গত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১১ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সিএসসি কার্নিভাল’ চলাকালীন ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ভূমিকা শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট এবং বিশেষজ্ঞদের বেশ কিছু পর্যবেণ নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর কিছু সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করা হয়। সেই বৈঠকের সংপ্তি বিবরণ এখানে থাকছে। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন শাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
পর্যবেণ: সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) প্রতিনিধি- আব্দুল জলীল।
(ক) সড়ক দুর্ঘটনা পরবর্তীকালে দুর্ঘটনায় পতিত যানবাহন এবং অন্যান্য আলামত যানজট নিরসনে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হয় বিধায় প্রমাণ হয়ে যায় স্বাী নির্ভর। একারণে প্রকৃত আইন লঙ্ঘনকারি বা দোষী ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা সম্ভব হয় না। স্বাী দিতে আগ্রহী ব্যক্তিও দূর্লভ হয়ে পড়ে।
(খ) ট্রাফিক বিভাগ পুলিশ বাহিনীর একটি অতিুদ্র অংশ। এদের লোকবল প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম।
(গ) রাস্তায় দায়িত্বরত সাধারণ ট্রাফিক পুলিশের শিাগত যোগ্যতা খুবই কম এবং সামাজিকভাবে তাদের অবস্থানের কারণে সঠিক পদপে নিতে সম হয় না।
ড. আশরাফের প্রশ্ন: বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা ছিল এক কথায় অপূর্ব, কিন্তু এখন আবারও বেহাল দশা- কেন?
সিএমপি প্রতিনিধি : সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত প্রচুর পুলিশ সেই সময়টায় ঢাকায় আনা হয়েছিল। সেই সময়টা ২০-৩০ বছরের পুরোনো গাড়ি শহরে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
ড. আশরাফ- এখন সেটা কেন সম্ভব হচ্ছে না?
সিএমপি প্রতিনিধি: আমাদের যথেষ্ট লোকবল নেই এবং বাস মালিকদের রাজনৈতিক চাপ থাকে। সকল পুলিশ সদস্যও এক রকম নয়। এর মাঝেও সততার উনিশ বিশ রয়েছে।
এ কে এম জাকারিয়া (প্রথম আলো সংবাদিক): ঢাকার একটি একমুখি চলাচলকারি রাস্তায় প্রতিদিন সাংবাদিক এবং মিডিয়াদের গাড়ি ও উল্টো দিক থেকে প্রবেশ করে। পুলিশ কখনও তাদের কিছু বলার সাহস রাখেনা, কেন? তবে কি পুলিশের এমন কোন দূর্বলতা আছে?
সিএমপি প্রতিনিধি: – মৃদু হাসি। একটি দুর্ঘটনায় সাতটি আলাদা আলাদা দপ্তর জড়িয়ে যায়- সুতরাং এককভাবে পুলিশের কিছু করা সম্ভব নয়। (এই তথ্যটি কেউ বিশেষভাবে বুঝতে পারেননি)। পুলিশ প্রতিনিধি মহাসড়ক নিয়ে কোন তথ্য দেননি।
আমাদের পর্যবেণ : পুলিশ ও আইনি ব্যবস্থা
(ক) পুলিশের লোকবল সংকট
(খ) পুলিশের সামাজিক অবস্থান
(গ) বাস-ট্রাক মালিকদের রাজনৈতিক চাপ
(ঘ) সততার অভাব এবং অনৈতিক কার্যকলাপ
(ঙ) তথ্য ব্যবস্থার অনুন্নত অবস্থা, চালকদের লাইসেন্স, দুর্ঘটনা রেকর্ড এবং যানবাহনের কাগজপত্র পরীা
অনলাইন নয়
(চ) মহাসড়ক পর্যবেণ ও নিয়ন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি নেই
(ছ) অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব যেমন, স্পীডগান, সিসিটিভি ইত্যাদি
(জ) সড়ক দুর্ঘটনার আইন এবং শাস্তি বিধান যথার্থ নয়।
সম্ভাব্য সমাধান : পুলিশ ও আইনি ব্যবস্থা
(ক) ট্রাফিক পুলিশের লোকবল বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য েেত্র কারিগরি সহায়তায় লোকবলের প্রয়োজনীয়তা কমানো।
(খ) মহাসড়কের জন্য পর্যবেণ পদ্ধতি স্থাপন। যেমন- কন্ট্রোল রুম, প্রতি ৫০ কি.মি অন্তর সিসি ক্যামেরা, স্পীডগান স্থাপন, প্রয়োজনীয় হাইওয়ে পেট্রোলকার সরবরাহ।
(গ) অনলাইন মোবাইল ফোন কর্তৃক লাইসেন্স, দুর্ঘটনা রেকর্ড এবং যানবাহনের তথ্য সরবরাহের নিমিত্তে বিআরটিএ-৯ এর ডাটাবেস টেলিটকের মাধ্যমে পদ্ধতি চালুকরণ।
(ঘ) আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়।
(ঙ) আইন পরিবর্তনের জন্য পার্লামেন্টে প্রস্তাব।
(চ) মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তাঁর দল কর্তৃক মহাসড়কের আইন ভঙ্গকারী চালক ও যানবাহনের ছবি ও
ভিডিও ফুটেজ পুলিশকে সরবরাহ (প্রমান হিসাবে)।
পর্যবেণ : রিতেশ বড়–য়া – রোডস এন্ড হাইওয়েস (সড়ক ও জনপথ) প্রতিনিধি-১
