বাঙালী জীবনে যদি গর্ব করার মত কিছু ঘটে থাকে তা হচ্ছে ১৯৭১। এরপর আমাদের জাতীয় জীবনে আর কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি যা দিয়ে এ জাতি গর্ব করতে পারে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হঠাৎ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশে একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে এখানে আমি কিছু বলব না। শুধুমাত্র বলব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে আমি বুঝি একটি আধুনিক (অসাসম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক) এবং বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ ব্যবস্থা। যে বিশাল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এ দেশের জন্ম, সে দেশ কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে কতটুকু পাড়ি দিয়েছে এবং আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম আছি তাদের ১৯৭১ এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভূমিকা কি হওয়া উচিত সেদিকে আলোপাত করব।
পেশা হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার কারনে ক্লাসে আমি প্রায় ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছে আমি ১৯৭১ নিয়ে জানতে চাই। দুঃখের বিষয় শতকরা ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী মনে করে ব্যাপারটি রাজনৈতিক এবং তারা যেহেতু রাজনীতি করে না সেহেতু তারা সে বিষয়ে তেমন কিছু জানে না। অনেক শিক্ষার্থী আবার ইতিমধ্যে মনে করা শুরু করে দিয়েছে যে, (এটা অবশ্য আমার অনুমান মাত্র) স্যার বোধহয় বিশেষ একটি দলের পক্ষে হয়ে ক্লাসে এসব কথা বলছে। তাদের মধ্যে এমন কিছু তরুণ শিক্ষার্থী রয়েছে যারা মনে করে মুক্তিযুদ্ধ ছিল ভারতের একটি চক্রান্ত এবং মুক্তিযুদ্ধ না হলে তারা একটি শক্তিশালী ইসলামিক দেশের গর্বিত নাগরিক হতে পারত!!! এদের কাছে ইতিহাস কেবল-ই মিথ্যা বিষয় এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নির্বাচন জয়ের একটি হাতিয়ার মাত্র। এরা অনেক সময় ক্লাসে বলেই ফেলে, ইতিহাস নিয়ে ডুবে থাকা এখন বোকামী এবং ইহুদী নাসারাদের সাথে লড়তে হলে এখন আমাদের পূর্বের ইতিহাস ভুলে গিয়ে সামনের দিকে তাকাতে হবে। ইসলামিক ভাইদের সাথে এক হয়ে লড়তে হবে। ক্লাসে হঠাৎ চুপ হয়ে যায়। ভীষণ একটি ধাক্বার মতো খায়। এইতো মাত্র ৪০ বছর আগে এদেশের অনেক মেধাবী তরুণ তাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছিল ভবিষ্যৎ প্র্রজন্মের জন্য। সেই মূহুর্তে আমার কল্পনায় শফি ইমাম রুমি (আজ থেকে ঠিক ৪০ (১৯৭১ সালে) বছর আগে একটি তরুণ আমেরিকার ইলিউনিস ইউনিভার্সিটিতে, পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি, পড়ার জন্য আমন্ত্রণ পাই, কিন্তু সে যুবকটি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্য তাঁর মায়ের কাছে আবদার করে। অনেকক্ষন বাকযুদ্ধের পর যুবকটির মা ছেলের যুক্তির কাছে পরাজিত হয়ে ছেলেকে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেয়। যুদ্ধ থেকে ছেলেটি আর ফিরে আসেনি। প্রথম ঢাকা আক্রমন করার মত দুঃসাহস দেখায় (তাঁর বাহিনীর নাম ছিল ক্র্যাক প্লাটুন)। ছেলেটির নাম শফি ইমাম রুমি এবং তাঁর মায়ের নাম জাহানারা ইমাম। এখন আমরা সব ভুলে গেছি। রাজাকাররা এই দেশে বড়, ইসলাম এজেন্সীশীপ নিয়ে তারা এখন ব্যবসা করে। যুদ্ধাপরাধের বিচার আমি চাই কারণ রুমির মত আরও অনেক তরুণের কাছে জাতি ঋনী, আজ এদের ঋন শোধ করার সময় এসেছে।), বদিউল আলম (বদি) (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ছাত্র (১৯৭১ এ মাস্টার্স এ অধ্যয়নরত), জীবনে যে কোন পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়নি। ২৫শে মার্চ এ পাকিস্তানীদের বর্বরতা দেখে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারেন নি। যোগ দেয় ক্র্যাক প্লাটুনে। দুঃসাহসী হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল অপারেশন এর অন্যতম নায়ক। ২৭শে আগষ্ট,১৯৭১, রাজাকারদের সহায়তায় হানাদার বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন এরপর বদিকে আর কেউ খুঁজে পাইনি।), জুয়েল (ক্রিকেটার, ১৯৭১ এ পাকিস্তান