Home » অন্যান্য » শ্রমিকের চোখের জল শুকাবে কি?

শ্রমিকের চোখের জল শুকাবে কি?

144 বার পঠিত

গত চারদিন ধরে আশুলিয়া উত্তাল,শ্রমিক রা তাদের ন্যায্য পাওনা চায় আর মালিক রা তাদের পেটোয়া বাহিনি দিয়ে বুটের নিচে পিষে মারতে চায় এই হচ্ছে আবহমান কাল ধরে, দেশ বিদেশে শ্রমিকের নিয়তিই হচ্ছে এইটা । আজ ত্রিপক্ষিয় বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিছেন ৭ জুলাই এর ভিতরে বেতন সমন্বয় করা হবে।কিন্তু আমাদের দেশের মন্ত্রীরা কোন আশ্বাস দিলেই তো আমরা ভয় পেয়ে যায় এটা কি আদৌ পূরন হবে? কত শতাংশ বেতন বাড়ানো হবে ,নতুন এবং পুরনো শ্রমিকের বেতন কিভাবে সমন্বয় করা হবে এই বিষয়ে একটা সঠিক দিক নির্দেশনা থাকলে ভালো হতো। এই অষ্ণলের শ্রমিক দের গড় উপার্জন ৫৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা পরিশ্রম করে । আর মাসিক খরচ বাড়িভাড়া এক রুম ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা,একজনের মাসিক খাওয়া খরচ ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা । এবার আপনারা চিন্তা করুন খাওয়া আর থাকা বাবদ তার বেতন পুরোটাই শেষ,এরপর তার বিনোদন পোশাক ইত্যাদির জন্য টাকা কোথা থেকে আসবে ?আর যার সংসার আছে অথবা বাড়িতে দরিদ্র বাবা মা আছে সে কি করবে? দিনে একবেলা খেয়ে তার টাকা জমানো ছাড়া আর তো কোন গতান্তর নেই। মালিকরা কি ভেবে দেখবে এদের কষ্ট টা। আমি নিজে একটা ফ্যাক্টরীতে প্রশাসন বিভাগে ছোট একটা পদে কর্মরত আছি প্রতিদিন এইসব শ্রমিকের দুঃখ কষ্ট আমি নিজচোখেই দেখি আর সাথে মালিক পক্ষের লোকের শ্রমিক ঠকানো মিথ্যাচার ও দেখি। তাই তো ভয় হয় শ্রমিকের চোখের জল কোনদিন বোধহয় শুকানোর নয়।এরা ঠকতেই থাকবে এদের ঠকানো হবে মাঝ খান থেকে লাভবান হবে ওইসব চামচারা যারা শ্রমিকের বন্ধু সেজে তাদের কে ঠকায় আর মালিক রে বোঝায় কম বেতনে আমরা কাজ চালিয়ে নেবো আপনার চিন্তা নাই আর মালিকের সামান্য পুরস্কারের লোভে এরা হাজার হাজার শ্রমিক কে ঠকায়।তারপর ও মানুষের জয় একদিন হবেই সমস্ত জানোয়ার ধ্বংস হবে এই আশা তো করতেই পারি। শ্রমের জয় হোক মানুষের জয় হোক।

মন্তব্য
  • মামুন আব্দুল্লাহ্ জুন 15, 2012 at 9:18 অপরাহ্ন

    ধন্যবাদ আপনাদের আশা রইল আপনাদের কলম আমার শ্রমিক ভাইদের পাশেই থাকবে

  • বদলে যাও বদলে দাও জুন 15, 2012 at 8:31 অপরাহ্ন

    মামুন আব্দুল্লাহ্ বিনীত ধন্যবাদ আপনাকে। বদলে যাও বদলে দাও মিছিল আপনার চেতনা ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানায়। আমাদের যা কিছু খারাপ তা আমাদের দেশের মানুষের দ্বারাই তৈরি। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমিক কৃষক সে আমাদেরই ভাই বোন । আমাদের মত যারা নিজেদের শিক্ষিত বলে পরিচয় দিই, আমরা একবারও ভাবি না ওদেরই কঠোর শ্রমের পয়সায় আমার বিদ্যাটুকু অর্জণ সম্ভব হয়েছে। তাদের ন্যয্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে সরব থাকা উচিত আমাদের, অথচ তাদের প্রতি অমানবিক আচরণগুলি আমরা দূর থেকে উঁকি দিয়ে দেখি। আমরা কি অবজ্ঞা অবহেলা আর এড়িয়ে যাওয়ার স্বার্থবাদিতার প্রপঞ্চ থেকে ক্ষমা চাওয়ার অধিকার রাখি? আজ যদি সংজ্ঞায়িত করি ” দেশে সবচেয়ে ধনী কে- গার্মেন্টস মালিকরা, সবচেয়ে গরিব কে- গার্মেন্টস শ্রমিকরা! এভাবে এত বৈষম্য দিয়ে একটা দেশ কিভাবে পৃথিবীর বুকে নিজেদের সভ্য জাতির পরিচয় দাবি করবে? শিক্ষিতদের অপরাধের বোঝা এখন পাহাড়সম।

    • মামুন আব্দুল্লাহ্ জুন 15, 2012 at 9:40 অপরাহ্ন

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য, আশা রইল আপনাদের কলম আমার শ্রমিক ভাইদের পক্ষেই থাকবে

  • মোঃ মুজিব উল্লাহ জুন 15, 2012 at 7:15 অপরাহ্ন

    বিদ্যমান শ্রমিক আইন না মেনে মালিকপক্ষ শ্রমিকদেরকে সময়মত বেতন না দেওয়া, নিপীড়ন, নির্যাতন করা, তাদের সঠিক ও ন্যায্য মজুরি না দেওয়াসহ নানা রকম বৈষম্যমূলক ও অমানবিক আচরণ করে। অথচ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড এ শ্রমিকশ্রেণী। তাদের ন্যায্য দাবি দাওয়া পূরণে সংশ্লিষ্ট সবারই এগিয়ে আসা উচিত।

© বদলে যাও বদলে দাও