অনেক পুরুষ বাসের মধ্যে নারীদের সমঅধিকারের অজুহাত তুলে মহিলাদের আলাদা সিটের ব্যবস্থাকে বিরোধিতা করেন। কোন মহিলা যদি মহিলা সিট উপেক্ষা করে সাধারণ সিটে বসে সেটাও অনেকে মেনে নিতে পারেন না। তাদের বোঝাতে পারিনা সাধারণ সিটগুলো নারী-পুরুষ সবার জন্য। আর মহিলা-শিশু প্রতিবন্ধিদের জন্য সংরক্ষিত হিসেবে থাকা সিটগুলো বরাদ্ধ থাকে সংশ্লিষ্টদের জন্য। কিন্তু মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও অনেকসময় তারা সিটগুলো পায়না।
বাসে মহিলা সিটগুলো পুরুষ কর্তৃক দখল নেয়ায় রাস্তা থেকে মহিলাদের বাসে তোলা হয়না। হেল্পাররা বলে সিট নেই। মহিলারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে দেখে তাদের সিটগুলোতে পুরুষরা বসে আছে। আবার অনেক পুরুষ মহিলা সিটে বসার পরে হেল্পারদের সতর্ক করে রাখে- তারা যেন বাসে মহিলাদের না ওঠায়। বলে- ‘ওই.. মহিলা ওঠাইস না।’
ঐ সকল পুরুষদের বলতে চাই- ‘নিজ ঘরে মা-বোন নেই?’ একথা বলে সরল ও পুরাতন যুক্তি দেখাতে চাই না। আপনারা সমঅধিকারের কথা তুলে নারীদের নির্ধারিত সিট দিবেন না, কিন্তু সমঅধিকার কি সবেক্ষেত্রে দিয়েছেন? বা দিতে চান?
নিজের পরিবারে স্ত্রীদের; বোনদের সমঅধিকার দিয়েছেন? পুরুষরা নিজেরা অফিস করে রাত দশটায় বাসায় ফিরতে পারেন। কিন্তু নারীরা রাত দশটায় বাসায় ফিরতে পারে না। এক. স্বামীর বাঁধা। দুই. রাত দশটার পর নারীরা ঘরের বহিরে নিরাপদ নয়। কিন্তু কেন নিরাপদ নয়, তা-কি ভেবে দেখেছেন কখনও। পুরুষরাই পথে ওৎপেতে বসে থাকে। এসব ক্ষেত্রে কি সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন?
২০১১ সালে বাংলাদেশে নারীর বাস্তব অবস্থার একটা চিত্র দেখা যাক:
× ২০১১ সালে ধর্ষনের শিকার হয়েছে ৩৫১৬ জন কন্যাশিশু ও নারী।
× ৩৫২৩ জন নারী স্বামী কর্তৃক সহিংসতার শিকার হয়েছে ২০১১ সালে।
× ৪৭ শতাংশ কন্যাশিশু ও নারী প্রতিদিন তাদের বাড়িতেই শারীকি নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২০১১ সালে।
× ২৮১৪ জন নারী যৌতুকের কারণে সহিংসতার শিকার হয়েছে ২০১১ সালে।
শতকরা ৭০ ভাগ নারী পুষ্টিহীনতায় ভুগছে
লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে ৬৭ শতাংশ গর্ভবতী নারী গর্ভকালীন সময়ে পরিচর্যা পায় না। যদিও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে নারীর অবস্থান উন্নয়ন ঘটেছে কিন্তু গর্ভকালীন সময়ে মা সঠিক যত্ন ও পুষ্টি পায় না। ফলে পসূতির মৃত্যুর হার অনেক বেশি।
× ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা সংক্রান্ত ৮০০০ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
× প্রায় ৮০০ নারী প্রতিমাসে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
বাসের হেল্পাররা বলে, মহিলা সিট নেই যাওয়া যাবেনা। তখন মহিলারাই বলে- আমি/আমরা দঁড়িয়ে যাবো, সিট লাগবে না। তবুও তাদের বাসে ওঠানো হয় না। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় বাস পেতে। তবে অনেক বড় আশার কথা এই যে, অনেক মহিলারা বাসের মধ্যে সিট ছাড়া দাঁড়িয়ে যাওয়ার শক্তিটুকু অর্জণ করেছেন। এটা নারীদের জন্য অনেক বড় একটি মানসিক শক্তি অর্জন।
এখন দেখা যাক, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত সিট কেন রাখা হবে। অনেকেই বলতে পারেন, সারদেশে- সারাবিশ্বে যেখানে নারী-পুরুষের সমঅধিকারের কথা বলা হচ্ছে সেখানে আলাদা সিট বরাদ্ধ কেন?
– মহিলারা বাসের মধ্যে দাঁড়ালে অন্য পুরুষরাও পাশে দাঁড়ায়; বেশি ক্লোজ হয়ে পাশে দাঁড়াতে চায়, একাধিক পুরুষ নারীটির পাশে দাঁড়ায়; নারীর শরীর স্পর্শ করতে চায়; বিভিন্ন অজুহাতে নারীর শরীরে স্পর্শ করে। বাসের মধ্যে বা অন্য কোন স্থানে, জনাকীর্ণ স্থানে অনেকগুলো পুরুষের মধ্যে যদি দুই একটি মেয়ে পড়ে যায়, ঐ পুরুষগুলো তখন আর স্বাভাবিক থাকেনা; হয়ে ওঠে ’হায়েনা’।
দেখা গেলো নারীর শরীর তার নিজের নয়; নিজের শরীরের উপর তার নিয়ন্ত্রণ নেই। এই হলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। বাসের মধ্যে আমরা নারীদের সন্মান না দিতে পারি কিন্তু তাদের যেন লাঞ্ছিত না করি।
আমার দেখা একটি ঘটনা :
কয়েকদিন আগে গুলিস্থান থেকে বাসে উঠেছি, রাত সাড়ে ৮ টার দিকে। কিছুক্ষণ পর দুইজন তরুণীও বাসে উঠেছেন। ডাইভারের পিছনের সিটে বসেছেন। বাস কিছুক্ষণ চলার পর সেই তরুণীদের পিছনের সিট থেকে একজন মধ্য বয়স্ক লোক উঠে দাড়িয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তার সামনের সিটের একজন তরুণী দাঁড়িয়ে লোকটিকে যা ইচ্ছে বলছে। প্রথমে শুরু করেছে আপনার সমস্যা কি? পরে বলল- এই বয়সে এসেও মানসিকতা ঠিক করতে পারলেন না? ইত্যাদি….। লোকটি এতক্ষণে বাস থেকে নেমে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। মেয়েটির বকা-ঝকায় লোকটি তেমন কোন উত্তর দিতে পারছেনা। তাতেই বোঝা যায়- সে দোষী।
বাসের বাম দিকের সিটে বসা আরেক লোক মেয়েটিকে প্রশ্ন করতে লাগলো- কি সমস্যা? আপনার কি হয়েছে? ওনি আপনার কি করেছে? পিছন থেকে আমার আর বুঝতে বাকি নেই সমস্যাটা কী ধরণের। আমি বললাম- লোকটিকে দাড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করুন কি হয়েছে? ততক্ষণে লোটি বাস থেকে নেমে গেছে। এবার বামদিকে বসা সেই লোকটি মেয়েটিকে জেরা করা শুরু করেছে। লোকটি প্রশ্ন করলো, আপনার কি হয়েছে, ওনি আপনার কি করেছে?
মেয়েটি বলল- আমি মুখে বলতে পারছি না।
লোকটি বলল- সমস্যা কি হয়েছে বলবেন না?
আমি বললাম- সব কথা মুখে বলার দরকার হয় না, বোঝাই তো যাচ্ছে। (আমি কিছুটা পিছনের দিকে থাকায় বাসের শব্দে কথাটি হাওয়ায় মিলে গেলো।)
মেয়েটি বলল- লোকটি আমার পিছনের সিটে বসেছিলো, এখন বোঝেন সে কি করতে পারে?
তবুও অসভ্য লোকটি মেয়েটির মুখ থেকে না শোনা পর্যন্ত ক্ষান্ত হচ্ছিল না।
লোকটি আবার বলল- আপনার কি করেছে তা বলবেন না, আবার বাসের মধ্যে চেঁচামেচি করবেন ?
মেয়েটি না পেরে বলতে বাধ্য হলো এবং বলল- লোকটি পেছন থেকে সিটের পাশ দিয়ে হাত দিছে। (এই বলে মেয়েটি বলে সিটে বসে পড়ল)
এরই মধ্যে ঐ জেরাকারী লোকটির সাথে আরও দুই একজন যাত্রী যোগ দিয়ে বলল- ’বাস থেকে নামার সময় মাথায় হাত লাগতেই পারে।’
তখন নিজে বসে ভাবছি.. আর আমার পাশে বসা যাত্রীকে বললাম- দেখেন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। মেয়েটি প্রতিবাদ করেই দোষী হয়ে গেল। আর মেয়েটির শুধু মাথায় হাত লাগলে মেয়েটি নিশ্চয়ই দাঁড়িয়ে ঐ মধ্য বয়সি লোকটিকে এত বড় বড় কথা বলতো না! প্রতিবাদ করতো না!
