Home » অন্যান্য » পড়া খাও, আর বমি করো

পড়া খাও, আর বমি করো

169 বার পঠিত

আমাদের দেশে সুচিন্তিত, সুনির্দিষ্ট,সুদূরপ্রসারী শিক্ষা ব্যবস্থা নাই,শিক্ষা নীতি নাই, শিক্ষাপদ্ধতি নাই। আছে গুটি কতেক শিক্ষাগৃহ, মেলা ছাত্র-ছাত্রী,স্বল্প শিক্ষক আর আছে ব্যাঙের ছাতার মত কোচিং সেন্টার। আছে শিক্ষাসংক্রান্ত কতিপয় দপ্তর, অধিদপ্তর, উচ্চ দপ্তর। এদের মাথার উপরে বাস করে চতুর শেয়াল। এই শেয়াল চতুরালি করে কুমিরের এক বাচ্চাকেই সাতবার প্রদর্শন করে। যেখানে এখনো শিক্ষা ব্যাবস্থায় অংক শিখায় –একমন দুধে কত মন পানি মিশাতেহবে————– অর্থাৎ ছোট থেকেই ভেজাল শিখানো হয় । তার চেয়েও আছে একটা মজার অংক, যেটা এই দেশের উন্নয়নের সূচক। সেটা হল তৈলাক্ত বাঁশ আর বানরের কিচ্ছা। এটাও সুন্দর অংক এটা আমাদের উন্নয়নের সুচকের সাথে সাথে রাজনীতির মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে — এই অংক গুলোর আবিষ্কারককে জাতীয় পুরুস্কার ও দেয়া যেতে পারে । আর দেখেননা, শ্রেনী বৈষম্য টিকায় রাখার লেইগা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নামক মেকী টং এর দোকানও খোলা রাখা হইছে যাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ছাত্র নামধারী খদ্দেররা গিয়া চাষাভূষা গো লগে গরামগরাম চা খাইতে পারে!–শিক্ষার বানিজ্যিকীকরণে সরকার আজ মরে বেঁচেছে । বস্তিতে স্কুল বসায় এজিও আর সুশীল সমাজের আছে ইংরাজী হলুদ স্কুল ।/জাগো)> (হলুদ ফুলেও সুগন্ধ নেই সাংবাদিকতা যদি নগ্ন হয়ে তাকেও বলে হলুদ সাংবাদিক তাই হলুদ ইস্কুলের শিক্ষাও ভালো হবে না ) ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইভেট করণের মজায় বিগত সরকার কুমিল্লা জগন্নাত বেচতে বসেছিলেন । রেমিটেন্স আর গারমেন্টস সেক্টর আজ বানিজ্যিক । আরো বানিজ্য বসবে । সেদিন পূর্ণ হবে বানিজ্যে বসতি । এ দেশের কোন সেক্টরেই কি সুচিন্তিত কিছু ঘটে ? এ দেশের জাতীয় পর্যায়ে মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যাক্তিবর্গের মদ্ধে কয়জন দেশের কথা , সমাজের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে ?’মাথা’ মগজ মস্তিষ্ক মানুষের দেহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, কর্ম আচার-আচরণ-ব্যবহার নিয়ন্ত্রন করে। ঠিক তেমনি- “রাজনীতি” রাষ্ট্র-সমাজ দেহের জনগোষ্ঠির অর্থনৈতিক-সামাজিক-শিল্প-সংস্কৃতি ও শিক্ষা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করে। একজন মানুষের মস্তিষ্ক সুস্থ না হলে শরীরের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ- সুস্থভাবে কাজ করতে পারে না। তেমনিভাবে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিচালনার ক্ষেত্রে যতোক্ষণ না সুস্থ ধারা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে- ততোক্ষণ বিচ্ছিন্ন ভাবে অন্য কিছু সুস্থ ভাবে কাজ করে না। বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্র চরিত্র ও উৎপাদন ব্যবস্থা- শোষণমূলক, ভোগবাদী, আত্ম-কেন্দ্রীক, স্বার্থপরায়ন, লালসাপূর্ণ ও মানসিক দাসত্বসুলভ। শুধু শিক্ষা কেন- গান-নাটক-সিনামা-শিল্প-সাহিত্য– ইত্যাদিও ভোগ ও কাম কে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগায়। মানুষ অনুকরণ প্রিয়- ভালো-মন্দের বিষয় বিচার করার ব্যাপার পরে আসে। যারা সচেতন তারা জানি কি করা দরকার। কিন্তু যতোক্ষণ না পর্যন্ত তা নিজের জীবনে চর্চা অনুশীলন কর্মে প্রয়োগ করছি- ততোক্ষণ তা স্বপ্ন বিলাস- হা-হুতাশ- , অসার-শূন্য। পরিবর্তন তখনই সম্ভব, যখন আমরা আমাদের জীবন দিয়ে, বাস্তবে তা প্রয়োগ করছি।আমরা শিক্ষা মানে সাক্ষরতা বানিয়ে ফেলছি। জ্ঞান অর্জনের জন্য, মানবিক উন্নতি এর ক্ষেত্রে, আমাদের কোন শিক্ষা নেই। কে কি শিখল, তার খবর নেই। A+ পেতে হবে।
” পড়া খাও, আর বমি করো। “
এ ধরনের শিক্ষা, কখনো ভালো কিছু দিবেনা। সব ঘুষখোরী , দুর্নীতি এর সই দেয়া শিখাবে। জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাই যথেষ্ট। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এ রকম অন্তঃসারশূন্য শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাঁরা তথাকথিত শিক্ষিত হন তাঁদেরকে অনায়াসে বশ মানাতে পারে বিদেশে গিয়ে উন্নত কারিকুলাম অনুশীলন করে আসা ডিগ্রিধারীরা। আমাদের শিক্ষা যেন এখন দুটা কাজ করার লক্ষে পরিচালিত হয় এক ভালো চাকুরি করা আর বিয়ে করতে কিন্তু মানুষের কল্যাণে দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য নয়। আর এই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যারা শিক্ষক হন তারা মাঝে মধ্যে ধরা পরলে পরিমল শুত্রধরদের নাম শুনতে পাই যারা এখনো ধরা পড়েনি তারাতো সম্মানিত শিক্ষক মহোদয়, চলুক, চলতে থাকুক …ভুত একা কি করবে সবাই না জাগলে -

