সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনের উপায়
আবারো সেই একই চিত্র একই খবর; স্বজনহারা মানুষের আহাজারি! ভাবতেই অবাক লাগে এত রক্ত ঝড়ছে একই সময়ে একই সাথে গোটা একটি পরিবার লাশ হয়ে যাচ্ছে তারপরও সরকার কেন নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে? কেন নিচ্ছেনা আইনগত পদক্ষেপ? তা হলে স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয় আছে কী করতে? এভাবেই কী একের পর এক ঘটতেই থাকবে সড়ক দুর্ঘটনা? নাকি এর একটা বিহিত করা দরকার? তাই আমি এরূপ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারে সমাধানমূলক কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ দিক- নির্দেশনা নিম্নে সন্নিবেশ করছি।
ক. মহা-সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে সড়ক বিভক্তিকরন (রোড ডিভাইডার) নির্মান করা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা মুখোমুখি ভয়ানক সংঘর্ষ এড়াতে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম। তাছাড়া বেপরোয়া চালকদের ওভারটেকিং এর সুযোগটুকুও থাকবে না।
খ. সড়কগুলোর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক (ব্লাক স্পট) গুলোকে দ্রুত সরলিকরণ (ষ্ট্রেইটেনিং) করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়কে নির্দিষ্ট দুরত্ব অন্তর অন্তর সহজেই দৃশ্যমান গতিরোধক (স্পীড ব্রেকার) নির্মান অত্যন্ত জরুরী এবং উক্ত স্থানে সতর্কতামূলক বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নসহ সাইন এন্ড সিগনাল বোর্ড স্থাপন করার ব্যবস্থা নিতি হবে যা সওজ অধিদপ্তরের স্থানীয় সড়ক বিভাগ কর্তৃক সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
গ. আঞ্চলিক ও মহা-সড়কগুলোর উভয় পার্শ্বে যেখানে গভীর খাদ, ডোবা ও জলাশয় রয়েছে সে সমস্ত স্থানগুলোকে ঝুকিপূর্ণ বিবেচনা করে নির্দিষ্ট দুরত্ব অন্তর অন্তর স্তম্ভ (পিলার) নির্মান করে পিলারগুলোর গায়ে ‘ক্যাটস্ আই’ সাঁটিয়ে দিতে হবে যাতে একজন চালক সহজেই বুঝতে পারে জায়গাটি ঝুকিপূর্ণ অথবা দুর্ঘটনাপ্রবণ। তাছাড়া সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ‘গতিসীমা’ নির্দিষ্ট লেখা সম্বলিত ফলক স্থাপন করতে হবে। এ বিষয়টিও সওজ অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
ঘ. আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এক স্থান থেকে অন্য স্থানের তথ্য চিত্র ধারন ও মনিটরিং করা দুঃসাধ্য কোন কাজ নয়। এ বিষয়ে বিমান বাহিনীর ‘সিগনাল কোরের’ সহযোগিতায় প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ‘মডার্ন ইনভেস্টিগেশন সিস্টেম’ (মিস) স্থাপন করে একটি ‘সেন্ট্রাল কন্ট্রোল সেল’ (সিসিসি) চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে সহজেই গাড়ীর গতিবিধি ও রাস্তার সার্বিক তথ্য চিত্র ধারণ করা যায় এবং বিধি ভঙ্গকারী গাড়ীটি সনাক্ত করে তাৎক্ষণিক চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কর্তব্যরত হাইওয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া যায়।
ঙ। সড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার করার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিটি ভারী যানবাহন বিশেষ করে বাস ট্রাক রাস্তায় চলাচলের পূর্বে গাড়ীটিতে কোন প্রকার ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’ (ভেহিকুলার ডিফেক্টস্ ) আছে কিনা তা একজন দক্ষ কারিগর দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে যাচাই করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোন চালক ‘মুঠোফোন’ বহন করতে না পারে এবং ঝুঁকিপূর্ণ মাদকদ্রব্য সেবনে অভ্যস্ত কোন চালককে গাড়ী চালানো থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখতে হবে। এসব বিষয়ে গাড়ীর মালিকগনকে যথাযথ মনিটরিং করতে হবে।