কয়েকজন পুরুষ লাঞ্ছিত হওয়া মেয়েটির বিরুদ্ধে গিয়ে বোঝাতে চাইছে, এত রাতে আপনি বাহিরে কেন? (তা বুঝতে বাকি নেই)
মেয়েটি একবার লাঞ্ছিত হলো, আরও একবার লাঞ্চিত হয়েছে- ’লোকটি কি করেছে আপনাকে?’ তা জানতে চেয়ে বার বার জেরা করার সময়, অর্থাৎ মানসিকভাবেও তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।
এ সমাজ কিভাবে পরিবর্তন হবে তা বুঝে উঠতে পারি না….
আল মাসঊদ খান






এসব সমাজ বেবস্থার জন্য আমাদের সরকারই দায়ী। কেন নারি রা এতো অবহেলিত হবে? আমি ইন্ডিয়া তে দেখেছি, ওখানের নারীদের অনেক সম্মান, ওদের সরকারই এই বেবস্থা করে দিয়েছে। আমাদের দেসের নারীরা সবসময় অবহেলিত। সরকার ের প্রতি একটাই অনুরধ , দেশ চালাচ্ছেন,চালান কিন্তু নারী পুরুষ সবাই যেন সঠিক সুবিধা পাই তার দিকে খেয়াল রাখুন। দরকার হলে ইন্ডিয়া তে গিয়ে ওখানের রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে সিখে আসুন, ইন্ডিয়া আমাদের দেশ থেকে অনেক উন্নত। আমি এসব বলছি কারন আমি আমার প্রিয় দেশকে ভালবাসি, আমিও চাই আমাদের দেশটা উন্নত হোক…।।
Mr. Ananda Dhar ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
আসুন, আবার আমরা প্রাণবন্ত আলোচনা ও মন্তব্যে ফিরে আসি। গত দুই দিন ধরে একটি বিষয় আলোচনায় ছিল- সে বিষয়ে ‘বদলে যাও বদলে দাও মিছিল’ এর ব্লগ সঞ্চলক একটি ‘জরুরী নোটিশ’ দিয়েও তার সমাধান করে দিয়েছেন। ধন্যবাদ ‘বদলে যাও বদলে দাও মিছিল’ কে।
ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি !!!
একটি বিষয় লক্ষ করলাম-”বাসে নারী লাঞ্ছিত হয়, নির্যাতিত হয়” শিরোনামে লেখাটি গত জুন 20th, 2012 তারিখে প্রকাশিত হয়। আমি যতটুকু জানি, সব পোষ্ট/লেখাগুলো আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকে, কিন্তু আমার উক্ত লেখাটি আর্কাইভে ছিলোনা এবং এখনও নেই। লেখাটি প্রথমে ‘প্রচ্ছদ’ -এর চলতি আলোচনায় ছিল। এখন শুধু ‘Author Archive’ এ ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
বুঝতে পারছি না, আমার কোন ভুল হচ্ছে নাকি অন্যকোন সমস্যা।
জনাব আল মাসুদ আপনাকে ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য। তবে আমি কাউকে সরাসরি আক্রমন করার জন্য কথাটা বলিনি। আমি বলেছি, যে ছেলেটা একজন ইভটিজার, সেতো অবশ্যই কোন না কোন মায়ের সন্তান। সুতরাং তার বখাটেপনার জন্য তার বাবা মায়ের অবশ্যই ভূমিকা রয়েছে। এটা কোন সুস্থ্য মানুষ এড়াতে পারবেন না। আর সন্তান জম্ন থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত বাবার থেকে মায়ের ভূমিকা অনেক বেশি। একথা সর্বজন স্বীকৃত এবং এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। সুতরাং এখানে দ্বিমত করার কোন যু্ক্তি আমি দেখিনা। আমার একটা মন্তব্য থেকে অনেক গুলো কাঙ্খিত! মন্তব্য এসেছে। আমি মনে করি এটাই স্বাভাবিক। সোজা সাপ্টা কথা সবাই বলতে পারেন না। কারন প্রগতি ও আধুনিকতার নামে এখন চলছে মিথ্যাচার ও লোক দেখানো ভন্ডামি। আবারো ধন্যবাদ সবাইকে।
আহমেদ ইউসুফ
ঢাকা, ২২ জুন ২০১২ ইং।
তথ্যবহুল লেখাটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।@ Al Masud
আপনাকেও ধন্যবাদ Farhana Zaman Liza, সুন্দর করে আরেকটি বাস্তব ঘটনা তুলে ধরে উদাহরণ স্বরুপ দিয়ে আপনি পুরুষতন্ত্রের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। এজন্য আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ জানাই।
এ ধরনের ঘটনা আমাদের চারপাশে প্রায়ই ঘটে, যা হয়তো আমাদের জানা হয় না। তবে বিষয়টা খুবই দু:খজনক।
ধন্যবাদ লেখক এবং সকল মন্তব্য প্রদানকারিদের। প্রথমেই বলতে চাই আমি লজ্জিত। তবে সব পুরুষই তো আর এক নয়। অনেককেই দেখছি পুরুষ বিদ্বেষী। এটা ঠিক নয়। যারা যৌন হয়রানি করছে তারা কখোনোই শুধরাবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ তাদের বেইজমেন্ট ভাল নয়। তাদের জন্য দায়ী তাদের বাবা-মা। আবার তাদের বাবা-মা’র জন্য দায়ীও তাদের বাবা-মা। শিক্ষা নয় সু-শিক্ষার অভাব। অসুস্থ মনমানষিকতা যে পরিবারের সে পরিবারে আমরা ভাল কোন সন্তান আশা করতে পারি না। আর ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা কথা বলছে। তাদের কে সাবধান করতে চাই। আগে জানুন শিখুন তার পর মন্তব্য / কোট করুন। ধন্যবাদ সবাইকে।
Mr. anisuzzaman anis, আপনার লেখাটি ফন্ট মিসিং করেছে; আপনি লিখেছেন নিচের লেখাটি:
”ধন্যবাদ লেখক এবং সকল মন্তব্য প্রদানকারিদের। প্রথমেই বলতে চাই আমি লজ্জিত। তবে সব পুরুষই তো আর এক নয়। অনেককেই দেখছি পুরুষ বিদ্বেষী। এটা ঠিক নয়। যারা যৌন হয়রানি করছে তারা কখোনোই শুধরাবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ তাদের বেইজমেন্ট ভাল নয়। তাদের জন্য দায়ী তাদের বাবা-মা। আবার তাদের বাবা-মা’র জন্য দায়ীও তাদের বাবা-মা। শিক্ষা নয় সু-শিক্ষার অভাব। অসুস্থ মনমানষিকতা যে পরিবারের সে পরিবারে আমরা ভাল কোন সন্তান আশা করতে পারি না। আর ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা কথা বলছে। তাদের কে সাবধান করতে চাই। আগে জানুন শিখুন তার পর মন্তব্য / কোট করুন। ধন্যবাদ সবাইকে।”
thanks Al Masud. but how do u know? anyways, and thank u for being very active in blog.