মন্তব্য
  • Al Masud জুন 16, 2012 at 1:22 অপরাহ্ন

    ধন্যবাদ জনাব ভূতের আছড়, আপনি লক্ষ করে থাকবেন প্রতি বছর এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫.০০ পাওয়া ছাত্র সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এটা আজ জানা কথা যে, সরকার শিক্ষার হার বাড়াতে শিক্ষার্থীদের পাশের সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়াচ্ছে। আর পরীক্ষকদের বেশি নাম্বার দিয়ে ভাল গ্রেড দেওয়ার প্রবনতা আসছে, জিপিএ প্রথম ব্যাচ (২০০১) থেকে এখন পর্যন্ত তুলনা করলে আমরা সহজেই এই বিষয়টি বুঝতে পারি। জিপিএ-৫.০০ পাওয়া ছাত্রদের মেধার মান যাচাই করলে আর স্পষ্ট বোঝা যায়। আবার এখন কম সাজেশন দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাল রেজাল্ট করানোর কাজটিও অনেক শিক্ষক ও বিদ্যালয় করে থাকেন।
    আমি এখন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি, ফলে বর্তমান জিপিএ-৫.০০ (এসএসসি+এইচএসসি তে) পাওয়া ছাত্রদের লেখাপড়া, তাদের মেধা, শিক্ষা সংক্রান্ত কোন বিষয়ের মৌলিক জিনিসটুকু জানার অনেক ঘাটতি লক্ষ করে থাকি।
    আবার ছোট কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা দিতে গিয়ে যে মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয় যা খুবই অনাকাঙ্খিত।

  • সাফায়েত আমিন জুন 15, 2012 at 7:33 অপরাহ্ন

    অনুগ্রহ করে আপনার নামতা বদলাতে পারলে ভাল হয়। কারন হয়তো এমন অনেক ভাল লেখা পত্রিকাতে আসতে পারে না শুধু নামের কারনে।

    • বদলে যাও বদলে দাও জুন 15, 2012 at 7:58 অপরাহ্ন

      সাফায়েত আমিন আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ। নামের সমস্যাটি আমাদের এই বিশেষায়িত ব্লগের জন্য বড় একটি সমস্যা। আমরা বিগত দিনে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব, মন্তব্য মূল পত্রিকায় প্রকাশ করতে পারি নি। প্রিন্ট মিডিয়ার রুলসে এটা সমর্থন করে না। এছাড়া লেখাগুলি দেশের কোন না কোন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করে ফেলে। প্রথম আলো ছদ্ম নামের দায় নিয়ে এসব কখনোই করতে পারে না। আর পাঠকরাও কি ভালো ভাবে গ্রহণ করবে? ব্লগ লেখার সংস্কৃতিতে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে সব কিছুই না ‘ফান’ হয়ে যায়! আমি যদি দেশের জন্য লিখি তবে নিজের মূল নাম নিয়েই লিখা উত্তম। এছাড়া নিজের নামে যে আর্কাইভটি তৈরি হচ্ছে তা উত্তর প্রজন্মের জন্যও একটি দিক নিদের্শনার মতই। আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।