(ক) ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ভাল অবস্থায় আছে এবং এর রোড সাইনগুলো সঠিকভাবে আছে।
(খ) চালকদের অতিরিক্ত গতিই মূল কারন।
(গ) হাইওয়েতে অবস্থিত গাছগুলো পরিষ্কার দৃশ্য পর্যবেনে সমস্যা সৃষ্টি করে। এছাড়া, স্থানীয় লোকজন
এসব গাছের পাতা ছাঁটতেও বাধা দিয়ে থাকে।
(ঘ) ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপর অবস্থিত বাজারগুলোতে বাস থামার জন্য আলাদা জায়গা থাকা সত্ত্বেও
বাসগুলো রাস্তার মাঝখানেই দাঁড়ায় এবং বাস থামার জায়গাগুলো স্থানীয় বাজার কর্তৃক দখলকৃত।
(ঙ) শহরের বাইরে দিয়ে বাইপাস করা হলেও জনবসতি ধীরে ধীরে রাস্তার আশেপাশে চলে আসে।
(চ) চট্রগ্রাম মহাসড়কে বড় ট্রেইলরগুলো ঢাকা থেকে মেঘনা গোমতী সেতু পর্যন্ত ৪ লেন বিশিষ্ট মহাসড়ক সবসময় চেষ্টা করে ডানদিকের লেন-এ থাকতে। ফলে, অন্য গাড়িগুলো তাদের অতিক্রম করার সময় বাম দিকের লেন ব্যবহার করতে হয়, যেখানে অপোকৃত কম গতির যানবাহন চলাচল করে।
আমাদের পর্যবেণ : রোডস এন্ড হাইওয়েস
(ক) আমাদের কেবলমাত্র ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপর মনোযোগ দিলেই হবে না, কারন বর্তমানে বাংলাদেশের প্রোপটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সেরা মহাসড়কের একটি। বাংলাদেশে এখনও এমন মহাসড়ক আছে যেখানে রোড সাইন তো দূরের কথা, দুটো গাড়ি পাশ কাটাতে হলে একটিকে সম্পূর্ণ মাটিতে নামতে হয়।
(খ) প্রধান মহাসড়কগুলি ছাড়া অন্যগুলিতে অপ্রয়োজনীয় বাঁকের সংখ্যা অসংখ্য। বেশীরভাগ বাঁকের কোন
ব্যাকিং সিস্টেম নাই।
(গ) মহাসড়কের রণাবেণ অত্যন্ত দূর্বল। একজন চালক নুতন কোন মহাসড়কে গেলে আতঙ্কে থাকেন।
কারণ যে কোন মুহুর্তে হঠাৎ সামনে পড়তে পারে অস্বাভাবিক ভাঙ্গা রাস্তা বা ডাইভারশন।
(ঘ) স্থানীয় প্রতিটি হাট-বাজার মহাসড়কের উপর হতে হবে- এটাই যেন নিয়ম বাংলাদেশে।
(ঙ) মহাসড়কের বাঁকের মুখে প্রচুর দোকানপাট থাকে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
(চ) আমরা আমাদের নিজস্ব কর্মী, সজীব (প্রভাষক, সিএসই, এসউএসটি)-এর নেতৃত্বে সরাসরি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পর্যবেণ করেছি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক যে’টি ধরে নেয়া যায় বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মহাসড়ক। সেটির বাস্তবচিত্র এরকম:
১. রোড সাইনগুলো সঠিক নেই। (ছবি সংরতি)
২. কিছু ব্রীজ এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে এগুলোতে দুর্ঘটনা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে গেছে। এছাড়া উল্টে যাওয়া গাড়িগুলো উদ্ধার করা স্থানীয় কিছু মানুষের আয় রোজগারের উৎস ।
৩. মহাসড়কে অপরদিক থেকে আসা অপোকৃত ছোট গাড়িকে উপো করে বড় গাড়ির চালকদের
ওভারটেকিং একটি নিয়মিত ঘটনা । চালকরা, বিশেষত ভারী গাড়ির চালকরা পরিষ্কার করে জানেন না যে, ডানদিকের লেনটি তাঁর নয়।
৪. যখন ছোট গাড়িকে উপো করে কোন একটি বাস বা ট্রাক ওভারটেক করে- তখন ছোট গাড়িটি’কে মূল মহাসড়ক ছেড়ে নিচে নামতে হয়- যে জায়গাটি পিচ/ কার্পেটিং করা আছে, তবে তা মূল রাস্তা থেকে স্থানভেদে অন্তত ২ থেকে ৬ ইঞ্চি নীচু। ১০০ কি.মি. গতিতে চলমান একটি গাড়ির জন্য এই অসামঞ্জস্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
৫. মহাসড়কের এই নিচু অংশটি মূলত রিক্সা, সাইকেল বা অপোকৃত কম গতির যানবাহনের চলাচলের জন্যেই নির্মিত। আমাদের দেশের রিক্সা, টেম্পো, ট্যাক্সি/অটোরিক্সা (সিএনজি) এবং মটরসাইকেল চালকেরা এই তথ্যটি পরিষ্কারভাবে জানেন না। সত্যিকার অর্থে, উচ্চগতির একটি যান এই নিচু অংশে চলে আসাও তাদের জন্য যেমন বিপদজনক তেমনি এই সব যানবাহনের মূল মহাসড়কে উঠে যাওয়া বিপদজনক।
৬. অবৈজ্ঞানিক বাঁক, সিম্বল সাইন, অকসাৎ ভাঙ্গা এবং অনেক স্পীডব্রেকার রয়েছে। যেহেতু সিলেট থেকে সারা দেশে পাথর বোঝাই ভারী ট্রাক যায় সেকারনে প্রতিটি স্পীডব্রেকারের সিলেট হতে আসার দিকের স্পীডব্রেকারের অংশটুকু ডেবে গিয়ে প্রায় সমান হয়ে গেছে। এ কারণে সিলেটগামী গাড়িগুলোর ল থাকে গতিপথ সরিয়ে ডানদিক দিয়ে স্পীডব্রেকারগুলো পার হয়ে যাওয়া- যাতে তাদের গতি না কমাতে হয়।