Mr. anisuzzaman anis also thanks to you. Its very easy, you may go under address and follow the options…
http://bnwebtools.sourceforge.net
ধন্যবাদ anisuzzaman anis,
আপনি বেশ কয়েক জায়গায় পুরুষ বিদ্বেষী কথা লিখেছেন, এ বিষয়ে আমি বলবো-পুরুষ বিদ্বেসী হওয়ারও দরকার আছে। প্রায় প্রতিদিন নারী-কিশোরীরা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। স্বামী নির্যাতন করছে স্ত্রীকে, যৌতুকের টাকা বা কখনও মাদকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে খুন পর্যন্ত করছে। বর্তমান অবস্থা দেখলে মনে হচ্ছে নারী শ্বাসিত সমাজ ব্যবস্থা থাকলে নারীরা আর নির্যাতিত হতো না। আর বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ আর স্বপ্নই থাকতো না।
মাসুদ ভাই মণ্তব্যটা কি?এখন প্রায় বারোটা বাজে।ভোরে ঢাকার বাইরে যাব।পরে দেখে নিব মণ্তব্য টা।
আপা নূসরাত আলম,
সে ব্যাপারে Farhana Zaman Liza এবং hossain.farhana লিখেছেন।যাইহোক, আপনি ভাল থাকবেন।
মহিলাদের জন্য যদি আলাদা কিছু বাস সার্ভিস চালু করা যেত তবে অত্যন্ত ভালো একটি পদক্ষেপ হতো সেটি।
একমত পোষন করছি।
জনাব সাফায়াত আমিন, অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলছি, মহিলাদের জন্য যদি আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা হয় তবে তো তা, ‘রোগ কে না, রোগীকে বর্জন’ হয়ে গেলো। তা কেন? আমরা কি নিজেরা বদলাতে পারি না? নারীকে তাঁর প্রাপ্য সন্মান দিতে পারি না? পায়ে ঘা হলে আমরা কি পা কেটে ফেলি? না, ঘা সাড়িয়ে তুলি। চলুন না সকলে মিলে সমাজের অসুখটাকেও সাড়িয়ে তুলি। ধন্যবাদ।
বোন আফসানা আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা একথা নিশ্চয়ই জানি যে, প্রতিশেধকের চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেয়। আর নারী পুরুষের আকর্ষন চিরন্তন ও সার্বজনীন। একথা আমরা অস্বীকার করতে পারিনা। সুযোগ সন্ধানী বিকৃত রুচির কিছু পুরুষদের জন্য শুধু বাসের মধ্যে কেন নিজের বাসায় ও নারী নিরাপদ নয়। তবু আমি মনে করি নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা উচিত। কারন আমাদের দেশের বিকৃতমনা পুরুষরা মন্ত্রবলে আর রাতারাতি মহাপুরুষ হয়ে যাবেন না। এক্ষেত্রে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু হলে নারীরা মোটামুটি নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন বলে আশা রাখি। ধন্যবাদ আফসানা । ভালো থাকবেন।
আহমেদ ইউসুফ
ঢাকা, ২৭ জুন ২০১২ ইং।
Mr. Ahmed Yousuf ধন্যবাদ সুন্দর বন্তব্যের জন্য।
আপনি ঠিকই বলেছেন, আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা মানে সেই-ই নারীকে মানুষ থেকে আলাদ করে দেখা যা আপনাদের কে শুধু অসন্মান করা হয়না বরং ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা। তবে বিকৃত মানসিকতার পুরুষ নামক অমানুষদের হাত অনেক নারীকে শুধুই একটু নিরাপদ রাখতে আলাদা বাসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আর মানসিকতা পরিবর্তন সেতো অনেক সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ মানুষের মনে নারীদের বিরুদ্ধে অনেক ধর্মীয় বিশ্বাস সঠিক এবং ভুলভাবে গেঁথে আছে মানুষের মনে। আরও আছে কুশিক্ষা, ভুল-ধারণা এবং সর্বোপরী পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা আর আমাদের সমাজ ব্যবস্থা।
তবে আশার কথা নারীদের অধিকার সম্পর্কে বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ সচেতন হয়েছে এবং হচ্ছে।
ধন্যবাদ -আফছানা বেগম অর্থী
That’s a wrong idea, we have to look forward to solve the problem, not to hide or avoid the problem, thank you.
অনেক অনেক ধন্যবাদ,সত্য আপনি প্রশংসা পাবার যোগ্য,নারীরা অধিকার তত দিন পাবেনা যত দিন আপনার মত পুরুষরা পাশে না দাড়াবে,আমি চিনৃতা করেছিলাম নারীদের যাতায়াত সমস্যা নিয়ে লিখব.আপনি ঠিক বলেছেন নারীদের রাতে বাড়ী ফেরার পখে বাধা পুরুষরা,কিনৃতু জীবনের প্রয়োজনে নারীকে রাতে বাড়ী ফিরতে হয়,যেমন আমার ১ পরিচিত লোক মারা যান ৪মেয়ে রেখে,যার কোন ছেলে ছিলনা, তাদের যে কোন প্রয়োজনে রাত করে বাড়ী ফিরতে হতে পারে,আপনি যে বাসের ঘটনা বললেন সে রকম ঘটনা হামেসা ঘটে কিনৃতু কয়জন প্রতিবাদ করার সাহস পায়,আমরা যখনhigher secendery তে পড়ি তখন আমরা ১স্যারের অংক পড়তাম ,স্যারের অনেক ঘটনা আমরা শুনেছি,দেখেছি পড়া দেখিয়ে দেয়ার অজুহাতে মেয়েদের গায়ে হাত দিত,আমরা যারা জানতাম তারা সব সময় দূরে বসতাম যারা জানতনা তারা হজম করত,কোন মেয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি কারন স্যারের হাতে ছিল ব্যবহারিকের নামৃবার,বলুন মেয়েরা কোথায় নিরাপদ?
,
আসলে নারীদের প্রতিবাদী হতে হবে, সংগঠিত হতে হবে। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মতো মানসিক শক্তি অর্জন করতে হবে। লম্পট পুরুষদের কাছে মাথা নত করে মেয়েদের দুর্বলচিত্তের পরিচয় দেওয়া বর্তমান সভ্য জগতে আর সাজে না। কাজেই আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা আপনাদের মেয়ে- বোনদের কে মানসিক শক্তি জোগাতে সর্বদা সাহায্য করুন যাতে তারা বখাটে ও লম্পট মানসিকতার পুরুষদেরকে কোন রকম লাঞ্চণা ও নির্যাতন করার সুযোগ না দেয়। সবাই না হলেও বর্তমানে অনেক পুরুষ নারীদের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন। সবসময় বলতে চাই- পৃথিবীটা শুধু পুরুষের না, নারীরও। ধণ্যবাদ Ms. sarmin sultana ভাল থাকবেন।
sarmin sultana আপনি মন্তবে লিখেছেন, নারীদের যাতায়াতের সমস্যা নিয়ে আপনি লিখবেন। তাই আমি অনুরোধ করছি, আপনি আপনার জানা সমস্যা গুলো লিখে ফেলুন আপনার মতো করে। একটা বিষয় নিয়ে অন্য একজন লিখে ফেললে কিন্তু সেই লেখার বিষয়ে আর কিছু লেখার থাকেনা এমন নয়। Fahmida Ali এই প্রসঙ্গে “ইভ টিজিং কোথায় হয়না?” শিরোনামে একটি সুন্দর লেখা লিখেছেন।
এই ব্লগে আপনি আপনার প্রথম পোষ্টে “একটি নতুন প্রস্তাব” শিরোনামে কুসংস্কার বিষয়ে লেখার আহবান জানিয়েছিলেন, তার প্রেক্ষিতে আমি একটা লেখা পোষ্ট করেছিলাম শিরোনামটি ছিলো-’কুসংস্কার যখন মানুষের জন্য ক্ষতিকর’ পড়েছিলেন কিনা জানিনা, নিচের লিংকটিতে গিয়ে পড়তে পারেন, ভাল লাগবে বলবেন উক্ত বিষয় নিয়ে আরো লেখা-লিখি করা যাবে।
http://www.bodlejaobodledao.com/archives/author/al-masud
