Home » রাসায়নিক ও ভেজালমুক্ত খাদ্য চাই » ভেজালের আরও খবর: নকল কসমেটিকসে ছয়লাব দেশ

ভেজালের আরও খবর: নকল কসমেটিকসে ছয়লাব দেশ

331 বার পঠিত

মফস্বল এলাকায় আমার এক নিকট আত্মীয়ের কসমেটিকসের দোকান থাকায় কসমেটিক্সের ব্যবসা সম্পর্কে কিছু কিছু জানি। দোকানে দেখেছি বিখ্যাত ব্রান্ডের সব চায়না প্রোডাক্টস। সবগুলো আবার চায়না থেকে আসেনা, কারণ আমাদের দেশে আছে চীনের থেকেও উন্নত মানের কপি করার কারখানা ‘চক বাজার’। কী তৈরি হয় না ঢাকার এই চকবাজারে।
কিছুদিন আগেও জিএম ক্রিমটি ব্যাপক প্রচলিত ছিল। রুপচর্চায় আগ্রহী এমন কোন মেয়ে নেই যে জিএম ক্রিম চেনে না। এই ক্রিমটি বিভিন্ন কোম্পানীর বিভিন্ন ডিলাররা দোকানে নিয়ে আসত। পাইকারী দামও ছিল ভিন্ন ভিন্ন। ক্রিমের নামকরণ হুবহু কিন্তু কোম্পানী ও ডিলাররা ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে আসতো। বুঝতে অসুবিধা হলে আরেকটু পরিস্কার করে বলি, ধরুন দারুল ইহছান বিশ্ববিদ্যালয়টির কথা। ইউজিসি থেকে অনুমোদন নিয়েছে একপক্ষ কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ চারটি তার মানে ভাইস চ্যান্সেলরও চারজন। মেইন ক্যাম্পাসও চারটি।

জিএম ক্রিম নামেই চলতো তাই যাদের ইচ্ছা হতো তারাই তৈরি করে বাজারে ছাড়তো। নকলতো তাই লাভও বেশি। ছোট্ট একটি ক্রিম সর্বোচ্চ খুচরা দাম ১২০ টাকা, সাদাটির দাম ১৪০ টাকা। তবে ক্রিমটির ক্রয় দাম ছিল- ৭০ ও ৯০ টাকা। এতো গেল জিএম ক্রিম। আরো আছে- অন্যান্য নামী দামি ব্যান্ডের আমেরিকান, ইউকে, ইন্ডিয়ান, থাইল্যান্ডের নাম করা সব পণ্য। পন্ডস, হোয়াইট পন্ডস, গার্নিয়ার, পপস, আর কোম্পানী দেখলেই ইউনিলিভার। তবে থাইল্যান্ডের পণ্যের কদর অনেকের কাছে কম।

শুধু ক্রিম নয়, আরো আছে বডি স্প্রে, শ্যম্পু, সাবান, হেয়ার কালার, পাউডার ইত্যাদি প্যান্টিন ও হেড এ্যন্ড শোল্ডারের দাম দুই ধরনের। সাধারণটির দাম (বেশি নিন্মমানের) ৮০ টাকা, একটু উন্নতমানের টির দাম ১২০ টাকা, দুটিই নকল। অথচ এই দুটি ব্যান্ডের একই পরিমানের আসলটির দাম ৩৫০ ও ৩৭০ টাকা। ইউনিলিভারের এক্স বডি স্প্রের দাম ১৯০টাকা কিন্তু নকলটির দাম ৮০ টাকা। ৩৮৫ মিলির নকল জিলেট ফোম ৯০ টাকা আসলটির দাম ৩২০ টাকা।

দোকানীরাও জানে অধিকাংশ চায়না, তারাও পণ্যের গেটআপ দেখে দোকানে তোলে। যে পণ্যটি ক্রেতাকে সহজেই আকৃষ্ট করা যাবে সেই পণ্যটিই খুচরা ব্যবসায়ীরা পছন্দ করে। নকল পণ্য বিক্রি করলেই মুনাফা বেশি হয়।
সব পণ্যের নকল পাওয়া যায়, খুচরা ব্যবসায়ীরা মোটামুটি আসল-নকল চেনে। আর ক্রেতাদের যেটা বুঝিয়ে দেওয়া যায় তারা সেটাই মনে করে। আর কসমেটিক্সের ব্যবসায় আসল-নকল বলা হয় না। বলা হয়, একটি বাইরের আরেকটি তৈরি চীনের (চায়না প্রডাক্টস), আরেকটার কোয়ালিটি কম তৈরি আমাদের দেশে।