৭. পথিমথ্যে বাজারগুলোতে বাস যাবার আলাদা জায়গা করা আছে। কিন্তু সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকান রয়েছে। বাসগুলো রাস্তার মাঝখানেই যাত্রী উঠানামার কাজ করে।
৮. ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সিলেট থেকে আসা বেশীরভাগ ট্রাক অতিরিক্ত (অভারলোড) বোঝাইকৃত
থাকে- যা মহাসড়কটির জন্য মারাÍক তিকর। এদের ওজন একেবারেই নিয়ন্ত্রিত নয়।
সম্ভাব্য সমাধান : রোডস এন্ড হাইওয়েস
(ক) দেশের সব মহাসড়ক বৈজ্ঞানিকভাবে মেরামত করা প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় বাঁক সোজা করতে হবে এবং ব্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে।
(খ) মহাসড়কের রণাবেণ জোরদার করতে হবে। ভাল রাস্তায় হঠাৎ কোন বিপদজনক, ভাঙ্গা বা ডাইভারশন থাকতে পারবে না অথবা যথোপযুক্ত সাইন/ সংকেত থাকতে হবে।
(গ) আইন করে রাস্তা থেকে বাজার দূরে সরানো যায় কিনা তা চেষ্টা করতে হবে। বাঁকের মুখে কোন দোকান রাখা বন্ধ করতে হবে। উত্তরবঙ্গের কিছু মহাসড়কের মত বাজার অংশে মূল মহাসড়ক গাইডেড রেলিং বসানো যেতে পারে। চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বেশ কিছু বাজারে এই গাইডেড রেলিং ভাল কাজ করেছে।
(ঘ) ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজগুলো চিহ্নিত করে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মেরামত করতে হবে। বিশেষ করে ব্রীজে ওঠা- নামার অংশটুকু।
(ঙ) অপরদিক থেকে গাড়ি আসা সত্ত্বেও তাকে উপো করে চালকদের ওভারটেকিং যে কোন মূল্যে বন্ধ করতে হবে।
(চ) মহাসড়কের অপোকৃত নিচু বাড়তি অংশটুকুর ব্যবধান কমাতে হবে। মটর সাইকেল, রিক্সা, সিএনজি, অটোরিক্সা, টেম্পো ইত্যাদিকে বাধ্য করতে হবে তাদের অংশে থাকার জন্য।
(ছ) যত্রতত্র স্পীডব্রেকার না বসিয়ে প্রয়োজনীয়গুলোকে রণাবেণ করতে হবে এবং অন্তত: ২০০ মি. দূর থেকে পরপর চারটি রোড সাইন দিতে হবে।
(জ) ট্রাকের অতিরিক্ত ওজন যেকোন মূল্যে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
ক্স পর্যবেণ : দুর্ঘটনা সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা
আলোচক প্রতিনিধি- প্রফেসর মীর মাহবুবুল আলম, বিভাগীয় প্রধান,সার্জারী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ।
(ক) যানবাহন প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স (ফাস্ট এইড বক্স) সমন্বিত নয়।
(খ) যানবাহন কর্মী বা সাধারন মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা এবং সিপিআর সম্পর্কে প্রশিণ প্রাপ্ত নয়।
(গ) হাসপাতালের এম্বুলেন্স শহরের বাইরে পাঠানোয় প্রচুর প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। প্রচলিত আইনে দুর্ঘটনা পরবর্তী এম্বুলেন্স ব্যবস্থা বা হাসপাতালে রোগী পৌঁছানোর দায়িত্ব পুলিশ বাহিনীর। কিন্তু, পুলিশ বাহিনীর কাছে কোন এম্বুলেন্স নেই।
(ঘ) বেশীরভাগ মুমূর্ষ রোগী হাসপাতালে পেঁৗঁছানোর পূর্বেই মারা যান। দুর্ঘটনাস্থল হতে হাসপাতালে রোগী পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াটি মৃত্যুফাঁদে পড়ার মত।
(ঙ) দুর্ঘটনার েেত্র সরকারি হাসপাতালের ভর্তি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। জরুরি অবস্থা মাথায় রেখে হাসপাতালের এই প্রক্রিয়া তৈরী হয়নি।
(চ) কোন মহাসড়ক হাসপাতাল নেই।
(ছ) মহাসড়ক দুর্ঘটনাবান্ধব কোন ব্যবস্থাপনাই নেই।
আমাদের পর্যবেণ: দুর্ঘটনা সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা
(ক) মহাসড়ক পুলিশ পেট্রোল এবং এম্বুলেন্স ব্যবস্থা নেই।
(খ) মহাসড়ক হাসপাতাল নেই।
(গ) যাত্রীবাহী যানবাহন কর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিণ নেই এবং কোন যানবাহনেই প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স (ফাস্ট এইড বক্স) নেই।
(ঘ) সরকারি হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা : সম্ভাব্য সমাধান
(ক) মহাসড়ক’কে নির্দিষ্ট কয়েকটি জোনে ভাগ করে হাসপাতাল ও এম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করতে হবে।
(খ) যাত্রীবাহী এবং অন্যান্য পেশাদারী চালক ও সহকারীদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিণ প্রদান করতে হবে।
(গ) সরকারি হাসপাতালের জরুরী বা ইমারজেন্সি ভর্তি ও চিকিৎসার প্রক্রিয়া ওয়ান স্টপ এবং সহজতম করতে হবে।
