আজ পরিবার থেকে সব সময় চিন্তায় থাকেন আমি একজন সংবাদকর্মী হিসেবে জীবিত আছি কি না? চিন্তারই কথা কেননা, সাংবাদিকদের মৃত্যুর মিছিল দিন দিন বড় হচ্ছে। আশ্চার্যের কথা হচ্ছে, সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের হত্যার করে সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। একদিকে বের হচ্ছেনা কোনও ক্লু, অন্যদিকে হচ্ছে না বিচার। ফলে আজ সাংবাদিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তাহীনতা।
১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের হামলায় আমরা যে সব সাংবাদিকদে হারিয়েছি তাদের মধ্যে রয়েছেন, ১৯৯৫ সালের ১৫ ময়মনসিংহে নিহত হন সরোয়ার আলম নোমান। ১৯৯৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যশোরে নিহত হন আবদুল গাফফার। ১৯৯৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নীলফামারিতে নিহত হন কাজী মো. কামারুজ্জামান। ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন সাতক্ষীরায় নিহত হন এসএম আলাউদ্দিন। ১৯৯৮ সালের ১২ জুন চুয়াডাংগায় নিহত হন বজলুর রহমান। ১৯৯৮ সালে ১৬ জুলাই ঝিনাইদহে নিহত হন রেজাউল করিম রেজা। ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট যশোরে নিহত হন সাইফুল আলম মুকুল। ২০০০ সালের ১৫ জানুযারি ঝিনাইদহে নিহত হন মীর ইলিয়াস হোসেন দিলীপ। ২০০০ সালের ১৬ জুলাই যশোরে নিহত হন শামসুর রহমান। ২০০১ সালে ২১ এপ্রিল খুলনায় নিহত হন নাহার আলী। ২০০১ সালের ২০ জুলাই নারায়নগঞ্জে নিহত হন আহসান আলী। ২০০২ সালের ২ মার্চ খুলনায় নিহত হন হারুন-উর-রশিদ খোকন। ২০০২ সালের ৯ জুলাই খুলনায় নিহত হন শুকুর হোসেন। ২০০২ সালের ৩ আগস্ট মৌলভীবাজার নিহন হন সৈয়দ ফারুক আহমেদ। ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনায় নিহত হন মানিক সাহা। ২০০৪ সালে ২৭জুন খুলনায় নিহত হন হুমায়ন কবীর বালু। ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট খাগড়াছড়িতে নিহত হন কামাল হোসেন। ২০০৪ সালের ২ অক্টোবর শেরপুরে নিহত হন দীপংকর চক্রবর্তী। ২০০৪ সালের ২৪ অক্টোবর ঢাকায় নিহত হনশহিদ আনোয়ার। ২০০৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি খুলনায় নিহত হন শেখ বেলাল উদ্দিন। ২০০৫ সালের ৩১ মে কুমিল্লায় নিহত হন গোলাম মাহফুজ। ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর ফরিদপুরে নিহত হন গৌতম দাস। ২০০৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সাতীরায় নিহত হন বেল্লাল হোসেন দফাদার। ২০০৭ সালের ৫ মার্চ রাঙ্গপমাটিতে নিহত হন জামালউদ্দিন। ২০০৯ সালের ৩ জুলাই ঢাকায় নিহত হন নূরুল ইসলাম রানা। ২০০৯ সালের ২৬ আগস্ট গাজীপুরে নিহত হন এমএম আহসান বারি। ২০০৯ সালের ২ অক্টোকর ঢাকায় নিহত হন আবদুল হান্নান। নিজ বাসায় ২০১১সালে ফরহাদ খা দম্পত্তি। ২০১২ সালের ১০ ফেব্র“য়ারি নিজ বাসায় সাগর-দম্পতি নিহত হন। এ মিছিলে সর্বশেষ যোগদান করেছেন ২০১২ সালের ১৫ জুন যশোরের জামাল উদ্দিন।
এই তালিকা আর কতো লম্বা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চোখ খুলবে। এতো, হত্যা, গুম নির্যাতন এরপরও কি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলবেন দেশের আইন-শৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো? আজ সাংবাদিক নির্যাতন পান্তা ভাতের মতো হয়ে গেছে। বিরোধী দলীয় নেত্রীর ছবি তোলার সময় সরকারের সন্ত্রাসী পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হলেন এনটিভির ক্যামেরা পারসন। কোর্টে সংবাদ সংগ্রহের সময় পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মী। কিন্তু কই এর প্রতিকার নেই।
বেড রুমে খুন হলেন আমাদের প্রিয় সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুণি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত মাসে প্রথম আলোর তিনজন ফটোসাংবাদিক পুলিশের হাতে নির্যাতিত হন। গত মাসে শুধু রাজধানীতেই নয়জন এবং ঢাকার বাইরে তিনজন সাংবাদিক পুলিশ ও সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত ৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ব্যাপারে কঠোর পদপে নেওয়ার আশ্বাস দেন। এর পরও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা-নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। এ নির্যাতন আর কতদিন চলবে মাননীয় মন্ত্রী? কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে কাজের মিল নেই। তবে পাব পেশার নিরাপত্তা এ প্রশ্ন রাখছি রাষ্ট্র যন্ত্রের কাছে।
আর কতো সংবাদকর্মীর জীবন গেলে রাষ্ট্রযন্ত্রের টনক লড়বে?
146 বার পঠিত