ফর্সাকারী ক্রিম জিএম যখন গ্রহণযোগ্যতা হারায় আস্তে আস্তে আসে অন্যন্য ক্রিম। বলা হয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিহীন বিভিন্ন উপাদনে তৈরি যেমন- মাশরুমের তৈরি। নামকরণও হেবি- ফেয়ার এন্ড কুইন, ফেয়ার ম্যাক্স, বোটানিক এ্যারোমা ইত্যাদি।
একবার এক ক্রিম মেখে সারা মুখে অ্যালার্জি জাতীয় পক্সের মতো বের হওয়ায় চিকিত্সা খরচ দিতে হয়েছিল আমার সেই আত্নীয় কসমেটিক্স ব্যবসায়ীর।

পত্রিকায় মাঝে মাঝে এসব ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের অপকারীতা ও ভয়ংকর ক্যান্সারের খবর প্রকাশিত হলেও ব্যবস্যা ঠিকই চলে । বিক্রিও কম হয় না। ওসব ক্রিম সত্যিই ত্বক ফর্সা করে। ক্রিম মাখার পরে অনেক মেয়ে সত্যিই ফর্সা হয়। কিন্তু দু:খের খবর ক্রিম মাখা বাদ দিলে আগের মতো থেকে যায় বরং একটু বেশি রুক্ষ দেখায়। কিছু খরিদ্দার দোকানীর কাছে জিএম ক্রিমের ক্ষতির কথা যেমন ক্যান্সারের খবর জিজ্ঞেস করলে বিক্রেতারা বলে ওসব বাজে কথা।

আর ঢাকা শহরের প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানগুলো তো রীতিমতো চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। থাইল্যান্ডে তৈরি হেড অ্যন্ড শোল্ডার, ক্রিম, লিপষ্টিক, লোশন। যুক্তরাষ্ট্রের প্যন্টিন শ্যম্পু ডাভ ক্রিম, ভারতের গার্নিয়ার ফেস ওয়াস, শ্যাম্পু, হেয়ার কালার সবই নকল পাওয়া যায়। পৃথিবীর নামকরা যত ব্যান্ড্রের প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া তার সবগুলোই চকবাজারে তৈরি হয়। ঈদ উপলক্ষে চলে রমরমা ব্যবস্যা। শীতের মৌসুম এলে এদের দৌরাত্ব বেড়ে যায়। কসমেটিক্সের সিজন বলা হয়- শীতকালকে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভ্রাম্যমান আদালত চকবাজারে ৫৩ ধরণের নকল প্রসাধণীর অস্তিত্ব পেয়েছে। হুবহু একই ধারনের মোড়কে তৈরি করা এসব নকল প্রসাধনী বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বোঝার উপায় নেই। আইনগত জটিলতা এড়াতে বিক্রেতারা তাদের ক্যাশ মেমোতে প্রাসাধনীর নামগুলো সামান্য পরিবর্তন করে লিখে রাখেন। দেশের অভিজাত শপিংমল গুলোতেও বিক্রি হয় নকল প্রসাধনী। এসব নকল পণ্যের ব্যবহারে ত্বকের মারাত্বক ক্ষতি করে।
কালের কন্ঠ থেকে জানা যায়, নকল প্রসাধনীর ভয়াবহতা সম্পর্কে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডারমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল্লাহ বলেন, প্রসাধনী এমনিতেই ক্ষতিকর। আর নকল হলেতো কথাই নেই। এসব তৈরিতে এসিড, পানি, মোম, সুগন্ধি ও পারফিউম ব্যবহার করা হয়। মোমের পরিমান বেশি হলে তা ত্বকের ভেতর ঢুকে লোমকুপ বন্ধ করে দেয়। এতে ত্বকে মেছতা, ব্রণ ও ফাঙ্গাস হওয়ার আশংকা থাকে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে শরীরের চামড়া পুড়ে যায়। মারকারিযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে সরাসরি স্কিন ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে।
নিন্মমানের ভেজাল উপাদান ব্যবহার কারা হয়। বড়দের থেকে শিশুদের ত্বক কোমল থাকায় শিশুদের কোন রকম কসমেটিক্স ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন চিকিত্সকরা।

