Home » অন্যান্য » জলের অতলে

জলের অতলে

335 বার পঠিত

বৃষ্টি আমি খুব ভালবাসি। অঝোর ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে আর আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে কিংবা জানালার গ্রিল ধরে তা দেখছি-এটা আমার খুবই প্রিয় ও আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। কিন্তু ব্যস্ত নগর জীবনে ভালবাসাও যেন হিসাব কষে অনুভব করতে হয়। যেমন, কর্মস্থলে যাবার পথে যদি বৃষ্টি নামে আর রিকশা, অটো-রিকশা কিছুই যদি না পাওয়া যায়, তখন কিন্তু রাগে গজ গজ করতে থাকি। ভালবাসার জিনিসটিই চরম বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় যখন কর্দমাক্ত আমি বেহাল অবস্থায় অফিসে গিয়ে পৌঁছাই। আবার ঠিক বিপরীতভাবেই যখন নিজের বাসায় থাকি প্রশান্তি নিয়ে বৃষ্টির ধারায় সিক্ত আশপাশটা দেখতে ভালো লাগে । হঠাৎ শ্রাবণধারা নিয়ে অনুভুতির ঝাপি কেন খুলে বসেছি এই প্রশ্ন যেসকল পাঠকদের মনে তাঁদের জন্য বলছি যে-মৌসুমি বায়ুর দেশ হবার সুফলস্বরূপ এই বর্ষাকালে আমাদের দেশে প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হয়।

আমরা বৃষ্টি ভালবাসি, কখনও বিরক্ত হই, কখনও জলাবদ্ধতা আমাদের জীবনের সমস্যাগুলোকে আরও এক ডিগ্রি বারিয়ে দেয়, বহু দরিদ্র পরিবারের দুঃখের অন্তঃ থাকেনা। কিন্তু এত কিছুর মাঝে কোন কিছু কি আমরা অদেখা করে যাচ্ছি? এমন কিছু যা খুব মূল্যবান? উত্তর হল-অদেখা করছি খুব মূল্যবান একটি প্রাকৃতিক সম্পদ যার নাম “পানি”। প্রশ্ন জাগতে পারে-“কিভাবে আমরা অদেখা করছি এই সম্পদকে যেখানে আমরা শৈশব-কৈশোর ও জীবনের নানা পর্যায় পড়ছি, জানছি, বলছি যে পানির অপর নাম ‘জীবন’? হ্যাঁ, আমরা পড়ছি, জানছি, বলছি ঠিকই, কিন্তু কতটুকু মানছি? এই “জীবন”(পানি) এর মূল্য কি আমরা স্ব স্ব জীবনে দিচ্ছি? আর দিলেও কতটুকু সচেতনভাবে দিচ্ছি?

ব্যস্ত নগর জীবনে প্রকৃতি বিলীন হয়ে গেছে। কিংবা বলা যায় আমরা প্রকৃতিকে বিলীন করে দিচ্ছি। আমরা নগরায়নের জন্য যতটা সুচিন্তিত পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছি তাঁর চাইতে শতগুণ উদাসীন মনোভাব পোষণ করি আমাদের চারিপাশের প্রকৃতির জন্য। দৈনিক পত্রিকা, ম্যাগাজিন, রাস্তার বিল বোর্ড সবখানে দেখা যায় খুব পরিচিত কিছু বিজ্ঞাপন-ঢাকা থেকে মাত্র … কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অমুক প্রকল্প, অমুক সিটি। কিংবা টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখা যায় টাকা যদি পানিতে ফেলতে না চাই তবে যেন অবশ্যই অমুক প্রকল্পে একটুকরো জমি কিনি। সেইদিন একটি বিজ্ঞাপন দেখলাম যেখানে ঢাকার অদূরে নির্মাণাধীন “স্যাটালাইট সিটি” এর মত আধুনিক প্রকল্প নাকি গড়ে উঠছে। এই প্রকল্পগুলোতে একটুকরো জমি কিনতে আমাদের চড়া মূল্য গুনতে হচ্ছে। কিন্তু টাকায় পরিশোধিত মুল্যের চাইতেও অনেক বেশি মূল্য আমরা দিচ্ছি আমাদের প্রকৃতিকে বিলীন করে। আর এর ভয়াবহ রূপ বোধ করি বেশীরভাগ মানুষই উপলব্ধি করতে নারাজ।