(ঘ) দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়টি স্কুল পাঠ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট জনের উল্লেখযোগ্য পর্যবেণ
(ক) ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ও রসায়ন বিভাগীয় প্রধান ড. ইউনুস বলেন, তিনি নিজের গাড়ি চালিয়ে সিলেট থেকে ঢাকা যাবার সময় মহাসড়কে ল্য করেছেন প্রায় প্রতিটি পেশাদার গাড়িগুলো তাঁর চেয়ে অনেক বেশী গতিতে চলছে। উনি মনে করেন, প্রতি ৫০ কি.মি অন্তর সিসি ক্যামেরা বসানো উচিত এবং স্পীড কন্ট্রোল করা উচিত।
(খ) টেলিটক প্রতিনিধি : প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অনলাইন এবং মোবাইল এক্সেস-এর ব্যাপারে তারা বিআরটিএ-কে সর্বাত্মক সাহায্য করবেন।
(গ) ড. জহির বলেন, এমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হোক যাতে প্রতিটি গাড়ীর ইঞ্জিন ৮ ঘন্টা পর পর নিজ থেকে বন্ধ হয়ে যাবে।
(ঘ) অধ্যাপক এম. কায়কোবাদ (বুয়েট শিক) এবং তাঁর সফর সঙ্গীগন অন্তত: এস.এস.সি. পাশ ড্রাইভারদেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স দেবার ব্যাপারে মত প্রকাশ করেন।
(ঙ) পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সুশান্ত বলেন, শুধু চালক নয়, যানবাহন মালিকদের উপরও শক্ত নজরদারি প্রয়োজন- কারন দুর্ঘটনার কোন অংশেই তাদের শাস্তি হয়না।
(চ) পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন হক বলেন, ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের উপর জোর দিতে হবে। এটা না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত ওজন বিষয়টি চলতেই থাকবে।
(ছ) জনৈক পর্যবেক বলেন, চালকেরা বেশিরভাগই নির্দোষ, সমস্ত দোষ রাস্তার।
পর্যবেণ: কারিগরি ক্রটি
পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রসমূহ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশ পথের দুর্ঘটনার কারন অনুসন্ধানে। পরবর্তীতে সেই ত্র“টি এড়াতে দুর্ঘটনার কারন খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। বর্হিবিশ্বে এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া চালু নেই।
একটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান:
কিছুদিন আগে সোহাগ পরিবহন-এর একটি বাস নরসিংদী জেলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পড়ে। উচ্চ গতিতে চলাকালীন সময়ে সোহাগ পরিবহনের ভলবো.বি সেভেন আর বাসটির সামনের ডানদিকে চাকা ফেটে যায় এবং বাসটি ডানে সরে গিয়ে অপর একটি বাসকে আঘাত হানে।
সম্ভাব্য বর্ণনা: সোহাগ ভলবো.বি সেভেন আর বোঝাই অবস্থায় ওজন প্রায় ১০ থেকে ১২ টন। দুর্ঘটনার পূর্বে তার গতিবেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ১০০ কি.মি। এর অর্থ প্রতি সেকেন্ডে বাসটি ২৮ মিটার পথ অতিক্রম করছিল। অপর বাসটির গতিবেগ অন্তত ৬০ কি.মি./ ঘন্টা ছিল অর্থাৎ প্রায় ১৬ মিটার/সে: এর অর্থ বাস দু’টি প্রতি সেকেন্ডে একে অপরের দিকে ৪৪ মিটার অগ্রসর হচ্ছিল। সামনের ডানদিকের চাকা ফেটে গেলে বাসটি প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ ডিগ্রী কোনে ডানদিকে বেঁকে যাবে। সেেেত্র, দুটি বাসের দূরত্ব ৪ থেকে ৫ মিটারের বেশী হলে সংঘর্ষ হবেনা। তার মানে, এদের মধ্যকার দূরত্ব আন্দাজ ৪ থেকে ৫ মিটার ছিল এবং এই দূরত্ব, এই গতিতে সোহাগ ভলবো.বি সেভেন আর অতিক্রম করেছে ০.০৭ বা ০.১ সেকেন্ডে। এই সময়ের মাঝে চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা, দুর্ঘটনা যে ঘটেছে তাও বুঝতে পারেননি। তার আগেই চালকসহ, সুপারভাইজার এবং হেলপার মারা গেছেন। অর্থাৎ এই সম্পূর্ণ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ভলবো.বি সেভেন আর বাসটির সামনের ডানদিকের চাকাটি।
সম্ভাব্য কারন অনুসন্ধান:
যানবাহনের চাকা বা টায়ার মূলত: দুই ধরণের (১) স্টিল বেল্টেড (২) নাইলন বেল্টেড। স্টিল বেল্টেড চাকা দীর্ঘ মেয়াদী কিন্তু বাংলাদেশের অনিয়ন্ত্রিত রাস্তার জন্য উপযোগী নয়। কারণ, স্টিল বেল্টেড চাকার স্থিতিস্থাপকতা নাইলন চাকার চেয়ে অনেক কম। নাইলন চাকা যে পরিমাণ আকষ্মিক চাপ সহ্য করতে পারে স্টিল বেল্টেড চাকা সেই পরিমাণ চাপ সহ্য করতে সম নয়।
