ভার্সিটি পঁড়ুয়া এক মেয়ে, মোটামোটি নতুন ফেসবুক ব্যবহারকারী। মেয়েটি ফেসবুক ওপেন করে বসে আছে। হঠাৎ মেয়েটি নিউজফিডে দেখতে পেলো যে, কোন একজন বন্ধু মহানবী (সাঃ) এর পায়ের ছাপ এর একটা ফটো আপলোড করলো। মেয়েটি খুবই আনন্দিত সেই দুর্লভ ফটোটি দেখতে পেয়ে। সাথে সাথে মেয়েটির বাবা-মা এবং ছোট ভাইকে ডেকে আনলো, ফটোটি দেখানোর জন্য। সবাই দেখে অভিভূত। একেকজন একেক মন্তব্য করছে। হঠাৎ করে ঘটে গেল দুর্ঘটনা। নিউজফিড আপডেট হয়ে এখন ওদের সামনে দেখাচ্ছে একজন পুরুষ এবং মহিলার আপত্তিকর দৃশ্য। তাদের সেই অভিভূত হওয়া পানসে হয়ে গেল। এখন ভাবেন তো, মেয়েটির জায়গায় বা তার বাবা বা মা বা ছোট ভাইয়ের জায়গায় আপনি থাকলে আপনার অবস্থা টা কি হতো? কতোটুকু লজ্জা পেতেন? কতো টুকু বিব্রত হতেন। বার যদি এমন হতো যে, মেয়েটির মা-বাবা জানেন না ইন্টারনেট কি বা ফেসবুক কি, তখন? তারা হয়তো ভাবতো যে, মেয়ে টি নষ্ট হয়ে গেছে …
আমাদের সবার উচিৎ ফেসবুকে যেন আমরা বাজে ছবি আপলোড না করি। ফেসবুক টা এখন এমন একটা পর্যায়ে আছে, যে, আমরা সবাই এখন অনেকাংশে এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। এখন যদি আমরা আমাদের এই ফেসবুক কে আমাদের বিকৃত রুচির মাধ্যমে নোংরা করি, তবে সেটা আমাদেরই ক্ষতি। আজ আমি একজন তরুণ, আমিও বাবা হবো, আমি ঐ মেয়েটির বাবা’র মতো বিব্রতকর পরস্থিতিতে পড়তে চাই না।
আমি এই বিষয়ে শুধু ছেলেদের দোষারুপ করছি না। মেয়েদের ও অনেক দোষ আছে। অনেক মেয়েকে আমি দেখি যারা খুবই খোলামেলা পোষাক পড়ে ফটো আপলোড করছেন। আমাদের বন্ধু তালিকায়ও অনেককেই আমরা পাই। এর অনেকগুলো ফেক আই,ডি। কিন্তু ফেক আইডি ছাড়া ও অনেক মেয়ে আছেন যারা প্রতিনিয়ত নিজেদের খোলামেলা পোষাকের ছবি আপলোড করে যাচ্ছেন। এর বিচারের ভার আমি তাদের উপরই ছেঁড়ে দিলাম। নইলে আমাকে আবার নারী বিদ্বেষী বলা হবে।
অনেক ছেলে কে দেখা যায় তারা শুধু আপলোডই করছেনা, মেয়েদেরকে ট্যাগ ও করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলছি যে, মেয়েটি তো কারোর না কারোর বোন। যেমন ধরুন, আমি ট্যাগ করলাম একজন মেয়েকে। সে যদি আপনার বোন হয়ে থাকেন, তবে কেমন লাগবে আপনার? সর্বক্ষেত্রে নিজেকে রিপ্লেস করে একটু কল্পনা করুন। দেখুন কেমন লাগে।
আর ইদানীং আরেকটা প্রবণতা বেঁড়ে গেছে। সেটা হলো আমাদের দেশের দুই শীর্ষ নেত্রীকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য সহকারে ফটো কারসাজি করে বিকৃতভাবে এবং আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কেন এসব হচ্ছে? আপনারা যে যাই বলুন, ওনারা আমাদের দেশের শীর্ষ নেত্রী। আপনারাই ভোট দিয়ে বানাচ্ছেন। রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতেই পারে। তাই বলে এভাবে উপস্থাপন করা কোন ভদ্র রুচির মানুষের কাম্য নয়। ওনাদের সন্তানের বয়স ও আপনাদের চেয়ে অনেক বেশী। ওনারা বার বার নির্বাচিত হচ্ছেন। আমি-আপনি ভোট দিয়েই তাদের নির্বাচিত করছি। আমার আপনার মা’র চেয়ে ও বয়সে তারা বড়। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ থাকতেই পারে। কিন্তু, সেসব আমরা ভদ্র ভাষায় উপস্থাপন করতে পারি। অশ্লীল রকমের ছবির সাথে সংযুক্ত করে অথবা অশ্লীল গালিগালাজ করে নয়। যে জাতি নিজেদের নেতা-নেত্রীদের কে এমনভাবে সারা বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করে, যে জাতি নিজেকেই ভালোবাসেনা।