হুট করে এত এত প্রকল্প, এত বাসযোগ্য জমি কোথা থেকে আসছে? এই জমিগুলোর বেশীরভাগই কিন্তু পানির নিচে ছিল। অর্থাৎ এইগুলো ঢালু জমি ছিল, অথবা জলাশয় ছিল যা ভরাট করে আমরা আমাদের স্বপ্নের নীড়ের জন্য ছোট্ট জায়গা খুঁজছি। যখন বাসযোগ্য জমির চাহিদা আকাশচুম্বী তখন এই ভরাট করার মাঝে সমস্যাটা তাহলে কোথায়? সমস্যাটা আমাদের সচেতনতায়। আমরা জলাশয় ভরাট করছি অপরিকল্পিতভাবে যার ফলস্বরূপ বৃষ্টির পানি মাটিতে মিশে যাওয়ার জন্য যখন মাটির পরশ কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না, তখন সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। কারন বৃষ্টির পানি তো মাটিতে পরে মাটিতে মিশে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছেনা এই অপরিকল্পিত নগরায়নের জন্য। একটি বাড়ি যখন নির্মাণ করা হয়, তখন তাঁর সাথে সম্পর্কিত সকল সুযোগ সুবিধাও বাস্তবায়ন করার সর্বাধিক চেষ্টা করা হয়। যেমন, গাড়ীর পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার ব্যবস্থা,অনেক অভিজাত এলাকায় নানা নির্মাণাধীন ইমারতের পাশে বিজ্ঞাপনে দেখা যায় সুইমিং পুল, জগিং পার্ক এর সু-ব্যবস্থা। কিন্তু সবুজ গাছ দিয়ে ঘেরা সিমেন্ট ছাড়া একটুকরো জায়গার “সুব্যবস্থা” করতে কোন প্রতিষ্ঠানকে শুনিনি। যারা ব্যক্তিমালিকানায় বাড়ি তোলেন তাঁরাও এমন কোন ফাঁকা জায়গা রাখতে চাননা। পুরো জায়গাটা মুরে দেন সিমেন্ট বা টাইলস দিয়ে।

সম্প্রতি সরকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ম করেছেন যে প্রতিটা ইমারতের সামনে থাকতে হবে greenery corner. কিন্তু সেই নিয়ম মানছেন কয়টি ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেটা একটা প্রশ্নবোধক চিহ্নের জন্ম দেয়। আর এমন greenery corner  এর অভাবে যেমন নগরে গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে তেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টিতেও একটি ভূমিকা রাখছে। কারন বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সঠিক ও সুষ্ঠু ব্যবস্থা যেমন একদিকে নেই, তেমনি কোথাও খালি জমি বা মাটি বা জলাশয় না থাকার ফলে এই পানি মাটির সাথেও মিশে যেতে পারছেনা। এটা তো গেল খুব সাধারণ একটি ঘটনা যা আমরা খুব সহজ সরল দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছি। কিন্তু এর আরও ভয়াবহ রূপটা সাদা চোখে দেখা কঠিন।

আমরা প্রতিদিনই দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যে পানি পাচ্ছি তা আমরা মাটির তলদেশ থেকে উঠিয়ে আনছি। আর এইরূপ ব্যবহারের ফলে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। কিন্তু বাঁচতে হলে তো পানি আমাদের ব্যবহার করতেই হবে আর সে ক্ষেত্রে মাটির নীচ থেকে আমরা পানি তুলবো সেটাইতো স্বাভাবিক। হ্যাঁ, এটা স্বাভাবিক হত তখনই যখন আমরা যে পরিমানে পানি তুলছি সেই পরিমান বা তাঁর কাছাকাছি পরিমানের পানি আবার মাটির তলে ফেরত দিয়ে দিতাম। হ্যাঁ, আমরা যদি খালি জমি বা মাটি রাখতাম, কিছু জলাশয় থাকত যার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি আবার মাটিতে মিশে পানির স্তর অপরিবর্তনীয় রাখতে পারত তবে আসলেই কোন সমস্যা ছিলনা, আর সেটা স্বাভাবিকও ছিল। কিন্তু আমরা খুবই অপরিকল্পিত ও অস্বাভাবিকভাবে পানির ব্যবহার করছি। আর সাথে সাথে এও ভুলে যাচ্ছি প্রকৃতি খুব বেশিদিন অস্বাভাবিকতা ও অনিয়ম সহ্য করেনা। অথচ প্রকৃতিকে অবহেলা করেই আমরা ক্ষান্ত হচ্ছিনা, এর মহান আশীর্বাদকেও আমরা ঝেরে ফেলে দিচ্ছি।

আমাদের দেশে এখন গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রচণ্ড বৃদ্ধি পায়। পানির স্তর নিচে নেমে যায়। আবার শীতকালেও অতি শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এই সময়গুলোতে বাংলাদেশের নানা স্থানের অধিবাসীরা পানির অভাবে অবর্ণনীয় কষ্ট করেন। কমবেশি সব সাধারণ মানুষই এই দুর্ভোগের সাথে পরিচিত। কিছুদিন আগে যখন গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবাদহ চলছিল তখন নানা টিভি চ্যানেলে আমরা সবাই দেখেছি পানির দুর্ভোগের হাল। ঢাকার জীর্ণ গলির বাসিন্দা থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকার কয়েক কোটি টাকার ফ্ল্যাটের অধিবাসী পর্যন্ত সবাই এই দুর্ভোগের শিকার ছিলেন।

একটি সাক্ষাতকারে দেখেছিলাম ইন্দোনেশিয়া থেকে আগত এক বিদেশিনী কর্ম সুবাদে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি বললেন যে অফিস কর্তৃপক্ষকে বলে তিনি তার বদলি অন্য কোন দেশে করে নিতে চান। এবং কথা বলতে বলতে তার কণ্ঠে ও অভিব্যক্তিতে প্রকাশ পাচ্ছিল অভিযোগ, কষ্ট, এবং হতভম্ব ভাব। তার কথা ছিল মৌলিক চাহিদা যদি পুরণ করতে না পারি তাহলে আমি এখানে কিভাবে থাকব, কিভাবে কাজ করব? হ্যাঁ, আমরা এই অবস্থার সাথে অভ্যস্ত। মৌলিক চাহিদা পূরণ হবেনা, আমরা অভিযোগ করব, কিন্তু তারপরও সেই দুর্ভোগ জীবন নামের পথের পাশে একটা আলাদা পথ তৈরি করে নিবে। আমরা দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার মত দুই পা দুই পথে দিয়ে চলব, একপা থাকবে জীবনপথে আরেক পা থাকবে দুর্ভোগের পথে।