  • A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT(SAYED CHOWDHURY) জুন 15, 2012 at 7:30 অপরাহ্ন

    অনেক আগে শিক্ষকদের বাবা মার উপর স্থান দেওয়া হত । একটা প্রবাদও আছে , সেটা হলো মা বাপে বানায় ভুত আর ওস্তাদে বানায় পুত । যার অর্থ দাঁড়ায় বাবা মা আদর করে সন্তানকে অনেক সময়ই ভুল পথে দিক নির্দেশনা দেয় কিন্তু শিক্ষক ঠিকই সঠিক দিক নির্দেশনা দেয় একজন শিক্ষার্থীকে । কিন্তু বর্তমান অবস্থায় শ্রেনী কক্ষের পাঠদানের সময়ও শুধু আর্থিক স্বাধীনতা বা কাজ পাওয়ার উপায় হিসাবেই পড়া তাই বোঝানো হয় । নৈতিক শিক্ষার দিক দিয়ে আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম বড়ই হতভাগা । আমি বলতে চাই প্রতিদিন একটি নৈতিক শিক্ষার ক্লাস প্রতিটি বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক করা উচিৎ । যাতে শিক্ষার্থীরা আবার সেই নিজেদের মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার শিক্ষায় দিক্ষিত হবে । অনেক ধন্যবাদ মৌলিক একটি বিষয় অবতাড়না করার জন্য ।

  • আফছানা বেগম অর্থী জুন 15, 2012 at 10:46 পূর্বাহ্ন

    প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী যদিও বলেছিলেন, “শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য মূল্যবোধের পরিবর্তন” তা এখন আর দেখা যায় না। এখন শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া। কি শিখলাম তা গুরুত্বপূর্ণ না হয়ে কতো নাম্বার পেলাম তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষার পর শিক্ষক ক্লাসে খাতা দেখান, কি ভুল হয়েছে তা দেখার জন্য, যেন ভবিষ্যতে আর সেই ভুলটা না হয়। আর আজ শিক্ষার্থীরা সেই খাতা পাওয়া মাত্র কি ভুল করেছে তা না দেখে আঙ্গুলে নাম্বার গুনা শুরু করে দেয়। শিক্ষা এখন সত্য মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করা শিখায় না। শিক্ষা দেয় কোন নোট বই পড়ে ভালো নাম্বার পাওয়া যাবে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য এখন ভবিষ্যতে অর্থ উপার্জন। মা-বাবারা এখন মনুষত্ত্যের শিক্ষায় শিক্ষিত না, ভালো নাম্বারের সার্টিফিকেট ধারী সন্তান চান। এই চাওয়া জাতীকে তৈরি করছে রোবট হিসেবে। আমরা তো রোবট ভবিষ্যৎ চাই না! আমরা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ চাই!

    • ভূতের আছড় জুন 15, 2012 at 1:07 অপরাহ্ন

      আপনার মন্তব্যের সাথে আমি একশভাগ সহমত

    • Farhana Zaman Liza জুন 15, 2012 at 2:25 অপরাহ্ন

      আপনার মন্তব্যের সাথে আমিও একমত।যদিও বাবা – মা ছেলে মেয়েদেরকে বাসায় মূল্যবোধের শিক্ষা দেন, কিন্তু স্কুলে গিয়েই ছেলে মেয়েরা তা ভুলে যায়। তথাকথিত শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষা বলতে বই গেলানোই শেখান শুধু।

    • বদলে যাও বদলে দাও জুন 15, 2012 at 9:06 অপরাহ্ন

      আফছানা বেগম অর্থী আপনাকে ধন্যবাদ শিক্ষা নিয়ে চমৎকার মূল্যায়নধর্মী মন্তব্য করার জন্য। আশির দশকে প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক আসাফউদ্দৌলার একটি নিবন্ধে পড়েছিলাম এমনই একটি মূল্যায়ন মন্তব্য পড়েছিলাম ” আমাদের স্কুল ঘরগুলি যখন কাঁচা ছিল তখন লেখাপড়া পাকা ছিল- যখন স্কুলঘরগুলি পাকা হলো তখন লেখাপড়াগুলি কাঁচা হয়ে গেল” । আমাদের শিক্ষা গ্রহণ হচ্ছে না আমরা বোধয় শুধু বাজার থেকে চকচকে পণ্য কিনতে ছুটে বেড়াচ্ছি। এর ক্ষতিটা আমরা আরও একটু পরে কড়ায় গন্ডায় বুঝতে পারব!

© বদলে যাও বদলে দাও