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আল মাসঊদ খান, এই লেখাটার জন্য। প্রতিনিয়িত আমরা ঘরে-বাইরে এভাবেই লাঞ্ছিত, নির্যাতিত হই। মুখ ফুটে বলতে গেলেই সন্মান হারাই, তাই অনেকেই মুখ বুজে নীরবে সহ্য করি, করতে বাধ্য হই। আমাদের এই সমাজব্যবস্থা্, আর আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। দরকার নারীর প্রতি নিজস্ব সমিহবোধ তৈরি করার।
Fahmida Ali ধণ্যবাদ আপনাকে,
নারীদের উচিত যেকোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা বিশেষ করে নারীদের সন্মান ও অধিকারে কোন বত্যায় ঘটলে যতটুকু সম্ভব সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ করা।
ইভটিজিং বিষয়ে আপনিও একটি ভাল লেখা পোষ্ট করেছেন তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
দুঃখিত আল- মাসুদ ভাই, আমি অনেক বড় একটি ভুল করে বসেছি। আমি ভেবেছি লেখাটা নুস্রাত আপুর।তাই অনাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্ব্য লিখেছি।বিনিতভাবে ক্ষমা চাইছি ভাইয়া।আসলে একদমই ভুল বশত এত বড় একটা অঙ্কাঙ্খিত ব্যাপার ঘটিয়ে ফেললাম।ক্ষমা প্রার্থী ও খুবই লজ্জিত।
ধন্যবাদ Ms. hossain.farhana, আপনি ছোট্ট একটি টেকনিক্যাল ভুল করে ফেলেছেন তাই এজন্য ক্ষমা চাওয়ার মতো কোন বড় ঘটনা মনে হয় ঘটেনি। আর এখানে তো এধরনের ভুল সঙ্গে-সঙ্গে ধরা পড়ে তাই বড় কোন সমস্যা হয় না। আপনি এত বিচলিত হবেন না। আরেকটি মন্তব্যের ব্যাপারে কিছু লেখার জন্য ভাবছি।
ভাল থাকবেন।
প্রিয় hossain.farhana আপনাকে তবু ও ধন্যবাদ।আপনার ভুলটা বড় কোন ভুল নয়।অশেষ ধন্যবাদ।
প্রিয় নুসরাত আলম,
আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দেই এত সুন্দর একটি পোস্ট লেখার জন্য তা বুঝে উঠতে পারছিনা।আর আপনি প্রশনশার দাবিদার ওইদিন বাসে ওই মেয়েটির হয়ে সচেতনভাবে কথা বলার জন্য।বিনীত ধন্যবাদ আপনাকে।এইরকম নোংরা কাজ যারা করে তাঁরাও মানুষ আর আমিও মানুষ এমন মিলটার জন্যও আমার মাঝে মাঝে লজ্জা হয়।
Al Masud ভাইয়ার প্রস্তাবটা ভালো।তবে আমি মনে করি আমাদের কুরুচিটাকে সুরুচিতে পরিবর্তন করতে পারলেই আলাদা ব্যাস সার্ভিস কেন আলাদা মহিলা সিটেরও প্রয়োজন নেই।তবে Al masud ভাইয়াকেও ধন্যবাদ এভাবে উদার মনোভাব নিয়ে ভাবার জন্য।
এত সুন্দর এবং বাস্তব লেখার নিচে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্ব্য দেখে সত্যি আহত হলাম।বদলে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে বদলে যাওয়ার মিছিলে যোগ দিয়েও যারা মেয়ে তথা মায়েদের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চায় এই সকল নোংরামির জন্য তাঁর জন্য আমি করুনা অনুভব করছি।তাঁর পাশাপাশি ভাবছি এই যে বদলে যাওয়ার জন্য প্রত্যয়ী হয়েও একজন বদলাতে পারছেনা এর জন্য তাঁর মাতাকে দোষ দেয়া কি অমানবিক হবেনা? আমি মনে করি হবে।তাই তাঁর জন্য রইল আমার অশেষ করুণা।আপনি শুনে অবাক হবেন যে আমি একটি লেখায় ইভ-টিজিং নিয়ে মন্তব্ব্য পড়েছি-” ঐশী গ্রন্থে পুরুষকে নারীর উপরে স্থান দেয়া হয়েছে।আর আমাদের যারা নবী ছিলেন তাঁরাও কেউ নারী ছিলেন না।তাই নারীর অবস্থান পুরুষের পরে”।ওইদিনও ঐ মন্তব্ব্যকারীর প্রতি আমার করুণা হয়েছিল।আমি ওইদিন আর মন্তব্ব্য করনি যে কথা এখন পবিত্র নবীদের নিয়ে নয়, কথা হচ্ছে মানুষ নিয়ে।আমি ওইদিন এও বলিনি যে ইসলাম ধর্মে বর্ণিত অন্যতম ইসলামের শত্রুর নাম ছিল-“ ফেরাউন” ও একজন পুরুষ ছিলেন।তাঁর জন্য কি পুরুষদের স্থান নিম্নে নেমে যাবে।তা কিন্তু নয়।যে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে, সে মানুষে বিশ্বাস করে, মানুষের মাঝে ভেদাভেদে নয়।আজ আপনার চমৎকার লেখায় সেই একই করুনার পাত্রের মন্তব্ব্য দেখে আর থামতে পারলামনা।লিখেই ফেললাম মনের কথা।এবং এই রকম করুনার পাত্রদের জন্য বলছি-শিক্ষা আর সু-শিক্ষার মধ্যে অনেক বেশি তফাত। আর তাঁর চাইতেও শতগুন বেশি তফাত রয়েছে শিক্ষা আর কু-শিক্ষার মাঝে।
নুসরাত, আপনার জন্য একটি সুখী শুস্থ জীবন কামনা করছি।
বোন হোসাইন ফারহানা আপনার করুনা আমার জন্য তথা সকল করুনার পাত্রের জন্য মঙ্গলময় হোক এ প্রার্থনা করছি। বর্তমানে দেশের প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেল কলেজের দিকে তাকালে আমরা শিক্ষা ও সু-শিক্ষার তফাৎটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। খুন-জখম ও ধর্ষন এমনকি ধর্ষনে সেঞ্চুরীর মোহাৎসব করতে দেখি আমাদের তথাকথিত শিক্ষিত সমাজকে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়ালেখা করে তারা কতটুকু সু-শিক্ষিত হচ্ছে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। দিনের আলোতে কিংবা সন্ধ্যার আলো-আধারীতে ওই সব জ্ঞানপাপীদের অশ্লীলতার চর্চা সচেতন বিবেককে স্তম্ভিত করে।
(এ বিষয়ে আমার একটা কবিতা এখানে উদ্ধৃত করছি) এছাড়াও প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিকাকে খুন, বন্ধুর ল্যাপটপ ও টাকা হাতানোর জন্য বন্ধুকে খুন, প্রতিপক্ষ দলের ছাত্রনেতাদের ভবনের ছাদ থেকে ফেলে আহত করা, হিংস্র কুকুরের সামনে সহপাঠীকে ছেড়ে দিয়ে হত্যায় তথাকথিত সু-শিক্ষিতরাই প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। সুতরাং শিক্ষা ও সু-শিক্ষার মধ্যে অনেক পার্থক্য সে কথা আমি মানছি। আর কু-শিক্ষা জিনিসটা এমনই যে, এটা কেউ শেখায় না। সময়ের বিবর্তনে, লোভে-মোহে কিংবা চিরন্তন ভালোলাগায় ব্যক্তি বিশেষের শিক্ষা ও সভ্যতা কু-শিক্ষায় রুপ নেয়। আর কু-শিক্ষা অর্জনের জন্য কোন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয় না। সুতরাং কে সু-শিক্ষিত আর কে কু-শিক্ষায় শিক্ষিত তা বলাটা মোটেই সহজ নয়।
“প্রাচ্যের অক্সফোর্ড”
কেৌতুহল বশত একদা লগনে
গিয়েছিনু ঢাকা ভার্সিটি কাননে।
জ্ঞানের বিশাল রাজ্যে
রাজা মন্ত্রীদের ভীরে
আমি তো অসহায়, ভীত পামর
ঘুরিফিরি ইতস্তত অবান্তর।
সন্ধানী চোখে, বিরস মুখে
ক্যাম্পাসে হাটি
খড়তপ্ত রেৌদ্রের মাঝে।
চর্মচক্ষেই দেখলাম কত
আজব কিসিমের জীব
যুগলবন্ধী কপোতের দল।
জটলা ভীষন ছেলে আর মেয়ে
কে কার বোঝা মুশকিল
এমনই দুরাচার সব।
দেখলাম এখানে আজ
সভ্যতা আর নৈতিকতার শব।
আবারো ধন্যবাদ হোসাইন ফারহানা। ভালো থাকবেন।
জনাব Ahmed Yousuf,