একটা ব্যাপার মাঝে মাঝে আমাকে খুব পীড়া দেয়। মানুষের জীবনে দুঃখ থাকবে, কষ্ট থাকবে, প্রতিবন্ধকতা থাকবে-এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এর বিরুদ্ধে সচেতনতা থাকবে, সোচ্চার ভুমিকা থাকবে, সমাধান থাকবে এটাও ঠিক একই ভাবে স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশে অস্বাভাবিকতা হল আমরা সমস্যাগুলো অনুভব করতে সক্ষম, জোর গলায় এর বিপরিতে অভিযোগ করতে সক্ষম, কিন্তু এর সমাধান না করে দৈনন্দিন জীবনে এই সমস্যার একটি অনন্য স্থান তৈরি করতেও সক্ষম যেখানে সমস্যাগুলো থাকবে নিজের সর্ব অস্তিত্ত নিয়ে, আর আমাদের সচেতনতা নিদ্রিত অবস্থায় থাকার জন্য থাকবে সু-ব্যবস্থা।

কথায় আছে জমি সোনার চাইতেও দামি। আমাদের দেশে এই কথাটি এখন অক্ষরে অক্ষরে সত্য। জমির দাম যে হাড়ে বারছে তার কাছে সোনার দাম বলতে গেলে কিছুইনা। কিন্তু এই জলাশয় ভরাট করে জমি বানানো কতটা যুক্তিসঙ্গত? হ্যাঁ, বাংলাদেশের জনসংখ্যা যখন হু হু করে বারছে, মানুষ যখন কর্মসংস্থানের আশায় রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসছেন তখন বাড়তি জমি, বাসস্থানের প্রয়োজন আপনা থেকেই তৈরি হয়। কিন্তু সেটা অবশই হয়া উচিত পরিকল্পিতভাবে। নগরায়ন ও প্রকৃতির সহাবস্থান কি অসম্ভব? আমি বলব কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়।

ফিরে আসি পানি সমস্যার চিত্র নিয়ে। গ্রীষ্মের দাবাদহে আমরা চাতক পাখির মত অবস্থায় থাকি। আবার এই শ্রাবণের দিনগুলোতে আমরা পানি সমস্যার কথা ভুলতেই বসি। মৌসুমি বায়ুর দেশ হবার ফলে বর্ষাকালে দেশের নানা স্থানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। শুধু তাই নয়, এদেশের কিছু স্থানে বর্ষাকাল বাদে অন্য সময়ও বৃষ্টি হয়। যেমন-সিলেট, শ্রীমঙ্গল এই জেলাগুলোতে সারা বছর ধরেই কম বেশি বৃষ্টিপাত হয়। আর মেঘপুঞ্ছেরা যখন এই ধরণীতে নেমে আশে তখন তাকে আশীর্বাদ মনে করে কিন্তু আমরা খুব সহজেই এর সদ্ব্যবহার করতে পারি।

প্রথমতঃ নগরে যত ইমারত আছে, আবাসিক ও বাণিজ্যিকভেদে এই সব ইমারতেই আমরা বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা রাখতে পারি। আমি স্থাপনা বিদ্যা সম্পর্কে কিছুই জানিনা। তবে আমার বিশ্বাস যে অবশ্যই এমন করা সম্ভব। যেহেতু এই বিষয়ে আমার জ্ঞান কম তাই কোন সুপরিকল্পিত ব্যবস্থার কথা আমি বর্ণনা করতে পারবনা। শুধু বলতে পারি যে প্রতিটি ইমারতের ছাঁদে যদি বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয় এবং সেই পানি যদি আলাদা একটি ট্যাঙ্ক এ সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে গ্রীষ্মের দাবাদহে এই পানি কিন্তু মানুষ সহজেই ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে। এবং আমি মনে করি সরকারী পর্যায় যখন একটি স্থাপনার (আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয় ক্ষেত্রে) প্লান জমা দেয়া হয় তখন সেই প্লানে বাড়ির সামনে greenery corner সহ ছোটো একটুকরো খালি জমি (হতে পারে মাত্র দুই হাত), ইমারতের ছাঁদে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক বা mandatory  করে দেয়া উচিত।

পিচ ঢালা রাস্তায় যখন এই বর্ষাকালে হাটি তখন পায়ের অনেক খানিই ডুবে থাকে রাস্তায় জমে থাকা পানিতে ও কাঁদায়। আশে পাশে তাকিয়ে মাঝে মাঝে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা খুঁজি। কোন কোন রাস্তায় সেটা অদৃশ্য, কোথাও আবার সেটা সংরক্ষণের অভাবে ময়লা জমে বন্ধ হয়ে আছে। আমি সিলেটে একটি চমৎকার রিসোর্টে ছিলাম। রিসোর্টটি খুবই আধুনিক উপায়ে তৈরি। ওখানে আমি দেখছি পিচ ঢালা পথের মাঝে কিছুদুর পর পর ছোট ছোট ছিদ্র করা। প্রথমে আমি বুঝতে না পারলেও পরে অনুধাবন করেছি যে বৃষ্টির পানি যেন জমে না থেকে মাটির নিচে চলে যেতে পারে সেটা সুনিশ্চিত করার জন্যই এই ব্যবস্থা। আমি প্রথমেই বলে নিয়েছি স্থাপনা বিদ্যায় আমার জ্ঞান শূন্যের কোঠায়। কিন্তু তাও বলছি, ঢাকার পিচ ঢালা রাস্তাগুলোতে একই পদ্ধতি ব্যবহার করে কি কিছুটা হলেও পানি মাটির নিচে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা যায় না? যদি এটা সম্ভব হত, তবে যেমন মাটির নিচে পানির স্তর ঠিক থাকত, তেমনি রাস্তা ঘাটে পানিও কম জমত।

