Home » অন্যান্য » সকল ধর্মের এক কথা, আদর্শ ও মানবিকতা

সকল ধর্মের এক কথা, আদর্শ ও মানবিকতা

182 বার পঠিত

ধর্ম হচ্ছে এমন একটি উপলব্ধি, যা আমরা সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ধারণ করি আমাদের জীবন ব্যবস্থায়। আমি বলবো, পৃথিবীতে এমন কিছু নেই, যার কোন ধর্ম নেই,  যেমন চুম্বকের ধর্ম সমগোত্রিয় পদার্থকে আকর্ষন করা, প্রকৃতির ধর্ম  স্থান-কাল ভেদে তার ঋতুবৈচিত্র প্রকাশ করা। নদীর ধর্ম সাগরে মিলিত হওয়া, আর মহাকাশের নিজ নিজ কক্ষপথের অসংখ্য জ্যোতির ধর্ম অপরাপর গ্রহাণুপুঞ্জকে কম্পাস মেপে প্রদক্ষিণ করা ।  তেমনই মানুষের ধর্ম হচ্ছে মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়-পরায়ণতাকে সমুন্নত রাখা,  এ ক্ষেত্রে অনেকগুলি প্রচলিত ধর্ম বংশ- পরম্পরায় নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রসারিত হয়েছে, বিকশিত হয়েছে। আর এজন্য বলা যেতে পারে যে, সকল ধর্মের এক কথা আদর্শ ও মানবিকতা। তাই মানুষের জীবনে ধর্মের কোন গুরুত্ব নেই, এমন কোন বক্তব্যকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করবার কোন বাস্তবগত ভিত্তি নেই।

আমি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান, আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইসলামের সুগন্ধি প্রবাহিত। তাই মদীনা সনদের শিক্ষা অনুযায়ী অন্য ধর্মের প্রতি সহানুভুতি দেখাতে আমার দ্বায়ীত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুনে, আর এজন্য কোন  আগ্রাসি ছোবল নয়, লাগাতার টানা-হেঁছড়া নয়, আমার প্রতিভা আমার মহানুভবতা, এবং আমার বিনীত ঔদার্যই কেবল আকৃষ্ট করতে পারে অন্যদের, যারা কারো মতে  ভুলধর্মী কিংবা মতান্ত্বরে পথভ্রষ্ট । তার মানে এই না যে, আমি বলবো অন‌্যান্য ধর্ম যেমন, হিন্দু ধর্ম, খৃষ্টান ধর্ম বা বৌদ্ধ ধর্ম অকার্যকর, বা তাদের উপর আমি একটি পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করবো, যা তাদেরকে আমার ধর্মকে নির্বিচারে গ্রহন করতে বাধ্য করবে। যদিও একজন হিন্দুর অনুভুতির মত বা একজন বৌদ্ধের সরল বিশ্বাসের মত আমিও ধারনা পোষন করতে পারি যে, আমার ধর্মই শ্রেষ্ঠ। তবে তা ভিন্নধর্মীদের কাছে প্রমাণিত করতে প্রয়োজন হবে শুধুই যুক্তি, ধৈর্য, সহনশীলতা আর শালিনতার । যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে আমার ব্যক্তিগত সততা ও বদান্যতা, সেই সাথে ধর্মীয় অনুভুতির নিরপেক্ষ বিশ্বাসের সর্বশেষ স্তরে থাকবে একটি আপোষহীন অবস্থান যা দুর্নীতি এবং নৈতিকতা বিবর্জিত সকল কর্মকান্ডকে সজোরে পদাঘাত করবে।

আমি ব্লগে লিখি, তাই আমি একজন ব্লগার। কিন্তু আমার ধর্ম ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি পূর্ণমাত্রায় বিশ্বাস আছে, তাই আমি নাস্তিক নই। যেমন একজন কাগজে লিখে তাই সে লেখক, কিংবা যিনি কবিতা লিখেন তিনি কবি। যিনি সংবাদ সংগ্রহ করেন তিনি সাংবাদিক। আসলে এখানে দেখার বিষয় যে, আমি বা আমরা কি লিখছি? কাউকে আমরা লেখার মাধ্যমে আঘাত করছি কিনা? আর সেটাই কিন্তু মূল বিবেচ্য বিষয়। তবে আমার লেখার মাধ্যমে আমি দুর্নীতিকে আঘাত করতে পারি, পারি অত্যাচারী কোন শোষককে, কোন সহিংস বিরোধী দলকে অথবা কোন মানবতা বিরোধী চক্রকে, কিন্তু ধর্মকে নয়। বা কোন ধর্মের কোটি কোটি মানুষের আস্থাভাজন ধর্মজাযককে বা মহাপুরুষ নবীকে কটুক্তি নয়। তদুপরি এই কটুক্তির স্পর্ধা যারা দেখায়, তাদের শাস্তি অনস্বীকার্য এবং অপ্রতিরোধ্য বলে আমি মনে করি। তবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে সেই শাস্তি দেবার যৌক্তিকতা সরকার তখনই দেখাবেন যখন, কম্পিউটার হ্যাকিং বন্ধ করে, অন্য কারো বিতর্কিত লেখার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপাবার অপপ্রয়াসকে প্রতিরোধ করে এবং সঠিক পরিচয় ও আইডি, যাচাই সাপেক্ষে, অনলাইন একাউন্ট খোলার বিধান রেখে একটি সুষ্ঠু সাইবার মনিটরিং সিস্টেম প্রচলন করতে সক্ষম হবেন।

লেখালিখি করা আমার ছোটবেলার অভ্যেস, তবে আমার সন্দেহেরও সন্দেহ আছে, ছাপার কাগজে আমার লেখা প্রকাশ হবার ব্যপারে, তাই আমি সাচ্ছ্বন্দে লিখে নিজ কপম্পিউটারেই  আমার অনুভুতিকে সাজিয়ে রাখি। আমি জানি আমার ধর্ম যদি কারো বিশ্বাসে স্থান না পায়, তবে সে দোষ আমারই, কারন আমিই তাকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি, আর কেউ যদি ধর্মে বিশ্বাস না করে, তাহলে তার পরকালীন শাস্তি ধর্মে ধর্মে বিভিন্ন ব্যাখ্যায় সুস্পষ্টভাবে বলা আছে।

‘না’ ভোট দেয়া যেমন কারো গণতান্ত্রিক অধিকার, অনুরূপ ধর্মে বিশ্বাস না করা কিন্তু কারো তেমন জোরালো অধিকার নয়। কারন ধর্মে বিশ্বাসের মধ্যেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের সমাজব্যবস্থা ও জীবন-বিধানের বহুল পরীক্ষিত নীতিমালায় সন্নিবেশিত মানবাধিকার। তবে ধর্মে অবিশ্বাসী বা নাস্তিকতার দায়ে পার্থিব শাস্তির বিধান না থাকায় অপরদিকে বিধর্মীকে নিরাপত্তা না দেয়া মদীনা সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিধায় শুধুমাত্র ধর্মপ্রচারের ধর্মীয় পদ্ধতিতে যুক্তি প্রদর্শন ও সত্যের পথে নৈতিক আহবানের মাধ্যমে নাস্তিকতাবাদের অবসান ঘটিয়ে তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনা  সকলের জন্য জরুরি ।

তাই এখন  ধর্ম প্রতিপালণ ও পরিপালণ অপরিহার্য ভেবে ধর্মের আলোয় উজ্জীবিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা যেমন আমাদের অবশ্য কর্তব্য, তেমনই ধর্মান্ধ ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করে হানাহানির রাজনীতিকে চিরতরে পরিহার করাও আমাদের গুরুত্বপুর্ন দায়ীত্ব ।

© বদলে যাও, বদলে দাও!