চ. বিআরটিএ-র ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যলয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডঃ শামসুল হকের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি জেলা শহরে চালকদের জন্য ত্রৈমাসিক অথবা ষান্মাসিক তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রশিক্ষণ সমাপনান্তে উত্তীর্ণদের ‘সনদপত্র’ প্রদান করতে হবে। তাছাড়া প্রশিক্ষণে অংশগ্রহনকারীদের (চালক) জন্য ‘প্রশিক্ষণ ভাতা’ প্রদানের প্রথা চালু করা উচিত যাতে চালকগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহন করে । তাছাড়া প্রতি মাসে একটি ‘সচেতনতামূলক’ সভা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। উক্ত সভায় সচেতনতামূলক উপদেশ প্রদানের জন্য আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবীদের ‘সতর্ক উপদেষ্টা’ (এলার্টিং এড্ভাইজর) হিসেবে উপস্থিত রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যা চালকদের সচেতন করতে সহায়ক ও ফলপ্রসু ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
ছ. রাজধানী ঢাকাসহ যানযটপূর্ণ অন্যান্য শহরগুলোতে একটি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ট্রাফিকিং সিস্টেম প্রবর্তনের আশু ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়কের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রোড সেফ্টি ইকুইপমেন্ট সংযোজন করা বিশেষ জরুরি এবং সে ক্ষেত্রে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ‘রোড সেফ্টি’ বিভাগের সহায়তা নেয়া যেতে পারে। একই সাথে বাসযাত্রীদের চালকদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণও বদলাতে হবে। চালকদের সচেতনভাবে গাড়ী চালনা করতে যাত্রীগণও বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে। একই সাথে গাড়ী চালনা অবস্থায় চালক যাতে মুঠোফোনে কথা না বলেন এমনকি যাত্রীগণও চালকের সহিত কোন কথা না বলেন সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সর্বোপরি চালকদেরও বুঝতে হবে যে যাত্রীদেরকে নিরাপদে স্ব-স্ব গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটুকুও তারই। অতএব উপরোক্ত দি্ক-নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়ন করে একটি আঞ্চলিক অথবা মহা-সড়ককে অনুকরনীয় ‘মডেল’ হিসেবে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে তা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে তবেই যদি বন্ধ হয় সড়ক দুর্ঘটনা ইন্শা আল্লাহ্। ত্রুটিমুক্ত যান; সচেতন চালক; পরিপাটি সড়ক- সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনের অন্যতম চাবিকাঠি।






আমি আপনার সাথে সম্পূর্ণভাবে একমত। খুব সুন্দর ও সময়োচিত অর্থাৎ যুগোপযোগী দিক নির্দেশনা দিয়েছেন সড়ক দূর্ঘটনা নিরসনে। খুবই ভাল লাগল আপনার লেখাটি। আমার মনে হয়,আমরা সবাই (সরকার +জনগণ) যদি যে যার অবস্থানে থেকে একটু আন্তরিক হই, সামান্য দায়িত্ববোধের পরিচয় দিই তাহলেই এই অনাকাঙ্খিত সড়ক দূর্ঘটনা অনেকাংশেই কমিয়ে ফেলা যাবে বলে আমার বিশ্বাস ; আর সেই জন্য আমাদের অল্প কিছু কাজ করতে হবে যেগুলো উনি বলেই ফেলেছেন, আমি আবারও সংক্ষেপে লিখছি। ১.ড্রাইভারের পাশের সীটে কোন যাত্রী,বিশেষ করে সুন্দরী ও বাচাল প্রকৃতির মহিলা যেন না বসে সেটা হেল্পারকে দেখতে হবে আর বাসের সামনে লিখে দিতে হবে এই নিয়মটা। ২.মুঠোফোন ব্যবহার করছে কি না সেটা দেখবে হেল্পার + যাত্রী । আর এটা আইন দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে। ৩.গাড়িতে সীট বেল্ট থাকা ও এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। ৪.হেল্পারের কাজ হবে শুধু চালককে সাহায্য করা , ভাড়া আদায় করা নয়।আরও অন্যান্য কাজগুলো , যেমন -রোড ডিভাইডার ,রাস্তার বাঁক সরলীকরণ,গাড়ির গতিসীমা বেঁধে দেওয়া,চালকদের প্রশিক্ষণ পাওয়া,ট্রাফিক পুলিশদের সঠিক দায়িত্ব পালন করা;চালকগণ যদি নেশাগ্রস্থ অবস্থায় গাড়ি চালান তার প্রমাণ পেলে তাকে কঠিন সাজার আওতায় আনা। আসুন, আমরা এই মুহূর্ত থেকে বদলে যাই, আর বদলে দিই আমাদের কলুষিত সমাজটাকে।
সড়ক দুঘটনা বন্দ করতে চাইলে প্রতমে BRTA এ কে টিক করতে হবে। সেকানএর দুরনিতী দূর করতে হবে। সেখানে শব জাইগাই টাকা ছাড়া কাজ করা জাইনা। পুলিশকে টিক করতে হবে। পুলিশ সারজেন্ট দের। ট্রাপিক দের। তারা টাকার বিনিময়ে গাড়ি চেড়ে দেই। লাইচেন্স বাদ্দতামুলক করতে হবে। জাদের নাই, তাদের বেরুদ্দে। কটর শাচতির বেবস্তা করতে হবে…।।