ছোটবেলায় একটা গল্প আমরা সবাই পরেছি। গল্পটা এমন ছিল-এক রাজা ছিলেন যিনি পরশ পাথর খুঁজতেন। তার ইচ্ছা ছিল পরশ পাথরের ছোঁয়ায় সব কিছু মূল্যবান সোনায় পরিনত করা। ঘটনা পরিক্রমায় তিনি এক অভিনব ক্ষমতার অধিকারী হন যার আশীর্বাদে তিনি যাই স্পর্শ করবেন, তাই সোনায় রূপান্তরিত হবে। রাজা মহা খুশি হলেন। তার আশে পাশের সব কিছু ছুয়ে দিতে লাগলেন আর ক্ষমতাবলে সেই জিনিশগুলো সোনায় রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছিল। এমন অনেকক্ষণ চলার পর তিনি ক্ষুধার্থ অনুভব করলেন। কিন্তু খেতে পারলেন না। কারন যে খাদ্যই স্পর্শ করছেন, তাই স্বর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ক্ষুধার জ্বালায় তিনি চোখে অন্ধকার দেখলেন। দাস দাসীরা তাকে খাইয়ে দিলেন। এরপর তিনি তার পুত্রের সাথে দেখা করতে গেলেন। আনন্দ সংবাদ দিয়ে তিনি যখন পুত্রকে পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরলেন, তার পুত্র একটি স্বর্ণের মূর্তিতে পরিণত হলেন। রাজা বুক ভাসিয়ে কাঁদলেন। চারিদিকে স্বর্ণের ছড়াছড়ি আর হতভাগা রাজা আকুল নয়নে কেঁদে যাচ্ছেন-এই ছিল গল্পের সমাপ্তি।

আমি যদি বলি আমাদের মাঝে অনেকের পরিনতিই গল্পের এই রাজার মত হবে-কথাটা কি খুব অদ্ভুত শোনাবে? হ্যাঁ, অদ্ভুত বৈকি, কিন্তু একই সাথে নির্মম সত্যও। আমাদের মাঝে অনেকে আছেন যারা বিত্তশালী এবং জমি কিনে বাড়ি বানান। অনেকে আবার জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকু দিয়ে একটি ছোট দুই কামরার ফ্ল্যাট কেনেন। এদের বেশিরভাগ মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করেন যে এই বাড়ি দিয়ে তারা কি করবেন, বেশিরভাগেরই উত্তর হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুনিশ্চিত জীবন তারা গরে দিয়ে যেতে চান মৃত্যুর আগে। কারন প্রতিটা মানুষ-ধনী, গরিব, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে পরম মমতা অনুভব করেন তাঁদের সন্তান, আপনজনদের জন্য। আর এই আপনজনদের জীবনটাকে আরেকটু সহজ করে দেয়ার জন্যই তারা চান একটি নীড়। বাবুই পাখি বহু কষ্ট করে শৈল্পিক উপায়ে তাঁর বাসা বানায়, শুধুমাত্র একান্ত নিজের একটি নীড় থাকার আশায়। তাহলে মানুষের ক্ষেত্রে এই আকাঙ্খা কি বহুগুণে বেশি থাকা স্বাভাবিক নয়? কিন্তু আমাদের পরের প্রজন্মের পরিনতি যে অই দুর্ভাগা রাজার পুত্রের মত হবে তা আমরা একবার ভাবিনা।

আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাচ্ছি রুক্ষ এক প্রকৃতি যা কিনা আমাদেরই অবহেলার দরুন প্রতি মুহূর্তেই রুদ্র মূর্তি ধারন করছে। ব্যস্ত এই নগর জীবনে সোঁদা মাটির গন্ধ আমাদের কাছে বড্ড দুর্বিষহ লাগে, চারিপাশের গাছ পালা থাকলে তাঁর পাতা পরে থাকা আমাদের জীবনে বিরক্তির উদ্রেক করে। একটুকরো মাটি আর তাঁর মাঝে কিছু শবুজ ঘাস দেখে আমাদের মনে হয় মূল্যবান সম্পদের কত বড় অপব্যবহারই না হচ্ছে। আমরা চাই চোখ ঘরালেই যেন কুচকুছে কাল পিচ ঢালা রাস্তা দেখতে পাই। আমরা চাই আমাদের আশে পাশে ধরণীর উপরে ইট, বালু, সিমেন্ট আর পিচ দিয়ে আলাদা একটা ভু-পৃষ্ট সৃষ্টি করতে। আমাদের সন্তানেরা হাতে পায়ে ধুলা, বালি, মাটি না লাগিয়ে ঘুরবে, পাকা রাস্তায় জানবাহনে চলবে আমরা এই চাই। আমরা জলাশয় চাইনা, গাছ চাইনা, জলাশয় চাইনা। চাই শুধু কংক্রিটের শক্ত বাধনে ঢাকা পৃথিবী। এইসব চাওয়ার মাঝে আমরা ভুলে যাই যে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে জীবনের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব যদি পানি না থাকে।

আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য নিজস্ব নীড় শুনিশ্চিত করতে গিয়ে আমরা তাঁদের ঠেলে দিচ্ছি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। আমরা স্বর্ণের মত মূল্যবান জমি তাঁদের দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু সাথে আর দিয়ে যাচ্ছি রুঢ রুক্ষ একটি পরিবেশ। এখনি যদি আমরা সচেতন না হই, আমরা পানির মত একটি মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ না করি, আমাদের ভবিষ্যতকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য আমাদের আগামী প্রজন্ম কিভাবে বাঁচবে? পৃথিবীতে প্রতি মুহূর্তে হানাহানি হয়-সম্পদের জন্য, ভুমি দখলের জন্য। একদিন এমনও সময় আসবে যখন পানির জন্য হানাহানি হবে, মানুষ খুন হবে।সুস্থ মস্তিষ্কে কি এটা ভাবা যায়? আমি বলি ভাবা উচিত, ভাবার এখনি সময়।আমরা যদি সুদূর ভবিষ্যতে আমাদের ও আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের করুন পরিনতি নিয়ে ভেবে শিউড়ে উঠি তাহলে হয়ত আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসব এই অবস্থার সমাপ্তি ঘটাতে।

মন্তব্য
  • mizan chowdhury আগস্ট 16, 2012 at 11:14 পূর্বাহ্ন

    আমরা এখন কি করব?

  • hossain.farhana আগস্ট 9, 2012 at 7:31 অপরাহ্ন

    জনাব Ahmed Yousuf ভাইয়া,
    বিনীত ধন্যবাদ আমার লেখাতি ধৈর্য নিয়ে পরার জন্য।আমরা যারা এই বদলে যাবার মিছিলে জগ দিয়েছি তাদের সবার মাঝে কিছু মতভেদ থাকলেও লক্ষ্য কিন্তু একটাই-দেশ তথা সমাজে মঙ্গলজনক পরিবর্তনের দাবি জানাতে সোচ্চার হওয়া।

    আপনার লেখা কিছুদিন আগে ব্লগে প্রকাশ পেয়েছে। আর সে জন্য আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।আশা করি আগামীতেও বদলে যাবার প্রত্যয় নিয়ে আপনার লেখা আমরা পরব।
    শুভ কামনা রইল।

  • Ahmed Yousuf আগস্ট 8, 2012 at 8:10 অপরাহ্ন

    প্রথমেই আপনার চমৎকার নিবন্ধের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ব্যক্তিকেন্দ্রিক আলাপের ছলে সামষ্টিক জীবনের প্রকৃত সমস্যাগুলো চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে আপনার লেখায়। আগামী প্রজম্নের জন্য আপনার উদার চিন্তাচেতনা ও কর্মপরিকল্পনা আমাকে ভাবিয়েছে এবং পরিবেশ রক্ষায় অধিকতর সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আসলে লেখকের প্রাপ্তি এটাই যে, তার লেখা পাঠক সমাজে কতটা আলোড়ন তুলতে সক্ষম হল। পাঠকের হৃদয় তা কতটা স্পর্শ করল। আমি বলব সেক্ষেত্রে আপনি সফল। ভবিষ্যতে আরো ভালো লিখুন এই প্রত্যাশায় রইলাম। ভালো থাকবেন।

    আহমেদ ইউসুফ
    ঢাকা, ০৮ আগষ্ট ২০১২ ইং।

  • কে আই তাজ আগস্ট 8, 2012 at 2:31 অপরাহ্ন

    ম্যাডাম- ফারহানা হোসাইন, লেখনীর শিল্পিত শুরু দেখেই আমি মুগ্ধ। পরের টুকু পড়ার আগেই মন্তব্য করে বসলাম। চমৎকার যোগসূত্র। ভাবলাম, শ্রাবণ মাস, তাই হয়তো অন্যান্য বৃষ্টি প্রেমীর মত আপনিও বর্ষা বন্দনা করবেন। পরে দেখলাম জন সংশ্লিষ্ট বিষয় আলোকপাত করেছেন। সাধু সাধু !! :)

    • Al Masud আগস্ট 8, 2012 at 4:07 অপরাহ্ন

      ঠিক বলেছেন তাজ ভাই- প্রথমে আমিও তাই ভেবেছিলাম। ফারহানা আপার লেখার শৈল্পিক শক্তি অসাধারণ, সেটা অনেকদিন থেকে দেখে আসছি।

      • hossain.farhana আগস্ট 9, 2012 at 7:36 অপরাহ্ন

        জনাব Al Masud ভাইয়া,
        আবারো ধন্যবাদ আপনার প্রশংসার জন্য।আপনিও একজন সুলেখক এবং লেখার খুব ভাল একটি দিক হল লেখাগুলো তথ্য সমৃদ্ধ হয়।
        শুভ কামনা রইল।