আমার করুণা সবসময় কিছু অবিবেচকদের জন্য রইবে এই ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন।এই করুণা তখনও রইবে যখন আমার হাতে কলম থাকবে, এই করুণা তখনও রইবে যখন আমি অস্থি-চর্মসার এক বৃদ্ধা হয়ে যাব যে কলমটা ধরে রাখার কোন শক্তি পাবেনা।আমি বলতে চাইছি মানবিক অনুভব জিনিসটা আপেক্ষিক।হ্যা, শিক্ষা একটি বড় অস্ত্র যা মানবিকতা তথা মনুষ্যত্বকে শাণিত করে।কিন্তু তাঁর মানে কিন্তু এই নয় যে শিক্ষা সকল অন্ধকার দূর করে দেবে।আমরা বই এ পড়েছি-“সদা সত্য কথা বলিবে”।কিন্তু একটা মানুষ যখন মৃত্যু সজ্জায় থাকে তাঁর জন্য সত্য কি হবে?-“তুমি মরে যাচ্ছ, মৃত্যু যন্ত্রণা সবচে ভয়াবহ” নাকি স্রষ্টার নাম নাও, স্রষ্টার দয়ায় সব ঠিক হয়ে যাবে” এমন কোন সান্ত্বনাবাণী।আমার সুশিক্ষা ও স্ব-শিক্ষা বলে শাব্দিক সত্য প্রথমটা হলেও মানবিক সত্য দ্বিতীয়টি।এবং শত মানুষ শত যুক্তি দেখালেও আমার বোধ এটাই বলে যে আমি দ্বিতীয় উক্তিটাকেই এমন পরিস্থিতিতে সত্য বলে জানব।আবার একজন চোর যদি চুরি করে আপনার কাছে লুকাতে আসে আর মানুষ যদি প্রশ্ন করে- “চোরটাকে কি দেখেছেন?” তখন সত্য কি হওয়া উচিৎ?চোরটা যদি ক্ষুধার তাড়নায় নিতান্ত নিরুপায় হয়ে চুরি করে তখন কিন্তু বিবেক একবার হলেও চোরটার পক্ষে যুক্তি দেখাবে।আর যদি সে এক দরিদ্র ব্যক্তির শেষ সম্বল চুরি করে নিয়ে আসে, তাহলে কিন্তু সাথে সাথে ধিক্কার দিয়ে আপনি বলবেন-“চোর দেখেছি মানে!এই তো ওর চুলের মুঠিটা আমার হাতেই”।এই হচ্ছে সু-শিক্ষা তথা স্ব-শিক্ষার কিছু দিক যা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড কেন খোদ পাশ্চাত্যের অক্সফোর্ড ও কাউকে শেখাতে পারবেনা।শিক্ষাটা বোধে,অনুভূতিতে, মননে, মানবিকতার বিকাশে।বুয়েট, ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আজীবন ঘুরে জুতোর শুকতলি ক্ষয় করে ফেললেও বোধ করি কিছু করুনার যোগ্য মানুষ এই শিক্ষা লাভ থেকে বিরত থাকবে।আর শুধু কেন এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বলছেন?আমাদের দেশে অহরহ পত্রিকায় খবর আসে যে ধর্মান্ধ কিছু ফতোয়াবাজ কিভাবে ফতোয়া দিয়ে দোররার আঘাতে রক্তাক্ত করে মানুষের দেহ, হিল্লা বিয়ে পরায়, একঘরা করে মানুষকে, মানুষের চুল ন্যরা করে মুখে চুন কালই মাখিয়ে দেয়।আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে এই সকল ফতোয়াবাজি অনেকগুলোই হয় মসজিদ প্রাঙ্গনে।এখন কি মসজিদ নিয়ে এমন কোন কাব্য রচনা করবেন?করা কি উচিৎ?কিছু পশুসম ফতোয়াবাজের জন্য যেমন মসজিদের পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন করা অমূলক, তেমনি কোন কপোত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে কি করছে তা বিবেচনা করে এই সকল প্রতিষ্ঠানে পড়া মানুষদের জ্ঞান তথা শালীনতাবোধ নিয়ে কাব্য রচনা করাও অমূলক, অবিবেচনার পরিচায়ক এবং বোধ করি অনেকাংশে বোকামি।
ধর্ম মানে কিন্তু কোন শাস্তি নয়, শেকল নয়, শেকেলে মনোভাবও নয়।ধর্ম মানে জীবন আদর্শ।সময়ের সাথে সাথে কিন্তু জীবনের নানা পর্যায়ে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়।আর সে জন্যই কিন্তু মানুষ সৃষ্টির শেরা জীব।মানুষের বিবেক, বুদ্ধি, বিবেচনার ক্ষমতা মানুষকে অন্য যেকোনো প্রানের উরধে স্থান দেয়।শুধু যদি ধর্ম গ্রন্থের কালির আচরের লেখা নিয়ম পালনের মাধ্যমে জীবন চালনা সহজ হত তাহলে স্রষ্টা কেনইবা মানুষের মত এত বুদ্ধিমান প্রাণী সৃষ্টি করবেন?স্রষ্টা মানুষের মত বুদ্ধিমান প্রাণী এই জন্যই সৃষ্টি করেছেন যেন জীবনে পথ চলতে নিজের বিবেচনা দিয়ে মানুষ ধর্মকে নিজের তৃতীয় নয়ন করে নেয়,এই জন্য নয় যে ধর্মকে অন্ধত্ব বানিয়ে তার আড়ালে এক জনের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে।
আশা করি আমার কথা বুঝতে সক্ষম হবেন এবং এইসকল কাব্য রচনায় সময় নষ্ট না করে গঠনমূলক লেখা উপহার দিতে সচেষ্ট থাকবেন।এই মঞ্চটা বদলে যাবার একটি প্রত্যয়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে, জীবনটাকে আরও বৃহৎ পরিসরে অনুভব করার জন্য তৈরি হয়েছে, জীবনের ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে ছোটো পরিসরে বন্দী করার উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি নয়।
আবারো অশেষ করুণা রইল আপনার প্রতি।ভালো থাকবেন।
লেখাটি পড়ে কিছু লেখার ইচ্ছা থাকলেও লেখার মতো কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আপনি এই লেখাটি ৩৫ টি বাক্য দিয়ে সাজিয়ে অসাধারণ এক করুনা-পত্র লিখেছেন। যার প্রতিটি বাক্য মননশীলতাবিরোধীদের আঘাত করবে। অসম্ভব ভাল একটি জবাব দিয়েছেন তার জন্য বিনীত ধন্যবাদ জানাই Ms. hossain.farhana, ভালথাকবেন।
লেখাটি পড়ে নতুন করে কিছু লেখার ইচ্ছা থাকলেও লেখার মতো কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আপনি এই লেখাটি ৩৫ টি বাক্য দিয়ে সাজিয়ে অসাধারণ এক করুনা-পত্র লিখেছেন। যার প্রতিটি বাক্য মননশীলতাবিরোধীদের আঘাত করবে। অসম্ভব ভাল একটি জবাব দিয়েছেন তার জন্য বিনীত ধন্যবাদ জানাই Ms. hossain.farhana, ভালথাকবেন।
Ahmed Yousuf আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ। আমরা বদলে যাও বদলে দাও মিছিল মঞ্চটি আপনাদের জন্যই তৈরি করেছি। আমাদের একটি স্বপ্ন আছে, লক্ষ আছে। আমরা একটি পরিবর্তনের সহযাত্রী। আমাদের সেই আত্মশক্তি, বিবেচনাবোধ আর চেতনার ঐকতান দিয়েই আমরা জয় করতে চাই সকল অন্ধকারকে, এমনকি নিজেকেও। আমরা অনেক নেতিবাচক আলোচনা আর বিতর্কের উর্ধে থাকতে চাই। এটা আদর্শও বলতে পারেন। আমাদের আলোচনা, বিশ্লেষণ নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করবে, তারাও সামিল হবে একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্যে। এমনটিই প্রত্যাশা করি।
আমরা বাসের দরিদ্র হেলপারকে কষে চড় সহজেই দিতে পারি, কিন্তু তার মালিককে দিতে পারি না। ঐ সংশ্লিস্ট মন্ত্রীকে দিতে পারি না। আপনি খেয়াল করলে দেখেতে পাবেন অনেক বাসের মধ্যে লেখা থাকে ” ভদ্রতা পোশাকে নয়, আচরণে’। এই একটি বাক্যে ঐ দরিদ্র হেলপাররা আমাদের শিক্ষিতদের কত বড় শিক্ষা দিয়ে দিচ্ছে! কিন্তু তার পরও অনেকে ওদের গায়ে হাত তোলে আত্মতৃপ্তিতে ভোগে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন এমন একটি জায়গা যেখানে সবাই স্ব স্ব পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত। এখানে আমাদের এডাল্ট মার্জিনটি সকলেরই জানা। যে বয়সে এখানে ছেলেমেয়রা লেখাপড়া করতে আসে তাদের নিশ্চই সেই নৈতিকবোধের জায়গাটি অসুস্থ নয়। কোন যুগল ভালোবেসে আলিঙ্গন করলে এটা নিতান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা আসলে সমাজের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে, ধর্মের কাছে কত বড় অপরাধ হিসেবে প্রমাণ করে? এর চেয়ে কত বড় বড় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে ব্যক্তির ক্ষমতায়, দলের ক্ষমতায়, অস্ত্রের/ অর্থের ক্ষমতায় তা নিয়ে কোন কবিতা রচনা হয় না, কবি তখন নিরব!