একটি গল্প:

এক বাড়ি থেকে চুরি হলো একটি মোবাইল। সন্দেহভাজন তিন জনকে খাওয়ানো হলো রুটি পড়া। প্রথম ব্যক্তি পড়া রুটি খাওয়ার পরই অসুস্থ্য হলে সবাই ধরে নিল এই ব্যক্তি আসল চোর। শুরু হলো নানা চাপ ও নির্যাতন। একজন বলল- এক্ষুনি বল, মোবাইল কোথায় রেখেছিস নইলে রুটি গলায় বেঁধে মরবি। রুটি নিয়ে আসা ব্যক্তি বলল- এই পড়া রুটির কার্যকারীতা অনেক আসল চোর রুটি খাইলেই গলা আটকে যাবে। দেখা গেল রুটি খাওয়া ২য় ব্যক্তিও অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। সবাই বলে উঠল এই হলো আসল চোর। অনেকেই বলল- এই দু’জনই চোর। এবার দু’জনের উপর চাপ প্রয়োগ ও নির্যাতন শুরু হলো।
পড়ারুটি খাওয়া ৩য় ব্যক্তি যার মোবাইল চুরি হয়েছে সেও সখ করে পড়ারুটি খেয়েছিল। সেও অসুস্থ্য হলো। এখন তিন জনের অবস্থা খারাপ। তাড়াতাড়ি করে তিনজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হলো। উপস্থিত সবাই বিষ্মিত। এবার এলাকাবাসী গেল রুটি পড়া হুজুরকে ধরতে। কেউ কেউ বলছে- হুজুরই কৌশলে রুটিতে কিছু মিশিয়েছে। হুজুর কে দেওয়া হলো পুলিশে। হুজুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হুজুর বারবার বলছে- আমি শুধু রুটি পড়ে দিয়েছি, এবং যে সত্যিকারের মোবাইল চোর তারই গলায় রুটি আটকে যাবে। যতক্ষণ না জিনিসটা বের করবে চোরের গলায় রুটি আটকে থাকবে। ঘটনাস্থলে পুলিশ সাংবাদিক উপস্থিত হলো। পড়ারুটির বাকিঅংশ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। হুজুরের চালাকী ধরার জন্য উত্সুক এলাকবাসী অপেক্ষায় আছে। অনেকেই বলছে, হুজুর কৌশলে রুটি পড়া, চাল পড়া, আয়না পড়া দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে, আজ হাতে নাতে ধরা যাবে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে যে রিপোর্ট পাওয়া গেল:
- রুটিতে মবিল থাকার প্রমান মিলেছে। আরো আছে তেলাপোকার বিষ্টা ও পাম তেল।
- পরে জানা গেল, রুটিটি যে কড়াইয়ে ভাজা হয়েছে, কড়াই টি অনেক ফেলানো ছিল। তাতেই ভাজা হয়েছে রুটিগুলো।
- আবার আটাতে নাকি কেমিকেল দেওয়া ছিল যেন দীর্ঘদিন আটা ভাল রাখা যায়। আর খুচরা দোকানে দীর্ঘদিন আটা ফেলানো ছিল।
এদিকে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী আসল অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারছেনা। কারণ রুটি তৈরির সব উপকরণেই ভেজাল।

আল মাসঊদ খান

মন্তব্য
  • masud khan আগস্ট 24, 2012 at 10:53 অপরাহ্ন

    অবস্থা দেখে যা মনে হচ্ছে ভেজাল থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া দুষ্কর হবে ।

    • Al Masud আগস্ট 30, 2012 at 10:54 পূর্বাহ্ন

      ঠিকই বলেছেন masud khan ভেজাল থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া কঠিন হবে। কোন কিছুই আজ নির্ভেজাল থাকছে না, সবকিছুতে ভেজাল। বিনা বাধায় ভেজাল মেশাতে মেশাতে আজ দেশের সংস্কৃতিতে মিশে গেছে। এর থেকে উত্তরণের কোন পথ দেখছি না। সরকারী কোন হস্তক্ষেপও চোখে পড়ছে না। এভাবে চলতে থাকলে দেশের মানুষ ‘ভেজাল’ কে অস্বাভাবিক মনে করবে না। পরবর্তী প্রজন্ম এই অস্বাভাবিককেই স্বাভাবিক মনে করবে। ফলে নীতি-নৈতিকতা-মানবতা বর্জিত কাজগুলোই প্রাধান্য পাবে সকলের কাছে। মুনাফার লোভ মানুষকে পেয়ে বসেছে, বেশি মুনাফার আশায় অনেক ব্যবসায়ীরা যা ইচ্ছা তাই করে চলেছে অথচ দেখার কেউ নেই। গ্রামের দিকে আগে মাঝে মাঝে ভেজাল বিরোধী কিছু কর্মকান্ড হতো, চলতো পরীক্ষা-নীরিক্ষার কাজ। এবার ঈদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানলাম- স্যানিটারী ইন্সপেকটররা আগে মাঝে-মধ্যে কিছু অভিযান চালালেও এখন নাকি দোকানীরা বা ব্যবসায়ীরা (বিশেষ করে বেকারী ব্যবসায়ীরা) ওসব কর্মকর্তাদের কাছে পাঁচ/দশ/বিশ হাজার টাকা অগ্রিম পাঠিয়ে থাকেন। ফলে এখন আর কোন অভিযান চলেনা। আর সামান্য কিছু অভিযান চললেও সেটা চলে দুধে পানি মেশানো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর।

  • king.aziz001 আগস্ট 21, 2012 at 11:50 পূর্বাহ্ন

    FARIHA TABASSUM MOMO
    আপনি বললেন দেশের জি ডি পি তে এ খাত হতে আয়ের ব্যাপক ভুমিকা রয়েছে. জি ডি পি তে কিভাবে আয়ের ব্যাপক ভুমিকা রয়েছে তা কিন্তু বলেন নি.

    • Al Masud আগস্ট 28, 2012 at 6:21 অপরাহ্ন

      king.aziz001
      আপনি নাকি বিরাট-বিরাট কাজ করে ফেলেছেন যা অনেক মন্তব্য পড়ে ধারণা করেছি, সেগুলো পড়ার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য আমার হয়নি। এই লেখায় আপনার এই মন্তব্যটি পড়ে মনে হচ্ছে, কী পড়ে- কী মন্তব্য করেন তা আপনিই ভাল জানেন। এখানে FARIHA TABASSUM MOMO দুর্নীতিকে একটি নির্ভেজাল খাত হিসেবে ধরে ‘রসিকতা’ করেছেন। কিন্তু আপনি আবার জিডিপি তে আয়ের ভুমিকা জানতে চেয়েছেন…..। রসিকতা টুকুও বুঝলেন না?

      • Al Masud আগস্ট 29, 2012 at 9:16 পূর্বাহ্ন

        king.aziz001,
        গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসে দেশের নেতা-মন্ত্রীরা রসিকতা করতে পারলে একটু-আধটু পারবো না কেন? আর মাঝে-মধ্যে একটু আনন্দ-বিনোদন না করলে একঘেয়েমি লাগবে না? আর মানুষের জন্য বিনোদনের দরকার অবশ্যই আছে।
        কোনটাই যখন আপনার কাছে পছন্দ হচ্ছেনা, তা আপনি কিছু সাজেসন্স দিয়ে লিখে ফেলুন। প্রস্তাবনা পেশ করুন এই ব্লগে। ভাল কিছু বিষয় নিয়ে লিখুন। আরও একটি কাজ করতে পারেন- মন্তব্য না করে হলেও এই ব্লগের লেখাগুলো পড়তে থাকুন- যদি নিজেকে বদলাতে পারেন!
        তবেই না ‘বদলে যাও বদলে দাও’ সার্থক হবে…।

  • কে আই তাজ আগস্ট 17, 2012 at 1:06 পূর্বাহ্ন

    আল মাসুদ সাহেব- গল্পটি চমৎকার লাগলো, বাহ !! জীবন নাশী ভেজালের উপাখ্যানেও দেখি ব্যাপক বিনোদন।