দ্বিতীয়ত: স্টিল বেল্টেড চাকা নাইলন চাকার মত য়ে যায় না বিধায় বাইরে থেকে সহজে বোঝা যায় না এর আযুষ্কাল শেষ হয়েছে। ভলবো.বি সেভেন আর এ যে স্টিল বেল্টেড চাকাগুলো ব্যবহƒত হয় সেগুলোর আয়ুষ্কাল ৮০০০-৯৫০০ কি.মি। এই মাইলেজ এর পর এই টায়ারগুলোর অভ্যন্তরীণ স্টিলের সংযুক্তি যথেষ্ট সবল থাকেনা। সুতরাং এই মাইলেজ অতিক্রম করার পর টায়ারটি বাইরে থেকে যতই ভাল দেখা যাক না কেন, অবশ্যই পাল্টে ফেলা উচিত। আমাদের উল্লেখিত সোহাগ ভলবো.বি সেভেন আর-এর এই দুর্ঘটনার জন্য নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় এই ধরণের একটি চালকই দায়ী।
(খ) বাংলাদেশে তৈরী বাসের বডিগুলি আর্ন্তজাতিক মাপের চেয়ে ৬ থেকে ২০ ইঞ্চি প্রস্থে বড় বানানো হয়। পেছন দিকে ২ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত বাড়ানো হয়, যেখানে স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে ১ মিটার (সিঙ্গেল গিয়ার এক্সেল এর জন্য) একই রাস্তার উভয়মূখী ট্রাফিকের জন্য এই অতিরিক্ত প্রস্থের বাসগুলি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া, বাসের পেছনে অতিরিক্ত অংশ ওভারটেকিং এর সময় প্রচুর দূর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে।
(গ) ট্রাকের বডিগুলি প্রায় ১৬ ইঞ্চি থেকে ২০ ইঞ্চি প্রস্থে বাড়তি থাকে এবং এই বাড়তি অংশ অসম্ভব শক্ত স্টিলের এঙ্গেল দিয়ে বানানো হয়। এই বাড়তি অংশ অনায়াসে বাসের ভেতর ঢুকে যায় এবং যাত্রীদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
(ঘ) ১২ টন অবধি ট্রাকগুলির ব্রেকিং সিস্টেম ‘হাওয়া’ নির্ভর। কিন্তু এর অধিক ওজনের ট্রাকগুলি শুধু হাওয়া দিয়ে দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণ করেনা। তারা এর অধিক গিয়ার সিস্টেম ব্যবহার করে। আমাদের দেশের ৫ টন সামর্থ্যের ট্রাক ২৫-৩০ টন পর্যন্ত বোঝাই হয়ে থাকে এবং তাঁর স্বাভাবিক হাওয়া ব্রেক সিস্টেমেই চালককে গাড়িটি চালাতে হয়। সুতরাং এই ট্রাকগুলি কোনভাবেই আর হঠাৎ ব্রেক করার সম থাকেনা। যেহেতু বেশীরভাগ ট্রাক চালক হেলপার থেকে চালক হয়েছে তারা তাদের ট্রাক চালনার প্রথম পাঠেই এই ব্যাপারটি শিখে নেয়।
(ঙ) আমাদেরে দেশের ট্রাকগুলির তেমন কোন রণাবেণ পদ্ধতি নাই। যখন এর চাকা আর গড়াবেনা তখন এর মেরামত হবে। এই কারণে, মহাসড়কে যেখানে এরা নষ্ট হয়, সেখানেই এদের মেরামত হয়, এর আগে নয়।
(চ) আমাদের দেশের ট্রাকের সর্বোচ্চ গতিবেগ ৪৫ কি.মি এবং বাসের ৬০ কি.মি নির্ধারিত। রাস্তার যে গতিবেগ লেখা থাকে তা কিন্তু বাস ও ট্রাকের জন্য প্রযোজ্য নয়। এর কারন, ভারী গাড়ির অতিরিক্ত গতিবেগ কোনভাবেই কাম্য নয়। খোদ আমেরিকায় বিগত ৫০ বছর যাবত গ্রে হাউন্ড বাসের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ গতিবেগ ৫৫ এমপি/এইচ বা ৮৮ কেএম/এইচ। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট মহাসড়ক সেই দেশটির- তারাও আজ ৫০ বছর যাবৎ তাদের বাস ট্রাকের গতিবেগ বাড়তে দেয়নি।
(ছ) আমাদের দেশের মহাসড়কে বহুল ব্যবহƒত বাস হচ্ছে হিনো । বাংলাদেশের মহাসড়কের জন্য এটি সর্বোত্তম বাস, সন্দেহাতীতভাবে হিনো গত তিন দশকে তা প্রমাণ করেছে। প্রথমদিকে এর সর্বোচ্চ গতি ছিল ১২০ কেএম/এইচ। বর্তমানে এই বাসগুলো ১২০ কেএম/এইচ গতিবেগ নিয়ে এসেছে। এছাড়া প্রথমবার ইঞ্জিন ওভার হোলিং এর পর পিষ্টন ব্যাস বাড়ার কারণে এদের শক্তি বর্ধন হয় এবং গতিবেগ বাড়ে। সুতরাং অনিয়ন্ত্রিত একটি আধুনিক হিনো বাস গতির দিক থেকে একটি বোমা স্বরূপ।
(জ) ‘এয়ার হর্ণ’ চালক, যাত্রী এবং পথচারীর জন্য অত্যন্ত তিকর। বাংলাদেশে এই হর্ণ ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া, এই হর্ণ তার শক্তি সঞ্চয় করে গাড়ির ব্রেক এয়ার সিলিন্ডার থেকে। অর্থাৎ একই সাথে এয়ার হর্ণ এবং ব্রেকে চাপ দেয়া হলে ব্রেক এর জোর কমে যাবে। ব্যাপারটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
(ঝ) ছোট আধুনিক গাড়ি ও মটর সাইকেল এর উর্দ্ধগতি এদের দূর্ঘটনার মূল কারণ।
(ঞ) মহাসড়কে শ্যালো মেশিন সংযুক্ত অবৈধ ট্রাক্টর, নছিমন, করিমন যাদের কোন বিজ্ঞানসম্মত ব্রেকিং সিস্টেম এবং ব্যালান্স সিস্টেম নেই। যেহেতু এসব যানের কোন বৈধ রেজিস্ট্রেশন নেই সুতরাং এসব চালানোর জন্য কোন সরকারি লাইসেন্সের প্রয়োজনও নেই। একইভাবে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সারও কোন লাইসেন্স লাগেনা এবং চালকরা ব্যাটারী শক্তি জমিয়ে রাখার জন্য রাতের বেলাতেও হেডলাইট ব্যবহার করে না।