    • hossain.farhana আগস্ট 9, 2012 at 7:33 অপরাহ্ন

      জনাব কে আই তাজ ভাইয়া,
      আপনাদের প্রশংসা বাক্যই আমার লেখায় প্রান সঞ্চার করে। ধন্যবাদ আপনাকে আমার লেখাটি পড়ার জন্য।

      শুভ কামনা রইল।

  • priom আগস্ট 7, 2012 at 7:45 অপরাহ্ন

    valo cilo lekhata………arokom r o kisu valo lekha asa kori

  • সাইফুল ইসলাম টিটু আগস্ট 7, 2012 at 2:04 পূর্বাহ্ন

    লেখাটি খুবই ভাল লেগেছে।

  • A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT(SAYED CHOWDHURY) আগস্ট 6, 2012 at 12:27 অপরাহ্ন

    অনেক বড় লেখা, অনেক দিন ধরে পড়া তাই মন্তব্য করতেও দেরি । অনেক কৃতজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ন কিন্তু প্রচুর পাওয়া যায় বলে অবহেলিত সম্পদ নিয়ে লেখার জন্য । পানি সুষ্ঠ ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই হবে । এজন্য আমাদের দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করা অব্শ্য কর্তব্য । ধন্যবাদ । ভালো থাকবেন ।

  • hossain.farhana আগস্ট 6, 2012 at 9:23 পূর্বাহ্ন

    প্রিয় বদলে যাও বদলে দাও মিছিল,
    অসংখ্য ধন্যবাদ আমার লেখাটি ফিচার হিসেবে প্রকাশ করার জন্য।যদিও বিষয় বস্তুটি এক্তু ভিন্ন ছিল, তাও আমার লেখাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে আমি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।পাশাপাশি একটি প্রস্তাব দিতে চাই।আমরা কিছু বিষয়কে ক্যাপশান করে আলোচনা করছি সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে।পরিবেশ রক্ষা তথা প্রাকৃতিক সম্পদের মূল্যায়ন কে যদি এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে আমি মনে করি অনেক সচেতন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সমৃদ্ধ লেখা আমরা পরতে পারব।বিনীত নিবেদন রইল বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য।
    আবারো আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

  • hossain.farhana আগস্ট 6, 2012 at 9:17 পূর্বাহ্ন

    নূসরাত আলম আপু,
    বিনীত ধন্যবাদ।আমি লেখার চেষ্টা করি মাত্র।আপনাদের ভালবাসা, উৎসাহ আর উদ্দীপনাই লেখাকে প্রানজ্জল করে।আপনিও এই ব্লগের একজন সুলেখিকা।আপনার লেখাগুলো আমি নিয়মিত পড়ি।আসলে আমি এই ব্লগের বেশীরভাগ লেখাই মন দিয়ে পড়ি, প্রতিদিন যেমন খবরের কাগজ পড়ি ঠিক তেমন।কারন এই লেখাগুলো তো আসলে মানুষের জীবনের খবর।

    শুভ কামনা রইল।

  • নূসরাত আলম আগস্ট 5, 2012 at 8:27 অপরাহ্ন

    আপনি বরাবরই খুব ভাল লিখেন।কিভাবে যে পারেন?গত মাসে দাউদকান্দি যাবার পথে বিশাল এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পের সাইনবোড দেখেছি জমি,বিল এর উপর।এগুলো ভরাট হয়ে যাবে ভাবতে ও সেদিন খারাপ লাগছিল।আমার স্বামীকে বার বার জিজ্ঞেস করছিলাম এগুলো সত্যিই ভরাট হবে কিনা।এত বড় এলাকায় মাটি ভরাট হলে তো সেই এলাকায় বিপযয় ডেকে আনবে।সত্যি সেদিন এই ভেবে মনটা ভীষন খারাপ হয়েছিল।ধন্যবাদ আপনাকে।

  • Kalhan আগস্ট 5, 2012 at 6:04 অপরাহ্ন

    For, FARHANA,Your concern is extremely important,not only for Bangladesh but for any country,for, by the thinkers,world over, reminded the the utmost concern for the drinking water, more than three decades ago, same as in the line as that of petrolium fuel, what has been deplating in very fast rate.Hypothetically speaking,may be, one may probably live without too much dependence on fossil fuel, but the need for the drinking water as the ‘Jeeban’ is almost eternal,without this substance
    the good old earth of our was not to exist and cannot exist.You have kindly touched the vital substance, as an issue.Thanks indeed.
    At this stage,one needs the support of the technology that has been well developed for them who wants to use such know how,with a scientific judgement.The subject is the ‘management of ground water’
    through ‘recharging the groung water’ by ‘harvesting the rain water’ (you have kindly touched this point), but, it has mainly two segments,
    as you will appreciate, one is the ‘efficient’ collection of rain water through designing the proper ‘rain collector’ and the efficient design of the ‘rain water storage’ in the ground level ( preferably not on the roof to avoid the additional load on the building structure, to avoid evaporation, to get more volume in the ground level,maintenance of such facility, such and such technical points etc). In any country there are the technical departments,such as, ‘Ground Water Board’ who are concerned for such information and management.What is required, the Govt. Policy to compel , mainly the big builders,group housing societies to keep the provisions in the open spaces around the buildings for Rain Water Harvesting with considerable volume and if, geologically known, to recharge the water Aquifer inside the
    soil-bed, near the building complex, if possible.Yes,it reqires the additional funds,but, that should be taken into account in the planning stage, with the Govt. support, for,it is just not for now, but for our future generations also ! It is beyond imagination, that what an enormous amount of rail water , every year,we allow to flow away,
    without caring to use the for the rechargibg of our ground water (natural) aquifers and not creating artificial storages for the future use, to protect the water-table inside the earth.
    For your general interest, you may like to search the google.com etc. for reading many more information on rain water harvesting etc.
    Thanks.

