বিদ্যুৎ প্রয়োজন তার থেকেও অনেক বেশী বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় । যদি ম্যাগনেটিভ প্রসেস বা অন্য কোন উপায়ে এই বিদ্যুৎকে আহোরন করা সম্ভব হয় তবে এই বিদ্যুৎ দিয়ে মোটামুটি ২০মেগাওয়াটের অধিক বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে । যা কিছুটা হলেও বিদ্যুতের এ করুন দশায় কাজে আসতে পারে ।
বিদ্যুতের এই করুন অবস্থার কারনে নিজের একটা কাল্পনিক চিন্তা মাত্র । তবে যদি কোন ভাবে এটা সম্ভব হয় তবে অনেকগুলো শক্তি অপচয়তো বাঁচবেই তারসাথে আমরা পাবো মূল্যবান বিদ্যুৎ । সবাইকে ধন্যবাদ ।
আপনার দেখানো পথানুযায়ী আমি আমার স্বনামে ফিরে গেলাম। ধন্যবাদ মুখোশ উম্মোচনের জন্য।
hasan Kamrul আপনাকেও ধন্যবাদ। আমাদের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলি বিশেষত যারা সেকেন্ডারি ইনফরমেশনের উপর গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে তারা সবসময় পাবলিক/ সোসাল রিসোর্স পারসনদের লেখা মতামত, সুপরিশগুলি সুনিঁপুনভাবে ব্যবহার করে। ছদ্মনাম থাকলে তাদের জন্য অনেক সুবিধা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের নিজের নামেই চালিয়ে দেয়। কেননা, কারও চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকে না। এখন আপনার লেখাটি যে ই ব্যবহার করুক তাকে রেফারেন্স কোড করে দিতে হবে। এবং তথ্যসূত্র তালিকাতেও আপনার লেখার শিরোনাম, প্রকাশের স্থান, তারিখ, নাম সবই আইনত ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়টি অনেকেই জানে না। ধন্যবাদ।
প্রিয় বদলে যাও বদলে দাও, আমি সাবলিলভাবেই বুঝতে পারছি যে আমার নিক দেয়া উচিত হচ্ছেনা কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। তবে আমার প্রস্তাব আমাকে যদি বিবেচনায় নিতে হয় তাহলে আমাকে আমার স্বনামে ফিরে যেতে হবে। আমি সেই চেষ্টা নিশ্চয়ই করবো। ধন্যবাদ আপনার সুবিবেচনার জন্য।
ধন্যবাদ বদলে যাও বদলে দাও মিছিলকে । আমরা আসলে এই কালো কুটিরের তিমির থেকে বের হয়ে আসতে চাচ্ছি। আর এক্ষেত্রে বিকল্প গণমাধ্যমকে সাহসিকতার সহিত পথচলার পদক্ষেপগুলোর প্লাটফর্ম গডে দিতে হবে। তাহলেই একদিন তিমির পেরিয়ে আমরা সত্যি সত্যি লক্ষে পৌছাতে পারবো বলেই বিশ্বাস রাখি।
swapnaabaj আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আপনার প্রতি আমাদের আরও একটি বিনীত অনুরোধ রাখছি, আমাদের এই ব্লগটি একটি বিশেষায়িত ব্লগ বা একটি সিরিয়াসধর্মীও বলতে পারেন। তাই যে সব নিবন্ধ দেশের মূলধারার অর্থনীতি ও সামাজিক সংষ্কারমূলক এবং নাগরিক প্রণোদনার প্রতিনিধিত্ব করে সে সব লেখা উপরের লীড বক্সে দিতে চেষ্টা করি। এছাড়া লেখকের ছবিটিও প্রয়োজন। আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী লেখকের মূল নামটি এখানে অধিক বিবেচনায় আনি। এটা রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয়। তাদের বিভাগীয় প্রেস রেফারেন্স নোট তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ। ছদ্ম নামের লেখাগুলি তারা গুরুত্ব দেয় না। আমরা আশা করব আপনি গুরত্বটি বুঝতে পারবেন। এরপরও আমরা আমাদের চলমান ইস্যু সংশ্লিস্ট ভালো লেখাগুলি থেকে নির্বাচন করে প্রথম আলো মূল পত্রিকায় প্রকাশ করে থাকি। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ ব্লগ লেখক কমিউনিটি থেকে একটি নতুন প্রজন্মের লেখক সমাজ গড়ে তুলতে চায়। আমরা ইতোমধ্যে ১৫ টি পর্ব ছেপেছি। প্রথম আলো প্রিন্ট মিডিয়ার বিজনেস রুলস অনুযায়ী মূল নাম দেয়া লেখাগুলি এখানে অগ্রধিকার দিয়ে থাকে। আমাদের বিশ্বাস আপনি বিয়টি আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করবেন। আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের বিনীত দৃষ্টিআকর্ষণ করছি। লেখক (swapnaabaj) এই নিবন্ধের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিকদের মনের কথাই তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের মানুষ এই সেক্টরটির সেবা নিয়ে প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা করে থাকে। তাদের কথা শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের দরজা পর্যন্ত পৌঁছায় না। সরকার ব্যবস্থায় এমন এক সংস্কৃতি দাড়িয়েঁছে যে, কে কার কথা শোনে? বদলে যাও বদলে দাও মিছিল লেখকের বিশ্লেষণের সাথে একমত পোষণ করে। আমরা চাই এই সেক্টরটির সকল কাজ, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রকৃত অর্থে স্বচ্ছ ও জবাদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এটি একটি মুক্ত নাগরিক মঞ্চ, সব সময় দেশ নিয়ে, দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলে। পরিবর্তনের কথা বলে। আমরা দেশের মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বিদ্যুৎ নিয়ে আবিরাম কথা বলে যাব। আমরা এই বিদ্যুৎ চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছি।