গ্রামে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে চাইলে নিজেরা কিছু করতে পারি । গ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে আমার একটা পরিকল্পনার কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই । আমার সাধ আছে কিন্তু সাধ্য নাই, আপনাদের কারো যদি সাধ্য থাকে তাহলে তা কাজে লাগাতে পারবেন বলে আশা করি ।
আমাদের গ্রামাঞ্চলে অনেক খাল আছে বলে আমরা জানি । আনুমানিক লক্ষাধিক খাল থাকতে পারে । এসব খাল ব্যবহার করে কি জল বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায় না ? এ কাজে যে সমস্ত খালে জোয়ার-ভাটা হয় সে সমস্ত খাল সবচেয়ে উত্তম হতে পারে । মানে যে খালগুলো জোয়ারের সময় পরিপূর্ন হয়ে যায় আবার ভাটার সময় খালি থাকে , পানি গুলো আবার নদীতে মিশে যায় এমন খালের কথায় বলছি । এই ধরনের খালে বাধ দিয়ে হাইড্রোলিক মেশিন দিয়ে খুব সহজে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে বলে মনে হয় । প্রয়োজনীয় প্রেসার সৃষ্টির জন্য খালগুলোকে একটু সংস্কার করতে হবে । মানে স্রোতের বিপরীত দিকে একটু উচু করতে হবে । একই প্রেসার বারবার ব্যবহার করার জন্য জায়গা অনুপাতে কিছু দূর পর পর বাধ দিতে হবে । ধরেন, ১ কি: মি: খালে ৫০ মিটার পর পর বিশটি বাধ দেওয়া যেতে পারে । এভাবে একই প্রেসারকে বার-বার ব্যবহার করা যেতে পারে । চাপকে কি করে তরিৎ শক্তিতে রুপান্তর করা যায় তা অনেকেরই জানা আছে । যারা আরো জানতে চান তারা ঘুরে আসুন এই সাইট থেকে ই-হাউ যাদের খালের পানির প্রেসার দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যাবে না বলে সন্দেহ আছে তারা চাইলে বাড়িতে ব্যবহৃত পানি দিয়েও বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারবেন, তবে তা অনেক খরচের ব্যাপার এবং পরিমানেও কম হবে । ১২০ সিসি’র মেশিন দিয়ে ১০জিপিএম ফ্লো উপন্ন করতে পারলে মাত্র ৯০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারবেন ।
খালে বাধ দিয়ে ঠিক কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এ নিয়ে অনুমান করে কিছু বলতে চাই । স্রোত থেকে যদি প্রয়োজনীয় প্রেসার পাওয়া যায়, যাকে ব্যবহার করে ঘুর্ণয়ন স্পিডকে প্রয়োজনীয় মাত্রায় নিয়ে যাওয়া যায় । একই প্রেসারকে যদি ১ কি:মি: খালে ২০ বার ব্যবহার করা যায় তাহলে চার-পাচটা ইউনিয়নের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপন্ন করাও সম্ভব হতে পারে । আপনাদের কাছে অনুরোধ করব , এই ব্যপারটা অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে নিজ এলাকায় যাচাই করে দেখতে । প্রতি ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঠিক কতটুকু প্রেসার লাগতে পারে তা দেখার জন্য দেখুন এই লিংক । জ্বালানী সমস্যার সমাধানে আমরা অন্যকে দোষারোপ না করেও নিজে কিছু করার চেষ্ঠা করে দেখতে পারি ।