এমূহুর্তে হুমায়ূন আজাদের একটি উক্তি খুব মনে পড়ছে- ” চৌরাস্তার মোড়ে কোন যুবক ভালোবেসে যদি কোন যুবতীকে চুম্বন করে তখন আমাদের বিবেকবান সমাজ তাদের চরম সাজাটি সহজেই দিতে পারে, মারধোর করে লাঞ্ছিত করতে পারে, যা ইচ্ছা অপমান করতে পারে! কিন্তু যদি ঐ একই চৌরাস্তার মোড় থেকে সেই মেয়েটিকে অস্ত্রের মুখে জোর করে কোন গুন্ডা তুলে নিয়ে যায় তখন ঠিক ততটাই বিপরীত ভূমিকায় সমাজ নিশ্চুপ হয়ে যায়। তাদের মুখে আর জাত গেল জাত গেল বলে একটি টু শব্দও উচ্চারিত হয় না। তাকে প্রতিরোধও করতে পারে না।”
উক্তিটি আপনাকে আহত করার জন্য নয়। আমরা লড়াই করছি এমন একটি সম্মান দেয়া নেয়ার সামাজিক ভিত্তি তৈরির জন্যই। মুক্তি শুধু রাজনৈতিক ভাবেই নয়। আমাদের অনেক ধরনের মুক্তি প্রয়োজন। আমরা নিশ্চই সেই সামগ্রিক এবং অর্থবহ মুক্তির পথ অতিক্রম করতে পারব। কোন সম্প্রদায়, গোষ্ঠি বা ব্যক্তিকে অঘাত করে, আক্রমন করে নিজেকে বিশুদ্ধ দাবি করে কি আদৌ কেন ফলাফল আসে? মানুষ একমাত্র প্রাণী যাকে প্রমান করে দেখাতে হয়। আমরা আপনার ব্যক্তিত্বের প্রতি যেন আকৃষ্ট হতে পারি, আপনার ভাবাদর্শের থেকে যেন কিছু গ্রহণ করতে পারি সে কামনাই করব। আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।
“শুধু ছেলেরা কেন খারাপ হচেছ?আর মেয়েরা নিপীড়িত হচেছ।” এই অংশটুকু জুড়ে দিয়ে অসাধারণ একটি প্রশ্নের অবতারণা করেছেন আপনি। ধণ্যবাদ-নূসরাত আলম
আসলে ঢাকা শহরে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা খুবই জরুরী। প্রতিটি বেসরকারী কোম্পানী ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে তাদের কর্মীর সংখ্যা অনুয়ায়ী বাস সার্ভিস চালু করতে পারে, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষরা একটু সচেতন হলে এটা সম্ভব। দিনে দিনে ঢাকা শহরে যানজট তীব্রতর হচ্ছে, কাজেই নিজেদের প্রতিষ্ঠানের পরিবহন ব্যবস্থা থাকলে অনেকের প্রাইভেট গাড়ীর দরকার হবে না। আর মহিলা কর্মীদের জন্য সেটা খুবই জরুরী। সরকারীভাবে মহিলাদের জন্য বাস সার্ভিস চালুর আশা করে নিরাশ হতে চাই না।
ভাই আল মাসঊদ,
আপনার প্রস্তাবটা চমৎকার। তবে সত্যি বলতে কি,পুরুষদের মানসিকতা যদি বদলানো যেত, বা সবাই যদি আপনার মত করে ভাবতো, তাহলে আর নারীদের জন্য আলাদা বাসের প্রয়োজন হত না। যাহোক, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে লেখার জন্য। আর নারীদের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি যেমন, তাতে আপনাকে সেলুট না দিয়ে পারছিনা।
Ms. Farhana Zaman Liza আপনাকে ও ধন্যবাদ। আমাদের আরেক জন ব্লগার Ms. Fahmida Ali ইভটিজিং বিষয়ে সুন্দর একটি লেখা পোষ্ট করেছেন যা ফিচার হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
Farhana Zaman Liza,
অনেক জায়গায় আপনার মন্তব্যে আপনি মানসিকতা পরিবর্তনের উপর বেশ জোর দিয়েছেন। আমিও এটাকে পুরোপুরি সমর্থন করি কিন্তু মানুসের মানসিকতা এমনি এমনি পরিবর্তন হবেনা। অনেক শিক্ষিত পুরুষও নিজ ঘরে স্ত্রীকে নির্য়াতন করে থাকে, ভাবুন তাদের মানসিকতা নারীদের প্রতি কোন পর্যায়ে আছে। আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো কোনভাবে সম্ভব নয়।
দেশ এখন একটি পর্যায়ে আছে তা থেকে উত্তরণের পথ ‘সুশিক্ষা-নিয়ম ও আইন’ করা, তবেই না মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন হবে।
আরও কিছু বিষয়ে যুক্তিপূর্ণভাবে কিছূ লেখা উপস্থাপন করা হয়েছে- নিচের লিঙ্কটিতে গিয়ে পড়তেও পারেন।
http://www.bodlejaobodledao.com/archives/20214
ধন্যবাদ আপনাকে
কি বলব ভেবে পাচিছ না।বাজে লোকদের সাথে কোন কিছুতেই পারা যায় না।নারীর বাস্তব অবস্থার একটা চিএ দিয়েছেন যা ভয়ংকর।কবে যে আমাদের দেশের পুরুষেরা মানুষ হবে?
ধন্যবাদ নুসরাত আলম আপনার মন্তব্যের জন্য। সত্যিই নারীর প্রতি সহিংসতা বর্তমান সময়ে অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এজন্য শুধূ পুরুষকেই দায়ী করলে চলবে না। আমাদের দেশের পুরুষরা মঙ্গল গ্রহ থেকে আসেননি। তারা আপনার মতো কোন না কোন মায়ের সন্তান। আপনিই ব্যর্থ হয়েছেন আপনার ছেলে সন্তানকে সুশিক্ষা দিতে। তাদেরকে নুন্যতম ধর্মীয়- নৈতিক শিক্ষা আপনি দেন নি। সুতরাং নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তাদের মনে কখনো জাগে নি। ছেলে সন্তান কি শুধু বাবার পুরুষতান্ত্রিক ভয়ংকর-হিংস্র চরিত্রই পাবে। সন্তানের চরিত্র গঠনে মায়ের কি কোন ভূমিকাই থাকবে না? একথা যেৌক্তিক নয়। আপনার সন্তান একজন ইভটিজার, এজন্য আপনি মা হিসাবে মোটেো দায়ী নন? আমি বলব আপনি ব্যর্থ। এ ব্যর্থতার দায়ভার আপনাকেই নিতে হবে। আমাদের দেশের পুরুষদের মানুষ করার জন্য আমাদের মা বোনদেরই অগ্রনী ভূমিকা নিতে হবে। সব দায় দায়িত্ব পুরুষদের উপর চাপিয়ে দিলে সেটা অন্যায় হবে। কারন একথা সর্বজন স্বীকৃত যে, সন্তানের চরিত্র গঠনে মায়ের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। আবারো ধন্যবাদ নুসরাত আলম।
আহমেদ ইউসুফ
ঢাকা, ২০ জুন ২০১২ ইং।
মায়ের সন্তান তাই বলে কি মায়ের দায়ই বেশী।মা,বাবা তো চাবেই যে তার সণ্তান ভালো হোক।সব সণ্তান তো মা ,বাবার কথা শোনে না।শুধু ছেলেরা কেন খারাপ হচেছ?আর মেয়েরা নিপীড়িত হচেছ।
সব পুরষই যে খারাপ বিষয়টি এমন নয়। ভাল মন্দ মিলিয়ে আমাদের সমাজ। আর সবাই কিন্তু ইভটিজিং করে না। আমি বলতে চাইনা যে, সন্তানের বখে যাওয়ার পেছনে বাবার কোন দায় নেই। আমি মনে করি এজন্য পরিবার, সমাজ তথা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিই দায়ী। তবে সন্তানের চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা অনন্য। আমি মনে করি বাবা এখানে নগন্য। আর ছেলেরাই কি শুধু খারাপ হচেছ? মেয়েরা কি মোটেও খারাপ হচ্ছে না? আমি বলি এটা যুগের প্রভাব। অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে যখন আমরা আধুনিকতার শীর্ষে তখন আমাদের খারাপ হহয়াটাই স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। আমি মনে করি এখন একটাই সমাধান আছে। আর তা হল আমাদের যার যার ধর্মের প্রতি অনুগত হওয়া। কারন সকল ধর্মই নৈতিকতার আধার। ধন্যবাদ নুসরাত আলম
আহমেদ ইউসুফ
ঢাকা, ২১ জুন ২০১২ ইং।
ভাই Ahmed Yousuf,
আপনার করা মন্তব্য দেখে কিছু কথা না লিখে পারলাম না।আপনি বলেছেন “সন্তানের চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা অনন্য। আমি মনে করি বাবা এখানে নগন্য।” আমি দুঃখিত, কারণ এক্ষেত্রে আপনার সাথে দ্বিমত পোষন না করে পারছিনা।আপনি কি আমাকে বলবেন, কিভাবে একজন বাবা এখানে নগন্য হয়? আমি আমার নিজের চোখে দেখা একটি ঘটনা আপনার সাথে শেয়ার করছি।
আমার এক ননদের ছেলে যার বয়স ১৮ বা ২০ বছর হবে, সে এখন থেকেই সিগারেট খায়। আমি দেখেছি আপা (আমার ঐ ননদ) তাকে সিগারেট খাওয়া থেকে বিরত রাখতে কতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমি আমার ঐ ননদের ছেলেমেয়েদের থেকে বয়সে খুব বেশী বড় নই বলে ওদের সাথে আমার অনেকটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাই একদিন আমার ননদের ছেলেকে বলেই বসলাম “জয়, তুমি সিগারেট কেন খাও? এর ক্ষতিকর দিক গুলো কি তুমি জানো না? দেখেছ তোমার আম্মু এতে কতটা কষ্ট পায়?” আমার কথার পেক্ষিতে সে আমাকে বলল, “মামী, আব্বু ও তো সিগারেট খায়। আমি তার ছেলে, আমি কেন খাবো না বলো? ছেলেরা তো বাপের স্বভাবই পায়, তাইনা?”
এবার বলেন ভাই, এরপর ও কি আপনি বলবেন যে, ছেলেদের চরিত্র গঠনে বাবার ভূমিকা নগন্য? আমার তো মনে হয়, ছেলেমেয়ের চরিত্র গঠনে বাবা – মা দুজনেরই সমান ভূমিকা।বরং অনেক ক্ষেত্রেই মা যেসব খোঁজ খবর গুলো রাখতে পারে না, বাবার পক্ষে সেসব খোঁজ রাখা সহজ হয়। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই নারীকে ঘরমুখী করে রাখে, সেক্ষেত্রে একজন মা কিভাবে খোঁজ নিবে তার সন্তান বাইরে কার সাথে মিশছে, ছেলের বন্ধুবান্ধবরা কেমন?
