সমাজে কথিত আছে এসএসসি, এইচএসসি আর ভর্তি পরীক্ষা হল জীবনের একটি অগ্নিপরীক্ষা। এটা আমি মানি। মনে প্রাণে বিশ্বাসও করি। কিন্তু এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এক রকম এবং ভর্তি পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ ভিন্নরকমের। একজন শিক্ষার্থী যে কোন বিদ্যালয় এবং মহাবিদ্যালয় থেকেই এসএসসি ও এইচএসসি অধ্যায়ন করুন না কেন; সার্টিফিকেট আসবে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অধীনে। কিন্তু উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী থেকে অভিভাবক পর্যন্ত সবারই একটা আশা থাকে এবং এক্ষেত্রে অভিভাবকদের একমাত্র ভরসা তাঁদের সেই শিক্ষার্থীই।
আজ (০৬আগস্ট,২০১২) প্রথম আলো-তে দেখলাম, ‘এসএসসি, এইচএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তির প্রস্তাব’ শিরোনামের একটি রিপোর্ট। এটি দেখে সত্যিই আমার মাথা ঘুরে গেল।
প্রতি বছর মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার আগে দেখা যায় কোন শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয়বারের মতো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হবে না এই মর্মে রব ওঠে। পরবর্তীতে দেখা যেত সেইসব পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য মনোনীত হত। মাঝখান থেকে যা হল এই পরীক্ষার্থীদের মূল্যবান সময়গুলো পরীক্ষা দিতে পারবে কি পারবে না এই চিন্তায় চলে যেত। এই সমস্যার সমাধানের জন্য বহুবার লেখালেখি হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে গতবার ঘোষণা দেয়া হল, ২০১২-তে যারা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে তারা ২০১৩-তে অংশগ্রহণ করতে পারবে না এবং ২০১১-তে যারা অংশগ্রহণ করেছে তারা ২০১২-তে অংশগ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু দুশ্চিন্তার বিষয় এটাই যে, ২০১২-তে যারা দুঃর্ভাগ্যক্রমে চান্স পাবে না তাঁদের জন্য আর কোন পথ খোলা থাকবে না চিকিৎসক হওয়ার। দ্বিতীয়বারের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক হয়ে থাকে এবং তারা নতুন পরীক্ষার্থীদের তুলনায় অনুশীলনের জন্য অনেকটা বেশি সময় পেয়ে থাকে। এদিক থেকে চিন্তা করলে ২০১২ সালের নতুন পরীক্ষার্থীদের জন্য ঘটনাটি মোটেও শুভ নয়।
এ বছর আরেকটি নতুন চাপের সৃস্টি হয়েছে। পত্রিকার রিপোর্ট মতে, কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রস্তাব দিয়েছেন মেডিকেল কলেজগুলোর অধ্যক্ষরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে এবং এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করবে। বিষয়টি নিয়ে ১২ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
এখানে উল্লেখ্য কোচিং বাণিজ্য ঠেকানোর জন্য তো বহু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এর আগেও। নার্সারির বাচ্চা থেকে শুরু করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ইচ্ছুক বয়স্ক শিক্ষার্থীরাও কোচিং এর কাছে শেষ ভরসা করে। হঠাৎ করে আমার অনুজেরা কি এমন দোষ করলো যে ওদেরকে বলির পাঠা হতে হবে? প্রিয় পাঠক এখানে একটি কথা বলার প্রয়োজন উপলব্ধি করছি যে, আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের একটি গিনিপিগের চেয়ে বেশি কিছু ভাবা হয় না। যার অন্যতম প্রধান প্রমাণ বিজ্ঞজনেদের এমন একটি প্রস্তাব। আরোও অসংখ্য প্রমাণ আছে আমার অনুজদের গিনিপিগ হওয়ার।
প্রতিবছর প্রশ্ন ফাঁস হয়ে থাকে – এটি কি এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দোষ? না, এটা ওদের দোষ নয়। এটা আমাদের দোষ , এটা আমাদের তৈরী পদ্ধতির দোষ। সমাজের প্রতিটা কোণে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। প্রশ্ন পাওয়ার জন্য অনেক বিত্তশালী মানুষ চাতক পাখির মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। ৫লাখ, ১০ লাখ অথবা যা চাইবে তাই পাবে এই ভিত্তিতে তারা প্রশ্ন কিনে থাকে। তাদের একটাই লক্ষ্য তাদের সন্তান যেন মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়ে যায়। তারা একবারও ভেবে দেখছে না যে, তার এই একটি চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরিত করার জন্য তার সন্তানের মতো অন্য কোন সন্তানের জীবনের আশার প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। তার এই দুর্নীতি চিন্তা আরোও অনেক মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে তুলছে।