    একটি জিজ্ঞাসাই রেখে যাই-
    আজ বাংলাদেশে ভেজালের বাহার কিসে/ কোথায় নাই ???
    কেউ জানলে উত্তর দিবেন :)

    • FARIHA TABASSUM MOMO আগস্ট 21, 2012 at 8:51 পূর্বাহ্ন

      বাংলাদেশের দুর্নীতি তে কোন ভেজাল নাই ,শতভাগ খাঁটি এ খাত। দেশের জি ডি পি তে এ খাত হতে আয়ের ব্যাপক ভুমিকা রয়েছে।

      • Al Masud আগস্ট 30, 2012 at 10:11 পূর্বাহ্ন

        ধন্যবাদ FARIHA TABASSUM MOMO,
        দুর্নীতি আমাদের সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছে। আজকাল ঘুষ ছাড়া কেউ সরকারী চাকরীর আশাই করতে পারে না। এখন আবার চাকরীর ঘুষ দিতে প্রতিযোগীতা হচ্ছে, যে বেশি টাকা ঘুষ দিবে তার চাকরী হবে। সরকারী প্রত্যেক সেক্টরে ঘুষের কারবার। আপনি ঠিকই বলেছেন- দুর্নীতিতে কোন ভেজাল নেই। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য এই দুর্নীতির সংস্কৃতি হতে বের হতে হবে। এই দুর্নীতির সাথে মানুষের নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ, মানবিকতা, মনুষ্যত্ববোধ আজ বিলীন। কোন বাধা না পেয়ে দুর্নীতি আজ উচ্চ শিখরে উঠেছে আর তাই আমরা দূর্নীতিতে সারা বিশ্বের মধ্যে অনেক এগিয়ে কয়েকবার চ্যম্পিয়নও হয়েছি। খ্যাতি পেয়েছি দুর্নীতি প্রবন দেশ হিসেবে। এই দুর্নীতির অজুহাতে বিশ্বব্যংক পদ্মাসেতুর অর্থায়ন বন্ধ করলো, এর থেকে সারা বিশ্বের কাছে আমরা নূতন করে পরিচিত হলাম।

    • Al Masud আগস্ট 30, 2012 at 10:16 পূর্বাহ্ন

      ধন্যবাদ- কে আই তাজ,
      খুশি হলাম গল্পটি আপনার কাছে চমত্কার লাগলো জেনে। আপনার এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? তবে আরেকজন লেখিকার কথায় বলতে পারি- দুর্নীতি হলো নির্ভেজাল। ভাল থাকবেন।

  • নূসরাত আলম আগস্ট 16, 2012 at 8:03 অপরাহ্ন

    মাসুদ ভাই আপনার লেখাটি পড়ে ভাল লাগল।ধন্যবাদ।

    • Al Masud আগস্ট 30, 2012 at 9:53 পূর্বাহ্ন

      নূসরাত আলম, ধন্যবাদ আপনাকেও লেখাটি পড়ে ভাল লাগার জন্য…

  • বদলে যাও বদলে দাও আগস্ট 16, 2012 at 5:45 অপরাহ্ন

    Al Masud আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ। আমরা শুধু খাদ্যের ভেজালেই আক্রান্ত নই। ভেজাল আমাদের চারপাশ ঘিরে ফেলেছে। রূপচর্চার প্রসাধনী নিয়ে তথ্যবহুল নিবন্ধটি পড়ে অনেক পাঠক উপকৃত হবেন অবশ্যই। মানুষ এসব পণ্য কিনতে নতুন করে ভাববে, সতর্ক হবে। বদলে যাও বদলে দাও মিছিল এমন সতর্ক হওয়ার মতো সকল সেক্টর নিয়ে নিবন্ধগুলি প্রকশ করতে চায়। যেন ভেজাল নিয়ে কিছু অনুসন্ধান করতে সরাসরি নাগরিকরা এই সাইটে চলে আসতে পারে। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েও দেশের মানুষকে সাহায্য করা যায়। আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।

    • Al Masud আগস্ট 28, 2012 at 6:08 অপরাহ্ন

      মন্তব্যটি দেওয়ার জন্য অসংখ‌্য ধন্যবাদ ‘বদলে যাও বদলে দাও’ কে। আরও কৃতজ্ঞতা জানাই এখানে লেখালিখির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

© বদলে যাও বদলে দাও