সম্ভাব্য সমাধান : কারিগরি ক্রটি
(ক) পেশাদারী বাস-ট্রাক’কে ব্ল–-বুকের মত অবশ্যই লগ বই রাখতে হবে এবং গাড়ি সংক্রান্ত সব তথ্য সেখানে নিয়মিত উন্নীত করতে হবে। আমাদের দেশের ব্যাটারী প্রস্তুতকারী কোম্পানীগুলি গাড়িগুলিকে এই ধরণের একটি রণবেণ লগ চার্ট ব্যবহার করায়। ব্যাটারীর ওয়ারেন্টি পাবার আবশ্যক প্রক্রিয়া হিসাবে প্রতিটি যানবাহন এই লগ ব্যবহার করে। সুতরাং অন্যান্য েেত্রও এটি আইন করে পালন করানো সম্ভব।
(খ) ষ্টিল বেল্টেড টায়ারের মাইলেজ লগ বই অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। লগ বইয়ে এই মাইলেজ অতিক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে জরিমানা/শাস্তির বিধান প্রণয়ন করা উচিত।
(গ) একটি বাস বা ট্রাক রাস্তায় নামার পূর্বে বিআরটিএ কর্তৃপরে ছাড়পত্র নেবার বিধান রয়েছে। কর্তৃপ যদি সঠিক মাপ ছাড়া কোন বাস বা ট্রাককে ছাড়পত্র না দেন, তাহলেই এই বাড়তি বডির সমস্যা সমাধান হবে।
(ঘ) বাংলাদেশের মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ওজন স্টেশন স্থাপিত আছে। মূলত এগুলি অকার্যকর। এদের দূর্নীতিমুক্ত সঠিক ব্যবহার অতিরিক্ত বোঝাই (ওভারলোড) বন্ধ করতে সম।
(ঙ) ট্রাকের লগ বই এদের রণাবেণ নিশ্চিত করবে। হাইওয়ে পেট্রোল যদি আইন অনুযায়ী প্রতিটি বাসকে ৪৫ কি.মি/ ঘন্টায় এবং ৬০ কি.মি/ ঘন্টায় গতিতে চলতে বাধ্য করে অবশ্যই, অবশ্যই মহাসড়ক দুর্ঘটনা শুণ্যের কাছাকাছি চলে আসবে। এছাড়া হিনোসহ অন্যান্য বাসের গতি ৬০ কি.মি/ ঘন্টায় সিল করে দেয়া যেতে পারে। পরবর্তীতে টহল পুলিশ যদি কোন গাড়ির এই সিল ভাঙ্গা অবস্থায় পায় তার জন্য কঠিন শাস্তির বিধান করা যেতে পারে।
(চ) নিষিদ্ধ এয়ার হর্ণ ব্যবহারকারীদের কঠিন শাস্তির বিধান এবং আমদানী নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।
(ছ) নছিমন, করিমন, ভটভটি এদের গঠন এবং ব্রেকিং সিস্টেম যথাযথ কর্তৃপ কর্তৃক বিজ্ঞান সম্মত করা হলে এবং এদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বৈধ করা হলে এই যানবাহনগুলো পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদের চালকদের বিশেষ কোন শ্রেণীতে এনে পরীা সাপেে বৈধতা দেয়া যেতে পারে।
গোল টেবিল বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ:
(১) সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে একটি সেমিনার, যেখানে এই গোল টেবিল বৈঠকের বিভিন্ন বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী নিয়ে বক্তব্য রাখবেন।
(২) সুন্দর এবং কার্যকর কিছু মোবাইল এস.এম.এস. তৈরী করা এবং প্রতিমাসে দেশের সবকটি মোবাইল অপারেটর-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠানোর ব্যবস্থা করা। টেলিটক প্রতিনিধি এ বিষয়ে সম্মতি দান করেছেন।
(৩) একপাতার তিন ধরণের সড়ক সচেতনতার লিফলেট তৈরী করা এবং প্রথম আলো বন্ধু সভা, আমাদের ছাত্রদের দ্বারা বিতরণের ব্যবস্থা করা। লিফলেট এর ধরণগুলি হচ্ছে- (ক) চালকদের জন্য (খ) যাত্রীদের জন্য (গ) পথচারীদের জন্য।
(৩) সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক তত্য দিয়ে প্রতিদিন নিউজ পেপারে ছোট করে একটি তথ্য ছাপানো।
(৪) বিআরটিএ-এর জন্য অনলাইন মোবাইল অভিগম্য (এক্সেসিবল) ডাটাবেস তৈরী করা। টেলিটক প্রতিনিধি এর সার্ভার বিনামূল্যে সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছেন এবং সাস্ট-এর সিএসই বিভাগ কারিগরি সহায়তা দেবে। এই ডাটাবেস এর ফলে যেকোন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর মোবাইলের মাধ্যমে যেকোন ড্রাইভিং লাইসেন্স এর এবং যেকোন যানবাহনের রেকর্ড পরীা করে দেখতে পারবে।
(৫) পেশাদারী চালকদের কর্মঘন্টা সর্বোচ্চ ৮ ঘন্টা প্রতিদিন বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
(৬) দেশের পরিবহন ওজন ষ্টেশনগুলিকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
(৭) একটি বিজ্ঞান সম্মত আধুনিক মহাসড়ক নজরদারী পদ্ধতি প্রণয়ন (হাইওয়ে সারর্ভিলেন্স সিস্টেম) এবং চালুকরণ। এর মাঝে থাকবে (ক) হাইওয়ে পেট্রোল কার (খ) প্রতি ৫০ কি.মি. পরপর সি.সি ক্যামেরা এবং স্পীড চেক সিস্টেম (গ) অতিরিক্ত গতি ও আইন অমান্যকারী চালকদের ভিডিও ফুটেজ ধারণ এবং শাস্তি ব্যবস্থা ইত্যাদি।