ক্রিকেট এর জাতীয় দলে অন্তর্ভূক হওয়ার পরও যিনি দলে যোগ দেননি, তাঁর সপ্ন ছিল স্বাধীন বাঙলাদেশ এর জাতীয় ক্রিকেট দলের পক্ষ হয়ে খেলবেন, না হয় খেলবেন না) এর মুখগুলো ভেসে আসে। আমি জানি আমার ছাত্ররা আমাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। তারা ভাবছে আমি একটি বিশেষ দলের পক্ষ হয়ে কথা বলছি। এখন মুক্তিযুদ্ধ মানে নির্দিষ্ট একটি দলের। আমার ছাত্র-ছাত্রীদের আমি রুমি, বদি, জুয়েলকে চিনে কিনা জিজ্ঞ্যেস করি কিন্তু এরা কিছুই জানে না। বেশীর ভাগ ছাত্র-ছাত্রী এমনি বলতে পারে না কেন আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম। এই মূহুর্তে আমার মনে পরছে শহীদ বুদ্ধিজীবী আনোয়ার পাশার ”রাইফেল, রোটি, আওরাত” উপন্যাসের শুরুতে একটি বিখ্যাত উক্তি ”মানুষ এবং পশুর মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে পশু শুধু বর্তমান নিয়ে থাকে আর মানুষ অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবে….যখন কোন ব্যক্তি বা সমাজ একমাত্র বর্তমানের মধ্যেই আবর্তিত হতে থাকে তখন সর্বনাশের ইশারা প্রকট হতে থাকে….” জাক লাঁকার ভাষায় বলতে হয়- ”ইতিহাস শুধু অতীত নয়।”
তরুণ প্রজন্মের এই ইতিহাস বিমুখতার জন্য আমি ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট এর পর দুইটি সামরিক সরকার মূলত এর জন্য দায়ী। তারা চেয়েছিল ১৯৭১ এর সম্পূর্ণ চিন্হ মুচে দিতে। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সত্য হচ্ছে সত্যকে বেশীদিন ধামা চাপা রাখা যায় না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হলে সেইসব শহীদ তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের ক্ষমা করবেন না। ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। ইতিহাস আমাদের আস্তাকুড়েতে নিক্ষেপ করবে। এখন বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে ঠিক করতে হবে দেশ কোন দিকে যাবে, আমরা কি আফগানিস্তান এর দিকে যাব নাকি একটি আধুনিক রাষ্ট্রের স্বপ্নের দিকে যাব। যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম আজ থেকে ৪০ বছর আগে।
আমার অনেক সহকর্মী আমাকে বলেন, শিক্ষক হিসেবে আমার নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আমি যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই।হ্যা, আমি এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ নই। শিক্ষক হিসেবে আমি নিরপেক্ষ থাকতে পারি না। যুদ্ধাপরাধের বিচার কোন রাজনৈতিক চাওয়া নয়। এটি সমগ্র জাতির অস্থিত্বের প্রশ্ন। এটি একটি মিথ্যার বিরূদ্ধে সত্য প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকা মেরুদন্ডহীনতার পরিচয়। একজন মেরুদন্ডহীন শিক্ষক একটি মেরুদন্ডহীন জাতি-ই উপহার দিতে পারে।






মানবতা বিরধি বিচার এ দেশের সকল মানুষ চায় কিন্তু আমার প্রস্ন বর্তমান সরকারের ভিতর কি একজনও মানবতা বিরধি নেই ? আর বিচার কতটুকু নিরপেক্ষ ?
Jaroj asif neje jaroj bole sobai k jaroj bole.
Akane hindhu sthaner o kisu rajakar ase.juddha oporader bichar amio chai.kintu apnara bojar ches ta korun jara borto man.greaftara prokito juddha poradi na.karon sorkar ader kisui bolbe na.pore bolbe amra to bichar suru kore silam.bnp sob ban chal kore dease.asole aowami lig juddhaporadi topiq ta rajnitir dhal sorup babohar kor se.kamrul islame father orjinal raja kar.sheakhasinar biaay rajakar.bonggobir kader siddiky bolese ami na.r akdin to sheakhasina neje ai rajakar der hat dore upore utese.
এখানে কমেন্টেটর মধ্যে আরেক পাকিস্তানী জারজের সন্ধান পাওয়া গেল। পাঠকরা একটু খুঁজে নিন কষ্ট করে।
Atik vai valo lok.apni onek mohot uddeshe amar pise legese.ami kub kusi.thank u.
Apnara sotik janar chesta korun.
রবীদ্রনাথ ঠিকই লিখেছিল,”আমরা সবাই রাজা,আমরা সবাই রাজা,আমরা সবাই রাজা আমদেরই রাজার রাজত্বে,নইলে মোদের রাজার সাথে মিলবে কি সর্তে, আমরা সবাই রাজা”.
ভাই,বাংলাদেশের প্রসাশন দুই নাম্বার, যেহেতু মানুষ আমরাও বেশির ভাগীই দুই নাম্বার.:)
না! আমরা বেশীর ভাগ দু’নম্বর নয়! দু’নম্বর কম, এক নম্বর বেশী!