একটি ছেলে ছোট বেলা থেকেই তার বাবাকে অনুসরণ ও অনুকরণ করে, ঠিক যেভাবে একটি মেয়ে ছোট বেলা থেকেই তার মাকে অনুসরণ ও অনুকরণ করে।
আরো অনেক কিছুই লেখার আছে আপনার মন্তব্যের পেক্ষিতে, কিন্তু দুঃখিত, সময়ের অভাবে লিখতে পারছিনা। শুধু একটা অনুরোধ, ভেবে দেখবেন কি, সন্তানের চরিত্র গঠনে বাবার ভূমিকা আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।আর দয়া করে সব কিছুর মধ্যেই ধর্মকে জড়াবেন না। কারণ, যারা ধর্মের সাথে জড়িত তারাও যে খুব ভাল এমন কথা কিন্তু বলা যাবে না। আমাদের দেশের ছাত্রশিবিরের ছেলেরাই তার বড় প্রমাণ, যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে কিন্তু প্রয়োজনে কারো রগ কাটতে দ্বিধা বোধ করে না। তাই এখন আর ধর্মই সব সমস্যার সমাধান নয়…
আমার উপরের মন্তব্যটিতে আমি একটি ঘটনা উল্লেখ করেছি। এখন আরেকটি করছি।
আমাদের বাড়ির পাশের বাড়িতে যারা থাকে তাদের ৪ জনের একটি ছিমছাম পরিবার। বাইরে থেকে দেখলে আপনার খুবই ভালো লাগবে। মাটি সারাক্ষণ তার ছেলে ও মেয়েটিকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের পড়াশোনা, খাওয়া দাওয়া সব ব্যাপারে তিনি অতি যত্নবান। তার ছেলেটি বড় আর মেয়েটি ছোট, ছোট মানে তখন সে এসএসসি দিবে। ছেলেটি কলেজে পড়ে, এইচ এস সি দিবে। সে পড়াশোনায় খুব একটা ভালো নয়, শুধুমাত্র তার মায়ের চেষ্টায় ভালো রেজাল্ট করেছিল এসএসসিতে। মেয়েটি পড়াশোনায় খুবই ভালো, একটি নাম করা স্কুলে সব সময়ই প্রথম স্থান অধিকার করে সে। তার সাথে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। “লিজা আপু” বলতেই সে অন্ধ। তার সব কিছুই সে আমার সাথে শেয়ার করে। তো একসময় আমি খেয়াল করলাম, মেয়েটার মুখটা কদিন ধরেই মলিন, হাসিখুশি মেয়েটা কেমন যেন বিমর্ষ থাকে ইদানিং। একসময় আমি ওকে বললাম “সত্যি করে বলতো, তোর কি হয়েছে?” ও তখন যা জানালো তা শুনে আমি আমার কান দুটোকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। জানতে পারলাম, ওর বাবা অন্য একটি মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে বহুদিন আগে থেকেই। ওর মা অনেক বোঝানোর পর কিছুদিন তিনি চুপচাপ ছিলেন, কিন্তু জানা গেছে ইদানিং তিনি অফিসের কাজে শহরের বাইরে যাবার কথা বলে ঐমেয়েটির কাছে যান। শুধু তাই নয়, তিনি মেয়েটিকে একটি বাড়ি কিনে দিয়েছেন।যেখানে তাদের দুই ভাইবোনের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য তার মা কত কষ্টই না করেন! যাই হোক, এর কিছুদিন পরে জানা গেল, তার ভাইটিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার মা যতই চেষ্টা করুক, তাকে ফেরাতে পারছেনা। কিছু বললেই সে তার বাবাকে উদাহরণ হিসাবে দেখিয়ে দেয়।
এখন বলেন, ছেলেদের চরিত্র গঠনে বাবার ভূমিকা কতটুকু?
আপনি কি ভাবছেন আমি ছেলে মানুষ করতে পারি নাই।আমি ব্যর্থ ।আমার কোন ছেলে নেই।
বোন নূসরাত আলম,
যারা মনে করেন যে ছেলের চরিত্র গঠনে বাবাদের ভূমিকা নগন্য, তাদের কাছে যেকোন মাকে ব্যর্থ মনে করাটাই স্বাভাবিক। তাতে আপনি ছেলের মা হোন আর নাই হোন।কারণ, তারা মনে করেন, একজন বাবার কাজ সন্তান জন্ম দেয়ার ব্যাপারে ভুমিকা রাখা এবং সন্তানের ভরণ পোষণের খরচ যোগানো। এর বাইরে বাবার কোন ভূমিকা নাই! “বদলে যাও বদলে দাও” মিছিলে এমন মানসিকতার একজনের মন্তব্য পড়ে আমি সত্যিই খুব আশ্চর্য হয়েছি এবং একই সাথে দুঃখিত বোধ করছি।
“শুধু ছেলেরা কেন খারাপ হচেছ?আর মেয়েরা নিপীড়িত হচেছ।” এই অংশটুকু জুড়ে দিয়ে অসাধারণ একটি প্রশ্নের অবতারণা করেছেন আপনি। ধণ্যবাদ-নূসরাত আলম
বোন, নূসরাত আলম! আপনাকে ধন্যবাদ না দিয়ে আমি আপনার প্রতি সহমর্মিতা জানাই, সরাসরি আপনাকে আক্রমন করে একটি অনাকাঙ্খিত মন্তব্য এসেছে। যাই হোক বেশি ধর্মভীরু বা ধর্মান্ধদের কাছ থেকে এমন উক্তি আসতে পারে। এখানে আসলে মন্তব্যকারীকেও দোষ দেওয়া যায় না। কারণ আমরা সবাই এখনও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মধ্যেই আছি। যেখানে নারীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। জ্ঞানের অভাবে অনেক পুরুষ সেটা নাও বুঝতে পারে। আমরা ছোট থেকে যেভাবে বেড়ে উঠেছি অর্থাত্ আমাদের পরিবার-সমাজ আমাদেরকে যা-কিছু শিখিয়েছে আমরা তাই শিখেছি। আমি নিজেও এক সময় নারীদের বঞ্চনা-অধিকার সম্পর্কে কিছুই বুঝতাম না, মনে করতাম এটাই সার্বজনীন। নারীদের অধিকার সম্পর্কে কিছু পড়াশোনা আমাকে নারীবাদ সম্পর্কে সচেতন করেছে। এই পড়াশোনাটা আমি কোন শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে পাইনি, আলাদ ভাবে পড়ে নিতে হয়েছে আর সচেতনতাটা এসেছে পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত নারীদের অবস্থার খবর দেখে ও শুনে।
নারীরা সমাজে অবহেলিত তার কারণ আমাদের সমাজ ব্যবস্থা; এই সমাজ ব্যবস্থা পুরুষের স্বার্থে তৈরি করা। যা দুই একদিনে তৈরি হয়নি, যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এই পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থা। যেখানে নারীদের কে রাখা হয়েছে সর্বদা পুরুষের অনেক পিছনে। প্রাকৃতিকভাবে নারী সন্তান লালন-পালনের কাজটি পেয়েছে আর পুরুষ পেয়েছে শারিরীক বল তাই পুরুষ নারীকে মনে করে তাদের অধীনস্ত-দাসী। তাই পুরুষ চায় যেভাবে ইচ্ছা নারীকে ব্যবহার করতে। নারীরা নির্যাতনের শিকার হলে সমাজ খোজে নারীর দোষ-ত্রুটি, ধর্মের ব্যাখ্যা খোজা হয় নারীর বিরুদ্ধে অথচ পুরুষ নির্যাতন কারী ও অপরাধী কিন্তু পুরুষের অপরাধের ব্যাখা ধর্মীয় পুস্তকে খোজা হয় না। কারণ সমাজের শাসক পুরুষ; সমগ্র পুরুষ। এটাই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ।
দু’দিন আগে ইভটিজিংয়ের শিকার নারীর একটি ঘটনাচিত্র দেখা যাক:
গত ১৯.০৬.১২ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ভাটই দিক্ষণপাড়ায় এক কলেজ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় আব্দুর রাজ্জাক ফকির (৫৫) নামে এক লম্পট। ইভটিজিংয়ের অভিযোগ এনে তাকে ৬ মাসের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়। পুলিশ তাকে ঝিনাইদহ জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়। ১৯ জুনে সকালে বঙ্গবন্ধু কলেজের ১ম বর্ষের এক ছাত্রী বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। পূর্ব থেকে ওত্ পেতে থাকা ভাটই দণিপাড়া গ্রামের ২ সন্তানের জনক লম্পট আব্দুর রাজ্জাক তার শ্লীতাহানির চেষ্টা চালায়। আব্দুর রাজ্জাকের বয়ষ ৫৫ বছর। (সুত্র: ইত্তেফাক- ২০.০৬.১২)