  • Al Masud আগস্ট 5, 2012 at 3:34 অপরাহ্ন

    hossain.farhana,
    আপনার লেখা সবসময় চমত্কার হয়। সেই সাথে শিরোনাম গুলো অসাধারণ দেন আপনি। লেখাগুলোও অনেক দীর্ঘ হয়। তবে আপনার লেখা অনেক বড় হওয়া স্বত্ত্বেও কখনও ধৈর্যহারা হয়ে বাদ দেওয়া যায় না; পড়তেও ভাল লাগে। আর সেই জন্যই প্রস্তুতি নিয়ে পড়তে বসেছি কিন্তু এই লেখাটার সমাপ্তি তাড়াতাড়ি ঘটে গেল
    অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লিখেছেন, পানির আরেকটি নাম যেখানে জীবন সেখানে পানি নিয়ে রীতিমতো তেলেসমাতি চলছে নগরীতে। একটু বৃষ্টি হলেই চারিদিকে পানি থই থই। সৃষ্টি হয় একরকম জলাবদ্ধতার। কিন্তু রাজধানীতে প্রতিদিন খাবার পানির ঘাটতি প্রায় ২০ কোটি লিটার। আর এই ঘাটতিকে কেন্দ্রকে চলছে পানির রমরমা ব্যবসা। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে পানি বিক্রি করছে ওয়াসার কিছু অসাধু কর্মচারী।
    সরকারী ভাবে ১ গাড়ী পানি মূল্য ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ৮০০ বা ১০০০ টাকায়।
    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে গভীর নলকূপের সংখ্যা ৯৯ থেকে বাড়িয়ে ৬২১ টিতে উন্নীত করেছে।*
    কমমূল্যে বিক্রি হচ্ছে জারের অস্বাস্থ্যকর পানি। পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “জারের পানি নিয়মিত পান করলে পেটের পীড়া সহ আমাশয়, জন্ডিস, টাইফয়েড এমনকি ক্যান্সার হতে পারে।” ব্যঙের ছাতার মতো অনেক জার কোম্পানী গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ কোম্পানী বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেই। বিএসটিআইয়ের ছিল লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে ধোকা দিচ্ছে।

    আপনি ঠিকই বলেছেন, মৌসুমি বায়ুর দেশ হওয়ায় আমরা যতেষ্ট পানি পাই বৃষ্টির মাধ্যমে। অথচ বাংলাদেশ কর্কট ক্রান্তি রেখায় অবস্থিত, আমাদের দেশের মধ্যভাগ দিয়ে এই রেখা অতিক্রম করায় মরুভূমির হাত থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি মুনসুনের জন্য।
    পানি নিয়ে সেকেলে একটি ছড়া শোনা যায়:
    (সেকালে পানি না পেয়ে কলপাড়ে ঝগড়া করত নানা-নানীরা)
    নানি গাইস পানি নানে- {নানি গিয়েছিল পানি আনতে}
    ভাত হুয়াগিলা – {এর মাঝে উনুনের ভাত জাউ হয়ে গেল}
    নানা আকে দে বাড়ি- {এই দোষে নানা হাতের ছড়ি দিয়ে এমন আঘাত করেছে যে,}
    কাস্তার হুয়া ঢিলা – {নানির কোমরের হাড় মচকে গেছে।}

    • hossain.farhana আগস্ট 5, 2012 at 4:17 অপরাহ্ন

      জনাব Al Masud ভাইয়া,
      বিনীত ধন্যবাদ আমার লেখাটি ধৈর্য নিয়ে পরার জন্য।আপনি এই মিছিলের একজন সুলেখক।তাছারা আপনার মন্তব্যে যে তথ্যগুল দিয়েছেন তা সত্যি খুবই প্রয়োজনীয়।আমি অনুরধ করব আপনি এবং আপনার মত আরও যারা আছেন এই ব্যপারে তথ্য সমৃদ্ধ পরিকল্পনা প্রদান করতে সক্ষম তাঁদের এই ব্যপারে লেখার জন্য।আশলে এই ব্যপারে আমার জ্ঞান সীমিত।যা দেখছি, যা অনুভব করছি তাই লিখেছি।কিন্তু কোন পরিসংখ্যান বা সুপরিকল্পিত উপায় নিয়ে আলোচনা করতে আমি সক্ষম নই আমার এই ব্যপারে সীমিত জ্ঞানের জন্য। তাই আশা করি আপনি এই ব্যপারে আরও বিস্তারিত লিখবেন
      শুভ কামনা রইল।ভাল থাকবেন

      • Al Masud আগস্ট 6, 2012 at 12:00 অপরাহ্ন

        তথ্য না দিয়েও একটি লেখাকে সমৃদ্ধশীল করা যায়, করা যায় সাবলীল। আর সেটা আপনি চমত্কারভাবে করেছেন। ধন্যবাদ।