বিহারি ক্যাম্পে/আশেপাশে বড় হয়া রাজাকারদের বীর্য থেকে উৎপন্ন কিছু জারজ এদেশীয় নামধারি পাকি/saki রা …যাদের ক্রমজমে শত্রুদের ইলেকট্রন…==
তাদের শুধুমাত্র আমাদের লোমজাতিয় বস্তুর ( চুল , গোফ, —- , কাটার কাজ আর জুতা মোছার মত নিম্নশ্রেণীর কাজ বাদে অন্য কাজ বা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠর আইন করা দরকার ।।
Ki juddha poradi.kiser bichar.juddha oporad kake bole ta janen?apnara juddhaporad juddhaoporad bolen.age janar chesta korun juddhaporadir songgha
Saki bhai, keu kichui jane na, bhai sab apni janen.. apnar dharonai thik, amra ”gada” (Saki amak manthobbo korechen amar ekta likha’r upore), keu kichui janina.. apnara ceshta calia jan, sei 71 theke shuru korechen, akhono ki perechen kichu korte?? Bangali ra kichui janena, tabe shotru ale ashtro hate dhorte jane.. mone rakhbe…
@Daizy@ excellent comment!amra sohosro jonota jege asi.
@Imran@ manobota birodhira jekono dolei lukie thakte pare.amader uchit tader khuje ber kora.Niropekho bichar hoese ki na,seta bichar seshe bola jete pare.tobe jatir 40 bosorer kolongko ghuchano joruri.Ar jara 71 a nirbichare manush hotta korese,ma-boner slilotahani kore hottao korese,apni jodi deshpremic hon,make valobasen,bonke sneho koren, kotota niropekho thakte parben?
It is a serious problem ….our new generation change their view about liberation war.They feel bitter to see latest political situation.Everybody try to write history as they wish.We say big word but do nothing.Spirit comes only at December and march.
So I established Muktijudhdho Museum at kamarkhand upazila,dist sirajganj to aware new generation and preserve upazila level muktijudhdho history at a place.My view is it should established at every upazila,district and every school,college,university.
Thnx a lot. Amio chai tader bichar hok. Amr mone hoy Joddhaporadhi der bichar besir vag manus e chay. Kintu bortoman sorkar ki ei issue ta k dhal sorup babohar korche na? Amader to eitao protest kora uchit……
Apni jodi thik emoni interesting vabe ei bepartao tule dhorten tahole amra onekei aro enlightened hote partam
আগুনের লেলিহান শিখা…।রকতের পরোতিটি শিরা-উপশিরায়।ফুলকি ছড়ায় তীবরো বেগে!যখন শুনি পাকিরা অবিচারের সটীম-রূলার চালিয়েছে!আমার-ই কোন মা-ভাই-বোনদের উপর!যখন শুনি,এদেশের-ই কিছু দোসর সেবা-দাস ছিলো পাকিদের!লজজায়,ঘিরিনায় আতমাহুতি দিতে মন চায়,তবে…।না,পরোতিবাদীমন পরোতিশোধ মনা।আতমাহুতি নয়,আতমচিৎকার করে!যারা মা-বোনদের ইজজত বিকিয়েছে পাকিদের কাছে…।(তাদেরকে)খমা নামক কিছু দিতে ভুলে যেতে হয় মুহূরতে!আগুনের লেলিহান শিখা…।রকতের পরোতিটি শিরা-উপশিরায়,ফুলকি ছড়ায় তীবরো বেগে!বজরাহত হয় মনটা চরমে…।যখন শুনি স্বাধীন দেশে নেই ন্যায় বিচার!রাষটোরোপতি,যেন একটা শখের পুতুল!শকতির পূজারী সে…,ছেড়ে দেয় ফাঁসির আসামী!যখন শুনি,স্বাধীন দেশের পারবত্য অনচল,সেতো বাংগালীর নয়!স্বাধীনতা তবে…!
Saki@ আজ যারা ট্রাইবুনাল এ আটক আছে তাদের বিরূদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ আছে ১৯৭১ এ তারা কৃত কর্মের কথা। সবচেয়ে বড় কথা তাদের পরিচালিত সংগ্রাম পত্রিকার ১৯৭১ এর সংখ্যাগুলো দেখলেই বোঝা যাবে তাদের অপরাধের মাত্রা। ধন্যবাদ।
Sir apni atuk to janen j.tribunale atok maoulana saidy birudde juddhaoporader obijog ana hoae se?ai kobor ta all news dakaise.but aj sei sakki mitt bole se ta proman holo.and se j mukti judda silona tao proman holo.and se j churir dae jel kate silo ta o ber holo.asole apni kisui janen na.karon apni nerepokko na.noya diganta porun.
ekram1983 @ na bhai apni ‘Saki’ k kichu bolben na, uni sab jane, amra keu kichui janina.. lol.. Saki shabai k monthobho korche, “apni kichui janen na”… lol
Sir aj jara jara tribunale atok ase tara ki orginal oporadi? Naki rajnoytik?