(৮) ড্রাইভার লাইসেন্স-এর পরীা পদ্ধতি সহজ এবং কার্যকর করা। বর্তমানের পরীা পদ্ধতি অত্যন্ত কঠিন এবং যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত নয়। এই পরীা পদ্ধতি সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। এ উপল্েয আমরা একটি কার্যকর পরীা পদ্ধতি প্রণয়ন করব এবং এই পরীা সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা পুস্তক লিখব যার ছাপানো এবং অনলাইন ফ্রি’ভার্সন পাওয়া যাবে। এছাড়া, এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যে, পরীায় সত্যিকার অর্থে পাশ না করে কেউ যেন লাইসেন্স না পায়।
(৯) প্রতিটি দূর্ঘটনার েেত্র আমরা আমাদের উদ্যেগে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা চালু করে দেব।
(১০) সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বর্তমান আইন কানুন যথেষ্ট উপযোগি নয়। এই আইন আরও কার্যকর এবং উপযোগি করার ল্েয প্রয়োজনীয় পদপে গ্রহণ।
(১১) হায়াৎ-মউৎ সংক্রান্ত ইসলামিক যুক্তি, খবরের কাগজ ও টেলিভিশন মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো।
(১২) ট্রাফিক আইন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি স্কুলের পাঠ্য বই এ অন্তর্ভুক্ত করা।
(১৩) নিউজ পেপার এবং টেলিভিশন মিডিয়ার মাধ্যমে নিুোক্ত বিষয়গুলি চালুর জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করা :
(ক) ওজন ষ্টেশনগুলি চালুকরণ।
(খ) মহাসড়ক-এ চৌকস নজরদারী ব্যবস্থা চালুকরণ।
(গ) এ পর্যন্ত কি পরিমাণ দুর্ঘটনার মামলা হয়েছে এবং তার কত শতাংশ সমাধান হয়েছে-এর নথি প্রকাশ।
(ঘ) নছিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরী যানবাহনের ক্রটি দূরকরণে পেশাদারী সাহায্য সরকারী উদ্যেগে এবং এদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ও চালক লাইসেন্স প্রণয়ন।
(ঙ) মহাসড়ক হাসপাতাল ও ভ্রাম্যমান এম্বুলেন্স এর জন্য সরকারী উদ্যেগ।
(চ) পেশাদারী চালকদের কর্মঘন্টা ৮ ঘন্টা বাধ্যতামূলক করার সরকারী হস্তপে।
(ছ) দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বর্তমান আইন বাস্তব সম্মত ও কার্যকর করার জন্য সরকারি পদপে।
নমুনা লিফলেট
পথচারীদের জন্য:
(১) মহাসড়কে বিপ্তিভাবে আড্ডা দেবেন না।
(২) অব্যশ্যই রাস্তার ডানদিক দিয়ে হাঁটবেন। অপরদিকের গাড়িগুলো দেখার সর্বোত্তম পদ্ধতি হল ডানদিক দিয়ে হাঁটা।
(৩) সাথে বাচ্চা থাকলে তাকে আপনার ডানদিকে রাখুন।
(৪) দাঁড়ানো গাড়ির পেছন দিয়ে রাস্তা পার হবেন না।
(৫) মহাসড়কে দ্রুতগামী গাড়ির কাছাকছি হঠাৎ এমন কোন আচরণ করবেন না যাতে চালক আতঙ্কিত হয়।
(৬) মহাসড়কে বাঁকের পরপরই কোন দোকান বা ঘর বানানো থেকে বিরত থাকুন।
(৭) কখনই দৌড়ে মহাসড়ক পার হবেন না। স্পীড লিমিট না থাকার কারণে মহাসড়কের গাড়িটি ঠিক কতটা আসছে তা বোঝা অসম্ভব। অপো করুন, নিরাপদে পার হউন।
(৮) রাস্তায় ধান বা অন্য কিছু শুকানো থেকে বিরত থাকুন।
(৯) বাচ্চাদের কখনও মহাসড়কে খেলতে দেবেন না।
(১০) মহাসড়কের উপর বাজারগুলোতে সড়কের জায়গা দখল করতে বিরত থাকুন এবং বাধা দিন।
(১১) যেকোন দুর্ঘটনায় পতিত মানুষের রক্তপাত বন্ধে প্রথমে সচেষ্ট হউন।
যাত্রীদের প্রতি:
(১) বাসে না ঘুমোনোর চেষ্টা করুন। গবেষণায় দেখা হেছে সচেতন যাত্রীর দুূর্ঘটনায় য়তির পরিমান ঘুমন্ত যাত্রীর এক পঞ্চমাংশ।
(২) ছোট হলেও একটি ‘ফার্ষ্ট এইড’ বক্স সাথে রাখুন।
(৩) দুর্ঘটনায় নিজে বা অন্য কেউ তিগ্রস্থ হলে প্রথমে রক্তপাত বন্ধে সচেষ্ট হউন। যে কোন কাপড় জাতীয় কিছু দিয়ে তস্থান শক্তভাবে চেপে ধরলে রক্তপাত বন্ধ হবে। এছাড়া গাড়ির ব্রেক ওয়েল একটি উত্তম এন্ট্রি সেপটিক।
(৪) কখন দ্রুত চালানোর জন্য চালককে চাপ দেবেন না, উপরোন্তু যদি চালক কখনো বেপরোয়া গাড়ি চালায় অন্য যাত্রীদের নিয়ে জনমত গঠন করুন এবং একসাথে প্রতিবাদ করুন।
(৫) আপনি যে যানবাহনে যাচ্ছেন তা যদি অন্য কোন ছোট যান বা মানুষকে আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করে অবশ্যই তাকে সমর্থন না করে অন্যান্য যাত্রী সহযোগে তাকে গাড়ি থামাতে বাধ্য করুন। একটি কথা মনে রাখবেন- আপনার সাময়িক অসুবিধা হবে মহাসড়কে, হয়তো গভীর রাত, কিন্তু আপনারা ৪০-৫০জন যাত্রী একসাথে আছেন-নিরাপত্তা সুনিশ্চিত। কিন্তু আপনাদের প্রতিবাদ হয়তো বাঁচাবে অনেক প্রাণ। চালকেরাও আরও সতর্ক হবে।