বেশ কিছু বছর আগে একবার একটা জোকস শুনেছিলাম। এখন জোকসটা বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে। সারসংক্ষেপটা এমন ছিল, একজনের মাথা ব্যাথা করছে এবং অন্য কেউ একজন তাকে বলেছে মাথাটা দেহ থেকে বাদ দিয়ে দিলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এই এসএসসি, এইচএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তির প্রস্তাবটাও আমার কাছে এমনটাই লেগেছে। প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না; এজন্য পরীক্ষা নেয়াই বন্ধ। যেমন করে দেহ থেকে মাথা কেটে ফেলা যায়।
প্রথম আলো-তে আরো উল্লেখ আছে, ‘সভায় উপস্থিত একজন অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছাপাখানা থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টা, পরীক্ষার আগে ভুয়া প্রশ্নপত্র বেচাকেনাসহ নানা ধরনের সমস্যা হওয়ায় এবার পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বেশির ভাগ অধ্যক্ষ। তাঁরা বলেছেন, ভর্তি পরীক্ষা না হলে কোচিং সেন্টারগুলোর দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে যেসব কোচিং সেন্টার নানাভাবে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের প্রতারণা করছে, তাও বন্ধ হবে’। এখন আমার কথা হল, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল যদি নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে এমন প্রতারণায় পড়ে, সেই মাশুল কি আমার নিষ্পাপ অনুজদের দিতে হবে?
পত্রিকায় আরেকটি লাইন পড়ে আনন্দিত হচ্ছিলাম যে সভায় উপস্থিত অনেকেই এই ভর্তি পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ছিলেন। পরবর্তী অংশটুকু পড়ে আরোও আতংকিত হই। পত্রিকায় লেখা ছিল, ‘সভাসূত্র জানায়, সভায় কোনো কোনো অধ্যক্ষ ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার বিপক্ষেও যুক্তি দেন। তাঁদের কেউ কেউ দুই ধাপে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা প্রথম দফায় বিসিএস পরীক্ষার আদলে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা এবং দ্বিতীয় দফায় লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করেন’। এই কথাগুলোও কেমন যেন অবাস্তব মনে হচ্ছে। আর কদিন পর যারা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে তাদের কিনা বলা হচ্ছে লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে?
ভাইভা এবং লিখিত পরীক্ষায় অনিয়ম হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। ঠিক এজন্যই একসময় নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা চালু করা হয়েছিল। এটি মেশিনে নিয়ন্ত্রিত হয় মেশিন তো ঘুষ খেতে জানে না কিন্তু মানুষ তো জানে। টাকা দিলে এদেশে হচ্ছে না এমন কিছু নেই। সব কিছুই সম্ভব এখন।
এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা সম্বন্ধে কটা কথা বলে যেতে যাই। এই পরীক্ষাগুলোতে প্রকাশ্যে হয়তো নকল করা হচ্ছে না। কিন্তু দুর্নীতি এখন সর্বত্র। ৯৯ জনের একটি রুমে প্রত্যেকে পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়ে পুরো রুমটা নিজেদের দখলে নিয়েছিল এবং এটি ২০০৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় একটি জেলা সদরের পরীক্ষাকেন্দ্রে হয়েছিল। এতো অনেক বড় ঘটনার কথা বলে ফেললাম আরেকটি ছোট ঘটনা হল ব্যবহারিকে টাকা দিয়ে নাম্বার পাওয়াটাও কোন ব্যাপার না। টাকা না পেলে নাম্বার কেটে নিবে নয়তো ফেল করিয়ে দিবে। একবার এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকেরা আমার বাবার একজন সহকর্মীকে বলতে গেলে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। কারণ যে শিক্ষক তার সন্তানের খাতা দেখছেন তিনি আমার চাচার বিশেষ পরিচিত। প্রিয় পাঠক, নিশ্চয় বুঝতে পারছেন এইসব প্রভাবশালীদের হাত কতটা লম্বা। এই ঘটনাটি বহু বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এখন তাহলে দুর্নীতি কতটা উঁচুতে উঠেছে?