অবশেষে একটা কথাই বলতে চাই যে, ঐ মেয়েটির জায়াগায় নিজের বোনকে ভাবুন বা মেয়েকে ভাবুন। ভাবুন ঐ বাবাটির জায়গায় নিজেকে।






আমি মনে করি ফেসবুক মানুষের ব্যক্তিত্বের বহি:প্রকাশ । যদি কেউ এখানে খোলামেলাভাবে প্রকাশ করে তবে তার ব্যাক্তিত্বকে কেউই উঁচুমানের ভাববেনা আবার তেমনি কোন ছেলে যদি খারাপ কোন ছবি আপলোড করে সেটাও মেনে নেওয়ার মত না । পাপটা আরও বেশী করে পাপে পরিনত হয় যখন অনেককে নিয়ে পাপ কাজ করা হয় । তাই যারা নিজেদের উগ্র ছবিগুলো প্রকাশ করছে এবং খারাপ ছবি আপলোড সহ অশ্লিল কোন কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করছে এদের শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা একান্ত জরুরী ।
নগ্নতা নিজেকে প্রকাশের মাধ্যম নয় । যারা শরীরের ভাষা দিয়ে মনের আকুতি অশ্লীলভাবে প্রকাশ করে তাদের ব্যাক্তিত্ব নেই । ব্যাক্তিত্ব হীন মানুষ পশুর সমান । সে নারী বা পুরুষ বলে কথা নেই । যারা এরকম খারাপ কাজের সাথে জড়িত তাদের ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে বাদ দিন । বর্জন করুন সকল খারাপ মানুষকে ।ধন্যবাদ ।
ভাই, আমি এখন খারাপদের কে বর্জন করি, যদি তারা আমার অনুরোধ উপেক্ষা করে। শুধু তাই না, ব্লক করে দিচ্ছি।
ভাল লাগল, সচেতনতা প্রয়োজন, ………………………
জ্বী, সচেতনতার প্রয়োজন আছে। আর এই ক্ষেত্রে আমাদের ছেলেদের বেশী করে এগিয়ে আসতে হবে।
dear Pael. about FB its so true. u should post it on FB. and I am realy not agree with u about that girl. cause it’s her fault. she shouldn’t show her FB stat to her parents or family members. lot’s of people open ther FB a/c with other’s help. and also before they even know about Internet. I realy want not to see my sis or my daughter in her position.
একজন নতুন ব্যবহারকারী কিন্তু অনেক ধরণের ভুল করে।
ভাই পায়েল, খুবই গুরুত্বপূণ একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন আপনি, সেজন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আমাদের রুচি দিনে দিনে কতটা নোংরা হচ্ছে তা এই লেখাটি থেকেই বোঝা যায়।আসলে সব যায়গাতেই আমাদের মানসিকতার পরিবরতন দরকার।
ধন্যবাদ লিজা। সত্যি বলতে কি, আমাদের নিজেদের বদলে দিয়ে অন্যদের বদলের চেষ্টা করতে হবে। তাইতো আমরা বদলে যাও, বদলে দাও এ আছি।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পায়েল। আপনার ফেসবুক সম্পরকিত চিন্তা-চেতনাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের সবার মানসিকতার উন্নয়ন সাধিত হলেই কেবল আমরা নিজেদেরকে মানুষ ভাবতে গর্ব বোধ করবো।
আপনাকে ও অনেক ধন্যবাদ। সত্যি ই, আমাদের মানসিকতার উন্নতির প্রয়োজনা। নইলে আমরা হারিয়ে যাব।