  • Qazi Manzur Karim (কাজী মিতুল) আগস্ট 5, 2012 at 2:33 অপরাহ্ন

    ফারহানা আপুকে ধন্যবাদ একটি গুরুত্বপর্ণ বিষয় সুন্দর ভাবে তুলে ধরবার জন্যে। লেখাটা যখন পড়ছিলাম, তখন মনের ভেতর যে কথাগুলো তৈরী হচ্ছিল, তা একটু পর পর পেয়ে যাচ্ছিলাম। দু:খজনক হলো, দেশের পানিবিদরা এই বিষয়ে সরকারকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ এবং উন্নত বিশ্বের উদাহরণ ইত্যাদি তুলে ধরেও কোন সুফল পাচ্ছেননা। আমার লেখাপড়ার বিষয়গুলোর মধ্যে পানিসম্পদ প্রকৌশল একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল। এবং বুয়েটের কোন কোন গবেষককে তাঁদের বিভিন্ন থিসিস-এ অনেক চমৎকার সমাধানের সন্ধানও দিতে দেখেছি। কিন্তু যারা জেগে ঘুমায়, তাদের ঘুম ভাঙ্গাবে কে? আমাদের সরকার বাহাদুররা নিজেদের সিংহাসন নিয়ে বেশি চিন্তিত, প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার কৌশল খোঁজায় বেশি ব্যস্ত; এসব “ছোট-খাটো” সমস্যা তাঁদের স্পর্শ করেনা। বরং আমরা যে যেভাবে পারি নিজের এলাকায় পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নিতে পারি।

    • hossain.farhana আগস্ট 5, 2012 at 3:05 অপরাহ্ন

      জনাব Qazi Manzur Karim (কাজী মিতুল),
      আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ আমার লেখাটি সময় নিয়ে পরার জন্য।আমি বাণিজ্যের ছাত্রী বলে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি ঠিকই কিন্তু এর সুপরিকল্পিত সমাধান খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারিনি।যেমন ধরুনঃ আবাসিক ও বাণিজ্যিক ইমারত গুলোতে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থার কথা আমি বলেছি কিন্তু সেটা কি উপায়ে করতে হবে তার ব্যপারে স্পষ্ট বর্ণনা দিতে পারছিনা।কারন হল এই ব্যপারে আমার সীমিত জ্ঞান।আপনি বুয়েটের ছাত্র ছিলেন, এই নিয়ে আপনাদের পড়ান হয়েছে বললেন।আপনাকে বিনীত অনুরধ জানাচ্ছি এই ব্যাপারে লেখার জন্য এবং আরও সু-স্পষ্ট কিছু পরিকল্পনা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।পানি সংরক্ষণ এর বিষয়টি আপাত দৃষ্টিতে আমাদের কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হলেও সেই দিন দূরে নয় যেদিন আমরা সময় ফুরিয়ে গেল বলে আফসোস করতে বাধ্য হব।আশা করি আপনার মত সু লেখকরা এই ব্যপারে লিখে সচেতনতা তৈরিতে সাহায্য করতে পারবেন।

      শুভ কামনা রইল।

  • masud khan আগস্ট 4, 2012 at 12:15 অপরাহ্ন

    খুভ ভালো লিখেছেন । ধন্যবাদ ফারহানা আপু ।

    • hossain.farhana আগস্ট 5, 2012 at 3:07 অপরাহ্ন

      ধন্যবাদ masud khan ভাই

  • leya sharker আগস্ট 4, 2012 at 2:15 পূর্বাহ্ন

    Thanks Farhana ,
    বৃষ্টি আমিও ভালবাসি ।ভালবাসি বৃষ্টি ভেজা মাটির ঘ্রান নিতে ।কিন্তু জলের বাড়াবাড়ি আমাকে কষ্ট দেয় । কারন মানুষের জীবন হেয় করা বৃষ্টি কে চায় ।

    পানির অপচয় এবং সুষম ব্যবহার আমদেরকে এই মহামারি থেকে বাঁচাতে পারবে।
    এই ভাবনা গুলো সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিন ।আমি আপনার সাথে আছি ।
    ভাল থাকুন এবং নিরাপদে পথ চলুন ।

    • hossain.farhana আগস্ট 5, 2012 at 4:18 অপরাহ্ন

      জনাব leya sharker,
      আপনার মূল্যবান মন্তব্বের জন্য বিনীত ধন্যবাদ জানাচ্ছি।ভাল থাকবেন

  • Md. Galib Mehadi khan আগস্ট 3, 2012 at 2:47 অপরাহ্ন

    hossain.farhana অনেক ধন্যবাদ একঘেয়ে আলোচনার বাহিরে গিয়ে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নতুন আসর জমালেন। পানিকে উ্পলক্ষে এনে প্রকৃ্তিকে বাচানোর এই তাগিদ বেশ ভাল লাগল। অনেক ভাল থাকবেন।

    • hossain.farhana আগস্ট 5, 2012 at 4:19 অপরাহ্ন

      জনাব Md. Galib Mehadi khan,
      অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আমার লেখাটি পরে মূল্যবান মন্তব্ব্য প্রদানের জন্য।আশা করি এই বিষয়ে নিজ নিজ স্থান থেকে সচেতনতামূলক লেখা লিখতে উয়সাহি হবেন।
      ভাল থাকবেন

© বদলে যাও বদলে দাও