২০১২ সালের অংশগ্রহণইচ্ছুক পরীক্ষার্থীরা এখন অনুশীলনরত রয়েছে। মানসিকভাবে তারা প্রচলিত নিয়মে পরীক্ষা দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এগুলো বহু শিক্ষার্থীর জীবন-মরণ প্রশ্ন। এখন অনেকে ভাবতে পারেন, মেডিকেলে চান্স না পেলে কি মরতে হবে নাকি? আমি তাদের বলতে চাই, ‘শুধু দেহের মরণই মরণ নয়, মনের মরণ বলেও কিন্তু একটা ব্যাপার আছে। দেহের মরণ হলে চিতা বা কবরেই সব শেষ হয়ে যায়। আর মনের মরণ হয় অন্যরকমের। মনের মরণে জীবিত দেহ ঐ মরা মনকে নিয়ে চলতে থাকে। বেঁচে থাকাটা যেখানে নামমাত্র শব্দ’।
ধরুন, শিক্ষার্থীদের দাঁড় করালাম। আকাশ থেকে কিভাবে প্যারাসুটে করে মাটিতে নামতে হয় তা পড়ে শুনালাম। কিভাবে প্যারাসুটের সুইচ টিপে অন করতে হয় তাও বলে দিলাম। এবার বললাম উড়োজাহাজে ওঠো। তারপর নির্দিষ্ট উচ্চতায় তুলে নিয়ে যেয়ে পিঠে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলাম। যে কয়টা বাঁচে বাঁচলো আর মরলে মরলো। কর্তব্যরত মানুষেরা বলবে, আমরা ওদের শিখিয়েছি। যারা অনুর্ত্তীর্ণ হয়েছে ওটা পুরোটাই ওদের দোষ। কিন্তু প্যারাসুটে করে কিভাবে মাটিতে নামতে হয় এটা হাতে-কলমে শেখার ব্যাপার। ঠিক মুখে মুখে প্যারাসুট থেকে নামতে শেখার মতো হল আমাদের দেশের ভর্তি পরীক্ষা কিভাবে নেয়া হবে তা সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারটি। পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোন সিদ্ধান্ত তো এনেকদিন আগে থেকেই নেয়া উচিত। ঘরে দশজন অতিথি বসিয়ে রেখে কি কি রান্না করা হবে তা চিন্তা করার মতো।
আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় আর তা হল; পত্রিকার রিপোর্টের শেষের লাইন। সেখানে লেখা ছিল, ‘যদি ভর্তি পরীক্ষা হয়, সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর’। প্রিয় পাঠক, লাইনটা আরেকবার খেয়াল করুন। যদি ভর্তি পরীক্ষা হয়। শুধুমাত্র এই ‘যদি’ শব্দটাই অনেক কিছু বুঝিয়ে দিচ্ছে। আমি তো এখানে আর কিছু দেখছি না, শুধু কতোগুলো গিনিপিগকে নড়াচড়া করতে দেখছি।
আমার এই লেখার সাথে অনেক মানুষ একমত হবে। কারণ এখনো বাংলাদেশে অনেক ভালো মানুষ আছে। আর সে জন্যই আমার দেশটাও আছে। আমার আশা, আমার চাওয়া ভর্তি পরীক্ষা প্রচলিত নিয়মেই হবে। আমার এই চাওয়ার মাধ্যমে অনেক মানুষের মনের ইচ্ছা প্রকাশ পাচ্ছে। এখানে শুধু আমি লিখছি, কিন্তু আমার এ লেখার মাধ্যমে এই দেশের সকল সচেতন নাগরিকের মতামত প্রকাশ পাচ্ছে।
সত্যের জয় হোক।






ধন্যবাদ
সত্যের জয় হোক।
প্রীতি রাহা,আপনার লেখা ও অন্যান্যদের মন্তব্য ভালো লাগলো।বিষয়টা অতীব গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহ নাই,কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষের এবিষয়ে চিন্তা আছে বলে হয়না।আমরাও ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছি।ধন্যবাদ !