(৬) রাস্তায় দুর্ঘটনায় পতিত গাড়িকে সাহায্য করুন। একই ঘটনা আপনারও হতে পারে।
চালকদের প্রতি:
(১) মনে রাখবেন- ছোট গাড়ির ওজন ৭০০ থেকে ১২৫০ কেজি. মাইক্রেবাস বা জিপের ওজন ১৫০০ থেকে ৩০০০ কেজি. কিন্তু সাধারণ একটি বাস বা ট্রাকের ওজন ৫০০০ কেজি. থেকে ১২০০০ কেজি. এছাড়া বাংলাদেশে পণ্য বোঝাই ট্রাকের ওজন হতে পারে ৩০টন-৩৫টন। গাড়ির ভরের সাথে গুণিতক হচ্ছে এর গতিবেগ। সুতরাং স্বাভাবিক গতিতে চলমান ভারী বাস বা ট্রাক নিজেই একটি মৃত্যুদূত।
(২) পণ্য বোঝাই ট্রাকের সামনে কখনই হাইব্রেক করবেন না।
(৩) বাংলাদেশের মহাসড়ক উচ্চগতির জন্য এখনও প্রস্তুত নয়, ছোট গাড়ি সহযোগে মহাসড়ক ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করুন।
(৪) মনে রাখবেন গতি বৃদ্ধির সাথে সাথে নিয়ন্ত্রণ মতা কমে।
(৫) শহরের চালক মহাসড়কে এবং সমতলের চালককে পাহাড়ে নেয়া থেকে বিরত থাকুন।
(৬) ট্রেইলর তাঁর চারপাশে খানিকটা বায়ুশুন্য অবস্থার সৃষ্টি করে যা ছোট গাড়ির জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এদের ওভারটেক করার সময় যথেষ্ট ফাঁক রাখুন।
(৭) বাংলাদেশের রাস্তায় ষ্টিল বেল্টেড টায়ার ব্যবহারে যথাসম্ভব বিরত থাকুন। অন্তত: সামনের চাকাগুলো নাইলনের ব্যবহার করুন।
(৮) নির্দিষ্ট মাইলেজ হবার সাথে সাথে ষ্টিল বেল্টেড টায়ার পাল্টে ফেলুন।
(৯) মালিকদের অনুরোধ বা আদেশেও ত্র“টিপূর্ণ গাড়ি নিয়ে মহাসড়কে যাবেন না। মনে রাখবেন, আপনার উপর নির্ভরশীল আরও অনেকগুলো যাত্রীবেশী প্রাণ।
(১০) ট্রাক চালকেরা জানেন, আপনার ট্রাকের মতা কত টন এবং আপনি কতটা বেশী লোড নিয়েছেন। প্রতিটি খারাপ রাস্তা বাঁক, ব্রীজ, ওভারটেকিং এবং বাজারে আপনার অস্বাভাবিক লোডের কথা খেয়াল রাখুন।
(১১) হায়াৎ-মউত আল্লাহর হাতে হলেও একথা মনে রাখবেন আপনার ভুলের কারণে যদি কারও মৃত্যু হয় বা পঙ্গুত্ব বরণ করে তার জন্য আল্লাহ অবশ্যই রোজ কেয়ামতের দিন আপনার বিচার করবেন এবং ভয়ঙ্কর শাস্তি দিবেন।
(১২) আপনাদের গাড়িতে যদি এন্টি সেপটিক না থাকে গাড়ির ব্রেক ওয়েল বাক্সটা ছেড়ায় ব্যবহার করুন এবং যেকোন তের রক্ত পড়া আগে বন্ধ করুন।
(সংক্ষেপিত)






আমি এই লেখাটিকে ফেইসবুকে শেয়ার করছি ।আপনিও চাইলে করতে পারেন ।
গোল টেবিলে অনেক কিছু আলোচনা হইয়াছে তাথে হয়তো আনেক খাওয়া দাওয়া ও হইছে কিন্তু যাদের আছে এই তথ্য গুলো পৌছানোর দরকার তারা কী তা পাইছে? এই গোলটেল আলোচনা চালকদের নিয়ে করার দরকার, এবং প্রতি মাসে চালকদের নিয়ে জেলায় জেলায় বসুন, তাদের দেখান, জানান, সচেতন করুণ, দেশ রক্ষার জন্য আর্মি, বিডিয়ার,পুলিশ,আনসার এদের পেছনে তো অনেক খরচ হয়, ট্রেনিং দেওয়া হয়। কিন্তু চালক তাদের ও এই রকম ব্যবস্থা করুন । সরকারী ভাবে ট্রেনিং দিন লাইসেন্স দিন। এর পর দূর্ঘটনা হলে বলেন চালকের দোশ । বিমানে ৩৬ জন যাত্রির জন্য যদি এতো শিক্ষিত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চালক লাগে, তাহলে সারাদেশের এত বাস এদের জন্য কী কোন ট্রেনিং এর ব্যবস্থা নাই?
yeah, we must flow law , we know it government by the people .
asole joto kothai bola hok na keno effective system create korte na parle dugotona thambe na amra harabo misuk monir,tareq masud er moto criti sontan der
onek dhonnobaad emon details alochonar jonno,,,,,tobe ekta kotha jante chai,,,,LAW te ache every HIGHWAY ROAD 4lane/160ft. wide hote hobe….eta ki bangladesher pokkhe somvob??….r jodi somvob hoi tobe oshaadharon hobe…r every driver er ekti WHITE color er uniform thaka uchit……eta ki kora khub impossible….?????
অনেক তথ্য ভিত্তিক প্রতিবেদন। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে খুবই গঠণমুলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আমরা আনেক টেকনিক্যাল বিষয় জানতে পারলাম। এমন বিশ্লেষণধর্মী লেখা আরো প্রয়োজন। দেশের সব মানুষ বুঝতে শিখুক টেকনিক্যাল কারণগুলি সম্পর্কে। শাপ্রবির উদ্যোক্তাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ…।
ajaira