জনাব আল মাসুদ আপনাকে ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য। তবে আমি কাউকে সরাসরি আক্রমন করার জন্য কথাটা বলিনি। আমি বলেছি, যে ছেলেটা একজন ইভটিজার, সেতো অবশ্যই কোন না কোন মায়ের সন্তান। সুতরাং তার বখাটেপনার জন্য তার বাবা মায়ের অবশ্যই ভূমিকা রয়েছে। এটা কোন সুস্থ্য মানুষ এড়াতে পারবেন না। আর সন্তান জম্ন থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত বাবার থেকে মায়ের ভূমিকা অনেক বেশি। একথা সর্বজন স্বীকৃত এবং এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। সুতরাং এখানে দ্বিমত করার কোন যু্ক্তি আমি দেখিনা। আমার একটা মন্তব্য থেকে অনেক গুলো কাঙ্খিত! মন্তব্য এসেছে। আমি মনে করি এটাই স্বাভাবিক। সোজা সাপ্টা কথা সবাই বলতে পারেন না। কারন প্রগতি ও আধুনিকতার নামে এখন চলছে মিথ্যাচার ও লোক দেখানো ভন্ডামি। আবারো ধন্যবাদ সবাইকে।
Ahmed Yousuf ভাই “প্রাচ্যের অক্সফোর্ড” নামক কবিতাটি সুন্দর লিখেছেন। কিন্তু অন্য কিছু বিষয়ে বলার প্রয়োজন মনে করছি। অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া মেয়েদেরকে সহ্য করতে পারেন না। কারণ তারা মনে করেন এবং বলেও থাকেন- এর মাধ্যমে মেয়েরা ঘর ছাড়া হয়, যেখানে সেখানে যেতে পারে, অনেক ছেলে বন্ধু তৈরি হতে পারে ইত্যাদি। কিন্তু মেয়েদের কি বন্ধু থাকতে নেই! ওরা কি মঙ্গল গ্রহ পেরিয়ে তার চাঁদ ‘ফেবোস’ বা ‘ডিমোস’ থেকে এসেছে! নারীরা আমাদের এই পৃথিবী নামক গ্রহেরই মানুষ। ওদের ও ক্লাশ ফ্রেন্ড, বন্ধু, ছেলে বন্ধু থাকতে পারে, থাকতে পারে প্রেমিক। ভর্সিটির ক্যাম্পাস চত্বরে ওরা বসে সময় কাটাতে, গল্প করতে পারে। আড্ডা দিতে পারে। মেয়েদের মনে কি প্রেম আসতে পারে না? কাউকে ভাল লাগতে পারে না? ওরাও তো আমাদের মতো মানুষ। মেয়েদের মনে প্রেম-ভালবাসা না থাকলে বিয়ে করতে চাইবে না, বিয়ের পরেও স্বামীর সেবা করতে পারবে না!
আর বিপরিত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ তো অস্বাভাবিক নয়।
যাইহোক, আমাদের সবার উচিত নারীদের কেও মানুষ মনে করা। আগে আমরা মানুষ পরে অন্যকিছু।
যারা অপরাধ করে তারা তো অপরাধীই। সবাই কিন্তু অপরাধ করেনা। সব পুরুষ ধর্ষণ করে না। নারীরাও তো অনেক অপরাধের সাথে জড়িত হচ্ছে। পত্রিকায় দেখি- নারীরা লোক ঠকানো ব্যবসায় করছে, পকেট মারছে, পুরুষের সাথে যুক্ত হয়ে খুন-চোরাচালান ইত্যাদির সাথে জড়াচ্ছে। সমস্যা মুক্ত দেশ হলে তো আমাদের এখানে লেখালিখি করতে হতো না।
ধণ্যবাদ আপনাকে ভাল থাকবেন।
আল মাসুদ আপনাকে ধন্যবাদ। প্রগতিশীলতা সময়ের দাবী। সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে প্রগতিশীলতার পরিবর্তন হয়। এক রুপ থেকে অন্য রুপ পরিগ্রহ করে। মানুষের মন-মানসে পোষাকে আষাকে পরিবর্তন সাধিত হয়। আমি মনে করি এটা স্বাভাবিক। তাই বলে নীতি-নৈতিকতার পরিবর্তন সময়ের দাবী নয়। কেননা সৃষ্টির আদিকাল থেকেই যেসব আচার-আচারন অন্যায় বলে পরিগনিত ছিল বর্তমানেও সেকল আচার-আচারন অন্যায় হিসাবেই পরিগনিত আর ভবিষ্যতেও সেটা একই অবস্থায় থাকবে। এক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন কাম্য নয়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েরা পড়বে, ছেলেদের সাথে তাদের বন্ধত্ব হবে, প্রেম হবে। আমি মনে করি এটা স্বাভাবিক। এটা যুগের প্রভাব। কিন্তু প্রেমে ব্যর্থতা, হতাশা, মাদকাসক্তি ও খুন-ধর্ষনসহ অন্যান্য অপরাধে তাদের জড়িয়ে পড়া নৈতিকতার মানদন্ডে কতটুকু সঠিক বলে আপনি মনে করেন? ধরে নিলাম আমরা প্রগতিশীল। কিন্তু আমার/আপনার চোখের সামনে যখন আপনার/আমার বোন বা ভাই এমন অনৈতিক দৃশ্যের অবতারনা করবে তখন আমাদের প্রগতিশীলতা কোথায় গিয়ে দাড়াবে তা কি একবার ভেবে দেখেছেন? যাই হোক, অনেকেই আমার মন্তব্যের সূত্র ধরে তাদের মূল্যবান মতামত দিয়েছেন। সময়ের অভাবে সবার মন্তব্যের জবাব দেয়া সম্ভব হল না। ধন্যবাদ আল মাসুদ। আশা করি ভাল থাকবেন।
মাসুদ ভাই ধন্যবাদ।পুরানো লেখার মণ্তব্য করছি।কারন তিনদিন আমি ঢাকার বাইরে ছিলাম।Ahmed Yousuf এর মণ্তব্য টা সেদিন ভালো করে লক্ষ্য করি নাই ।যা হোক,Farhana Zaman Liza ,hossain.farhana আর আপনাকে বিশেষ ধন্যবাদ মণ্তব্য করার জন্য।Ahmed Yousuf ভাই মন মানসিকতা কি একটু বদলাবেন?????এই blog তো বদলানোর জন্য।তাই নয় কি?
বোন নুসরাত আলম নিজেকে বদলাতে চাই বলেই তো বদলে যাও বদলে দাও মিছিলে যোগ দিয়েছি। কিন্তু নিজেকে বদলানো কি এত সহজ! তাইতো ভাবি মাদকাসক্ত কেন মাদক ছাড়তে পারেনা? অন্ধকার জগতের বাসিন্দারা কেন সভ্য সমাজে ফিরে আসতে পারেনা? এটা তার চারিত্রিক দৃঢ়তা ও আত্নশক্তির উপর নির্ভর করে। হোক সেটা শুদ্ধ কিংবা অশুদ্ধ। বদলানো কথাটা মুখে বলা যতটা সহজ বাস্তবে ঠিক ততটাই কঠিন। লোক দেখানে ভন্ডামী ও মিথ্যাচার করতে চাইনা বলেই পরিবর্তনটা একটু ধীরে হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে বোন নুসরাত আলম আপনি অধৈর্য্য হবেন না। আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও আমরা কিন্তু একই গ্রহের বাসিন্দা। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশে আমরা নিশ্চয়ই কার্পন্য করব না। ধন্যবাদ আপনাকে।
Ahmed Yousuf ভাইয়া,আপনার কি ধারনা ভিন গ্রহে মানুষ বাস করে?বদলানো কথাটা মুখে বলা যতটা সহজ বাস্তবে ঠিক ততটাই কঠিন। ঠিক বলেছেন।পরিবর্তনটা সকলের কাম্য।ভালো থাকবেন।
নিজেকে বদলানো যেমন কঠিন আবার সহজও। অসম্ভব কিছু না। কিছু ব্যাপারে বদলে যেতে হয় আবার কিছু বিষয়ে বদলাতে হয়। ধুমপান কারী ব্যক্তি ইচ্ছা করলেই ‘ইচ্ছা-শক্তি’ দিয়ে ধুমপান ছাড়তে পারে যে কোন মূহূর্ত্বে। কিন্তু মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজে কিভাবে বদলাবে? সে তো অসুস্থ্য। তাকে চিকিত্সা করিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হয়। আর নিজে বদল হয়ে সমাজ-দেশ কে ভালোর দিকে বদলে দিতে চাইলে দরকার হয় ইতিবাচক মানসিকতা, সচেতনতা, শিক্ষা, ইতিবাচক ধ্যান-ধারণা ইত্যাদি। আরও দরকার হয়- আলোকিত শিক্ষা যা সকল প্রকার অন্ধবিশ্বাস কে দূরে রেখে আত্নসচেতন হতে সাহায্য করে।
ধন্যবাদ Mr. Ahmed Yousuf