ধন্যবাদ আপনাকেও। এই প্রস্তাবের বিপক্ষে দেশের সকল সচেতন মানুষেরা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রস্তাবটি বিপক্ষে থাকার বহু কারণ বিদ্যমান।
সিদ্ধান্তের আর মাত্র একদিন!
ভালো থাকুন।
thank you so much for your idea…raha
আপনাকেও ধন্যবাদ। সিদ্ধান্তের আর মাত্র একদিন!
ভালো থাকুন।
যেন সেই হীরক রাজার শিক্ষাব্যবস্থা ____ আপনার দেওয়া শিরোনাম টা আমি আবারও উল্লেখ করলাম । কলম চালিয়ে যান যত দিন শুভ্রতার সন্ধান না মেলে ।
ধন্যবাদ আপনাকে ।
আপনাকেও ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।
সত্যের জয় হোবে । লেখাটা পড়ে একটু ভাল লাগলো । খুব সুন্দর লিখছেন ।
ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকুন।
ধন্যবাদ প্রীতি রাহা, প্রথম আলোতে এই খবরটা পড়ে আমিও অবাক হয়েছি । হুট করে যা ইচ্ছে তা করার অভ্যাস বাঙ্গালীদের গেল না । এতে যে আমাদের জীবন নিয়ে কি টানাহেঁচড়া হয় , সেটার খেয়াল রাখার দায়িত্ব বুঝি কারো নাই।
প্রচলিত পদ্ধতিতে পরীক্ষা না হলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে না ।
ভাল থাকুন এবং নিরাপদে পথ চলুন ।
আমার লেখাটি পড়েছেন এজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
লেখার প্রতিটি ধাপে আপনারা সাথে থাকবেন এমন আশাই রইল।
ভালু থাকুন সবসময়য়। শুভ কামনা রইল।
Thik kotha
মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
Chorom toh
কোন অংশটা পড়ে এমন মনে হল?
ধন্যবাদ প্রীতি রাহা,
আলোচিত সমস্যাটি নিয়ে চমত্কার লিখেছেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু কিছু হটকারী সিদ্ধান্তে অনেক ছাত্ররা বৈষম্যের শিকার হয় এমন অনেক উদাহরণ আছে। তারমধ্যে একটা বলি- ২০০১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা নতুন জিপিএর কবলে পড়ে অনেকে হাবুডুবু খাচ্ছে কারণ ২০০১ সাল থেকে জিপিএ পদ্ধতি চালু হয়, তখন অনেক শিক্ষাবোর্ডেও জিপিএ ৫.০০ প্রার্থীর সংখ্যা ছিল শূণ্য।
যদিও শিক্ষা অধিদপ্তর জিপিএর সাথে ডিভিশনের মান নির্ধারণ করিয়া একাধিক প্রজ্ঞাপন জারি করিয়াছে, কিন্তু তাহাতে কোন ফল লাভ হইতেছে না। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রজ্ঞাপনের কোন ধার-ধারিতেছে না।
ধন্যবাদ আপনাকে। কষ্টকর ব্যাপার এই যে, স্বাধীনতার এত বছর পরও শিক্ষাঙ্গন সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান আমরা খুঁজে চলেছি। কোন সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছি না আমরা। এর ফলে বিভিন্ন শিক্ষা সম্পর্কিত পরীক্ষাধীন সিদ্ধান্তের জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গিনিপিগে পরিণত হতে হচ্ছে।
আপনার সাথে আমিও একমত।
প্রীতি— শিক্ষা নীতি এবং ব্যাবস্থা নতুন আঙ্গিকে না আসলে এসব হয়রানি থেকে পরিত্রাণ নাই একদম। সেই সুদিনের অপেক্ষায় আছি।
ধন্যবাদ আপনাকে।